মিশরে শিয়া ইসলাম
| যার উপশ্রেণী | মিশরে ইসলাম, শিয়া ইসলাম |
|---|---|
| এর বিশেষ দিক | মিশর |
| দেশ | মিশর |
মিশরে শিয়া ইসলাম বলতে মিশরে বসবাসকারী শিয়া মুসলিমদের সম্প্রদায়কে বোঝায়।[১]
ইতিহাস এবং সংস্কৃতি
[সম্পাদনা]মিশরে শিয়া ইসলামের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে ইসমাঈলি ফাতেমীয়রা মিশরের ক্ষমতায় আসে এবং কায়রোকে নতুন রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। ফাতেমীয়রা ২০০ বছর (৯৬৯-১১৭১) মিশর শাসন করেছে এবং মিশরের পরিচয় ও সংস্কৃতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ৯৭০ খ্রিস্টাব্দে ফাতেমীয়রা আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। এটি মূলত একটি মসজিদ ছিল। পরে এটি বিশ্বব্যাপী জ্ঞান বিস্তারের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। আজও এটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে টিকে আছে। আল-আজহার প্রথমদিকে একটি শিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছিল।[২][৩] ফাতিমীয় শাসনের আগে, সময়ে এবং পরে মিশরের মানুষ বেশিরভাগ সুন্নি ছিল এবং থেকে গেছে।[৪][৫] শাসকগোষ্ঠী ইসমাঈলি শিয়া মতবাদ অনুসরণ করলেও সাধারণ জনগণের মধ্যে এ মতবাদ ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়নি।[৬]
আনুমানিক জনসংখ্যা
[সম্পাদনা]মিশরে শিয়া জনসংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। শিয়া কর্মীরা দাবি করেন, এই সংখ্যা দশ লাখের বেশি। সালাফিরা বলে এটি মাত্র কয়েক হাজার হতে পারে।[২] দ্য ইকোনমিস্টের মতে আনুমানিক ৫০,০০০ থেকে দশ লক্ষ পর্যন্ত শিয়া মুসলমান মিশরে বসবাস করে।[৭] মাইনরিটি রাইটস গ্রুপ ইন্টারন্যাশনালের হিসাব অনুসারে মিশরের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৯ কোটির মধ্যে ৮০০,০০০ থেকে ২০ লক্ষের মধ্যে মিশরের শিয়া জনসংখ্যা থাকতে পারে।[৮]
নিপীড়ন
[সম্পাদনা]ব্রায়ান হুইটাকারের মতে, মিশরে শিয়া সংখ্যালঘুকে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ হয়রানি করে এবং সন্দেহের চোখে দেখে। তাদের কথিত নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু পরে ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাদের উপর নির্যাতন করে।[৯] কয়েক দশক ধরে জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল শিয়াদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে নিপীড়নের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ইউএনএইচসিআর জানায় শিয়ারা এখনও মিশরে প্রকাশ্যে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারে না। হাসিবা হাদজ সাহরাউই বলেন, অনেককে "ধর্মদ্রোহিতার" অভিযোগে বিচার করা হচ্ছে। ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম মিশরকে ধর্মীয় স্বাধীনতায় "বিশেষ উদ্বেগের দেশ" হিসেবে চিহ্নিত করে। [২] ২০১১ সালের ডিসেম্বরে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী কায়রোর শিয়াদের পবিত্র স্থান এল-হুসেইন মসজিদে আশুরার ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে শত শত শিয়াদের বাধা দেয়। সালাফি গোষ্ঠীগুলি বর্বর আচার-অনুষ্ঠান পালনের অভিযোগ আনার পর পুলিশ জোরপূর্বক শিয়া মুসল্লিদের মসজিদ থেকে সরিয়ে দেয়।[১০]
২০১২ সালের মে মাসে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ইমাম আহমদ আল-তাইয়েব ইসলামপন্থীদের সাথে এক বৈঠক করেন। এই বৈঠকে মুসলিম ব্রাদারহুড ও সালাফিরা শিয়াদের মিশরে ছড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।[২]
২৩ জুন ২০১৩, গিজা প্রদেশের আবু মুসালাম গ্রামে শিয়া নেতা হাসান শাহহাতা ও তার ৩ অনুসারীকে হত্যা করা হয়। সালাফিরা আগে থেকেই এলাকায় শিয়া-বিরোধী প্রচারণা চালিয়েছিল। কয়েকশো সুন্নি মুসলমান তার বাড়ি ঘেরাও করে। তাকে ও তার অনুসারীদের হত্যা করে। এরপর মৃতদেহ রাস্তায় টেনে নিয়ে যায়। পুলিশ হামলা ঠেকাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।[১১][১২] অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির উপ-পরিচালক হাসিবা হাজ সাহরাউই ২৫ জুন ২০১৩ তারিখে বলেন, "মিশরীয় কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে চার ব্যক্তির হত্যার একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একই সাথে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে যে শিয়া মুসলমানদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানো এবং সহিংসতা উস্কে দেওয়া সহ্য করা হবে না।" [১৩]
২০১৭ সাল পর্যন্ত, এনজিওগুলি এখনও রিপোর্ট করে শিয়া মুসলমানরা এখনো সহিংসতা ও ঘৃণার শিকার হচ্ছে। তাদেরকে নানা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং নানা অপমানজনক নামে ডাকা হয়। শিয়া-বিরোধী মনোভাব শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমেও ছড়ানো হচ্ছে। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষিত কিছু ধর্মীয় নেতা শিয়াদের "কাফের" বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন। তারা শিয়াদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে উৎসাহ দেন।
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি ও সংগঠন
[সম্পাদনা]মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ছিলেন ইরানের শেষ সম্রাট। তিনি ১৯৭৯ সালে মিশরের নাগরিকত্ব লাভ করেন। ১৯৮০ সালে কায়রোতে মারা যান।
নিচে কয়েকটি মিশরীয় শিয়া সংগঠনের তালিকা দেওয়া হল:
- মোহাম্মদ এল-দেরিনির নেতৃত্বে আহলে বাইতের জামাত।
- মোহাম্মদ ঘোনেইমের নেতৃত্বে শিয়া কারেন্ট।[১৪]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Ahmed Ateyya (১৮ এপ্রিল ২০১৩)। "Egyptian Shias keep low profile in face of defamation"। Cairo। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০১৩।
- 1 2 3 4 Zeinab El-Gundy (১৮ মার্চ ২০১৩)। "The Shias: Egypt's forgotten Muslim minority"। Ahram Online। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০১৩।
- ↑ Asma Afsaruddin। "THE INFLUENCE OF THE SHI'A ON ISLAM"। University of Notre Dame। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০১৩।
- ↑ Delia Cortese। "Upper Egypt: a 'Shia' powerhouse in the Fatimid period?"। পৃ. ১। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০২৫।
- ↑ "HISTORY OF AL-AZHAR"। ismaili.net। ১৮ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৪।
- ↑ Cyril Glassé (২০০৩)। The New Encyclopedia of Islam (illustrated, revised সংস্করণ)। Rowman Altamira। পৃ. ২২৬। আইএসবিএন ৯৭৮০৭৫৯১০১৯০৬।
- ↑ "Egypt's Shia come out of hiding"। The Economist। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭।
- ↑ "Shi'a"। ২৭ অক্টোবর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০২৫।
- ↑ Whitaker, Brian (৩১ জুলাই ২০০৭)। "A green light to oppression"। The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০১৩।
- ↑ Cam McGrath (২৬ এপ্রিল ২০১৩)। "Spring Brings Worse for Shias"। Cairo। Inter Press Service News Agency। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০১৩।
- ↑ Tim Marshall (২৫ জুন ২০১৩)। "Egypt: Attack On Shia Comes At Dangerous Time"। Sky News। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০১৩।
- ↑ "Egypt mob attack kills four Shia Muslims near Cairo"। BBC News। ২৪ জুন ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০১৩।
- ↑ "Egypt: President Morsi must send clear message against attacks on Shi'a Muslims"। Amnesty। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২১।
- ↑ Ayat Al-Tawy (২৪ জুন ২০১৩)। "Egypt's Islamists under fire over Shia mob killings"। Ahram Online। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০১৩।