মিস্টার হেম্ফারের স্মৃতিকথা: মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ গুপ্তচর
| লেখক | মিস্টার হেম্ফার |
|---|---|
| অনুবাদক | ড. এ আর খান |
| প্রকাশনার স্থান | উসমানীয় খিলাফত |
| বিষয় | ব্রিটিশভীতি ওয়াহাবি-বিরোধী |
| ধরন | স্মৃতিকথা |
| প্রকাশক | জ্ঞানকোষ প্রকাশনী |
প্রকাশনার তারিখ | ২০০৬ |
ইংরেজিতে প্রকাশিত | ২০০১ |
| পৃষ্ঠাসংখ্যা | ১০৪ |
| আইএসবিএন | ৯৭৮৯৮৪৮৯৩৩৬৪৩ {{ISBNT}} এ প্যারামিটার ত্রুটি: চেকসাম |
মিঃ হেমফারের স্মৃতিকথা (ইংরেজি: Memoirs of Mr. Hempher), যা মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ গুপ্তচর, এক ব্রিটিশ গোয়েন্দার ডায়রি এবং ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নিয়োজিত ব্রিটিশ গোয়েন্দার ডায়রি নামেও প্রকাশিত হয়েছে, একটি বিতর্কিত বই। বইটিতে হেমফার নামে পরিচিত এক কথিত ব্রিটিশ গুপ্তচরের আত্মকথন উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে দাবি করা হয় যে, তিনি অষ্টাদশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সরকারের হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে গুপ্তচরবৃত্তি করেন এবং ইসলামি বিশ্বে বিভেদ সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। গ্রন্থটিতে আরও দাবি করা হয় যে, তিনি ওয়াহাবিজমের উত্থানে পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেছিলেন।[১]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]গ্রন্থটি প্রথম ১৮৮৮ সালে তুর্কি লেখক আইয়ুব সাবরি পাশার পাঁচ খণ্ডের মির'আতুল হারামাইন (Mir'at al-Haramayn) গ্রন্থে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে এটি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়ে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং ইন্টারনেটেও ছড়িয়ে পড়ে।[২][৩][৪][৫]
প্রথমে এটি সিরিজ আকারে (পর্ব আকারে) জার্মান পত্রিকা “ডের স্পিগেল”-এ প্রকাশিত হয়েছিল, পরে একটি বিখ্যাত ফরাসি পত্রিকাতেও ছাপা হয়।
একজন লেবাননি ডাক্তার এই ডকুমেন্টটি আরবি ভাষায় অনুবাদ করেন। এরপর সেখান থেকে এটি ইংরেজি ও আরও বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়। “ওয়াকফ ইখলাস” নামের একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এই লেখাটি ইংরেজিতে ছাপা আকারে ও ইলেকট্রনিকভাবে “Confessions of a British Spy” এবং “British enmity against Islam” নামে প্রচার করে।[৬]
এই ডকুমেন্টে দাবি করা হয় যে, তথাকথিত “ওহাবী আন্দোলন”-এর পেছনের কিছু ঐতিহাসিক পটভূমি ও উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা আছে, যা মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাব -এর সাথে সম্পৃক্ত করে উপস্থাপন করা হয়। এতে আরও বলা হয় যে, কিছু ভুল ধারণা ও বক্তব্য ইসলামের নামে ছড়ানো হয়েছে—এমন দাবি ডকুমেন্টে করা হয়েছে, এবং মুসলিম উম্মাহ ও দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে শত্রুতার প্রসঙ্গও সেখানে উল্লেখ করা হয়।
গ্রন্থটির সত্যতা নিয়ে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। অনেক গবেষক এটিকে ঐতিহাসিকভাবে অবিশ্বস্ত রচনা বলে মনে করেন, তবে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের কিছু অংশে এটি এখনও আলোচিত ও উদ্ধৃত হয়ে থাকে। ২০০২ সালে একজন ইরাকি সামরিক কর্মকর্তা একটি কথিত "অত্যন্ত গোপনীয়" নথিতে বইটির সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছিলেন।[৭]
তবে মনে রাখা জরুরি, এই ধরনের বিষয় নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ ও আলোচনা রয়েছে। অনেক উলামায়ে কেরাম ও গবেষক এসব বর্ণনা ও দাবিকে ঐতিহাসিকভাবে বিতর্কিত বা যাচাই-সাপেক্ষ বলে উল্লেখ করেছেন। তাই এ ধরনের লেখাকে সরাসরি চূড়ান্ত সত্য হিসেবে না দেখে যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করা উত্তম।
ওয়াহাবিবাদ
[সম্পাদনা]আজকের ইসলামে সবচেয়ে কঠোর ও প্রতিক্রিয়াশীল সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে একটি হলো ওয়াহাবিবাদ। এটি সৌদি আরবের সরকারি ও প্রভাবশালী সম্প্রদায়, যার একমাত্র সংবিধান হলো পবিত্র কুরআন (ওয়াহাবিদের মতে)।
ওয়াহাবিবাদ এবং সৌদি আরবের শাসক সাউদ পরিবার তাদের জন্মলগ্ন থেকেই ঘনিষ্ঠভাবে ও স্থায়ীভাবে জড়িত। ওয়াহাবিবাদ সৌদি রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সাউদ পরিবার ওয়াহাবিবাদকে ছড়িয়ে দিয়েছে। একটি ছাড়া অন্যটির অস্তিত্ব থাকতে পারত না। ওয়াহাবিবাদ সাউদ পরিবারকে বৈধতা দেয় এবং সাউদ পরিবার ওয়াহাবিবাদকে রক্ষা ও প্রচার করে। এই দুটি অবিচ্ছেদ্য, কারণ প্রত্যেকেই একে অপরকে সমর্থন করে এবং টিকে থাকার জন্য এর উপর নির্ভরশীল।[৮]
ওয়াহাবিবাদ অত্যন্ত আত্মকেন্দ্রিক এবং প্রগতিশীল মতাদর্শ, অন্যান্য ধর্ম এবং শিয়া ও সুফিবাদের মতো অন্যান্য ইসলামী সম্প্রদায়ের প্রতি চরম অসহিষ্ণু। এটি আরব জাতীয়তাবাদকে তীব্রভাবে ঘৃণা করে, অথচ সৌদি জাতীয়তাবাদকে উৎসাহিত করে, যদিও ইসলামী উম্মাহ (“জাতি”) ধারণার কারণে যেকোনো জাতীয়তাবাদকে ইসলামী ধর্মতত্ত্বের লঙ্ঘন বলে মনে করা হয়। ওয়াহাবিবাদ নিজেকে সমগ্র ইসলামের একমাত্র সঠিক পথ বলে মনে করে এবং এর বিরোধিতাকারী যেকোনো মুসলমানকে ধর্মদ্রোহী বা কাফির হিসেবে আখ্যা দেয়।
ওয়াহাবিবাদের জন্ম
[সম্পাদনা]আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে আরব উপদ্বীপের কেন্দ্রীয় অঞ্চল নজদের দির’ইয়াহ নামক এক শান্ত মরু-গ্রামে ওয়াহাবিবাদের জন্ম হয়। ওয়াহাবি সম্প্রদায়ের নামকরণ করা হয়েছে এর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাবের (১৭০৩-৯২) নামানুসারে। নজদের ছোট মরু-গ্রাম আল উয়াইনাহ-তে জন্মগ্রহণকারী ইবনে আব্দুল-ওয়াহাব ছিলেন একজন ধর্মীয় নেতা, সংস্কারক, ধর্মপ্রচারক, যিনি মোট ২০ জন স্ত্রীকে বিয়ে করেছিলেন (একবারে ৪ জনের বেশি নয়) এবং তাঁর ১৮ জন সন্তান ছিল।[৯] তবে ধর্মীয় নেতা হওয়ার আগে, ইবনে আব্দুল-ওয়াহাব ব্যবসা, আনন্দ এবং শিক্ষার জন্য বছরের পর বছর হেজাজ, মিশর, সিরিয়া, ইরাক, ইরান এবং ভারতে ব্যাপকভাবে ভ্রমণ করেছিলেন।[১০]
যদিও ইবনে আব্দুল-ওয়াহাবকে ওয়াহাববাদের জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, প্রকৃতপক্ষে ব্রিটিশরাই প্রাথমিকভাবে তাঁর মধ্যে ওয়াহাববাদের ধারণা সঞ্চারিত করেছিল এবং ইসলাম ও মুসলিম অটোমান সাম্রাজ্য তথা উসমানীয় খিলাফতকে ধ্বংস করার জন্য তাদের নিজস্ব অশুভ উদ্দেশ্যে তাঁকে এর নেতা বানিয়েছিল।[১১] এই কৌতূহলোদ্দীপক ব্রিটিশ ষড়যন্ত্রের জটিল বিবরণ, যা এই প্রবন্ধের আওতার বাইরে, তা তাদের প্রধান গুপ্তচরের স্মৃতিকথা "কনফেশনস অফ এ ব্রিটিশ স্পাই"-এ পাওয়া যাবে।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Anti-Wahhabism: a footnote ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৮ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে, Middle East Strategy at Harvard, Bernard Haykel, 27 March 2008
- ↑ The Saga of "Hempher," Purported British Spy ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৮ জানুয়ারি ২০০৮ তারিখে by Daniel Pipes, January 1996
- ↑ CONFESSIONS of A BRITISH SPY and British Enmity Against Islam ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৯ মে ২০১৫ তারিখে 8th edition, HAKIKAT KITABEVI, WAQF IKHLÂS
- ↑ "Confessions of a British spy and British enmity against Islam, (part1-4)"। sunna.info। ১৫ আগস্ট ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০১৪।
- ↑ "Continuation of the Memoirs of Mr. Hempher, The British Spy to the Middle East (part 5-7)"। sunna.info। ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০১৪।
- ↑ "Confessions Of A Brisitsh Spy!! Enmity Against Islam!"। www.sunna.info। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০২৬।
- ↑ "Correspondence dated 24 Sep 2002, within the General Military Intelligence Directorate (GMID), regarding a research study titled, "The Emergence of AI-Wahhabiyyah Movement and its Historical Roots", by Col Al-'Amiri, Sa'id Mahmud Najm, Iraqi General Military Intelligence Directorate. Captured by USA, May 2003, and translated into English." (পিডিএফ)। ২ মে ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৫।
- ↑ masadarbid, Author (২১ জানুয়ারি ২০১৫)। "Britain, the Rise of Wahhabism and the House of Saud"। kanaanonline.org (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০২৬।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ=প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য) - ↑ Vassiliev, Alexei (১৯৮৬)। Ta’reekh Al-Arabiya Al-Saudiya [History of Saudi Arabia] Translated from Russian to Arabic by Khairi al-Dhamin and Jalal al-Maashta। Moscow: Dar Attagaddom। পৃ. ১০৮।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক) - ↑ masadarbid, Author (২১ জানুয়ারি ২০১৫)। "Britain, the Rise of Wahhabism and the House of Saud"। kanaanonline.org (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০২৬।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ=প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য) - ↑ এক ব্রিটিশ গোয়েন্দার ডায়রি: ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নিয়োজিত ব্রিটিশ গোয়েন্দার ডায়রি। খান, ড. এ আর কর্তৃক অনূদিত (পুনর্মুদ্রণ, ২০১৮ সংস্করণ)। বাংলাদেশ: জ্ঞানকোষ প্রকাশনী। ২০০৬। পৃ. ১০৪। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৮৯৩৩৬৪৩।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|আইএসবিন=মান: চেকসাম পরীক্ষা করুন (সাহায্য)