মিসওয়ার ইবনে মাখরামা
মিসওয়ার ইবনে মাখরামা المسور بن مخرمة | |
|---|---|
| জন্ম | ২ হি./৬২২-২৩ খ্রি. |
| মৃত্যু | ১ রবিউল আউয়াল, ৬৪ হি./ ৬৮৩ খ্রি. |
| যুগ | ইসলামি স্বর্ণযুগ |
| পিতা-মাতা |
|
আবু আবদুর রহমান মিসওয়ার ইবনে মাখরামা যুহরি (আরবি: أبو عبد الرحمن المسور بن مخرمة الزهري; ২ হি.–৬৪ হি.) ছিলেন ইসলামের সর্বকনিষ্ঠ সাহাবিদের একজন এবং একজন নির্ভরযোগ্য হাদিস বর্ণনাকারী। তিনি ৬৪ হিজরিতে সংঘটিত হারুরার যুদ্ধ চলাকালে কামান থেকে নিক্ষেপিত পাথরের আঘাতে আহত হন এবং রবিউল আউয়াল মাসের শুরুতে মৃত্যুবরণ করেন।[১]
জীবনী
[সম্পাদনা]তাঁর পূর্ণনাম হলো "আবু আবদুর রহমান মিসওয়ার ইবনে মাখরামা ইবনে নৌফল ইবনে আহাইব ইবনে আবদে মানাফ ইবনে যুহরা আল-কুরাইশি"।[১] তিনি ২ হিজরি সালে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন।[২] তিনি কুরাইশ গোত্রের বনু যুহরা শাখার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যা মক্কায় সম্মানিত ও প্রভাবশালী গোত্র হিসেবে পরিচিত। তাঁর পিতা মাখরামা ইবনে নওফল বনু যুহরার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। মিসওয়ারের মাতার নাম সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; কেউ বলেন তাঁর নাম আতিকা,[২] কেউ বলেন তিনি ছিলেন আশ-শিফা বিনতে আওফ, যিনি সাহাবি আবদুর রহমান ইবনে আওফের সহোদরা বোন ছিলেন এবং এই হিসেবে মিসওয়ার ছিলেন আবদুর রহমান ইবনে আওফের ভাগ্নে।[২]
৮ হিজরির জ্বিলহজে তিনি নিজের পরিবারের সাথে মদিনা হিজরত করেন এবং তখন তিনি অল্প বয়সী শিশু ছিলেন। মদিনায় অবস্থানকালে তিনি নবি মুহাম্মদকে স্বচক্ষে দেখেন এবং এবং তাঁর কাছ থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। অল্পবয়সী হওয়ার কারণে ইসলামের ইতিহাসে তাঁকে 'সিগারুস সাহাবা' বা সর্বকনিষ্ঠ সাহাবিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।[৩]
নবি মুহাম্মদের মৃত্যুর পর মিসওয়ারর পরিবার মদিনাতেই অবস্থান করেন। তিনি সাহাবি ও খলিফা উমরের সান্নিধ্যে থেকে তাঁর কাছ থেকে হাদিস ও ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করেন। [৪] খলিফা উমরের শাসনামলে যখন ইসলামি বিজয়াভিযান বিস্তৃত হতে থাকে, তখনও সেই অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বিশেষভাবে ইরাক ও পারস্য বিজয় এবং ঐতিহাসিক কাদিসিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।[৫]
কাদেসিয়ার যুদ্ধ শেষ হলে তিন মদিনায় ফিরে আসেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তখনতিনি নিজের মামা আবদুর রহমান ইবনে আওফের সান্নিধ্যে থাকতেন।[২] মিসওয়ার সেই ঐতিহাসিক শুরা পরিষদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, যা খলিফা উমর মৃত্যুর আগে গঠন করেছিলেন। তিনি ছয়জন সাহাবিকে নিয়ে এই শুরা গঠন করেছিলেন, যাতে তার মৃত্যুর পর তাঁরা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে পরবর্তী খলিফা হিসেবে নির্বাচন করতে পারে। [৩]
খলিফা উসমান ইবনে আফফানের খেলাফতের শেষ সময়ে যখন তাঁকে মদিনায় অবরুদ্ধ করা হয়, তখন উসমান তাকে দূত হিসেবে সিরিয়ার শাসক মুয়াবিয়ার কাছে পাঠান, যেন তিনি অবরোধ নিরসনে তাঁর কাছে সাহায্য ও সমর্থন কামনা করেন।[২]
খলিফা উসমান নিহত হওয়ার পর মিসওয়ার মক্কায় চলে যান। এরপর তিনি মুয়াবিয়ার মৃত্যু ও তার পুত্র ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া খিলাফতে অধিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত মক্কাতেই অবস্থান করেন। ইয়াজিদের শাসনভার গ্রহণে মিসওয়ার অসন্তুষ্ট হন এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরের পক্ষ অবলম্বন করেন। পরে মিসওয়ার ইবনে যুবাইরের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের একজন হয়ে ওঠেন, এমনকি ইবনে যুবাইর তাঁর পরামর্শ ব্যতীত কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন না।[৩] যখন হাররার যুদ্ধর পর ইয়াজিদ মক্কায় আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরকে অবরোধ করার জন্য হুসাইন ইবনে নুমাইরকে পাঠান, তখন মিসওয়ার ইবনে যুবাইরের পক্ষে যুদ্ধ করেন। অবরোধ চলাকালে নামাজরত অবস্থায় তিনি কামান থেকে নিক্ষিপ্ত পাথরের আঘাতে আহত হন। এরপর তিনি আরো পাঁচ দিন জীবিত ছিলেন এবং অবশেষে ৬৪ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসের শুরুতে ইন্তেকাল করেন। মক্কার হাজুনে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর নিজেই তার জানাজায় ইমামতি করেন।[৪]
হাদিস বর্ণনা
[সম্পাদনা]- যাদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন: তাঁর মামা আবদুর রহমান ইবনে আওফ, আবু বকর সিদ্দীক, উমর ইবনুল খাত্তাব, উসমান ইবনে আফ্ফান, খলিফা আলি, আমর ইবন আওফ আল-কুরাশি, মুগীরা ইবনে শুবা, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস, মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা, পিতা মাখরামা ইবন নওফল, মু‘আবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান ও আবু হুরাইরা।[৬]
- তাঁর কাছ থেকে যাঁরা বর্ণনা করেছেন: আলি জাইনুল আবিদীন, উরওয়া ইবনে যুবাইর, সুলাইমান ইবনে ইয়াসার, ইবনে আবি মুলাইকা, আমর ইবনে দিনার, তাঁর পুত্র আবদুর রহমান, তাঁর কন্যা উম্মে বকর, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, আওফ ইবনে তুফাইল, উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবা, আবু উমামা ইবনে সাহল ইবনে হুনাইফ, জাহম ইবনে আবি আল-জাহম আল-জুমাহি, আবদুল্লাহ ইবনে হুনাইন, উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি রাফি ও মারওয়ান ইবনুল হাকাম।[৬]
- জারাহ ও তাদিল (সমালোচনা ও গ্রহণযোগ্যতা): ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: মিসওয়ার সাহাবি ও বিশ্বস্ত হাদিস বর্ণনাকারী এবং প্রসিদ্ধ হাদিস সংকলকগণ তাঁর বর্ণিত হাদিস গ্রহণ করেছেন।[২]
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 "الكتب - تهذيب الكمال للمزي - المسور بن مخرمة بن نوفل بن أهيب بن عبد مناف بن زهرة بن كلاب القرشي أبو عبد الرحمن الزهري"। library.islamweb.net। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২৬।
- 1 2 3 4 5 6 "الكتب - سير أعلام النبلاء - ومن صغار الصحابة - المسور بن مخرمة- الجزء رقم3"। library.islamweb.net। ১৯ জুন ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২৬।
- 1 2 3 "أسد الغابة ط العلمية • الموقع الرسمي للمكتبة الشاملة"। shamela.ws (আরবি ভাষায়)। ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২৬।
- 1 2 "الإصابة في تمييز الصحابة • الموقع الرسمي للمكتبة الشاملة"। shamela.ws (আরবি ভাষায়)। ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "الإصابة في تمييز الصحابة • الموقع الرسمي للمكتبة الشاملة"। shamela.ws (আরবি ভাষায়)। ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২৬।
- 1 2 ইবনে আসাকির (১৯৯৫)। দামেস্কের ইতিহাস। বৈরুত: দারুল ফিকর। পৃ. ৫৮/১৫৮।