মিলিনিয়ালস
| সামাজিক প্রজন্মসমূহ |
|---|
| একটি ধারাবাহিকের অংশ |
মিলিনিয়ালস, যা জেনারেশন ওয়াই বা জেন ওয়াই নামেও পরিচিত, হলো জেনারেশন এক্স-এর পরবর্তী এবং জেনারেশন জি-এর পূর্ববর্তী একটি জনসংখ্যাতাত্ত্বিক গোষ্ঠী। গবেষক এবং জনপ্রিয় গণমাধ্যমগুলো সাধারণত ১৯৮০-এর দশকের শুরু থেকে ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি কিংবা ২০০০-এর দশকের শুরু পর্যন্ত সময়কালকে তাদের জন্মসাল হিসেবে ব্যবহার করে; তবে এই প্রজন্মকে সাধারণত ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।[১][২] অধিকাংশ মিলিনিয়ালরাই হলো বেবি বুমার এবং প্রবীণ জেনারেশন এক্সারদের সন্তান,[৩] এবং তারা প্রায়শই জেনারেশন আলফার অভিভাবক হয়ে থাকে।[৪]
১৯৮০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ২০০০-এর দশক পর্যন্ত শৈশব কাটানো মিলিনিয়ালরা তথ্য যুগ ও ইন্টারনেট-এর উত্থান প্রত্যক্ষ করেছে।[৫][৬] কেউ কেউ তাদের প্রথম বিশ্বায়িত প্রজন্ম হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।[৭] ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ২০১০-এর দশক পর্যন্ত কিশোর ও তরুণ বয়সে পদার্পণকারী এই প্রজন্মের মাঝে এক ধরনের প্রাণবন্ত যুব সংস্কৃতি লক্ষ্য করা গেছে।[৮][৯] সাধারণভাবে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির সাথে তাদের গভীর সখ্যতা এবং এওএল ইনস্ট্যান্ট মেসেঞ্জার,[১০] লাইভ জার্নাল ও মাইস্পেস-এর মতো প্রাথমিক সারির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের সময়কাল চিহ্নিত হয়।[১১] ১৯৯০ থেকে ২০১০-এর দশকের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের মানুষ ক্রমেই সুশিক্ষিত হয়ে ওঠে, যা এই দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।[১২]
কর্মজীবন শুরুর পর থেকে বিশ্বজুড়ে মিলিনিয়ালরা উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। মহা মন্দা এবং করোনাভাইরাস মন্দার প্রেক্ষাপটে তাদের অনেককেই উচ্চ হারের যুব বেকারত্ব, ছাত্রঋণ এবং সন্তান লালন-পালনের ব্যয়-এর মুখোমুখি হতে হয়েছে।[১৩][১৪][১৫] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোতে তাদের "সবচেয়ে দুর্ভাগা প্রজন্ম" বলা হয়েছে। কারণ, ইতিহাসের অন্য যে কোনো প্রজন্মের তুলনায় গড় মিলিনিয়ালরা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের পর থেকে ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অধিক সংখ্যক মন্দার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।[১৬] বিশ্বজুড়ে মিলিনিয়াল ও পরবর্তী প্রজন্মগুলো বিবাহ বা একত্রে বসবাস বিলম্বিত করেছে।[১৭] মিলিনিয়ালরা এমন এক সময়ে জন্মগ্রহণ করেছে যখন বিশ্বজুড়ে সমুদয় প্রজনন ক্ষমতার হার হ্রাস পাচ্ছিল,[১৮] এবং তারা তাদের পূর্বসূরিদের তুলনায় কম সন্তান গ্রহণ করছে।[১৯][২০][২১][২২] উন্নয়নশীল দেশের মিলিনিয়ালরাই আগামীতে বৈশ্বিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হবে।[২৩] উন্নত দেশগুলোতে ২০১০-এর দশকের তরুণদের মাঝে তাদের পূর্বসূরিদের সমবয়সী অবস্থার তুলনায় যৌন সম্পর্কের প্রতি আগ্রহ কম দেখা গেছে।[২৪] পশ্চিমা মিলিনিয়ালরা তাদের পূর্বসূরিদের তুলনায় কম ধর্মপ্রাণ হলেও অনেকে নিজেদের আধ্যাত্মিক হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন।[১৮][২৫]
পরিভাষা
[সম্পাদনা]এই জনসংখ্যাতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সদস্যরা 'মিলিনিয়ালস' নামে পরিচিত কারণ তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতমরা সহস্রাব্দের সন্ধিক্ষণে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছিলেন।[২৬] 'স্ট্রস-হাউ জেনারেশনাল থিওরি' তৈরির জন্য পরিচিত লেখক উইলিয়াম স্ট্রস এবং নিল হাউকে মিলিনিয়ালস নামকরণের জন্য ব্যাপকভাবে কৃতিত্ব দেওয়া হয়।[২৭] তারা ১৯৮৭ সালে এই শব্দটি উদ্ভাবন করেন, যখন ১৯৮২ সালে জন্মগ্রহণকারী শিশুরা কিন্ডারগার্টেনে প্রবেশ করছিল। তখন গণমাধ্যমগুলো প্রথমবারের মতো ২০০০ সালের উচ্চ বিদ্যালয় স্নাতক ব্যাচ হিসেবে নতুন সহস্রাব্দের সাথে তাদের সম্ভাব্য যোগসূত্র চিহ্নিত করছিল।[২৮] তারা তাদের বই প্রজন্ম: আমেরিকার ভবিষ্যতের ইতিহাস, ১৫৮৪ থেকে ২০৬৯ (১৯৯১)[২৯] এবং সহস্রাব্দের উত্থান: পরবর্তী মহান প্রজন্ম (২০০০)-এ এই গোষ্ঠী সম্পর্কে লিখেছিলেন।[২৮]
১৯৯৩ সালের আগস্টে, এডভারটাইজিং এইজ-এর একটি সম্পাদকীয় নিবন্ধে সে সময়ের ১৩-১৯ বছর বয়সী (১৯৭৪-১৯৮০ সালে জন্ম) কিশোরদের বর্ণনা করতে 'জেনারেশন ওয়াই' শব্দগুচ্ছটি ব্যবহার করা হয়, যাদের জেনারেশন এক্স থেকে আলাদা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল।[৩০] তবে পরবর্তীকালে অধিকাংশ গণমাধ্যম ১৯৭৪-১৯৮০ সালের সময়কালকে জেনারেশন এক্স-এর শেষ পর্যায় হিসেবে চিহ্নিত করে,[৩১] এবং ২০০৩ সালের মধ্যে অ্যাড এজ তাদের জেনারেশন ওয়াই-এর শুরুর বছর ১৯৮২-তে স্থানান্তরিত করে।[৩২] সাংবাদিক ব্রুস হোরোভিৎজের মতে, ২০১২ সালে অ্যাড এজ স্বীকার করে নেয় যে জেন ওয়াই-এর চেয়ে 'মিলিনিয়ালস' নামটিও বেশি উপযোগী।[২৭] ২০১৪ সালের মধ্যে অ্যাড এজ-এর একজন প্রাক্তন ডেটা স্ট্র্যাটেজি ডিরেক্টর এনপিআর-কে বলেন যে, "জেনারেশন ওয়াই লেবেলটি কেবল একটি সাময়িক নাম ছিল যতক্ষণ না আমরা তাদের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারি।"[৩৩]
মিলিনিয়ালদের অনেক সময় 'ইকো বুমারস' বলা হয়। কারণ তারা প্রায়শই বেবি বুমারদের সন্তান এবং ১৯৮০-এর দশকের শুরু থেকে ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত জন্মহার বৃদ্ধির ফলে তাদের প্রজন্মের বিশাল আকার বেবি বুমারদের সাথে তুলনীয়।[৩৪][৩৫][৩৬][৩৭] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইকো বুম-এর জন্মহার ১৯৯০ সালের আগস্টে শীর্ষে পৌঁছায়[৩৮][৩৪] এবং উন্নত দেশগুলোতে ছোট পরিবারের দিকে ঝোঁকার প্রবণতা অব্যাহত থাকে।[৩৯][৪০] এই গোষ্ঠীর বিকল্প নামগুলোর মধ্যে রয়েছে 'নেট জেনারেশন',[৪১] 'জেনারেশন ৯/১১',[৪২] 'জেনারেশন নেক্সট',[৪৩] 'জেনারেশন মি'[৪৪][৪৫][৪৬] এবং 'বার্নআউট জেনারেশন'।[৪৭]
২০১৮ সালে ভক্স-এ লিখে এমিলি সেন্ট জেমস অভিযোগ করেন যে, "মিলিনিয়াল" শব্দটি অর্থহীন হয়ে পড়েছে। শব্দটি তখন অভ্যাসবশত সকল কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হচ্ছিল, যদিও তারা আসলে জেনারেশন ওয়াই-এর বদলে জেনারেশন জি-এর সদস্য ছিল; এমনকি এটি জেনারেশন এক্স-এর সদস্যদের ক্ষেত্রেও নির্বিচারে ব্যবহৃত হচ্ছিল।[৪৮] ২০১৫ এবং ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে জানা গেছে যে কেউ কেউ "মিলিনিয়াল" শব্দটিকে একটি অপমান হিসেবেও বিবেচনা করেন।[৪৯][৫০][৫১]
জন্মসাল এবং বয়সের পরিসীমা সংক্রান্ত সংজ্ঞা
[সম্পাদনা]অক্সফোর্ড লিভিং ডিকশনারিজ মিলিনিয়ালদের বর্ণনা করে এমন ব্যক্তি হিসেবে যারা "১৯৮০-এর দশকের শুরু থেকে ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছে"।[৫২][৫৩] মেরিয়াম-ওয়েবস্টার ডিকশনারি মিলিনিয়ালকে সংজ্ঞায়িত করে "১৯৮০ বা ১৯৯০-এর দশকে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তি" হিসেবে।[৫৪] ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো জোনাথন রাউচ ২০১৮ সালে দি ইকোনমিস্ট-এর জন্য লিখেছিলেন যে "প্রজন্ম হলো অস্পষ্ট ধারণা", তবে ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের জন্মকালীন গোষ্ঠীটি মিলিনিয়ালদের জন্য একটি "ব্যাপকভাবে স্বীকৃত" সংজ্ঞা।[৫৫][৫৬] এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা মিলিনিয়ালদের সংজ্ঞায়িত করে "১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিকে বর্ণনা করার জন্য ব্যবহৃত শব্দ, যদিও বিভিন্ন উৎস অনুযায়ী এটি এক বা দুই বছর কম-বেশি হতে পারে।"[৬] ইউএস সেন্সাস ব্যুরো বলেছে যে "মিলিনিয়ালদের জন্মের কোনো আনুষ্ঠানিক শুরু এবং শেষের তারিখ নেই"[৫৭] এবং তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মিলিনিয়ালদের সংজ্ঞায়িত করে না,[৫৮] তবে ২০২২ সালে তারা উল্লেখ করেছে যে মিলিনিয়ালরা "সাধারণত ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালে জন্মগ্রহণকারী গোষ্ঠী হিসেবে সংজ্ঞায়িত।"[৫৯]
পিউ রিসার্চ সেন্টার মিলিনিয়ালদের ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী মানুষ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে।[৬০] তারা "মূল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কারণগুলো" বিবেচনা করে এই তারিখগুলো বেছে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলা, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, মহা মন্দা এবং ইন্টারনেটের উত্থানের প্রভাব।[৬১] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অফ কংগ্রেস ব্যাখ্যা করে যে তারিখের পরিসীমাগুলো 'ব্যক্তিগত পছন্দনির্ভর' এবং প্রতিটি গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের গঠনমূলক বছরগুলোতে ঘটে যাওয়া সাধারণ অর্থনৈতিক, সামাজিক বা রাজনৈতিক কারণগুলোর ওপর ভিত্তি করে সাধারণীকরণ করা হয়। তারা তারিখের পরিসীমা, প্রজন্মের নাম এবং প্রতিটি প্রজন্মের অতি-সাধারণকৃত "ব্যক্তিত্ব" নিয়ে মতবিরোধ ও অভিযোগের কথা স্বীকার করে। তা সত্ত্বেও, তারা মিলিনিয়ালদের সংজ্ঞায়িত করতে পিউ-এর ১৯৮১-১৯৯৬ সংজ্ঞাটি উদ্ধৃত করে।[৬২] বিভিন্ন গণমাধ্যম,[৬৩][৬৪][৬৫][৬৬] থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এবং পরিসংখ্যান সংস্থাগুলো ১৯৮১-১৯৯৬ সংজ্ঞাটি ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস,[৬৭] ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন,[৬৮] গ্যালাপ,[৬৯] ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ড এবং পরিসংখ্যান কানাডা।[৭০]
মনোবিজ্ঞানী জিন টোয়েঞ্জ মিলিনিয়ালদের ১৯৮০ থেকে ১৯৯৪ সালে জন্মগ্রহণকারী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন।[৭১] একইভাবে, অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকক্রিন্ডল রিসার্চ ১৯৮০ থেকে ১৯৯৪ সালকে জেনারেশন ওয়াই (মিলিনিয়াল) জন্মের বছর হিসেবে ব্যবহার করে।[৭২] অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিকস একটি ২০২১ সেন্সাস রিপোর্টে মিলিনিয়ালদের সংজ্ঞায়িত করতে ১৯৮১ থেকে ১৯৯৫ সাল ব্যবহার করে।[৭৩] জনসংখ্যা রেফারেন্স ব্যুরো-এর একটি ২০২৩ সালের রিপোর্ট মিলিনিয়ালদের ১৯৮১ থেকে ১৯৯৯ সালে জন্মগ্রহণকারী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে।[৭৪][৭৫] সিএনএন জানিয়েছে যে গবেষণায় অনেক সময় মিলিনিয়ালদের ১৯৮০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী হিসেবে ধরা হয়।[৭৬] ২০১৭ সালের একটি বিবিসি রিপোর্টেও স্কটল্যান্ডের জাতীয় রেকর্ডস-এর দেওয়া এই বয়সের পরিসীমাটি ব্যবহার করা হয়েছে।[৭৭] যুক্তরাজ্যে রেজোলিউশন ফাউন্ডেশন ১৯৮১–২০০০ সাল ব্যবহার করে।[৭৮] ইউএস গভর্মেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস মিলিনিয়ালদের ১৯৮২ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে।[৭৯] সমাজবিজ্ঞানী এলউড কার্লসন, যিনি এই প্রজন্মকে "নিউ বুমারস" বলেন, ১৯৮৩-২০০১ সালকে জন্মসাল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এটি ১৯৮৩ সালের পর জন্মহার বৃদ্ধি এবং ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর শুরু হওয়া "রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ" দিয়ে শেষ হয়েছে।[৮০] 'স্ট্রস-হাউ জেনারেশনাল থিওরি'-র সহ-উদ্ভাবক লেখক নিল হাউ মিলিনিয়ালদের "১৯৮২–২০০৫?" হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন।[৮১]
মিলিনিয়ালদের ঠিক আগে এবং ঠিক পরে জন্মগ্রহণকারী গোষ্ঠীগুলোকে উভয় প্রজন্মের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন "ক্ষুদ্রপ্রজন্ম" হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সন্ধিক্ষণের প্রজন্মগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে জেনিয়ালস, জেনারেশন ক্যাটালানো, ওরেগন ট্রেইল জেনারেশন; জেনিয়ালস এবং জিলিনিয়ালস।
মনোবিজ্ঞান
[সম্পাদনা]২০০৬ সালে প্রকাশিত জেনারেশন মি বইয়ের লেখক মনোবিজ্ঞানী জঁ টুয়েঞ্জি মিলিনিয়ালদের (জেনারেশন এক্স-এর কনিষ্ঠ সদস্যদের সাথে) "জেনারেশন মি"-এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন।[৮২] টুয়েঞ্জি মিলিনিয়ালদের মাঝে আত্মবিশ্বাস ও সহনশীলতার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন, তবে একই সাথে অধিকারবোধ এবং নার্সিসিজমের উপস্থিতিও তুলে ধরেছেন। এটি এনপিআই জরিপের ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে, যা দেখায় যে মিলিনিয়ালদের কিশোর ও কুড়ি বছর বয়সে থাকাকালীন নার্সিসিজম আগের প্রজন্মের একই বয়সের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।[৮৩][৮৪] ওরচেস্টারের ক্লার্ক ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী জেফরি আর্নেট মিলিনিয়ালদের মাঝে নার্সিসিজম নিয়ে টুয়েঞ্জির গবেষণার সমালোচনা করে বলেছেন, "আমি মনে করি তিনি তথ্যগুলোকে ব্যাপকভাবে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছেন বা অতিরঞ্জিত করছেন, এবং আমি মনে করি এটি ধ্বংসাত্মক।"[৮৫] তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন যে 'নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ইনভেন্টরি' আদেও নার্সিসিজম পরিমাপ করে কি না। আর্নেট বলেন যে মিলিনিয়ালরা কেবল কম নার্সিসিস্টিকই নয়, বরং তারা "একটি ব্যতিক্রমী উদার প্রজন্ম যারা বিশ্বকে উন্নত করার বিশাল প্রতিশ্রুতি ধারণ করে।"[৮৬] ২০১৭ সালে সাইকোলজিক্যাল সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে ১৯৯০-এর দশক থেকে তরুণদের মাঝে নার্সিসিজমের কিছুটা হ্রাস ঘটেছে।[৮৭][৮৮]
লেখক উইলিয়াম স্ট্রস এবং নিল হাউ যুক্তি দেন যে প্রতিটি প্রজন্মের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য থাকে যা একটি চক্রের মাধ্যমে চারটি মৌলিক প্রজন্মগত আর্কিটাইপ তৈরি করে। তাদের হাইপোথিসিস অনুযায়ী, তারা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে মিলিনিয়ালরা "নাগরিক-মানসিকতাসম্পন্ন" জিআই প্রজন্মের মতো হবে যাদের মাঝে স্থানীয় ও বৈশ্বিক উভয় পর্যায়ে সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর টান থাকবে।[২৮] স্ট্রস এবং হাউ মিলিনিয়ালদের সাতটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছেন: বিশেষ, সুরক্ষিত, আত্মবিশ্বাসী, দলবদ্ধভাবে কাজ করতে আগ্রহী, প্রথাগত, চাপের মুখে থাকা এবং লক্ষ্য অর্জনে মনোযোগী। তবে যখন আশা এবং ভয় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়: আজকের কলেজ ছাত্রের একটি প্রতিকৃতি (When Hope and Fear Collide: A Portrait of Today's College Student) বইয়ের লেখক আর্থার ই. লেভিন এই প্রজন্মগত চিত্রগুলোকে "রীতিবদ্ধ ধারণা" বা "স্টিরিওটাইপ" হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।[৮৯] এছাড়া মনোবিজ্ঞানী জঁ টুয়েঞ্জি বলেন যে স্ট্রস এবং হাউ-এর দাবিগুলো অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট, অপ্রমাণযোগ্য এবং জোরালো প্রমাণের দ্বারা সমর্থিত নয়।[৮২]
জরিপ সংস্থা ইপসোস-মোরি সতর্ক করেছে যে "মিলিনিয়ালস" শব্দটি "এমনভাবে অপব্যবহৃত হচ্ছে যে এটি অনেক সময় একটি অর্থহীন মুখরোচক শব্দে পরিণত হয়।" এর কারণ হলো "মিলিনিয়ালদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে করা অনেক দাবিই অতি-সরলীকৃত, ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা অথবা একদম ভুল, যা প্রকৃত পার্থক্যগুলোকে আড়াল করতে পারে।" তারা আরও যোগ করেন যে "অন্যান্য প্রজন্মের সাথে মিল থাকাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ—যে মনোভাব এবং আচরণগুলো অপরিবর্তিত থাকছে সেগুলো অনেক সময় ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ এবং আশ্চর্যজনক।"[৯০]
যদিও প্রায়ই বলা হয় যে মিলিনিয়ালরা প্রথাগত বিজ্ঞাপন এড়িয়ে চলে, আসলে তারা এর দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়। তারা বিশেষ করে স্বচ্ছতা, বস্তুর চেয়ে অভিজ্ঞতার গুরুত্ব এবং নমনীয়তার আবেদনের প্রতি সংবেদনশীল।[৯১]
মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের ২০১৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী উত্তরদাতাদের ৭৭% এই বক্তব্যের সাথে একমত হয়েছেন যে, "যখন কোনো কিছু আমার মনোযোগ আকর্ষণ করে না, তখন আমি প্রথমেই যা করি তা হলো নিজের ফোন হাতে নেওয়া।" এর বিপরীতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল মাত্র ১০%।[৯২]
ইকিজুরাসা (生きづらさ, "বেঁচে থাকার যন্ত্রণা") শব্দটি অনেক জাপানি মিলিনিয়ালের অভিজ্ঞতাপ্রসূত উদ্বেগ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। তারা বিচ্ছিন্নতাবোধ এবং নিজেকে দোষারোপ করার মানসিকতার সাথে লড়াই করছে। এর মূলে রয়েছে বেকারত্ব, দারিদ্র্য, পারিবারিক সমস্যা, পরপীড়ন, সামাজিক প্রত্যাহার এবং মানসিক অসুস্থতার মতো বিস্তৃত সমস্যা।[৯৩]
জ্ঞানীয় ক্ষমতা
[সম্পাদনা]বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষক জেমস আর. ফ্লিন আবিষ্কার করেছেন যে, ১৯৫০-এর দশকে প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুদের শব্দভাণ্ডারের স্তরের মধ্যে পার্থক্য বর্তমান একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের তুলনায় অনেক কম ছিল। ১৯৫৩ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে, ওয়েচসলার আইকিউ টেস্টের শব্দভাণ্ডার উপ-পরীক্ষায় প্রাপ্তবয়স্কদের স্কোর ১৭.৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেলেও, শিশুদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৪ পয়েন্ট। তিনি দাবি করেন যে, উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তনই এর অন্যতম কারণ। ১৯৫০-এর দশকের তুলনায় বর্তমানে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারী এবং বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রমনির্ভর পেশায় নিয়োজিত আমেরিকানদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রাপ্তবয়স্কদের শব্দভাণ্ডারের মান বাড়িয়ে দিয়েছে। ১৯৫০-এর দশকে শিশুরা সাধারণত তাদের পিতামাতাকে অনুকরণ করত এবং তাদের শব্দভাণ্ডার গ্রহণ করত। ২০০০-এর দশকে পরিস্থিতি বদলে যায়; কিশোর-কিশোরীরা এখন নিজস্ব উপসংস্কৃতি গড়ে তোলে এবং ফলস্বরূপ তাদের প্রবন্ধগুলোতে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো মানসম্পন্ন শব্দ ব্যবহারের সম্ভাবনা কমে গেছে।[৯৪]
২০০৯ সালের একটি প্রতিবেদনে ফ্লিন ১৯৮০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ চৌদ্দ বছর বয়সীদের রেভেন'স প্রগ্রেসিভ ম্যাট্রিক্স পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করেন। তিনি দেখতে পান যে, সেই সময়ের মধ্যে তাদের গড় আইকিউ দুই পয়েন্টের বেশি কমে গেছে। বুদ্ধিবৃত্তিক বণ্টনের উচ্চতর অর্ধে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে এই হ্রাসের পরিমাণ ছিল আরও বেশি—প্রায় ছয় পয়েন্ট। এটি বিংশ শতাব্দীতে আইকিউ স্কোর বৃদ্ধির যে প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, অর্থাৎ ফ্লিন প্রভাব, তার বিপরীতমুখী হওয়ার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। ফ্লিন সন্দেহ করেন যে ব্রিটিশ যুব সংস্কৃতির পরিবর্তনের কারণে এমনটি হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতে আইকিউ বৃদ্ধির সাথে আর্থ-সামাজিক শ্রেণির একটি সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে তা আর কার্যকর নেই।[৯৫]
মনোবিজ্ঞানী জঁ টুয়েঞ্জি, ডব্লিউ. কিথ ক্যাম্পবেল এবং রাইন এ. শারম্যান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল সোশ্যাল সার্ভের ($n = ২৯,৯১২$) শব্দভাণ্ডার পরীক্ষার স্কোর বিশ্লেষণ করেছেন। তারা দেখতে পান যে, শিক্ষার স্তর সংশোধনের পর ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত হাই স্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েট স্কুল—সব স্তরের শিক্ষায় পরিশীলিত শব্দভাণ্ডারের ব্যবহার হ্রাস পেয়েছে।[৯৬]
সাংস্কৃতিক পরিচয়
[সম্পাদনা]প্রযুক্তি
[সম্পাদনা]কম্পিউটার গেম এবং কম্পিউটার সংস্কৃতি বই পড়ার প্রবণতা কমিয়ে দিয়েছে। শিক্ষকদের মাঝে এখন কেবল "পরীক্ষাকেন্দ্রিক পড়ানোর" যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের পার্শ্বীয় চিন্তার (lateral thinking) ক্ষমতাও কমিয়ে দিয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী শার্লি লে পেনি যুক্তি দেন যে, মিলিনিয়ালদের জন্য "একাত্মতাবোধের সন্ধান করা মানেই হলো নিজেকে প্রয়োজনীয় প্রমাণ করা... মিলিনিয়ালরা বিশ্বে প্রভাব ফেলার মাধ্যমেই এই একাত্মতা অনুভব করে।"[৯৭] শিক্ষামূলক মনোবিজ্ঞানী এলজা ভেন্টার মনে করেন, মিলিনিয়ালরা হলো "ডিজিটাল নেটিভ", কারণ তারা আজীবন ডিজিটাল প্রযুক্তির অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে। ব্রিটিশ মিলিনিয়াল লেখক ও ভাষ্যকার তানিয়া করোবকার মতে, ইন্টারনেটের অ-শ্রেণিবিন্যাসিত, মিথস্ক্রিয়ামূলক এবং জ্ঞানভিত্তিক প্রকৃতি মিলিনিয়ালদের উদার ও প্রগতিশীল বিশ্বদর্শনকে প্রভাবিত করেছে এবং বিশ্বব্যাপী ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরিতে সক্ষম করেছে।[৯৮]
মার্ক প্রেনস্কি ডিজিটাল নেটিভ ধারণাটি তৈরি করেছেন এই উপলব্ধি থেকে যে, এই প্রজন্মের সদস্যরা ছিল "কম্পিউটার, ভিডিও গেম এবং ইন্টারনেটের ডিজিটাল ভাষার মাতৃভাষী"।[৯৯] এই প্রজন্মের প্রবীণ সদস্যরা সরাসরি কথা বলা এবং কম্পিউটার-নির্ভর যোগাযোগের সমন্বয় ব্যবহার করেন, অন্যদিকে কনিষ্ঠ সদস্যরা আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগের জন্য প্রধানত ইলেকট্রনিক এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করেন।[১০০]
মহা মন্দার পূর্ণ আঘাত সইতে হলেও ইউরোপের মিলিনিয়ালরা তাদের দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে হতাশাবাদী ছিল, যদিও পিউ রিসার্চ সেন্টার ২০১৪ সালে দেশভেদে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য খুঁজে পায়। জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যের মতো তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশের মিলিনিয়ালরা স্পেন, ইতালি এবং গ্রিসের মতো ধুঁকতে থাকা অর্থনীতির মিলিনিয়ালদের তুলনায় সাধারণত বেশি সুখী ছিল। অন্যদিকে, বয়স্কদের তুলনায় তরুণদের আশাবাদী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিল।[১০১] ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় এক হাজার ব্রিটিশের ওপর পরিচালিত ২০১৩ সালের একটি জরিপে দেখা গেছে যে, ৬২% ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (বিবিসি) সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে এবং ৭০% তাদের জাতীয় ইতিহাস নিয়ে গর্ব বোধ করে।[১০২]
সংগীত
[সম্পাদনা]
১৯৯০-এর দশকের শেষ থেকে ২০১০-এর দশকের শুরু পর্যন্ত মিলিনিয়ালদের মাঝে নু মেটাল, পোস্ট-গ্রাঞ্জ, পপ-পাঙ্ক, ইমো, মেটালকোর এবং টিন পপ-এর মতো জেনারগুলো বেশ জনপ্রিয় ছিল। নু মেটাল ব্যান্ড লিংকিন পার্ক মিলিনিয়াল দর্শকদের কাছে সবচেয়ে সফল ছিল এবং তাদের অ্যালবাম হাইব্রিড থিওরি ডায়মন্ড সার্টিফিকেশন লাভ করে। লেখক উইলিয়াম স্ট্রস এবং নিল হাউ ব্রিটনি স্পিয়ার্সের মতো টিন পপকে একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখেছিলেন, যা ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের জেন এক্স-এর গ্রুঞ্জ আমেজ থেকে বেরিয়ে আরও আশাবাদী সুরের দিকে ধাবিত হয়েছিল।[৮] হিপহপ সংগীত এবং আরএন্ডবি মিলিনিয়ালদের কাছে সমান জনপ্রিয় ছিল, যেখানে এমিনেম, বিয়ন্সে এবং ৫০ সেন্ট-এর মতো শিল্পীরা আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। ২০০০ এবং ২০১০-এর দশকের শুরুতে দ্য স্ট্রোকস, দ্য কিলার্স এবং ইয়ে ইয়ে ইয়েস-এর মতো ইন্ডি রক ব্যান্ডগুলো জনপ্রিয়তা পায়, যা পরবর্তীতে গ্যারেজ রক রিভাইভাল এবং পোস্ট-পাঙ্ক রিভাইভালের মতো শাখা তৈরি করে। ২০১০-এর দশকের শুরুতে ইন্ডি ফোক সংগীত এবং রিসেশন পপ (মন্দা-সাময়িক পপ) জনপ্রিয় হতে দেখা যায়। ২০১৭ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের প্রায় অর্ধেকই আগের বছরে কোনো না কোনো লাইভ মিউজিক ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন।[১০৩]

মিলিনিয়ালরা এমন এক সময়ে বেড়ে উঠেছে যখন সংগীতসহ বিনোদন শিল্প ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রভাবিত হতে শুরু করেছিল। স্প্যানিশ ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের জোয়ান সেরা এবং তার দল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে 'মিলিয়ন সং ডেটাসেট' অধ্যয়ন করেছেন এবং দেখেছেন যে ১৯৫৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে জনপ্রিয় সংগীতের আওয়াজ আরও তীব্র হয়েছে, অন্যদিকে ব্যবহৃত কর্ড, মেলোডি এবং শব্দের ধরন ক্রমেই একঘেয়ে বা সদৃশ হয়ে উঠেছে।[১০৪] প্রকৃতপক্ষে, প্রযোজকরা আরও বেশি দর্শক টানতে এক ধরনের "লাউডনেস ওয়ার"-এ লিপ্ত হয়েছেন বলে মনে করা হয়। যদিও সংগীত শিল্পের বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই উচ্চশব্দ এবং বৈচিত্র্যহীন গান তৈরির অভিযোগ ছিল, তবে এবারই প্রথম গানের মান বিশদভাবে অধ্যয়ন ও পরিমাপ করা হয়েছে। আধুনিক পপ সংগীতে "মিলিনিয়াল হুপ"-এর ব্যবহারও লক্ষ্য করা গেছে, যা ২০০০-এর দশকের শেষে এবং ২০১০-এর দশকে জনপ্রিয় হওয়া একটি মেলোডিক প্যাটার্ন। অতিরিক্ত গবেষণায় দেখা গেছে যে গত কয়েক দশকে জনপ্রিয় সংগীত ধীরগতির হয়েছে; অধিকাংশ শ্রোতা নতুনের চেয়ে পুরনো গানই বেশি পছন্দ করেন; গানের ভাষা মানসিকভাবে আরও নেতিবাচক হচ্ছে; এবং লিরিক্সগুলো ক্রমেই সহজ ও পুনরাবৃত্তিমূলক হয়ে উঠছে।[১০৫]
প্রতিসংস্কৃতি
[সম্পাদনা]আধুনিক সমাজে অনিবার্যভাবেই এমন কিছু মানুষ থাকে যারা মূলধারার সংস্কৃতি মানতে অস্বীকার করে এবং ঠিক বিপরীত কিছু করার চেষ্টা করে; তবে সময়ের সাথে সাথে এই প্রথা-বিরোধীরা তাদের নিজস্ব উপসংস্কৃতির মধ্যে আরও সদৃশ হয়ে ওঠে। এই সমন্বয়টি এমনকি একাধিক পছন্দ থাকলেও ঘটে থাকে। ব্র্যান্ডেইস ইউনিভার্সিটির গণিতবিদ জোনাথন টুয়াবুল, যিনি সমাজে তথ্যের বিস্তার কীভাবে মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করে তা নিয়ে গবেষণা করেন, একে "হিপস্টার ইফেক্ট" বলে অভিহিত করেছেন।[১০৬]
টেলিভিশন
[সম্পাদনা]২০১০-এর দশকের শেষের দিকে, বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী দর্শকদের মধ্যে গভীর রাতের মার্কিন টেলিভিশন দেখার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর অন্যতম কারণ হলো স্ট্রিমিং সার্ভিসগুলোর জনপ্রিয়তা ও সহজলভ্যতা। তবে তিন দিনের মধ্যে বিলম্বিত দেখার হিসাব নেওয়া হলে শীর্ষস্থানীয় শোগুলোর ভিউয়ারশিপ সংখ্যা বেশ চড়া দেখা যায়।[১০৭]
নস্টালজিয়া এবং ফ্যানডম
[সম্পাদনা]
মিলিনিয়ালদের প্রথম অংশটি ১৯৯০-এর দশকের শৈশব সংস্কৃতির প্রতি নস্টালজিক, যেমন টিনএজ মিউট্যান্ট নিনজা টার্টলস, অ্যানিম্যানিয়াকস, পাওয়ার রেঞ্জার্স, গুজবাম্পস সিরিজ এবং অরিজিনাল গেম বয়। মিলিনিয়ালদের দ্বিতীয় অংশটি অর্থাৎ জিলিনিয়ালরা ২০০০-এর দশকের শুরুর শৈশব সংস্কৃতির প্রতি নস্টালজিক, যার মধ্যে রয়েছে স্পঞ্জবব স্কয়ারপ্যান্টস্, কিম পসিবল, পোকেমন, হ্যারি পটার সিরিজ এবং গেম বয় অ্যাডভান্স। প্রাক-স্কুল শিশুদের জন্য তৈরি হওয়া সত্ত্বেও, অ্যানিমেটেড শো ব্লু (২০১৮–বর্তমান) মিলিনিয়াল প্রাপ্তবয়স্কদের কল্পনা কেড়েছে। তাদের কাছে এই শো পারিবারিক জীবনকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরে এবং শৈশবের মানসিক ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করে।[১০৮]
২০০০ সালে সি-স্প্যান-এর এক সাক্ষাৎকারে লেখক উইলিয়াম স্ট্রস ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে মিলিনিয়াল মেয়েরা জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে নিজেদের আরও জোরালোভাবে প্রকাশ করবে। কয়েক দশক পরে দেখা গেছে যে হ্যারি পটার, টোয়াইলাইট এবং দ্য হাঙ্গার গেমস-এর মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বাণিজ্যিক সাফল্যের পেছনে মিলিনিয়াল নারী ভক্তরাই ছিল প্রধান শক্তি। সম্প্রতি বার্বি (২০২৩) চলচ্চিত্র এবং সংগীতশিল্পী টেইলর সুইফটের 'ইরাস ট্যুর'-এ তাদের বিশাল উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।[১০৯]
জনমিতি
[সম্পাদনা]এশিয়া
[সম্পাদনা]চীনা মিলিনিয়ালদের সাধারণত 'আশির দশক পরবর্তী' এবং 'নব্বইয়ের দশক পরবর্তী' প্রজন্ম বলা হয়। ২০১৫ সালে সাংহাইতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে চীনা মিলিনিয়ালদের আমেরিকান মিলিনিয়ালদের সাথে তুলনা করা হয়। গবেষণায় তাদের বিবাহ, সন্তান ধারণ, ক্যারিয়ারের আকাঙ্ক্ষা এবং সমাজসেবামূলক কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরীক্ষা করা হয়। ১৯৭০-এর দশকের শেষে চালু হওয়া এক সন্তান নীতির কারণে চীনে এক সন্তানের পরিবার এখন একটি আদর্শে পরিণত হয়েছে, যা দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ধক্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে; বিশেষ করে শহরগুলোতে যেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় গ্রামের তুলনায় অনেক বেশি।[১১০]
সাংস্কৃতিক আদর্শ, সরকারি নীতি এবং আধুনিক চিকিৎসার ফলে চীন ও ভারতে চরম লিঙ্গ বৈষম্য দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের মতে, ২০১৮ সালে চীনে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রতি ১০০ নারীর বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা ছিল ১১২ জন। ভারতে এই সংখ্যা ছিল ১১১। চীনে মোট ৩ কোটি ৪০ লক্ষ এবং ভারতে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ অতিরিক্ত পুরুষ ছিল, যা মালয়েশিয়ার মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। এই বৈষম্য একাকীত্ব, মানব পাচার (কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের মতো দেশ থেকে) এবং পতিতাবৃত্তির মতো সামাজিক সমস্যাগুলোকে উস্কে দিচ্ছে।[১১১]
সিঙ্গাপুরের জন্মহার ১৯৮০-এর দশক থেকেই প্রতিস্থাপন স্তর ২.১-এর নিচে নেমে গেছে। ২০১৮ সালে এটি ১.১৪-এ পৌঁছায়, যা ২০১০ সালের পর সর্বনিম্ন। বেবি বোনাসের মতো সরকারি প্রণোদনাগুলো জন্মহার বৃদ্ধিতে যথেষ্ট প্রমাণিত হয়নি। সিঙ্গাপুরের এই অভিজ্ঞতা জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞতারই প্রতিফলন।[১১২]
ভিয়েতনামের মধ্যম বয়স ২০১৮ সালে ছিল ২৬ এবং তা বাড়ছে। ভিয়েতনামের প্রজনন হার ১৯৮০ সালে ৫ থেকে কমে ২০১৭ সালে ১.৯৫-এ দাঁড়িয়েছে। একই বছরে ভিয়েতনামের জনসংখ্যার ২৩% ছিল ১৫ বছর বা তার কম বয়সী, যা ১৯৮৯ সালে ছিল প্রায় ৪০%। ফিলিপাইনের মতো দ্রুত বর্ধনশীল দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোতেও একই জনমিতিক প্রবণতা দেখা গেছে।[১১৩]
- ২০১৬ সালে ভারত, চীন এবং সিঙ্গাপুরের জনসংখ্যার পিরামিড
ইউরোপ
[সম্পাদনা]
১৯৬০ ও ৭০-এর দশকের শেষ দিকে ইউরোপে গড় নারীর সন্তানের সংখ্যা দুইয়ের নিচে নেমে আসে। যদিও জনমিতিবিদরা প্রথমে সংশোধনের আশা করেছিলেন, তবে সেই পুনরুদ্ধার কেবল কয়েকটি দেশেই ঘটেছে। বিংশ শতাব্দীর একদম শেষে সুইডেন, আয়ারল্যান্ড এবং আইসল্যান্ডে প্রজনন হার কিছুটা বেড়েছিল; সুইডেনে এটি বেড়ে ১৯৯০ সালে ২.১৪-এ পৌঁছায়, যা মূলত উন্নত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কল্যাণমূলক ব্যবস্থার কারণে হয়েছিল। বর্তমানে ফ্রান্স ও সুইডেনের প্রজনন হার ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের তুলনায় বেশি এবং উভয় দেশই ২০১০ সালে প্রায় প্রতিস্থাপন স্তরে পৌঁছেছিল।
শহরায়ন এবং শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসের ফলে সন্তান লালন-পালনের ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা প্রজনন হার হ্রাসের প্রাথমিক কারণ। ১৯৬০-এর দশকে মানুষ প্রথাগত ও গোষ্ঠীগত মূল্যবোধ থেকে বেরিয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ধাবিত হতে শুরু করে। ১৯৮১ সালের এক জরিপে দেখা গেছে যে, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী অর্ধেকেরও বেশি মানুষ মনে করতেন নারীর পূর্ণতার জন্য সন্তান প্রয়োজন, তবে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে মাত্র ৩৫% এর সাথে একমত ছিলেন।[১৮]
একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপ বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যার সমস্যায় ভুগছে। পশ্চিম ইউরোপে এই সমস্যা আন্তর্জাতিক অভিবাসনের মাধ্যমে কিছুটা প্রশমিত হলেও পূর্ব ইউরোপে এটি তীব্র। যুক্তরাজ্যে ১৯৯১ সালে বিদেশী বংশোদ্ভূত বাসিন্দার সংখ্যা ছিল জনসংখ্যার ৬%। অভিবাসনের এই দ্রুত পরিবর্তন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জাতীয় জনতুষ্টিবাদের উত্থানের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়, যার একটি উদাহরণ হলো 'ব্রেক্সিট'।[১১৪]
ইতালিতে এই সমস্যা সবচেয়ে প্রকট, যেখানে প্রজনন হার ১.২-এ নেমে এসেছে। এর কারণ এই নয় যে তরুণ ইতালীয়রা সন্তান চায় না, বরং ২০০৭-০৮ সালের মহা মন্দার পর থেকে ইতালির অর্থনীতি ধুঁকছে এবং ২০১৯ সালে যুব বেকারত্বের হার ছিল ৩৫%। প্রতি বছর অনেক তরুণ ইতালি ছেড়ে বিদেশে চলে যাচ্ছে। ইতালীয় জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এখন অবসরপ্রাপ্ত বেবি বুমার, যাদের দেখাশোনার জন্য পর্যাপ্ত তরুণ কর্মী নেই। জাপানের পরই ইতালির জনসংখ্যার কাঠামো সবচেয়ে বেশি বয়স্কদের দিকে ঝুঁকে আছে।[১১৫]
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়ার জন্মহার কমতে শুরু করে এবং মৃত্যুহার বাড়তে থাকে। ১৯৯২ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে রাশিয়ার জনসংখ্যা ১৪ কোটি ৯০ লক্ষ থেকে কমে ১৪ কোটি ৪০ লক্ষ-এ দাঁড়ায়। জাতিসংঘের মতে ২০২০-এর দশকের মধ্যে রাশিয়া আরও ২ কোটি মানুষ হারাতে পারে।[১১৬]
- ২০১৬ সালে ইতালি, গ্রিস এবং রাশিয়ার জনসংখ্যার পিরামিড
ওশেনিয়া
[সম্পাদনা]অস্ট্রেলিয়ার মোট প্রজনন হার যুদ্ধোত্তর সময়ের ৩-এর ওপর থেকে কমে বর্তমানে প্রতিস্থাপন স্তরের নিচে নেমে গেছে। তবে অভিবাসন এই নিম্ন জন্মহারের প্রভাবকে ভারসাম্যপূর্ণ করছে। ২০১৬ সালে নতুন আগতদের ৮৪% ছিল ৪০ বছরের কম বয়সী। তবে কর্মক্ষম মানুষের তুলনায় অবসরপ্রাপ্তদের অনুপাত ১৯৭০-এর দশকের ৮ থেকে কমে ২০১০-এর দশকে ৪-এ দাঁড়িয়েছে। অভিবাসনের প্রলেপ সরিয়ে দিলে বার্ধক্যজনিত জনমিতিক চাপ অস্ট্রেলিয়ার ওপর ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।[১১৭]
উত্তর আমেরিকা
[সম্পাদনা]
ঐতিহাসিকভাবে, সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুর দিকের অ্যাংলো-প্রটেস্ট্যান্ট বসতি স্থাপনকারীরা ছিল সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে সফল গোষ্ঠী এবং তারা বিংশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল। আলোকায়নের আদর্শের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার অর্থ ছিল যে তারা ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের বাইরে থেকে আসা নবাগতদের নিজেদের সাথে মিশিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করত। কিন্তু খুব কম লোকই এই জাতির জন্য একটি প্যান-ইউরোপীয় পরিচয় গ্রহণ করতে আগ্রহী ছিল, এমনকি এটিকে একটি বিশ্বব্যাপী 'মেল্টিং পট' (সমন্বয় ক্ষেত্র)-এ পরিণত করার আগ্রহও ছিল সামান্য। কিন্তু ১৯০০-এর দশকের শুরুতে, উদারপন্থী প্রগতিশীল এবং আধুনিকতাবাদীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয় কী হওয়া উচিত সে সম্পর্কে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শ প্রচার করতে শুরু করেন। যখন সমাজের অধিকতর রক্ষণশীল অংশগুলো তাদের অ্যাংলো-প্রটেস্ট্যান্ট নৃ-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রাখা অব্যাহত রেখেছিল, তখন অভিজাতদের মধ্যে বিশ্বজনীনতা এবং সার্বজনীনতা জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই আদর্শগুলো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় এবং জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলো একসময়ের প্রভাবশালী অ্যাংলো-প্রটেস্ট্যান্টদের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক সমতার দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করে।[১১৮] রাষ্ট্রপতি লিন্ডন বি. জনসনের অনুরোধে পাস হওয়া ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অফ ১৯৬৫ (যা হার্ট-সেলার অ্যাক্ট নামেও পরিচিত) অভিবাসীদের জন্য জাতীয় কোটা বাতিল করে এবং এর পরিবর্তে এমন একটি ব্যবস্থা চালু করে যেখানে দক্ষতা এবং আশ্রয়ের প্রয়োজনের মতো গুণাবলীর ভিত্তিতে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তিকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এর ফলে উত্তর আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চল (বিশেষ করে কানাডা ও মেক্সিকো), এশিয়া, মধ্য আমেরিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে অভিবাসীদের আগমন বৃদ্ধি পায়।[১১৯] ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি নাগাদ, বেশিরভাগ অভিবাসীর উৎস ছিল এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকা। কেউ কেউ ভিয়েতনাম, কিউবা, হাইতি এবং আমেরিকার অন্যান্য অংশ থেকে আসা শরণার্থী ছিল, আবার অন্যরা দীর্ঘ এবং মূলত অরক্ষিত মার্কিন-মেক্সিকীয় সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে এসেছিল। একই সময়ে, যুদ্ধোত্তর বেবি বুম এবং পরবর্তীতে প্রজনন হার হ্রাস একবিংশ শতাব্দীতে বেবি বুমারেরা অবসর গ্রহণের সাথে সাথে আমেরিকার সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে বলে মনে হয়।[১২০] সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-এর সাময়িক তথ্য থেকে জানা যায় যে, ১৯৭১ সাল থেকে মার্কিন প্রজনন হার প্রতিস্থাপন স্তর ২.১-এর নিচে নেমে গেছে (২০১৭ সালে এটি ১.৭৬৫-এ নেমে আসে)।[১২১]

ব্যবহৃত সংজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে মিলিনিয়ালদের জনসংখ্যার আকার পরিবর্তিত হয়। নিজস্ব সংজ্ঞা ব্যবহার করে পিউ রিসার্চ সেন্টার অনুমান করেছে যে, ২০১৪ সালে মিলিনিয়ালরা মার্কিন জনসংখ্যার ২৭% ছিল।[১০১] একই বছরে, ১৯৮২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত সময়কাল ব্যবহার করে নিল হাউ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই সংখ্যাটি ৯ কোটি ৫০ লক্ষের বেশি বলে সংশোধন করেন।[১২২] ২০১২ সালের একটি টাইম ম্যাগাজিনের নিবন্ধে অনুমান করা হয়েছিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮ কোটি মিলিনিয়াল ছিল।[১২৩] মার্কিন জনশুমারি দপ্তর, ১৯৮২ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত জন্ম তারিখ ব্যবহার করে জানিয়েছে যে ২০১৫ সালে মার্কিন মিলিনিয়ালদের আনুমানিক সংখ্যা ছিল ৮ কোটি ৩১ লক্ষ।[১২৪]
২০১৭ সালে, ৫৬%-এর কম মিলিনিয়াল ছিল হিস্পানিক নয় এমন শ্বেতাঙ্গ, যেখানে ৭০ এবং ৮০-এর কোঠায় থাকা আমেরিকানদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৮৪%-এর বেশি। তাদের মধ্যে ৫৭% অবিবাহিত ছিল এবং ৬৭% মহানগর এলাকায় বসবাস করত।[১২৫] ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের মতে, মিলিনিয়ালরা হলো "প্রধানত শ্বেতাঙ্গ প্রবীণ প্রজন্ম (প্রাক-মিলিনিয়াল) এবং অনেক বেশি জাতিগতভাবে বৈচিত্র্যময় তরুণ প্রজন্মের (উত্তর-মিলিনিয়াল) মধ্যে একটি জনসংখ্যাতাত্ত্বিক সেতু।"[১২৬]
ইউএস সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণ করে পিউ রিসার্চ সেন্টার অনুমান করেছে যে, মিলিনিয়ালরা (যাদের তারা ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে) ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো বেবি বুমারদের (১৯৪৬ থেকে ১৯৬৪ সালের মধ্যে জন্ম) সংখ্যায় ছাড়িয়ে গেছে। সেই বছর ৭ কোটি ২১ লক্ষ মিলিনিয়াল ছিল এবং বেবি বুমারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ১৬ লক্ষ। জাতীয় স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান কেন্দ্র-এর তথ্য দেখায় যে প্রায় ৬ কোটি ২০ লক্ষ মিলিনিয়াল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছে, যেখানে জেনারেশন এক্স-এর সদস্য ছিল ৫ কোটি ৫০ লক্ষ এবং বেবি বুমার ছিল ৭ কোটি ৬০ লক্ষ। মিলিনিয়ালরা অভিবাসন এবং নাগরিকত্ব গ্রহণের ফলে সংখ্যায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, ২০১০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মিলিনিয়ালরাই ছিল অভিবাসীদের বৃহত্তম গোষ্ঠী। ২০২০ সালের নির্বাচনে ১০% মার্কিন ভোটার দেশের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যা ২০০০ সালে ছিল ৬%। বিভিন্ন জাতিগত বা বয়সের মানুষ ভিন্নভাবে ভোট দেয়, যার অর্থ হলো এই জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তন আমেরিকান রাজনীতির ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করবে। যদিও তরুণ ভোটাররা তাদের বড়দের থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন মতামত পোষণ করেন, তবে তাদের ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।[১২৭]

২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল হাতেগোনা কয়েকটি উন্নত দেশের একটি যাদের জনসংখ্যার পিরামিড 'টপ-হেভি' বা প্রবীণ-নির্ভর নয়। আসলে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মার্কিন জনসংখ্যার গড় বয়স অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, সাইপ্রাস, আয়ারল্যান্ড এবং আইসল্যান্ড বাদে অন্য সব ধনী দেশের তুলনায় কম ছিল। এর কারণ হলো আমেরিকান বেবি বুমারদের প্রজনন হার উন্নত বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি ছিল। বিপরীতে কানাডা, জার্মানি, ইতালি, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া দ্রুত বার্ধক্যের দিকে যাচ্ছে কারণ তাদের মিলিনিয়ালদের সংখ্যা পিতামাতাদের তুলনায় কম। মিলিনিয়ালরা যখন মধ্যবয়সে পৌঁছাবে তখন এই জনমিতিক বাস্তবতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক প্রধান অর্থনীতির তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে: কারণ দেশটির তখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং করদাতা থাকবে।[২২]
পিউ রিসার্চ সেন্টারের মতে, "পুরুষদের মধ্যে ২০১৭ সালে মিলিনিয়ালদের (২১ থেকে ৩৬ বছর বয়সী) মাত্র ৪% প্রবীণ সৈনিক, যেখানে ৭০ ও ৮০-এর কোঠায় থাকা পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৪৭%, যাদের অনেকে কোরীয় যুদ্ধ এবং এর পরবর্তী সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছিলেন।"[১২৫] এই প্রাক্তন সামরিক সদস্যদের কেউ কেউ সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, যেমন আফগানিস্তান বা ইরাক যুদ্ধে।[১২৮] ২০১৬ সাল পর্যন্ত মিলিনিয়ালরা মোট প্রবীণ সৈনিক জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ। পেন্টাগনের মতে, ১৯% মিলিনিয়াল সামরিক বাহিনীতে কাজ করতে আগ্রহী এবং ১৫%-এর এমন বাবা-মা আছেন যাদের সামরিক বাহিনীতে কাজ করার ইতিহাস রয়েছে।[১২৯]
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং প্রবণতা
[সম্পাদনা]প্রবণতাগুলো থেকে বোঝা যায় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবোটিক্সের বিকাশ ব্যাপক বেকারত্ব তৈরি করবে না, বরং উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। তবে এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে মানুষকে এমন দক্ষতা অর্জন করতে হবে যা মেশিনগুলো এখনও আয়ত্ত করতে পারেনি, যেমন দলগত কাজ।[১৩০]
জাতিসংঘ এবং গ্লোবাল ট্যালেন্ট কম্পিটিটিভ ইনডেক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে কেডিএম ইঞ্জিনিয়ারিং দেখেছে যে, ২০১৯ সাল নাগাদ আন্তর্জাতিক উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য শীর্ষ পাঁচটি দেশ হলো সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সুইডেন। সুইজারল্যান্ড তার চমৎকার জীবনযাত্রার মানের কারণে প্রতিভা ধরে রাখতে সেরা। সিঙ্গাপুর উদ্যোক্তাদের জন্য বিশ্বমানের পরিবেশ প্রদান করে। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার অর্থনীতির বিশাল আকার এবং উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মানের কারণে বিকাশের সবচেয়ে বেশি সুযোগ দেয়।[১৩১] ২০১৯ সাল অনুযায়ী এগুলো বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম অনুসারে বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি। কোনো দেশের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা নির্ধারণের জন্য ডাব্লিউইএফ সরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্ভরযোগ্যতা, অবকাঠামোর মান, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবার মান, ব্যবসায়িক গতিশীলতা এবং উদ্ভাবন ক্ষমতার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করে।[১৩২]
২০০০-২০২০ সালের মধ্যে কোভিড মহামারীর আগে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলো সান ফ্রান্সিসকো, নিউ ইয়র্ক, লন্ডন, টোকিও এবং সিডনির মতো বড় মহানগর অঞ্চলগুলোতে পুঞ্জীভূত হওয়ার প্রবণতা দেখিয়েছিল। মহামারীর কারণে প্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোতে বাড়ি থেকে কাজ করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।[১৩৩]
অর্থনীতিবিদরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে ২০১০-এর দশকের শুরুর মধ্যে পশ্চিমা বিশ্বে উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা হওয়ার হার হ্রাস পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদ নিকোলাস কোজেনিয়াউস্কাস ব্যাখ্যা করেছেন যে, "উদ্যোক্তা হওয়ার এই হ্রাস বুদ্ধিমানদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে", কারণ সে দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারী উদ্যোক্তাদের হার ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। এর অনেক সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে: জনসংখ্যার বার্ধক্য, বাজারের একচেটিয়াকরণ এবং 'জম্বি ফার্ম' (যাদের উৎপাদনশীলতা কম কিন্তু ভর্তুকি দিয়ে টিকিয়ে রাখা হয়েছে)। যদিও কর্মসংস্থান আগের চেয়ে বেশি স্থিতিশীল হয়েছে, তবে আধুনিক অর্থনীতিগুলো এতই জটিল ও স্থবির হয়ে পড়েছে যে তারা ছোটখাটো ব্যাঘাতের মুখেও ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে।[১৩৪]
শিক্ষা
[সম্পাদনা]বৈশ্বিক প্রবণতা
[সম্পাদনা]১৯৯০-এর দশকের শেষ থেকে ২০১০-এর দশকের শেষ পর্যন্ত শিক্ষা বিশ্বজুড়ে দেশগুলোর অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে পাল্টে দিয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষ আরও শিক্ষিত হয়ে ওঠায় তারা উন্নত বিশ্বের সাথে ব্যবধান কমিয়ে এনেছে। ফলে পশ্চিমা বিশ্ব শিক্ষায় তাদের আপেক্ষিক সুবিধা হারিয়েছে। বিশ্বে এখন আগের চেয়ে বেশি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ডিপ্লোমাধারী মানুষ রয়েছে। স্নাতক এবং উচ্চতর ডিগ্রিধারী মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে অনেক কাজ এখন বাড়ি থেকে কাজ করার উপযোগী হয়ে ওঠায় পশ্চিমা বিশ্বের শিক্ষার আপেক্ষিক সুবিধা আরও কমেছে, যা অভিবাসন এবং বিশ্বায়নের বিরুদ্ধে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।[১২]
উন্নয়নশীল বিশ্বে যত বেশি নারী শিক্ষিত হচ্ছেন, তত বেশি নারী গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসছেন, কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছেন এবং পুরুষদের সাথে প্রতিযোগিতা করছেন, যা ঐসব দেশের পুরুষদের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দিচ্ছে।[১২]
ইউরোপে
[সম্পাদনা]সুইডেনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা টিউশন-মুক্ত, যেমনটি নরওয়ে, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড এবং ফিনল্যান্ডের ক্ষেত্রেও সত্য। তবে সুইডিশ শিক্ষার্থীরা সাধারণত অনেক ঋণগ্রস্ত হয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন কারণ তাদের দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেশি। সুইডেনে ছাত্র সহায়তা তাদের নিজস্ব আয়ের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়, যেখানে জার্মানি বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো কিছু দেশে এই সহায়তা পিতামাতার আয়ের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়। ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে প্রায় সকল সুইডিশ শিক্ষার্থী সরকারি সংস্থা সিএসএন থেকে আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী পরিশোধের সুবিধাসহ স্বল্প সুদে ঋণ অন্তর্ভুক্ত।[১৩৫]
জার্মানির কার্লসরুহে বিচারকরা ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় টিউশন ফি-র ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক বলে বাতিল করেন এই যুক্তিতে যে এটি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে জার্মান রাজ্যগুলোর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে। বাভারিয়ার বিজ্ঞান মন্ত্রী থমাস গোপেল অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছেন, "ফি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণমান রক্ষা করতে সাহায্য করবে।" ফি-র সমর্থকরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক বোঝা কমাতে সাহায্য করবে এবং শিক্ষার্থীদের আরও দক্ষতার সাথে পড়াশোনা করতে উৎসাহিত করবে। বিরোধীরা বিশ্বাস করতেন ফি মানুষের জন্য পড়াশোনা এবং সময়মতো গ্র্যাজুয়েশন করা আরও কঠিন করে তুলবে।[১৩৬]
যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ১৯৯০-এর দশকে আর্থিক সংকটের কারণে ফি নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য সরকারকে চাপ দেয়। ১৯৯৮ সালের শরৎকালে ১,০০০ পাউন্ডের একটি নামমাত্র টিউশন ফি চালু করা হয়েছিল। ২০০০ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যার তুলনায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ১৯৯৯ সালে অর্ধেক ব্রিটিশ তরুণকে বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারী করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন যে, উচ্চশিক্ষিত যুবকদের অতিরিক্ত সরবরাহ ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন সমাজে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে (যেমনটি টোকুগাওয়া জাপান বা সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষেত্রে দেখা গেছে)।[১৩৭] তবে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার চাহিদা প্রবল রয়ে গেছে। ২০১৭ সাল নাগাদ নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার হার পুরুষদের তুলনায় ১২ শতাংশ পয়েন্ট বেশি ছিল।[১৩৮]
উত্তর আমেরিকা
[সম্পাদনা]পিউ রিসার্চ সেন্টারের মতে, ২০০২ সালে ৫৩% আমেরিকান মিলিনিয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। তুলনা করলে দেখা যায়, ১৯৮৬ সালে এই হার ছিল ৪৪%।[১৩৯] ২০৩০-এর দশক নাগাদ ৩৯% মিলিনিয়াল অন্তত স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন, যা বেবি বুমারদের ২৫%-এর চেয়ে বেশি।
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশনের পর সাধারণত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে উৎসাহিত করা হয়, যেখানে টেকনিক্যাল স্কুল এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের বিকল্পগুলোকে প্রায়ই উপেক্ষা করা হয়।[১৪০] তবে উচ্চশিক্ষার উচ্চ ব্যয় এবং হতাশাজনক ফলাফলের কারণে ২০১০-এর দশকে এই ব্যবস্থার প্রতি মানুষের সংশয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সাল নাগাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোট কলেজ ঋণের পরিমাণ ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রতি তিনজনের মধ্যে দুইজন কলেজ গ্র্যাজুয়েট ঋণের বোঝা বহন করছেন।[১৩৯]
পরিমাণগত ইতিহাসবিদ পিটার তুর্চিন উল্লেখ করেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে—তিনি একে 'এলিট ওভারপ্রোডাকশন' বলে অভিহিত করেছেন। ঐতিহাসিক ধারা ব্যবহার করে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে এটি ২০২০-এর দশকে রাজনৈতিক অস্থিরতার অন্যতম কারণ হবে। তুর্চিনের মতে, অর্থনীতি যতজন গ্র্যাজুয়েটকে শুষে নিতে পারে তার চেয়ে বেশি গ্র্যাজুয়েট তৈরি হলে প্রতিযোগিতার তীব্রতা বাড়ে, যা রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সামাজিক বিভক্তি সৃষ্টি করে। উচ্চ শিক্ষিত হয়েও ম্লান ভবিষ্যতের কারণে অনেকে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, যা অতীতেও অস্থিরতার কারণ হয়েছে।[১৩৭]
আমেরিকান একাডেমি অফ আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স-এর মতে, শিক্ষার্থীরা লিবারেল আর্টস প্রোগ্রাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ২০০৮ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ইংরেজি প্রধান নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক-চতুর্থাংশেরও বেশি কমে গেছে। একই সময়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আকাশচুম্বী হয়েছে।

মার্কিন শিক্ষা দপ্তরের মতে, টেকনিক্যাল বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের হার স্নাতক ডিগ্রিধারীদের তুলনায় কিছুটা বেশি এবং তারা তাদের নিজস্ব বিশেষ ক্ষেত্রে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি এগিয়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে দক্ষ কারিগরের ঘাটতিতে ভুগছে।[১৪০]
যদিও রাজনীতিবিদরা স্টেম (STEM) শিক্ষার মান উন্নত করার চেষ্টা করছেন, তবে এই বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করা বেশ কঠিন। দি আটলান্টিক-এর মতে, ২০০৩ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে স্টেম-এ মেজর নেওয়া ৪৮% শিক্ষার্থী তাদের প্রোগ্রাম মাঝপথে ছেড়ে দিয়েছে। ইউসিএলএ-র সংগৃহীত তথ্য দেখায় যে, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ৬০% শিক্ষার্থী তাদের মেজর পরিবর্তন করেছে বা গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা অন্য যে কোনো বিভাগের তুলনায় দ্বিগুণ। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী স্টেম শিক্ষার কঠোর বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে হিমশিম খাচ্ছে। অনেকে গণিতে দুর্বল, আবার কেউ কেউ পর্যাপ্ত পরিশ্রমী নয়। অন্যদিকে চীন, ভারত এবং সিঙ্গাপুরের শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই উচ্চমানের গণিত ও বিজ্ঞানের সাথে পরিচিত হয়।[১৪১]
২০১৫ সালে শিক্ষামূলক মনোবিজ্ঞানী জোনাথন ওয়াই স্যাট এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ প্যাটার্ন খুঁজে পান: সবচেয়ে বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীরা পদার্থবিজ্ঞান ও প্রকৌশলকে মেজর হিসেবে বেছে নেয়, আর সবচেয়ে কম নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীরা শিক্ষাবিজ্ঞানকে বেছে নেয়।

ঐতিহাসিক জ্ঞান
[সম্পাদনা]২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১,৩৫০ জনের ওপর পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে যে, আমেরিকান মিলিনিয়ালদের ৬৬% (এবং মোট মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের ৪১%) জানতেন না যে অশউইৎজ কী ছিল।[১৪২] ৪১% ভুলভাবে দাবি করেছেন যে হলোকাস্টের সময় ২০ লক্ষ বা তার কম ইহুদি মারা গেছেন এবং ২২% বলেছেন যে তারা হলোকাস্টের কথা কখনও শোনেননি। মার্কিন মিলিনিয়ালদের ৯৫%-এর বেশি জানতেন না যে হলোকাস্টের একটি অংশ বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোতেও ঘটেছিল এবং ৪৯% একটিও নাৎসি বন্দি শিবির বা ঘেটোর নাম বলতে পারেননি। তবে অন্তত ৯৩% বিশ্বাস করেন যে স্কুলে হলোকাস্ট সম্পর্কে পড়ানো গুরুত্বপূর্ণ এবং ৯৬% বিশ্বাস করেন হলোকাস্ট সত্যিই ঘটেছিল।[১৪৩]
একটি ইউগভ জরিপে দেখা গেছে যে ৪২% আমেরিকান মিলিনিয়াল মাও সেতুং-এর নাম শোনেননি, যিনি ১৯৪৯ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত চীন শাসন করেছিলেন এবং ২-৪.৫ কোটি মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিলেন; আরও ৪০% চে গেভারা সম্পর্কে অপরিচিত।[১৪৪]
স্বাস্থ্য ও কল্যাণ
[সম্পাদনা]ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে-এর ২০১৮ সালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের মিলিনিয়ালরা সবচেয়ে বেশি মাত্রায় ওজন বৃদ্ধি এবং অতিস্থূলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান প্রবণতা বলছে যে মিলিনিয়ালরা এই দিক থেকে বেবি বুমার প্রজন্মকেও ছাড়িয়ে যাবে, যা তাদের রেকর্ডে থাকা সবচেয়ে ভারী প্রজন্মে পরিণত করবে। রিপোর্ট বলছে ৩৫-৪৫ বছর বয়সের মধ্যে ৭০% মিলিনিয়াল অতিরিক্ত ওজনের অধিকারী হবে।[১৪৫]
ন্যাশনাল স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের মতে, তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের (২০ এবং ৩০-এর কোঠায়) মধ্যে স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। ২০১০-এর দশকে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া তরুণদের সংখ্যা ৪৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন জীবনযাত্রার পছন্দ, যেমন স্থূলতা, ধূমপান, মদ্যপান এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাই এর কারণ। স্থূলতা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়ার সাথে যুক্ত। সিডিসি-র তথ্য অনুযায়ী, ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি ২৮% তরুণ আমেরিকান স্থূল ছিল; এক দশক পরে এই সংখ্যা ৩৬% হয়েছে। সুস্থ জীবনযাপন বেছে নেওয়ার মাধ্যমে ৮০% পর্যন্ত স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব।[১৪৬]
২০১৯ সালে আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজি-র একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪০ বছরের কম বয়সী আমেরিকানদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের হার গত এক দশকে বছরে গড় ২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। হার্ট অ্যাটাক হওয়া প্রতি পাঁচজন রোগীর মধ্যে একজন এই বয়স গ্রুপের। যদিও ধূমপান হ্রাসের কারণে আমেরিকানদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সাধারণ হার কমেছে, কিন্তু ডায়াবেটিস আক্রান্ত তরুণ রোগীদের জন্য এর পরিণতি অনেক বেশি খারাপ। পরিবারগত ইতিহাস এবং ডায়াবেটিস ছাড়াও তরুণ রোগীরা গাঁজা ও কোকেন সেবনের কথা জানিয়েছেন।[১৪৭]
মাদকাসক্তি এবং ওভারডোজ মিলিনিয়ালদের আগের প্রজন্মের চেয়ে বেশি বিরূপভাবে প্রভাবিত করছে। ২০০৬ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মিলিনিয়ালদের ওভারডোজজনিত মৃত্যুর হার ১০৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০২১ সালে ওপিওড ওভারডোজজনিত মৃত্যুর একটি বড় অংশই ছিল মিলিনিয়াল এবং প্রবীণ জুমাররা। ২০২১ সালে ২৫-৪৪ বছর বয়সীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল ড্রাগ ওভারডোজ।[১৪৮] এটি একটি বড় পরিবর্তন কারণ আগের প্রজন্মগুলোর ক্ষেত্রে সড়ক দুর্ঘটনা ছিল আকস্মিক মৃত্যুর প্রধান কারণ।
মিলিনিয়ালরা দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য নিয়েও ভুগছেন। ৩০%-এর বেশি তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের দাঁতে ছিদ্র বা ক্ষয় রয়েছে যা চিকিৎসা করা হয়নি (যে কোনো বয়সের তুলনায় এটি সর্বোচ্চ)। ৩৫% মিলিনিয়ালের কামড়াতে ও চিবাতে সমস্যা হয় এবং ৩৮% মনে করেন দাঁত ও মুখের সমস্যার কারণে জীবন সাধারণভাবে "কম তৃপ্তিদায়ক"।[১৪৯]
খেলাধুলা এবং ফিটনেস
[সম্পাদনা]
তাদের জেনারেশন এক্স পূর্বসূরিদের তুলনায় আমেরিকান মিলিনিয়ালরা খেলাধুলা কম অনুসরণ করে।[১৫০] ম্যাককিনজি অ্যান্ড কোম্পানির একটি জরিপ অনুযায়ী, জেনারেশন এক্স-এর ৪৫ শতাংশের বিপরীতে ৩৮ শতাংশ মিলিনিয়াল একনিষ্ঠ ক্রীড়াপ্রেমী।[১৫১] তবে সব খেলার ক্ষেত্রে এই চিত্র এক নয়; ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন, ইউএফসি, প্রিমিয়ার লিগ এবং কলেজ স্পোর্টসের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান নেই।[১৫০] উদাহরণস্বরূপ, ২০১৩ সালের একটি জরিপে দেখা গেছে যে একবিংশ শতাব্দীতে মিশ্র মার্শাল আর্টস-এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী আমেরিকানদের কাছে এটি মুষ্টিযুদ্ধ বা কুস্তির চেয়েও বেশি জনপ্রিয়; যেখানে ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সীরা মুষ্টিযুদ্ধ বেশি পছন্দ করেন।[১৫২] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মিলিনিয়ালদের মধ্যে আমেরিকান ফুটবল এবং এনএফএল-এর জনপ্রিয়তা কমলেও, মেজর লিগ সকার বা ফুটবলের জনপ্রিয়তা অন্য যে কোনো প্রজন্মের চেয়ে তাদের মধ্যে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮ সাল নাগাদ এটি ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে দ্বিতীয় জনপ্রিয় খেলা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।[১৫৩]
ক্রীড়া অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে মিলিনিয়ালদের মধ্যে মুষ্টিযুদ্ধ, সাইক্লিং, দৌড় এবং সাঁতার বেশ জনপ্রিয় বা উদীয়মান। অন্যদিকে গলফ-এর মতো খেলাগুলো মিলিনিয়ালদের মধ্যে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি কাউন্সিলের ২০১৮ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন মিলিনিয়ালরা স্ট্যান্ড-আপ প্যাডলিং, বোর্ড-সেলিং এবং সার্ফিংয়ের মতো জলক্রীড়ায় অন্য প্রজন্মের তুলনায় বেশি অংশ নেয়। ২০১৭ সালে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক আমেরিকান মিলিনিয়াল উচ্চ ক্যালরি ক্ষয়কারী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে, যেখানে মাত্র এক-চতুর্থাংশ অলস জীবনযাপন করে। ২০১৮ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী মিলিনিয়ালরা ২০১৭ সালে বেবি বুমারদের তুলনায় বেশি সক্রিয় ছিল। মিলিনিয়াল এবং জেনারেশন এক্স উভয়েরই ৩৫ শতাংশ "স্বাস্থ্যকর মাত্রায় সক্রিয়" ছিল।[১৫৪][১৫৫]
রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অংশগ্রহণ
[সম্পাদনা]
মিলিনিয়ালরা রাজনৈতিক আলোচনা বা ডিসকোর্সকে নতুন রূপ দিচ্ছে; তারা শাসনব্যবস্থা, সামাজিক সমস্যা এবং অর্থনৈতিক নীতির প্রতি পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করছে। তাদের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং স্বতন্ত্র প্রজন্মগত পরিচয় সমসাময়িক রাজনীতিতে একটি রূপান্তরমূলক পর্যায় নির্দেশ করে।
আমেরিকান মিলিনিয়ালরা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে একটি জটিল বর্ণালী প্রদর্শন করে। জরিপগুলো ইঙ্গিত দেয় যে মিলিনিয়ালদের একটি বড় অংশের রাজনৈতিক মতামত তাদের পিতামাতার সাথে মিলে যায়, যদিও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আরও উদারপন্থী প্রবণতা প্রকাশ করে। মার্কিন মিলিনিয়ালদের জন্য প্রধান ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে সমলৈঙ্গিক বিবাহ সমর্থন, এলজিবিটি সম্প্রদায়ের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রবীণ প্রজন্মের তুলনায় রাজনৈতিক আদর্শের ক্ষেত্রে আরও মধ্যপন্থী অবস্থান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মিলিনিয়ালরা পুঁজিবাদের প্রতি ক্রমবর্ধমান সংশয় প্রদর্শন করছে এবং এই জনমিতির তরুণ অংশগুলোর মধ্যে সমাজতন্ত্রের প্রতি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। জাস্টিন ট্রুডোকে নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে কানাডীয় মিলিনিয়ালরা সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদারনৈতিক মূল্যবোধের দ্বারা চালিত হয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ট্রুডোর প্রগতিশীল নির্বাচনী প্রচারণার প্রভাবে ২০১৫ সালের ফেডারেল নির্বাচনে যুব ভোটারদের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
ব্রিটিশ মিলিনিয়ালরা তাদের শুরুর বছরগুলোতে রাজনৈতিকভাবে কিছুটা নিষ্ক্রিয় থাকলেও, বর্তমানে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে উদারপন্থী প্রবণতা দেখাচ্ছে। ব্রেক্সিট গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তগুলো তরুণ ভোটারদের একত্রিত করেছিল। তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিল, যা রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে প্রজন্মগত বিভাজনকে স্পষ্ট করে তোলে।
পুরো ইউরোপ জুড়ে মিলিনিয়ালরা পরিবেশবাদ, সামাজিক উদারনীতি এবং বিশ্ব-নাগরিকত্বের মতো মূল্যবোধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই প্রজন্মগত পরিবর্তন রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপকে বদলে দিচ্ছে এবং প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ফরাসি মিলিনিয়ালরা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি পেলেও তারা 'প্রতিরক্ষা ও নাগরিকত্ব দিবসে' অংশ নেয়। তাদের একটি বড় অংশ জাতীয় সংহতি এবং একীকরণের আকাঙ্ক্ষা থেকে জাতীয় সেবা বা ন্যাশনাল সার্ভিস পুনরায় চালু করার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।
যাতায়াতের পছন্দের মাধ্যম
[সম্পাদনা]
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিলিনিয়ালরা শুরুতে ড্রাইভিং লাইসেন্স বা নিজস্ব গাড়ি রাখার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী ছিল না। এর কারণ ছিল লাইসেন্স সংক্রান্ত নতুন আইন এবং তাদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সময়কার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। তবে এই প্রজন্মের প্রবীণরা ইতিমধ্যে বিপুল সংখ্যায় গাড়ি কেনা শুরু করেছেন। ২০১৬ সালে মিলিনিয়ালরা বেবি বুমার বাদে অন্য যে কোনো জীবিত প্রজন্মের চেয়ে বেশি গাড়ি এবং ট্রাক কিনেছে; এমনকি ক্যালিফোর্নিয়ায় ঐ বছর গাড়ি মালিকানার ক্ষেত্রে মিলিনিয়ালরা বেবি বুমারদের ছাড়িয়ে গেছে।[১৫৬] এমআইটি-র অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার নিটেল এবং এলিজাবেথ মারফির একটি গবেষণাপত্র অনুযায়ী, বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ—যেমন আয়, বৈবাহিক অবস্থা, সন্তানের সংখ্যা এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নিলে দেখা যায় যে গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মিলিনিয়ালদের দৃষ্টিভঙ্গি তাদের পূর্বসূরিদের থেকে আলাদা নয়। প্রকৃতপক্ষে, মিলিনিয়ালরা বেবি বুমারদের তুলনায় দীর্ঘ দূরত্বে গাড়ি চালায়। অর্থনৈতিক শক্তি, যেমন পেট্রোলের কম দাম এবং উচ্চ আয় মিলিনিয়ালদের গাড়ির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে সহায়তা করেছে। উচ্চ আয়ের মিলিনিয়ালরা তাদের সমবয়সীদের তুলনায় কম গাড়ি চালায়, সম্ভবত কারণ তারা বড় শহরে থাকার ব্যয় বহন করতে সক্ষম যেখানে গণপরিবহন এবং উবারের মতো রাইড-হেলিং সার্ভিস ব্যবহারের সুযোগ বেশি থাকে।[১৫৭]
পিউ রিসার্চ সেন্টারের মতে, তরুণদের গণপরিবহন ব্যবহারের সম্ভাবনা বেশি। ২০১৬ সালে ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ২১% দৈনিক বা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে গণপরিবহন ব্যবহার করেছেন, যেখানে সমস্ত মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ১১%।[১৫৮] দেশব্যাপী প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আমেরিকান কর্মজীবী তাদের নিজস্ব গাড়ি চালিয়ে যাতায়াত করেন। এছাড়াও পিউ-র মতে, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের ৫১% ২০১৮ সালে লিফট বা উবার ব্যবহার করেছেন, যা ২০১৫ সালে ছিল মাত্র ২৮%। সাধারণত শহরবাসী, তরুণ, বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারী এবং উচ্চ আয়ের মানুষেরাই রাইড-হেলিং অ্যাপগুলো বেশি ব্যবহার করেন।[১৫৯]
ধর্মীয় বিশ্বাস
[সম্পাদনা]মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিলিনিয়ালরা প্রায়ই নিজেদের "আধ্যাত্মিক কিন্তু ধর্মীয় নয়" হিসেবে বর্ণনা করেন। জীবনের অর্থ বা নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি খুঁজতে তারা অনেক সময় জ্যোতিষশাস্ত্র, ধ্যান বা মননশীলতা কৌশলের দিকে ঝুঁকে পড়েন।[২৫] 'হ্যান্ডবুক অফ চিলড্রেন অ্যান্ড ইউথ স্টাডিজ'-এর একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউরোপের অধিকাংশ তরুণ উত্তরদাতা কোনো না কোনো খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করেছেন এবং বেশিরভাগ দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ তরুণরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন।[১৬০] তবে গ্রেট ব্রিটেন, সুইডেন, ফ্রান্স, ইতালি এবং ডেনমার্কে তরুণদের মধ্যে ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিপরীতে রাশিয়া, ইউক্রেন এবং রোমানিয়ার তরুণদের মধ্যে ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধি পেয়েছে।[১৬০]
যুক্তরাজ্যে পরিচালিত একটি ইউগভ জরিপে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী ব্রিটিশদের ৫৬% বিয়ে বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ছাড়া কখনও উপাসনালয়ে যাননি। ২৫% ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন এবং ১৯% কোনো "উচ্চতর আধ্যাত্মিক শক্তিতে" বিশ্বাস করেন। জরিপ অনুযায়ী ১৪% মনে করেন ধর্ম বিশ্বের জন্য "মঙ্গলের কারণ", যেখানে ৪১% মনে করেন ধর্ম "অমঙ্গলের কারণ"। ব্রিটিশ সোশ্যাল অ্যাটিটিউডস সার্ভে জানিয়েছে যে ১৮-২৪ বছর বয়সী ব্রিটিশদের ৭১% ধর্মহীন।[১৬১]
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ প্রজন্মের তুলনায় মিলিনিয়ালরাই ধর্মীয় হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম। ১৯৪০-এর দশক থেকেই সেখানে ধর্মহীনতা বৃদ্ধির একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। পিউ রিসার্চের ২০১২ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, ১৮-২৯ বছর বয়সী আমেরিকানদের ৩২ শতাংশ ধর্মহীন, যেখানে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৯ শতাংশ।[১৬২] ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ওপর করা পিউ-র ২০১০ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৩% নিজেদের "নাস্তিক" এবং ৪% "অজ্ঞেয়বাদী" হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ৬৮% নিজেদের "খ্রিস্টান" হিসেবে পরিচয় দেন। সামগ্রিকভাবে ২৫% মিলিনিয়াল ধর্মহীন এবং ৭৫% কোনো না কোনো ধর্মের অনুসারী। ২০১১ সালে সামাজিক মনোবিজ্ঞানীরা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, পরিবার গঠন এবং যৌন আচরণের মতো 'প্রজনন কৌশল' ধর্মীয় হওয়ার ক্ষেত্রে অন্য যে কোনো সামাজিক ভেরিয়েবলের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মার্কিন প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় হওয়া প্রজনন এবং সন্তান লালন-পালনের লক্ষ্যকে ত্বরান্বিত করে। তবে এই 'রিপ্রোডাক্টিভ রিলিজিয়াসিটি মডেল' সব দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে; যেমন সিঙ্গাপুরে বৌদ্ধদের ধর্মীয়তার সাথে যৌন দৃষ্টিভঙ্গির কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।[১৬৩]

২০১৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে তরুণ বয়সে গির্জায় উপস্থিতির হার জেনারেশন জি-এর মধ্যে ৪১%, মিলিনিয়ালদের মধ্যে ১৮% এবং জেনারেশন এক্স-এর মধ্যে ২১% ছিল। বার্না গ্রুপের একটি জরিপ অনুযায়ী, নাস্তিক এবং অজ্ঞেয়বাদীদের অনুপাত জেনারেশন জি-এর মধ্যে ২১%, মিলিনিয়ালদের মধ্যে ১৫% এবং বেবি বুমারদের মধ্যে ৯%। ৪১% কিশোর বিশ্বাস করেন যে বিজ্ঞান এবং বাইবেল মৌলিকভাবে একে অপরের বিরোধী, যার মধ্যে ২৭% বিজ্ঞানের পক্ষ নিয়েছেন এবং ১৭% ধর্মকে বেছে নিয়েছেন। এর বিপরীতে ৪৫% মিলিনিয়াল মনে করেন এমন বিরোধ বিদ্যমান। ৩১% জেনারেশন জি বিশ্বাস করেন বিজ্ঞান এবং ধর্ম বাস্তবতার ভিন্ন ভিন্ন দিক নির্দেশ করে, যা মিলিনিয়াল এবং জেনারেশন এক্স-এর (উভয়ই ৩০%) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।[১৬৪]
সামাজিক প্রবণতা
[সম্পাদনা]সামাজিক পরিমণ্ডল
[সম্পাদনা]
২০১৪ সালের মার্চ মাসে পিউ রিসার্চ সেন্টার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে বলা হয় যে "প্রাপ্তবয়স্ক মিলিনিয়ালরা" বিভিন্ন "প্রতিষ্ঠান থেকে বিচ্ছিন্ন এবং বন্ধুদের সাথে নেটওয়ার্কযুক্ত"। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিলিনিয়ালরা আমেরিকার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রবীণদের তুলনায় কিছুটা বেশি আশাবাদী; ৪৯% মিলিনিয়াল মনে করেন দেশের সেরা দিনগুলো সামনে আসছে, যদিও তারা আধুনিক যুগের প্রথম প্রজন্ম যারা উচ্চমাত্রার ছাত্রঋণ এবং বেকারত্বের সম্মুখীন।[১৬৫]
সঙ্গীনির্বাচন আচরণ
[সম্পাদনা]বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে অনেক দেশে মানুষ ক্রমবর্ধমানভাবে সমান আর্থ-সামাজিক মর্যাদা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন জীবনসঙ্গী খুঁজছে। নিজের মতো একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সঙ্গীকে প্রাধান্য দেওয়ার এই ঘটনাটি 'অ্যাসর্টেটিভ মেটিং' নামে পরিচিত। অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে এই ধরনের সঙ্গী নির্বাচনের পেছনে আংশিক অর্থনৈতিক কারণও দায়ী ছিল। বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে ওয়াশিং মেশিন এবং হিমায়িত খাবারের মতো উদ্ভাবনগুলো বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য হয়ে ওঠে। এগুলো গৃহস্থালি কাজে মানুষের ব্যয় করা সময়ের পরিমাণ কমিয়ে দেয়, যার ফলে ঘরোয়া দক্ষতার গুরুত্ব আগের চেয়ে হ্রাস পায়।[১৬৬] তদুপরি, ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে কেবল হাই স্কুল ডিপ্লোমাধারী কোনো দম্পতির পক্ষে জাতীয় গড় আয়ের সমান উপার্জন করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে; অন্যদিকে, অন্তত স্নাতক ডিগ্রিধারী দম্পতিরা জাতীয় গড় আয়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি উপার্জনের আশা করতে পারতেন। ফলে সম্ভাব্য আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে মানুষ অন্তত নিজের সমান শিক্ষিত জীবনসঙ্গী খোঁজার জন্য একটি স্পষ্ট অর্থনৈতিক প্রণোদনা পায়।[১৬৭] এই ধরনের সঙ্গী নির্বাচনের আরেকটি কারণ হলো ভবিষ্যৎ বংশধরদের নিরাপত্তা। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে মানুষ ক্রমবর্ধমানভাবে বুদ্ধিমান এবং সুশিক্ষিত সন্তান কামনা করছে; আর মেধাবী ও বিত্তশালী কাউকে বিয়ে করা সেই লক্ষ্য অর্জনে অনেক দূর এগিয়ে দেয়।[১৬৬][১৬৮] একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের দম্পতিরা লিঙ্গীয় ভূমিকার ক্ষেত্রে প্রথাগত দৃষ্টিভঙ্গির বদলে সমতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। আধুনিক বিবাহ এখন কেবল পুরুষের উপার্জন এবং নারীর গৃহকর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মূলত সাহচর্যের একটি মাধ্যম।[১৬৮] আমেরিকান এবং চীনা তরুণরা পারিবারিক, সামাজিক বা ধর্মীয় প্রত্যাশার চেয়ে এখন ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে বিয়ে করবেন কি না তা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।[১৬৮][১৭]

২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ান মিলিনিয়ালদের ৫৪% বিবাহিত ছিলেন।[১৬৯]
চীনা জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, দেশটিতে প্রথমবারের মতো বিয়ে করা মানুষের সংখ্যা ২০১৩ সালের ২ কোটি ৩৮ লক্ষ থেকে কমে ২০১৯ সালে ১ কোটি ৩৯ লক্ষ-এ দাঁড়িয়েছে, যা ৪১% হ্রাস নির্দেশ করে। একই সময়ে বিয়ের হারও ৩৩% কমেছে। এই প্রবণতার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। ১৯৭৯ সালে প্রবর্তিত এক সন্তান নীতি চীনে তরুণদের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। তার ওপর, পুত্র সন্তানের প্রতি প্রথাগত পক্ষপাতিত্বের ফলে চরম লিঙ্গ বৈষম্য দেখা দিয়েছে; ২০২১ সাল পর্যন্ত চীনে প্রায় ৩ কোটিরও বেশি "অতিরিক্ত" পুরুষ ছিল।[১৭]
১৯৯০-এর দশকে চীনা সরকার উচ্চশিক্ষায় সংস্কার আনে যার ফলে নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে বিশাল সংখ্যক তরুণ বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি লাভ করেছে। ফলে বর্তমানে অনেক তরুণী আর্থিকভাবে সচ্ছল এবং স্বাধীন। কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রতি বৈষম্য এবং প্রথাগত লিঙ্গীয় ভূমিকার চাপ (যেমন কর্মজীবী হওয়া সত্ত্বেও ঘরোয়া কাজ ও সন্তান পালনের মূল দায়িত্ব নারীর ওপর থাকা) অনেক তরুণীকে বিয়ের প্রতি অনাগ্রহী করে তুলেছে। এর বাইরে আবাসন সমস্যা এবং জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় চীনা দম্পতিদের বিয়ের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা।[১৭]
২০১৮ সালে দি আটলান্টিক-এ লিখে কেট জুলিয়ান জানান যে, যেসব দেশ তাদের নাগরিকদের যৌন আচরণের তথ্য রাখে—অস্ট্রেলিয়া, ফিনল্যান্ড, জাপান, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র—সেসব দেশে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে যৌন মিলনের হার হ্রাস পেয়েছে। অনলাইন ডেটিং প্ল্যাটফর্ম এবং গর্ভনিরোধক সহজলভ্য হওয়া সত্ত্বেও, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম তাদের সমবয়সী থাকাকালীন বেবি বুমারদের তুলনায় যৌনতায় কম আগ্রহী।[২৪]
২০২০ সালে জামা (JAMA) জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দুই দশকে তরুণ আমেরিকানরা অতীতের তুলনায় কম যৌন মিলন করেছে। ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে যৌন নিষ্ক্রিয়তার হার ২০০০-২০০২ সালের ১৮.৯% থেকে বেড়ে ২০১৬-২০১৮ সালে ৩০.৯% হয়েছে। বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিকভাবে পিতামাতার ওপর নির্ভরশীলতা এই প্রবণতার অন্যতম কারণ। মনোবিজ্ঞানী জঁ টুয়েঞ্জি মনে করেন, এটি "বিলম্বিত প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার" একটি অংশ। অন্যান্য গবেষকরা মনে করেন, ইন্টারনেট, কম্পিউটার গেম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রসারও মানুষের যৌন জীবনের ওপর প্রভাব ফেলছে কারণ মানুষের কাছে এখন বিনোদনের অনেক বিকল্প পথ রয়েছে।[১৭০]
২০১৯ সালের এক জরিপে পিউ রিসার্চ সেন্টার দেখেছে যে, প্রায় ৪৭% আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন গত এক দশকে ডেটিং করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রায় অর্ধেক অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক বর্তমানে কোনো রোমান্টিক সম্পর্কের খোঁজ করছেন না। ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ডেটিং এড়ানোর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে জীবনে অন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার থাকা (৬১%), একা থাকাকে প্রাধান্য দেওয়া (৪১%), অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকা (২৯%) এবং সঙ্গী পাওয়ার ব্যাপারে হতাশাবাদ (২৪%)।[১৭১]
পারিবারিক জীবন এবং উত্তরসূরি
[সম্পাদনা]ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের মতে, ১৯৬৮ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে সেইসব আমেরিকান মায়েদের সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে যারা কখনও বিয়ে করেননি। বিশেষ করে কম শিক্ষিতদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। ২০০৮ সালে অন্তত ১৬ বছরের শিক্ষা সম্পন্ন মায়েদের মধ্যে অবিবাহিত থাকার হার ছিল মাত্র ৩.৩%, যেখানে হাই স্কুল গ্র্যাজুয়েট নন এমন মায়েদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ২০.১%।[১৭২]
অর্বান ইনস্টিটিউটের ২০১৪ সালের গবেষণায় প্রাক্কলন করা হয়েছে যে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে মিলিনিয়ালদের বিয়ের হার আগের প্রজন্মগুলোর তুলনায় অনেক কম হবে। ৪০ বছর বয়সের মধ্যে ৩১% মিলিনিয়াল নারী অবিবাহিত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ১৮-৩৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে সঙ্গীর সাথে থাকার চেয়ে পিতামাতার সাথে থাকার প্রবণতা এখন বেশি, যা ১৮৮০ সাল থেকে সংগৃহীত তথ্যের মধ্যে এক নজিরবিহীন ঘটনা। উচ্চ ছাত্রঋণ এবং কর্মজীবন ও পড়াশোনার ওপর বেশি মনোযোগ দেওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।[১৭৩]

পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হোয়ার্টন স্কুল অফ দ্য ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভেনিয়া-এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি মিলিনিয়াল আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন না। ১৯৯২ সালে যেখানে ৭৮% নারী শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার কথা ভাবতেন, ২০১২ সালে সেই হার কমে ৪২%-এ দাঁড়িয়েছে। পুরুষ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই রকম ফলাফল পাওয়া গেছে। মিলিনিয়াল বিশেষজ্ঞ তানিয়া করোবকা বলেন: “এমন নয় যে মিলিনিয়ালরা সন্তান চায় না, তারা কেবল আগের প্রজন্মের মতো এত দ্রুত এ বিষয়ে চিন্তা করতে চায় না। কর্মক্ষেত্রে বেশি সুযোগ থাকার ফলে ঘর বাঁধার চিন্তার জন্য তাদের হাতে সময় কম থাকে।”[১৭৪]
২০২০ সালের মার্চ মাসে বেলজিয়ামে ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ১১% নারী এবং ১৬% পুরুষ সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। নেদারল্যান্ডসেও ৩০ বছর বয়সী ১০% নারী আর সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সুইডেনের অনেক পুরুষও "নিষ্ক্রিয়ভাবে" সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কারণ তারা মনে করেন সন্তান ছাড়াই তাদের জীবন যথেষ্ট ভালো আছে এবং সন্তানহীন নারীদের মতো তাদের ওপর তেমন কোনো সামাজিক চাপ নেই।[২১]
তবে অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হওয়ার সাথে সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মিলিনিয়াল বিয়ে, সন্তান এবং নিজের বাড়ির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিটার জেইহান যুক্তি দেন যে, মিলিনিয়াল প্রজন্মের বিশাল আকার এবং তাদের সন্তান নেওয়ার প্রবণতার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য অনেক উন্নত দেশের তুলনায় অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। কারণ অনেক উন্নত দেশে মিলিনিয়ালদের সংখ্যা তাদের পূর্বসূরিদের তুলনায় কম এবং তাদের প্রজনন হারও আশানুরূপ নয়।[২২]
যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭০ থেকে ২০১০-এর দশকের মধ্যে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে বিয়ের হার কমলেও উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে তা স্থিতিশীল (~৮০%) রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিই মার্কিন বিয়ের হার নিম্নমুখী করার প্রধান চালক। ২৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী আমেরিকানদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের হার ১৯৯০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে কিছুটা কমেছে। বিপরীতে ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের হার দ্বিগুণ হয়েছে। সুশিক্ষিত ব্যক্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে বিয়ে করার হার বেশি এবং বিবাহবিচ্ছেদের হার কম দেখা গেছে।[১৭৫]
জনমিতিবিদ মার্ক ম্যাকক্রিন্ডল মিলিনিয়ালদের সন্তানদের নাম দিয়েছেন "জেনারেশন আলফা" (বা জেনারেশন )। ২০১৬ সাল নাগাদ মার্কিন মিলিনিয়াল মায়েদের সংখ্যা ১ কোটি ৭৩ লক্ষ ছাড়িয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২৫ লক্ষ জেনারেশন আলফার শিশু জন্মগ্রহণ করছে এবং ২০২৫ সাল নাগাদ তাদের সংখ্যা ২০০ কোটিতে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির বেশিরভাগই আসছে আফ্রিকা ও এশিয়া থেকে, কারণ ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোতে প্রতিস্থাপন হারের তুলনায় কম সন্তান জন্মগ্রহণ করছে।[১৯] জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, গর্ভনিরোধক এবং উন্নত শিক্ষার সুযোগের ফলে বিশ্বজুড়ে প্রজনন হার কমছে। ১৯৫০ সালে বৈশ্বিক গড় প্রজনন হার ৪.৭ থাকলেও ২০১৭ সালে তা ২.৪-এ নেমে এসেছে।[১৭৬]
ডিজিটাল যুগে বসবাসকারী মিলিনিয়াল পিতামাতারা তাদের সন্তানদের প্রচুর ছবি তোলেন এবং স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য ডিজিটাল স্টোরেজ (যেমন ড্রপবক্স) এবং ফিজিক্যাল ফটো অ্যালবাম—উভয়ই ব্যবহার করেন। অনেক মিলিনিয়াল পিতামাতা তাদের সন্তানদের শৈশব ও বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপ ইন্সটাগ্রাম এবং ফেসবুক-এর মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন।[১৭৭]
কর্মক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি
[সম্পাদনা]২০০৮ সালে লেখক রন অলসপ মিলিনিয়ালদের "ট্রফি কিডস" বলে অভিহিত করেন।[১৭৮] এই শব্দটি প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলাসহ জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে এমন এক প্রবণতাকে নির্দেশ করে যেখানে কেবল অংশগ্রহণের জন্যই পুরস্কার বা ট্রফি দেওয়া হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি করপোরেট পরিবেশেও একটি আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।[১৭৮] কিছু নিয়োগকর্তা উদ্বিগ্ন যে মিলিনিয়ালরা কর্মক্ষেত্র থেকে অনেক বেশি প্রত্যাশা করে।[১৭৯] কোনো কোনো গবেষণায় ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে, আকাশচুম্বী প্রত্যাশার কারণে তারা জেনারেশন এক্স-এর সদস্যদের তুলনায় ঘনঘন চাকরি পরিবর্তন করবে। মনোবিজ্ঞানী জঁ টুয়েঞ্জি জানান যে, প্রবীণ ও কনিষ্ঠ মিলিনিয়ালদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রের প্রত্যাশা নিয়ে পার্থক্য রয়েছে; কনিষ্ঠ মিলিনিয়ালরা "অধিক বাস্তববাদী" এবং তারা স্থায়ী কর্মসংস্থানের প্রতি বেশি আগ্রহী। টুয়েঞ্জি মনে করেন, কনিষ্ঠ মিলিনিয়ালরা ২০০৭-২০০৮ আর্থিক সংকটের পর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কারণে তাদের মাঝে এমন মনোভাব তৈরি হয়েছে।[১৮০]
২০১০ সালে জার্নাল অফ বিজনেস অ্যান্ড সাইকোলজি-তে গবেষক মায়ার্স এবং সাদাগিয়ানি দেখিয়েছেন যে, মিলিনিয়ালরা "তত্ত্বাবধায়কদের কাছ থেকে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ঘনঘন ফিডব্যাক বা প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করে," যা তাদের পূর্বসূরিদের থেকে আলাদা করার একটি প্রধান পয়েন্ট।[১৮১] একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যে মিলিনিয়ালরা চাকরির সন্তুষ্টির সাথে তথ্যের অবাধ প্রবাহ, সুপারভাইজারদের সাথে দৃঢ় সংযোগ এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার যোগসূত্র খুঁজে পায়। এমরি ইউনিভার্সিটির গবেষক হার্শাটার এবং এপস্টেইন যুক্তি দেন যে, এই বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে মিলিনিয়ালদের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রবেশের সময়ের সম্পর্ক রয়েছে, কারণ সেই সময়কার শিক্ষামূলক সংস্কারগুলো একটি অত্যন্ত কাঠামোগত শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করেছিল।[১৮২] কেউ কেউ মনে করেন যে নো চাইল্ড লেফট বিহাইন্ড অ্যাক্ট-এর মতো সংস্কারের ফলে মিলিনিয়ালরা মেন্টর বা উপদেষ্টাদের সহায়তার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যার ফলে ৬৬% মিলিনিয়াল এখন কর্মক্ষেত্রে একটি ফ্ল্যাট বা সমতল সাংগঠনিক পরিবেশ (যেখানে পদমর্যাদার কঠোর স্তরবিন্যাস নেই) পছন্দ করে।[১৮২]
হার্শাটার এবং এপস্টেইন ব্যক্তিগত জীবন ও কাজের ভারসাম্যের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের ওপরও জোর দিয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থীর শীর্ষ অগ্রাধিকার হলো "ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা"। 'ব্রেন ড্রেন স্টাডি' দেখায় যে প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৯ জন মিলিনিয়াল এই ভারসাম্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জরিপগুলোতে আরও দেখা গেছে যে এই প্রজন্ম করপোরেট মূল্যের চেয়ে পারিবারিক মূল্যবোধকে বেশি প্রাধান্য দেয়।[১৮২]

তবে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর গবেষকদের একটি মেটা-স্টাডি কর্মক্ষেত্রে প্রজন্মগত পার্থক্যের এই ধারণাটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গবেষকদের মতে, কোন বছর থেকে কোন প্রজন্ম শুরু হবে বা কোন কোন ঘটনা এতে প্রভাব ফেলে তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে ভিন্নমতের কারণে এই সংশয় তৈরি হয়েছে। ২০টি গবেষণা প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, চাকরির সন্তুষ্টি বা সাংগঠনিক অঙ্গীকারের ক্ষেত্রে প্রজন্মের যে পার্থক্যের কথা বলা হয়, তা আসলে ব্যক্তিগত বয়স এবং চাকরির অভিজ্ঞতার তুলনায় খুবই সামান্য। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে মিলিনিয়ালরা চাকরি পরিবর্তন করে মূলত অন্য প্রজন্মের মতোই একই কারণে—যেমন অধিক অর্থ এবং উন্নত কর্মপরিবেশ। তারা কর্মক্ষেত্রে বহুমুখী প্রতিভা প্রদর্শন এবং নমনীয়তার সুযোগ খোঁজেন। তারা অন্যান্য প্রজন্মের মতোই আর্থিক নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে বৈচিত্র্যের মূল্যায়ন করেন।[১৮৩]
বিভিন্ন তথ্য থেকে আরও জানা যায় যে মিলিনিয়ালরা জনসেবামূলক খাতের দিকে ঝুঁকছে। ২০১০ সালে মায়ার্স এবং সাদাগিয়ানি প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে যে মিলিনিয়ালদের কারণে পিস কোর এবং আমেরিকোর-এ অংশগ্রহণের হার বহুগুণ বেড়েছে এবং সেচ্ছাসেবার হার এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ২০০৭ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য দেখায় যে, মিলিনিয়ালরা সামগ্রিক জনসংখ্যার তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি হারে এতে যুক্ত হয়েছে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ পলিটিক্স-এর মতে, ১০ জনের মধ্যে ৬ জন মিলিনিয়াল জনসেবামূলক পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার কথা ভাবছেন।[১৮১]
২০১৪ সালের ব্রুকিংস পাবলিকেশন অনুযায়ী মিলিনিয়ালরা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এনএসএইচএসএস এবং ইউনিভারসামের জরিপ বলছে তারা এমন কোম্পানিতে কাজ করতে পছন্দ করে যারা সমাজের মঙ্গলের জন্য কাজ করে। মিলিনিয়ালদের এই মনোভাবের পরিবর্তনের ফলে দেখা গেছে যে, ৬৪% মিলিনিয়াল তাদের পছন্দের বা প্যাশনের পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে ৬০% পর্যন্ত বেতন কম নিতে রাজি আছেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তাদের বিরাগ লক্ষ্য করা গেছে এবং ৪Table% মিলিনিয়াল ব্যাংকিং খাতকে তাদের সবচেয়ে অপছন্দের ব্র্যান্ডগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।[১৮৪]
ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার
[সম্পাদনা]- কম্পিউটার ল্যাবে কাজ করছেন শিক্ষার্থীরা (২০০৬)
- ফ্লিপ ফোনে কথা বলছেন এক তরুণী (২০০৬)
- আইপড মিনি-তে গান শুনছেন এক দম্পতি (২০০৬)
মার্ক প্রেনস্কি ২০০১ সালে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের বর্ণনা করতে "ডিজিটাল নেটিভ" শব্দটি উদ্ভাবন করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে তারা "নতুন এই প্রযুক্তির সাথে বেড়ে ওঠা প্রথম প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করে।"[৫] ২০০৭ সালে প্রকাশিত একটি বইয়ে গবেষক রেনল জাঙ্কো এবং জিনা মাস্ত্রোডিকাসা মিলিনিয়ালদের ব্যক্তিত্বের প্রোফাইল নিয়ে গবেষণা করেন। তারা দেখেন যে নেট জেনারেশনের কলেজ শিক্ষার্থীরা তাদের বাবা-মায়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং অন্যান্য প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। তাদের জরিপ অনুযায়ী ৯৭% শিক্ষার্থীর নিজস্ব কম্পিউটার, ৯৪% শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন এবং ৫৬% শিক্ষার্থীর এমপিথ্রি প্লেয়ার ছিল। তারা দিনে গড়ে দেড় বার তাদের বাবা-মায়ের সাথে কথা বলেন। জরিপে আরও দেখা গেছে যে ৭৬% শিক্ষার্থী তাৎক্ষণিক বার্তাপ্রদান ব্যবহার করেন, ৯২% শিক্ষার্থী মেসেজিং করার সময় অন্য কাজও করেন এবং ৪০% শিক্ষার্থী সংবাদের জন্য টেলিভিশনের ওপর নির্ভর করেন।[১৮৫]
মিলিনিয়ালদের ব্যবহৃত মিডিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় রূপ হলো সামাজিক জালব্যবস্থা। মিলিনিয়ালরা একাত্মতাবোধ তৈরি করতে, পরিচিতি বাড়াতে এবং বন্ধুদের সাথে সংযুক্ত থাকতে ফেসবুক এবং টুইটারের মতো সাইটগুলো ব্যবহার করে।[১৮৬] ২০১০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে যেসব শিক্ষার্থী সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করেছেন, তাদের মাঝে মাদকাসক্তদের মতো একই ধরনের 'উইথড্রয়াল সিম্পটম' দেখা গেছে।[১৮৭] ২০১৪ সালের পিবিএস ফ্রন্টলাইন-এর পর্ব "জেনারেশন লাইক"-এ মিলিনিয়ালদের প্রযুক্তিনির্ভরতা এবং সামাজিক মাধ্যমকে পণ্য হিসেবে ব্যবহারের ধরন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।[১৮৮] কিছু মিলিনিয়াল ক্যাবল টিভির শত শত চ্যানেল পছন্দ করলেও, অনেকে এখন আর টেলিভিশন রাখেন না। তারা বরং স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেটের মাধ্যমে ইন্টারনেটে মিডিয়া দেখেন। নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিনের জাসি সিঙ্গাল যুক্তি দেন যে স্মার্টফোন এই প্রজন্মের ভেতরে একটি বিভাজন তৈরি করেছে; ১৯৮৮ বা তার আগে জন্ম নেওয়া প্রবীণ মিলিনিয়ালরা এই প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের আগেই প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছিলেন, অন্যদিকে ১৯৮৯ বা তার পরে জন্ম নেওয়া কনিষ্ঠ মিলিনিয়ালরা তাদের কিশোর বয়সেই এই প্রযুক্তির সংস্পর্শে এসেছেন।[১৮০]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "দুঃখিত, বুমাররা: মিলিনিয়ালস এবং তরুণরাই এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংখ্যাগুরু"। এপি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ৩ আগস্ট ২০২০।
- ↑ কাউর, ব্রহ্মজ্যোত (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩)। "ইন্টারনেটে কোনো কিছু খোঁজার আগে বিভিন্ন প্রজন্ম কীভাবে চলত তা শেয়ার করছে"। এনবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)।
- ↑ Strauss, William; Howe, Neil (২০০০)। Millennials Rising: The Next Great Generation। Cartoons by R.J. Matson। New York: Vintage Original। পৃ. ৫৪। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৭৫-৭০৭১৯-৩।
First-wave Millennials are especially likely to have Boomer parents. [...] Late-wave Millennials are more likely to have Gen-X parents.
- ↑ কার্টার, ক্রিস্টিন মিশেল। "জেনারেশন আলফা সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা: মিলিনিয়ালদের সন্তানরা"। ফোর্বস (ইংরেজি ভাষায়)। ৯ এপ্রিল ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০২১।
- 1 2 প্রেনস্কি, মার্ক। "ডিজিটাল নেটিভস, ডিজিটাল ইমিগ্র্যান্টস" (পিডিএফ)। MCB University Press। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০১৩।
- 1 2 "মিলিনিয়াল | জনসংখ্যাতাত্ত্বিক গোষ্ঠী | ব্রিটানিকা"। www.britannica.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৭ মে ২০২৩।
- ↑ ডেভিড পেন্ডলটন, পিটার ডার্বিশায়ার, ক্লো হজকিনসন (২০২১), Work-Life Matters: Crafting a New Balance at Work and at Home (পৃষ্ঠা ৩৫), স্প্রিঙ্গার নেচার, আইএসবিএন ৯৭৮৩০৩০৭৭৭৬৮৫
- 1 2 Strauss, William; Howe, Neil (২০০০)। Millennials Rising: The Next Great Generation। Cartoons by R.J. Matson। New York: Vintage Original। পৃ. ২৩৯–২৬৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৭৫-৭০৭১৯-৩।
- ↑ এটি ২০০৯ সালের অন্যতম জনপ্রিয় গান ছিল; এখন এটিকে 'সর্বকালের সবচেয়ে বাজে গান' বলা হচ্ছে। ইয়াহু!
- ↑ বিদায় এওএল ডায়াল-আপ: মিলিনিয়ালদের শৈশব রাঙানো এমন ৫টি বিলুপ্ত প্রযুক্তি আইকনের স্মৃতিচারণ
- ↑ সোশ্যাল ইন্টারনেটের ঊষালগ্নে বেড়ে ওঠা, দ্য নিউ ইয়র্কার
- 1 2 3 সোলোমান, পল (৩১ মে ২০১৮)। "কেন শিক্ষিত মহিলাদের নতুন বৈশ্বিক সম্পদ বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে"। PBS Newshour। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০২০।
- ↑ মার্ক, জুলিয়ান (১২ আগস্ট ২০২৩)। "'সবচেয়ে দুর্ভাগা প্রজন্ম' বুমার-শাসিত আবাসন বাজারে হিমশিম খাচ্ছে"। ওয়াশিংটন পোস্ট (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৩।
- ↑ কান, মাইকেল (৯ জুলাই ২০২০)। "করোনাভাইরাস '২০২০ ব্যাচ': ইউরোপের হারিয়ে যাওয়া প্রজন্ম?"। ওয়ার্ল্ড নিউজ। রয়টার্স। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুলাই ২০২০।
- ↑ কার্টজলেবেন, ড্যানিয়েল (৮ জুন ২০২০)। "আবারও সেই একই চিত্র: মিলিনিয়ালরা আরও একটি মন্দার মুখে"। এনপিআর। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০২০।
- ↑ ড্যাম, অ্যান্ড্রু ভ্যান (৫ জুন ২০২০)। "বিশ্লেষণ | মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্ভাগা প্রজন্ম"। ওয়াশিংটন পোস্ট (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0190-8286। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৩।
- 1 2 3 4 গান, নেক্টার (৩০ জানুয়ারি ২০২১)। "চীনা মিলিনিয়ালরা বিয়ে করছে না এবং সরকার এ নিয়ে চিন্তিত"। সিএনএন। সংগ্রহের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১।
- 1 2 3 কাউফম্যান, এরিক (২০১৩)। "Chapter 7: Sacralization by Stealth?"। Whither the Child? Causes and Consequences of Low Fertility। Boulder, Colorado, United States: Paradigm Publishers। পৃ. ১৩৫–৫৬। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৬১২০৫-০৯৩-৫।
- 1 2 "জাতিসংঘ তাদের জনসংখ্যা পূর্বাভাস সংশোধন করেছে"। Demography। দি ইকোনমিস্ট। ২২ জুন ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২০।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;van de Waterনামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - 1 2 বোডিন, মাজা; প্ল্যান্টিন, লার্স (ডিসেম্বর ২০১৯)। "A wonderful experience or a frightening commitment? An exploration of men's reasons to (not) have children"। Reproductive Biomedicine & Society Online। ৯: ১৯–২৭। ডিওআই:10.1016/j.rbms.2019.11.002।
- 1 2 3 জেইহান, পিটার (২০১৬)। The Absent Superpower: The Shale Revolution and a World without America। Zeihan on Geopolitics। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৯৯৮৫০৫২-০-৬।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;AFP-2018নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - 1 2 জুলিয়ান, কেট (ডিসেম্বর ২০১৮)। "কেন তরুণরা এত কম যৌন মিলন করছে?"। Culture। The Atlantic। সংগ্রহের তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- 1 2 গোল্ডবার্গ, জিন (জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি ২০২০)। "মিলিনিয়াল এবং পোস্ট-মিলিনিয়াল – নতুন যুগের উদয়?"। Skeptical Inquirer। খণ্ড ৪৪ নং 1। Amherst, NY: Center for Inquiry। পৃ. ৪২–৪৬। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০২০।
- ↑ পলিন, জিওফ্রে ডি. (মার্চ ২০১৮)। "মিলিনিয়ালস সম্পর্কে কিছু মজার তথ্য: মান্থলি লেবার রিভিউ: ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস"। www.bls.gov (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৯।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের মতে, মিলিনিয়ালদের প্রথম অংশটি (যাদের এই নামে ডাকা হয় কারণ তাদের জ্যেষ্ঠতমরা সহস্রাব্দের শুরুতে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছিল) ১৯৮১ সালে জন্মগ্রহণ করে
- 1 2 হোরোভিৎজ, ব্রুস (৪ মে ২০১২)। "জেন এক্স, মিলিনিয়ালস-এর পর পরবর্তী প্রজন্ম কী হওয়া উচিত?"। ইউএসএ টুডে। ২০ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- 1 2 3 Strauss, William; Howe, Neil (২০০০)। Millennials Rising: The Next Great Generation। Cartoons by R.J. Matson। New York: Vintage Original। পৃ. ৩৭০। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৭৫-৭০৭১৯-৩। সংগ্রহের তারিখ ১৭ অক্টোবর ২০১৩।
- ↑ Strauss, William; Howe, Neil (১৯৯১)। Generations: The History of America's Future, 1584 to 2069। Harper Perennial। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৮৮-১১৯১২-৬। p. 335
- ↑ "Generation Y" Ad Age ৩০ আগস্ট ১৯৯৩. পৃষ্ঠা ১৬।
- ↑ Strauss, William; Howe, Neil (২০০০)। Millennials Rising: The Next Great Generation। Cartoons by R.J. Matson। New York: Vintage Original। পৃ. ৪২–৪৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৭৫-৭০৭১৯-৩। সংগ্রহের তারিখ ১৭ অক্টোবর ২০১৩।
- ↑ Francese, Peter (১ সেপ্টেম্বর ২০০৩)। "Trend Ticker: Ahead of the Next Wave"। Advertising Age। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মার্চ ২০১১।
আজকের ২১ বছর বয়সীরা, যারা ১৯৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেছে এবং জেনারেশন ওয়াই-এর প্রথম সারিতে রয়েছে, তারা তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গবেষণালব্ধ একটি গোষ্ঠী।
- ↑ সামান্থা রাফেলসন (৬ অক্টোবর ২০১৪)। "জিআই থেকে জেন জি: কীভাবে প্রজন্মগুলোর ডাকনাম তৈরি হয়"। এনপিআর। সংগ্রহের তারিখ ৭ অক্টোবর ২০১৪।
- 1 2 রেবেকা লেউং (৪ সেপ্টেম্বর ২০০৫)। "দ্য ইকো বুমারস – ৬০ মিনিটস"। সিবিএস নিউজ। ৩০ আগস্ট ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ আগস্ট ২০১০।
- ↑ Marino, Vivian (২০ আগস্ট ২০০৬)। "কলেজ-টাউন রিয়েল এস্টেট: পরবর্তী বড় সম্ভাবনা?"। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। পৃ. ১। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১০।
- ↑ আর্মার, স্টেফানি (৬ নভেম্বর ২০০৮)। "জেনারেশন ওয়াই: নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তারা কর্মক্ষেত্রে এসেছে"। ইউএসএ টুডে। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০০৯।
- ↑ Huntley, Rebecca (২০০৬)। The World According to Y: Inside the New Adult Generation। Allen Unwin। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৭৪১১৪-৮৪৫-৯।
- ↑ ১৯৯০ সালের চূড়ান্ত জন্মহার পরিসংখ্যানের অগ্রিম প্রতিবেদন, মান্থলি ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস রিপোর্ট, ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩
- ↑ "বেবি বুম – বেবি বুমের ইতিহাস"। Geography-about.com। ৯ আগস্ট ১৯৪৮। ৪ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ আগস্ট ২০১০।
- ↑ রজেনথাল, এলিজাবেথ (৪ সেপ্টেম্বর ২০০৬)। "ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রমবর্ধমান নিম্ন জন্মহার পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ছে"। The New York Times। ১৭ নভেম্বর ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১০।
- ↑ শাপিরা, ইয়ান (৬ জুলাই ২০০৮)। "জেনারেশন এক্স-এর পর পরবর্তী প্রজন্ম কী?"। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। পৃ. C০১। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুলাই ২০০৮।
- ↑ কান্ত্রোভিটস, বারবারা (১১ নভেম্বর ২০০১)। "জেনারেশন ৯/১১"। নিউজউইক। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুন ২০২০।
- ↑ "দ্য অনলাইন নিউজআওয়ার: জেনারেশন নেক্সট"। পিবিএস। ২৫ আগস্ট ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ আগস্ট ২০১০।
- ↑ টুয়েঞ্জি, জঁ (৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৪)। "জেনারেশন মি – সংশোধিত এবং পরিমার্জিত: আজকের তরুণ আমেরিকানরা কেন আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং দুর্দশাগ্রস্ত"। সাইমন অ্যান্ড শুস্টার। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৭৬৭-৫৫৫৬-৪।
- ↑ "কলেজ শিক্ষার্থীরা নিজেদের খুব বিশেষ মনে করে – জেনারেশন মি-তে নার্সিসিজম এবং আত্মকেন্দ্রিকতার উদ্বেগজনক বৃদ্ধি"। এনবিসি নিউজ। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৭। ২১ জুলাই ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০১৬।
- ↑ স্টেইন, জোয়েল (২০ মে ২০১৩)। "মিলিনিয়ালস: দ্য মি মি মি জেনারেশন"। টাইম। সংগ্রহের তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০১৬।
- ↑ "কীভাবে মিলিনিয়ালরা বার্নআউট প্রজন্মে পরিণত হলো"। বাজফিড নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ জানুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০১৯।
- ↑ কিশোরদের মিলিনিয়াল বলা বন্ধ করুন। ভক্স। ১৫ আগস্ট ২০১৮।
- ↑ ব্রায়ান লুফকিন। আমাদের কি ‘মিলিনিয়াল’ শব্দটি বাদ দেওয়া উচিত?। বিবিসি ওয়ার্কলাইফ। ৬ ডিসেম্বর ২০১৭।
- ↑ সামান্থা শার্ফ। ‘মিলিনিয়াল’ কি একটি বাজে শব্দ?। ফোর্বস। ২৪ আগস্ট ২০১৫।
- ↑ কোলবি কোশ। 'মিলিনিয়াল' শব্দটি অপমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু মিলিনিয়ালরা আসলে নিকৃষ্ট নয়। ন্যাশনাল পোস্ট। ২৫ অক্টোবর ২০১৭।
- ↑ "millennial"। OxfordDictionaries.com। ২০ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০১৯।
- ↑ "millennial noun - Definition, pictures, pronunciation and usage notes | Oxford Advanced Learner's Dictionary at OxfordLearnersDictionaries.com"। www.oxfordlearnersdictionaries.com (ইংরেজি ভাষায়)। ২৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "মিলিনিয়ালের সংজ্ঞা"। www.merriam-webster.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২১।
- ↑ রাউচ, জোনাথন (নভেম্বর ২০১৮)। "পরবর্তী প্রজন্ম"। দি ইকোনমিস্ট। ১৫ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০১৯।
২০১৯ সালে মিলিনিয়ালরা বেবি বুমারদের সংখ্যায় ছাড়িয়ে যাবে
- ↑ "নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতার "ওকে বুমার" মন্তব্যে মিলিনিয়ালদের উল্লাস"। রয়টার্স। ৬ নভেম্বর ২০১৯।
- ↑ ভেসপা, জোনাথন (এপ্রিল ২০১৭)। "তরুণ বয়সের পরিবর্তিত অর্থনীতি এবং জনমিতি: ১৯৭৫–২০১৬" (পিডিএফ)। ইউএস সেন্সাস ব্যুরো। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০১৯।
- ↑ কলবি, স্যান্ড্রা। "আমাদের প্রজন্ম নিয়ে কথা: বেবি বুমারদের মতো মিলিনিয়ালরাও কি মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোতে একই প্রভাব ফেলবে?"। U.S. Census Bureau Blogs। ২ জুন ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০১৯।
- ↑ ইউএস সেন্সাস ব্যুরো। "পরিবারের ধরন অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদ বৈষম্য"। ইউনাইটেড স্টেটস সেন্সাস ব্যুরো (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০২৩।
- ↑ অ্যাডামকজিক, অ্যালিসিয়া (১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০)। "কীভাবে মিলিনিয়ালরা তাদের পিতামাতাকে অবসরের জন্য সঞ্চয় করতে সহায়তা করছে"। Spend। সিএনবিসি। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০২০।
- ↑ ডিমক, মাইকেল (১৭ জানুয়ারি ২০১৯)। "প্রজন্মের সংজ্ঞা: মিলিনিয়ালদের শেষ এবং জেনারেশন জি-এর শুরু কোথায়"। পিউ রিসার্চ সেন্টার। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০১৯।
- ↑ বারক্ল্যাফ, নাটালি। "গবেষণা নির্দেশিকা: কনজিউমার রিসার্চ: জেনারেশনস"। guides.loc.gov (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২।
- ↑ ল্যাঙ্গোন, অ্যালিক্স (১ মার্চ ২০১৮)। "আপনি আনুষ্ঠানিকভাবে মিলিনিয়াল কি না তা জানার একটি উপায়"। টাইম। সংগ্রহের তারিখ ৪ মার্চ ২০১৯।
- ↑ "অপমানিত মিলিনিয়াল প্রজন্মকে রক্ষা করা চলচ্চিত্রগুলো"। বিবিসি নিউজ। ১৯ জুলাই ২০১৯।
- ↑ স্ট্যাক, লিয়াম (১ মার্চ ২০১৮)। "আপনার বয়স কি ২১ থেকে ৩৭? আপনি হয়তো একজন মিলিনিয়াল"। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। ২ মার্চ ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০১৯।
- ↑ মার্কস জিন (৫ ডিসেম্বর ২০২১)। "জেন জি কর্মীরা আরও আত্মবিশ্বাসী ও প্রযুক্তি-সচেতন কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে"। দ্য গার্ডিয়ান (ইংরেজি ভাষায়)।
- ↑ ফ্রিম্যান, মিশেল (অক্টোবর ২০১৯)। "মিলিনিয়াল এবং নন-মিলিনিয়ালদের সময়ের ব্যবহার"। Monthly Labor Review। ডিওআই:10.21916/mlr.2019.22। আইএসএসএন 0098-1818।
- ↑ গেল, উইলিয়াম (২৮ মে ২০২০)। "প্রজন্মের সম্পদ, মিলিনিয়ালদের প্রতি বিশেষ মনোযোগসহ"। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২০।
- ↑ "সর্বশেষ মার্কিন হিসেবে এলজিবিটি শনাক্তকরণ ৫.৬ শতাংশে পৌঁছেছে"। Gallup.com। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১।
- ↑ "কানাডার বার্ধক্যগ্রস্ত জনসংখ্যার একটি প্রজন্মের চিত্র"। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা। ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মে ২০২২।
- ↑ "সরিয়ে দিন মিলিনিয়ালদের: কীভাবে "আইজেন" অন্য যে কোনো প্রজন্মের থেকে আলাদা | সিএসইউ"। www2.calstate.edu। ১৫ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০২১।
- ↑ প্রজন্মের সংজ্ঞা ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৬ জুন ২০১৬ তারিখে। মার্ক ম্যাকক্রিন্ডল
- ↑ "২০২১ সেন্সাস অনুযায়ী মিলিনিয়ালরা বুমারদের ছাড়িয়ে গেছে | অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিকস"। www.abs.gov.au (ইংরেজি ভাষায়)। ২৮ জুন ২০২২।
- ↑ জনসন, আরিয়ানা। "পূর্ববর্তী প্রজন্মের তুলনায় মিলিনিয়াল ও জেন জি নারীরা অধিক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে, রিপোর্ট বলছে"। ফোর্বস।
- ↑ স্রিগলি, সারা; জারোস, বেথ; মেদার, মার্ক; আবু-হাশেম, জেনিন; এলিয়ট, ডায়ানা (২০২৩)। "Losing More Ground: Revisiting Young Women's Well-Being Across Generations" (পিডিএফ)। Population Bulletin। ৭৭ (1)। Washington, D.C.: Population Reference Bureau: ৪। আইএসএসএন 0032-468X।
- ↑ আমেরিকান প্রজন্ম সম্পর্কিত কিছু তথ্য, সিএনএন, ১৭ আগস্ট ২০১৯, সংগ্রহের তারিখ ৩ মার্চ ২০২০
- ↑ "মিলিনিয়ালদের সাথে পরিচিত হোন: জেনারেশন ওয়াই কারা?"। বিবিসি নিউজ। ২৮ আগস্ট ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০২৩।
- ↑ "এটা কি সব সময় ভালো হচ্ছে? • রেজোলিউশন ফাউন্ডেশন"। ৫ জুলাই ২০১৯।
- ↑ "মিলিনিয়াল জেনারেশন: পূর্ববর্তী প্রজন্মের তুলনায় মিলিনিয়াল পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার তথ্য"। ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: লেখা "ইউএস জিএও" উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য) - ↑ কার্লসন, এলউড (২০০৮)। The Lucky Few: Between the Greatest Generation and the Baby Boom। Springer। পৃ. ২৯। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০২০-৮৫৪০-৬।
- ↑ The Fourth Turning is Here: What the Seasons of History Tell Us about How and when This Crisis Will End। Simon and Schuster। ১৮ জুলাই ২০২৩। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৯৮২১-৭৩৭৩-৯।
- 1 2 টুয়েঞ্জি, জঁ এম. (২০০৬)। জেনারেশন মি। New York: Free Press (Simon & Schuster)। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৪৩২-৭৬৯৭-৯।
- ↑ টুয়েঞ্জি, জঁ এম. (২০০৭)। Generation me: Why today's young Americans are more confident, assertive, entitled – and more miserable than ever before। Simon and Schuster। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৪৩২-৭৬৯৮-৬।
- ↑ টুয়েঞ্জি, জেএম; ক্যাম্পবেল, ডব্লিউকে; ফ্রিম্যান, ইসি (২০১২)। "তরুণদের জীবন লক্ষ্য, অন্যদের প্রতি উদ্বেগ এবং নাগরিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রজন্মগত পার্থক্য, ১৯৬৬–২০০৯" (পিডিএফ)। Journal of Personality and Social Psychology। ১০২ (5): ১০৪৫–৬২। বিবকোড:2012JPSP..102.1045T। ডিওআই:10.1037/a0027408। পিএমআইডি 22390226।
- ↑ কুয়েঙ্কুয়া, ডগলাস (৫ আগস্ট ২০১৩)। "সব জায়গায় নার্সিসিস্ট দেখা"। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭।
- ↑ জ্যারেট, ক্রিশ্চিয়ান (১৭ নভেম্বর ২০১৭)। "মিলিনিয়ালরা কি নার্সিসিস্টিক? প্রমাণ এত সহজ নয়"। বিবিসি। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১৯।
- ↑ ওয়েটজেল, ইউনিক; ব্রাউন, আনা; হিল, প্যাট্রিক এল.; চুং, জোয়ান এম.; রবিন্স, রিচার্ড ডব্লিউ.; রবার্টস, ব্রেন্ট ডব্লিউ. (২৪ অক্টোবর ২০১৭)। "নার্সিসিজম মহামারী মৃত; নার্সিসিজম মহামারী দীর্ঘজীবী হোক" (পিডিএফ)। Psychological Science। ২৮ (12): ১৮৩৩–৪৭। ডিওআই:10.1177/0956797617724208। পিএমআইডি 29065280। এস২সিআইডি 10073811।
- ↑ নিউম্যান, কিরা এম. (১৭ জানুয়ারি ২০১৮)। "মিলিনিয়াল এবং নার্সিসিজম সম্পর্কে আশ্চর্যজনক সাধারণ সত্য"। গ্রেটার গুড ম্যাগাজিন। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০১৯।
- ↑ হুভার, এরিক (১১ অক্টোবর ২০০৯)। "দ্য মিলিনিয়াল মাডল: কীভাবে শিক্ষার্থীদের স্টিরিওটাইপ করা একটি লাভজনক শিল্পে পরিণত হলো"। The Chronicle of Higher Education। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১০।
- ↑ ডাফি, ববি; শ্রিম্পটন, হানাহ; ক্লেমেন্স, মাইকেল (জুলাই ২০১৭)। "মিলিনিয়াল: মিথ এবং বাস্তবতা" (পিডিএফ)। ইপসোস-মোরি। সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০২০।
- ↑ try-dancing-to-a-millennial-tune "প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলো মিলিনিয়ালদের সাথে তাল মেলানোর চেষ্টা করছে"। দি ইকোনমিস্ট। ৪ অক্টোবর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০২০।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|url=মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ ম্যাকস্প্যাডডেন, কেভিন (১৪ মে ২০১৫)। "আপনার মনোযোগের সময় এখন গোল্ডফিশের চেয়েও কম"। টাইম। সংগ্রহের তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০২০।
- ↑ ইউকারি সেকো; মিনাকো কিকুচি (১১ মার্চ ২০২২)। "মানসিকভাবে অসুস্থ এবং অত্যন্ত কিউট: জাপানি জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে 'মেনহেরা' মেয়ে এবং আত্ম-আঘাতের চিত্রায়ন"। Frontiers in Communication। ৭ 737761। ডিওআই:10.3389/fcomm.2022.737761।
- ↑ গাম্বিনো, মেগান (৩ ডিসেম্বর ২০১২)। "আপনি কি আপনার দাদার চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান? সম্ভবত না"। স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২০।
- 1 2 গ্রে, রিচার্ড (৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯)। "ব্রিটিশ কিশোর-কিশোরীদের আইকিউ ৩০ বছর আগের তুলনায় এখন কম"। দ্য টেলিগ্রাফ। ৯ নভেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২০।
- ↑ টুয়েঞ্জি, জঁ; ক্যাম্পবেল, ডব্লিউ. কিথ; শারম্যান, রাইন এ. (২০১৯)। "মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিভিন্ন স্তরে শব্দভাণ্ডার হ্রাসের প্রবণতা, ১৯৭৪-২০১৬"। Intelligence। ৭৬ 101377। ডিওআই:10.1016/j.intell.2019.101377। এস২সিআইডি 200037032।
- ↑ লে পেনি, শার্লি (২০১৭)। "Longing to Belong: Needing to Be Needed in a World in Need"। Society। ৫৪ (6): ৫৩৫–৫৩৬। ডিওআই:10.1007/s12115-017-0185-y।
- ↑ করোবকা, তানিয়া (১৬ মার্চ ২০১৬)। "মিলিনিয়ালদের কাছে পৌঁছানো: দ্রুত করুন কিন্তু আসল রূপ বজায় রাখুন"। ICEF Monitor। ICEF। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২৬।
- ↑ Prensky, M. (2001). "Digital natives, digital immigrants": Part 1. On the Horizon, 9(5), 1–6.
- ↑ ভেন্টার, এলজা (২০১৭)। "Bridging the communication gap between Generation y and the Baby Boomer generation"। International Journal of Adolescence and Youth। ২২ (4): ৪৯৭–৫০৭। ডিওআই:10.1080/02673843.2016.1267022।
- 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;Stokes-2015নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ "ইউগভ / দ্য সান ইয়ুথ সার্ভে ফলাফল" (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০১৯।
- ↑ "ইভেন্টব্রাইট স্টাডি দেখাচ্ছে মিলিনিয়ালরা শুধু সংগীতের জন্য নয় বরং আরও অনেক কারণে ইভেন্ট বেছে নেয়"। Music Week। ২১ জুন ২০১৭।
- ↑ উইকহ্যাম, ক্রিস (২৬ জুলাই ২০১২)। "পপ মিউজিক অনেক উচ্চশব্দসম্পন্ন এবং সব সুরই একই রকম: সরকারি রিপোর্ট"। রয়টার্স। সংগ্রহের তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০১৯।
- ↑ ম্যাকঅ্যালপাইন, ফ্রেজার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮)। "পপ মিউজিক কি তার আনন্দ হারিয়ে ফেলেছে?"। বিবিসি। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০২০।
- ↑ ব্র্যান্ডেইস ইউনিভার্সিটি (১ মার্চ ২০১৯)। "দ্য হিপস্টার ইফেক্ট: কেন প্রথা-বিরোধীরা শেষ পর্যন্ত দেখতে একই রকম হয়ে যায়"। Phys.org। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০২০।
- ↑ প্যালটা, ফ্রাঙ্ক (৪ অক্টোবর ২০১৯)। "ট্রাম্প লেট-নাইট টিভিকে কথা বলার অনেক রসদ দিচ্ছেন কিন্তু দর্শক সংখ্যা কমছে"। Business। সিএনএন। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০১৯।
- ↑ মামফ্রে, চেয়ান (১৯ এপ্রিল ২০২৪)। "শিশু নন, অভিভাবকও নন, তবুও 'ব্লু' পছন্দ করেন? আপনি একা নন"। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। সংগ্রহের তারিখ ৫ মে ২০২৫।
- ↑ বলচ, এমিলি গ্রেস (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪)। "হ্যারি পটার থেকে টেইলর সুইফট: মিলিনিয়াল নারীরা কীভাবে ফ্যানডমের সাথে বেড়ে উঠেছে"। দ্য কনভারসেশন। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০২৪।
- ↑ ফ্রেঞ্চ, হাওয়ার্ড (জুন ২০২০)। "চায়না'স টোয়াইলাইট ইয়ারস"। দি আটলান্টিক। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০২০।
- ↑ ডেইনার, সাইমন; গোয়েন, অ্যানি (২৪ এপ্রিল ২০১৮)। "অতিরিক্ত পুরুষ: চীন ও ভারত লিঙ্গ বৈষম্যের পরিণতির সাথে লড়ছে"। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০১৯।
- ↑ সিন, ইউয়েন (২ মার্চ ২০১৮)। "শুধু সরকারি সহায়তা জন্মহার বাড়াতে যথেষ্ট নয়: মন্ত্রী"। সিঙ্গাপুর। স্ট্রেইটস টাইমস। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯।
- ↑ "দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে জন্মহার হ্রাসের ভয়াবহ পরিণতির দিকে নজর"। Business Wire। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। ৬ মে ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০।
- ↑ "দুটি নতুন বই ব্রেক্সিট বিদ্রোহের ব্যাখ্যা দিচ্ছে"। দি ইকোনমিস্ট। ৩ নভেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৯।
- ↑ লাইভসে, ক্রিস্টোফার (২৫ নভেম্বর ২০১৯)। "ইতালিতে জন্মহার হ্রাস নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ"। PBS Newshour। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৯।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;Grammaticas-2004নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ ফেনসম, অ্যান্থনি (১ ডিসেম্বর ২০১৯)। "অস্ট্রেলিয়ার জনমিতিক "টাইম বোমা" এসে পড়েছে"। দি ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট। ইয়াহু! নিউজ। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯।
- ↑ ভার্জালি, অ্যালিসন (২০০৫)। "Book Review: The Rise and Fall of Anglo-America"। The Journal of American History। ৯২ (2): ৬৮০–৮১। ডিওআই:10.2307/3659399। জেস্টোর 3659399।
- ↑ গ্যারাটি, জন এ. (১৯৯১)। "Chapter XXXI: The Best of Times, The Worst of Times"। The American Nation: A History of the United States। Harper Collins Publishers। পৃ. ৮৫৭–৫৮। আইএসবিএন ৯৭৮-০-০৬-০৪২৩১২-৪।
- ↑ গ্যারাটি, জন এ (১৯৯১)। "Chapter XXXIII: Our Times"। The American Nation: A History of the United States। Harper Collins। পৃ. ৯৩২–৩৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০-০৬-০৪২৩১২-৪।
- ↑ হাওয়ার্ড, জ্যাকলিন (১০ জানুয়ারি ২০১৯)। "মার্কিন প্রজনন হার জনসংখ্যা প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় স্তরের নিচে, গবেষণা বলছে"। সিএনএন। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২০।
- ↑ হাউ, নিল। "মিলিনিয়াল জেনারেশন, 'শান্ত থাকুন এবং চালিয়ে যান'"। ফোর্বস। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১৯।
- ↑ ড্যান শ্যাবেল (২৯ মার্চ ২০১২)। "মিলিনিয়ালস বনাম বেবি বুমারস: আপনি কাকে নিয়োগ দেবেন?"। টাইম ম্যাগাজিন। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০১৩।
- ↑ "মিলিনিয়ালরা বেবি বুমারদের সংখ্যায় ছাড়িয়ে গেছে এবং তারা অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়"। www.census.gov। সংগ্রহের তারিখ ৫ অক্টোবর ২০১৫।
- 1 2 "আজকের মিলিনিয়ালদের সাথে ৫০ বছর আগের তাদের দাদাদের তুলনা"। Pew Research Center। ১৬ মার্চ ২০১৮।
- ↑ ফ্রে, উইলিয়াম (জানুয়ারি ২০১৮)। "মিলিনিয়াল প্রজন্ম: আমেরিকার বৈচিত্র্যময় ভবিষ্যতের একটি জনসংখ্যাতাত্ত্বিক সেতু"। The Brookings Institution। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০১৯।
- ↑ সিলুফো, অ্যান্থনি; ফ্রাই, রিচার্ড (৩০ জানুয়ারি ২০১৯)। "২০২০ সালের ভোটার তালিকার একটি প্রাথমিক চিত্র"। পিউ রিসার্চ সেন্টার। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০২০।
- ↑ স্মিথ, সি. ব্রায়ান (২০১৮)। "একজন মিলিনিয়াল প্রবীণ সৈনিক এই ধারণার মোকাবিলা করছেন যে তার প্রজন্ম যথেষ্ট পুরুষোচিত নয়"। Mel Magazine। Los Angeles: Dollar Shave Club। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১৯।
- ↑ টিলঘম্যান, অ্যান্ড্রু (৯ জুলাই ২০১৬)। "পেন্টাগন মিলিনিয়ালদের তথ্য রাখে। এটি যা বলছে তা হলো:"। Military Times। Virginia। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১৯।
- ↑ কাসরিয়েল, স্টেফানি (১০ জানুয়ারি ২০১৯)। "আগামী ২০ বছর কর্মসংস্থানের জন্য কী অর্থ বহন করবে এবং কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে"। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। সংগ্রহের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০১৯।
- ↑ ডেসজার্ডিনস, জেফ (২০ মার্চ ২০১৯)। "কোন দেশগুলো বিদেশ থেকে উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের আকর্ষণ করতে সেরা?"। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। সংগ্রহের তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০১৯।
- ↑ গাইগার, থিয়েরি; ক্রোটি, রবার্তো (৯ অক্টোবর ২০১৯)। "২০১৯ সালে এগুলো বিশ্বের ১০টি সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি"। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। সংগ্রহের তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০১৯।
- ↑ "জুম এবং বিষণ্ণতা"। দি ইকোনমিস্ট। ৮ অক্টোবর ২০২০।
- ↑ নাউডে, উইম (৮ অক্টোবর ২০১৯)। "পশ্চিমা বিশ্বে উদ্যোক্তা এবং উদ্ভাবনের বিস্ময়কর পতন"। The Conversation। সংগ্রহের তারিখ ১০ অক্টোবর ২০২০।
- ↑ ফিলিপস, ম্যাট (৩১ মে ২০১৩)। "সুইডেনে বিনামূল্যে কলেজ শিক্ষার উচ্চ মূল্য"। Global। The Atlantic। সংগ্রহের তারিখ ৪ নভেম্বর ২০১৯।
- ↑ "জার্মান আদালত ছাত্র ফি-র ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল"। Germany। DW। ২৬ জানুয়ারি ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ৪ নভেম্বর ২০১৯।
- 1 2 তুর্চিন, পিটার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০১০)। "Political instability may be a contributor in the coming decade"। Nature। ৪০৩ (7281): ৬০৮। বিবকোড:2010Natur.463..608T। ডিওআই:10.1038/463608a। পিএমআইডি 20130632।
- ↑ অ্যাডামস, রিচার্ড (২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭)। "ইংল্যান্ডের প্রায় অর্ধেক তরুণ-তরুণী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে"। Higher Education। The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০১৯।
- 1 2 সোলোমান, পল (২৮ মার্চ ২০১৯)। "ঋণ নিয়ে উদ্বিগ্ন জেনারেশন জি কলেজ পছন্দকে একটি আর্থিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে"। PBS Newshour। সংগ্রহের তারিখ ১২ মে ২০১৯।
- 1 2 ক্রুপনিক, ম্যাট (২৯ আগস্ট ২০১৭)। "কয়েক দশক ধরে স্নাতক ডিগ্রির ওপর জোর দেওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এখন আরও কারিগর প্রয়োজন"। PBS Newshour। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০১৯।
- ↑ ড্রিউ, ক্রিস্টোফার (৪ নভেম্বর ২০১১)। "কেন বিজ্ঞানের ছাত্ররা তাদের মন পরিবর্তন করে (এটি আসলেই অনেক কঠিন)"। The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০১৯।
- ↑ "হলোনকাস্ট স্টাডি: দুই-তৃতীয়াংশ মিলিনিয়াল অশউইৎজ কী তা জানে না"। The Washington Post। ১২ এপ্রিল ২০১৮।
- ↑ অ্যাস্টর, ম্যাগি (১২ এপ্রিল ২০১৮)। "স্মৃতি থেকে হলোকাস্ট মুছে যাচ্ছে, জরিপ বলছে"। The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ১৮ এপ্রিল ২০১৮।
- ↑ "জরিপ: মিলিনিয়ালদের কমিউনিজমের ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানা জরুরি"। MarketWatch। ২১ অক্টোবর ২০১৬।
- ↑ "মধ্যবয়সে পৌঁছানোর আগেই স্থূলতার তালিকায় শীর্ষে মিলিনিয়ালরা"। Cancer Research UK। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০১৯।
- ↑ পিয়ার্স, শ্যানলি (৬ মে ২০১৯)। "তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের প্রবণতা বাড়ছে"। Texas Medical Center। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০২০।
- ↑ American College of Cardiology (৭ মার্চ ২০১৯)। "তরুণদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক ক্রমেই সাধারণ হয়ে উঠছে"। Science Daily। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২১।
- ↑ "ড্রাগ ওভারডোজ মিলিনিয়ালদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ"। Centers for Disease Control and Prevention (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩।
- ↑ হেমব্রি (২০১৭)। "মিলিনিয়ালদের হাসতে অনীহার কারণ: দাঁতের সমস্যা চাকরির ক্ষেত্রে ২৮% বাধা হয়ে দাঁড়ায়"। Forbes।
- 1 2 "আমরা মিলিনিয়ালদের সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করি; তারা আসলে ক্রীড়াপ্রেমী"। www.sportsbusinessdaily.com। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৪ নভেম্বর ২০১৮।
- ↑ সিঙ্গার, ড্যান (অক্টোবর ২০১৭)। "আমরা মিলিনিয়াল ক্রীড়াপ্রেমীদের সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করি"। McKinsey & Company। সংগ্রহের তারিখ ৪ নভেম্বর ২০১৮।
- ↑ "বয়স ও লিঙ্গভেদে আগ্রহের পরিবর্তন এমএমএ-কে লড়ার সুযোগ দিচ্ছে"। www.sportsbusinessdaily.com। অক্টোবর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৪ নভেম্বর ২০১৮।
- ↑ সেরানো, অ্যাডাম (৯ জানুয়ারি ২০১৮)। "গ্যালাপ জরিপ বলছে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে এবং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তিনটি দর্শকপ্রিয় খেলার কাছাকাছি পৌঁছেছে"। এলএ গ্যালাক্সি। সংগ্রহের তারিখ ৪ নভেম্বর ২০১৮।
- ↑ "২০১৮ পার্টিসিপেশন রিপোর্ট" (পিডিএফ)। Physical Activity Council। ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০১৯।
- ↑ "কেন মিলিনিয়ালরা অন্য যে কোনো প্রজন্মের চেয়ে বেশি ফিট"। ১০ জুন ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৪ নভেম্বর ২০১৮।
- ↑ ডার্বিন, ডি-অ্যান (৯ মার্চ ২০১৬)। "মিলিনিয়ালরা অবশেষে গাড়ির বাজারে প্রবেশ করছে"। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০১৯।
- ↑ ব্লিস, লরা (২৭ মার্চ ২০১৯)। ""গাড়িমুক্ত" প্রচারণা সত্ত্বেও মিলিনিয়ালরা প্রচুর গাড়ি চালায়"। যাতায়াত। CityLab। সংগ্রহের তারিখ ৩ নভেম্বর ২০১৯।
- ↑ "জনমিতিক গোষ্ঠীভেদে গণপরিবহন ব্যবহারের পার্থক্য"। Pew Research Center। ৬ এপ্রিল ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০১৯।
- ↑ জিয়াং, জিংজিং (৪ জানুয়ারি ২০১৯)। "আরও আমেরিকান রাইড-হেলিং অ্যাপ ব্যবহার করছেন"। Pew Research Center। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০১৯।
- 1 2 ভিনসেট, গিজেল; ডানলপ, সারা (৩০ জানুয়ারি ২০১৫)। "Young People and Religion and Spirituality in Europe: A Complex Picture"। Handbook of Children and Youth Studies। Springer। পৃ. ৮৮৯–৯০২। ডিওআই:10.1007/978-981-4451-15-4_39। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮১-৪৪৫১-১৫-৪।
- ↑ "সর্বশেষ ব্রিটিশ সোশ্যাল অ্যাটিটিউডস প্রকাশ করেছে যে ৭১% তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক ধর্মহীন"। হিউম্যানিস্ট ইউকে। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৭।
- ↑ "জরিপ: প্রতি পাঁচজন আমেরিকানের একজন ধর্মীয় নন"। TPM। ২০১২।
- ↑ উইডেন, জ্যাসন; কোহেন, অ্যাডাম বি. (সেপ্টেম্বর ২০০৮)। "প্রজনন সহায়তা হিসেবে ধর্মীয় উপস্থিতি"। Evolution and Human Behavior। ২৯ (5): ৩২৭–৩৩৪। বিবকোড:2008EHumB..29..327W। ডিওআই:10.1016/j.evolhumbehav.2008.03.004। পিএমসি 3161130। পিএমআইডি 21874105।
- ↑ "জেনারেশন জি-এর মধ্যে নাস্তিক্যবাদ দ্বিগুণ হয়েছে"। Barna.com। Barna Group। ২৪ জানুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৯।
- ↑ "প্রাপ্তবয়স্ক মিলিনিয়াল – প্রতিষ্ঠান থেকে বিচ্ছিন্ন, বন্ধুদের সাথে নেটওয়ার্কযুক্ত" (পিডিএফ)। ৭ মার্চ ২০১৪। ২৭ আগস্ট ২০১৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- 1 2 "বৈবাহিক পছন্দগুলো পারিবারিক আয়ের বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে"। দি ইকোনমিস্ট। ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০২০।
- ↑ "যৌনতা, বুদ্ধি এবং বৈষম্য"। দি ইকোনমিস্ট। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০২০।
- 1 2 3 মিলার, ক্লেয়ার কেইন; বুই, কোয়াটরুং (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬)। "বিয়েতে সমতা বাড়ছে, সাথে বাড়ছে শ্রেণি বিভাজন"। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। ২৪ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২১।
- ↑ "মিলিনিয়ালস: ভবিষ্যতের বাজি"। www.eurekalert.org। EurekAlert! Science News। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১৯।
- ↑ উডিয়ট, অ্যামি (১৫ জুন ২০২০)। "তরুণ আমেরিকানরা আগের চেয়ে কম যৌন মিলন করছে"। Health। সিএনএন। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ ব্রাউন, আনা (২০ আগস্ট ২০২০)। "প্রায় অর্ধেক মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন গত ১০ বছরে ডেটিং করা আরও কঠিন হয়েছে"। Pew Research Center। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০২০।
- ↑ সহিল, ইসাবেল ভি.; ভেনেটর, জোয়ানা (২১ জানুয়ারি ২০১৪)। "পারিবারিক গঠনে শ্রেণি বিভাজন কমাতে তিনটি নীতি"। Brookings Institution। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০২০।
- ↑ ফ্রাই, রিচার্ড (২৪ মে ২০১৬)। "আধুনিক যুগে প্রথমবারের মতো ১৮-৩৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে পিতামাতার সাথে থাকা অন্য সব ব্যবস্থার চেয়ে এগিয়ে"। Pew Research। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০১৬।
- ↑ ফিটজপ্যাট্রিক, জন (৬ মার্চ ২০১৭)। "প্রথমবার বাড়ি ক্রেতারা জামানতের জন্য 'ব্যাংক অফ গ্র্যান অ্যান্ড গ্র্যান্ডাড'-এর দিকে ঝুঁকছেন"। ডেইলি এক্সপ্রেস (ইংরেজি ভাষায়)। Express Newspapers। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ স্টেপলার, রেনি (৯ মার্চ ২০১৭)। "বেবি বুমারদের নেতৃত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০+ জনসংখ্যার মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের হার বাড়ছে"। Pew Research Center। সংগ্রহের তারিখ ১০ নভেম্বর ২০২০।
- ↑ গ্যালাগার, জেমস (৯ নভেম্বর ২০১৮)। "প্রজনন হারে 'উল্লেখযোগ্য' হ্রাস"। Health। BBC News। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২০।
- ↑ লাউয়ার, অ্যালেক্স (২১ জানুয়ারি ২০২০)। "মিলিনিয়ালরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত ছিল; তাদের সন্তানদের সেই সুযোগ নেই"। InsideHook (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০২৪।
- 1 2 অলসপ, রন (২০০৮)। The Trophy Kids Grow Up: How the Millennial Generation is Shaking Up the Workplace। Jossey-Bass। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪৭০-২২৯৫৪-৫। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০১৪।
- ↑ অলসপ, রন (২১ অক্টোবর ২০০৮)। "ট্রফি কিডসরা কাজে যাচ্ছে"। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০০৮।
- 1 2 সিঙ্গাল, জেসি (২৪ এপ্রিল ২০১৭)। "আমাকে মিলিনিয়াল বলবেন না – আমি একজন প্রবীণ মিলিনিয়াল"। নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিন। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৭।
- 1 2 মায়ার্স, কারেন কে.; সাদাগিয়ানি, কামিয়াব (১ জানুয়ারি ২০১০)। "কর্মক্ষেত্রে মিলিনিয়ালস: সাংগঠনিক সম্পর্ক এবং কর্মক্ষমতার ওপর একটি যোগাযোগমূলক দৃষ্টিভঙ্গি"। Journal of Business and Psychology। ২৫ (2): ২২৫–২৩৮। ডিওআই:10.1007/s10869-010-9172-7। পিএমসি 2868990। পিএমআইডি 20502509।
- 1 2 3 হার্শাটার, আন্দ্রেয়া; এপস্টেইন, মলি (১ জানুয়ারি ২০১০)। "মিলিনিয়ালস এবং কর্মজগত: একটি সাংগঠনিক এবং ব্যবস্থাপনাগত দৃষ্টিভঙ্গি"। Journal of Business and Psychology। ২৫ (2): ২১১–২২৩। ডিওআই:10.1007/s10869-010-9160-y। এস২সিআইডি 145517471।
- ↑ "মিথ, অতিরঞ্জন এবং অস্বস্তিকর সত্য – কর্মক্ষেত্রে মিলিনিয়ালদের পেছনের আসল গল্প" (পিডিএফ)। Public.DHE.IBM.com। আইবিএম। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫।
- ↑ উইনোগ্রাড, মরলে; হাইস, মাইকেল (২৮ মে ২০১৪)। "কীভাবে মিলিনিয়ালরা ওয়াল স্ট্রিট এবং করপোরেট আমেরিকাকে পাল্টে দিতে পারে"। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন।
- ↑ জাঙ্কো, রেনল; মাস্ত্রোডিকাসা, জিনা (২০০৭)। Connecting to the Net.Generation: What Higher Education Professionals Need to Know About Today's Students। National Association of Student Personnel Administrators। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৯৩১৬৫৪-৪৮-০।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|সংগ্রহের-তারিখ=এর জন্য|ইউআরএল=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ উডম্যান, ড্যান (২০১৫)। Youth and Generation। London: Sage Publications Ltd। পৃ. ১৩২। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৪৬২-৫৯০৫-৪।
- ↑ Cabral, J. (2010). "Is Generation Y Addicted to Social Media". The Elon Journal of Undergraduate Research in Communication, 2(1), 5–13.
- ↑ জেনারেশন লাইক পিবিএস ফিল্ম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]Baird, Carolyn (২০১৫), Myths, exaggerations and uncomfortable truths: The real story behind millennials in the workplace, IBM Institute for Business Value
ডিচেন, ডারিন জে. (২০১৪)। "কীভাবে মিলিনিয়াল প্রজন্মকে ব্যাখ্যা করবেন? প্রেক্ষাপট বুঝুন"। Student Pulse। ৬ (3): ১৬।
এস্পিনোজা, চিপ; Mick Ukleja, ক্রেইগ রাশ (২০১০)। Managing the Millennials: Discover the Core Competencies for Managing Today's Workforce। Hoboken, NJ: Wiley। পৃ. ১৭২। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪৭০-৫৬৩৯৩-৯। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১২।
ফারলং, অ্যান্ডি (২০১৩)। Youth Studies: An Introduction। New York: Routledge। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪১৫-৫৬৪৭৬-২।
হবস, মাইকেল (১৪ ডিসেম্বর ২০১৭)। "জেনারেশন স্ক্রুড"। হাফপোস্ট। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০২১।
টেইলর, পল; Pew Research Center (২০১৬)। The Next America: Boomers, Millennials, and the Looming Generational Showdown। PublicAffairs। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৬১০৩৯-৬১৯-৬।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- বৈচিত্র্যের নেতিবাচক দিক। মাইকেল জোনাস। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। ৫ আগস্ট ২০০৭।
- কেন ৩০ বছর বয়স ২০-এর সমান নয়। মেগ জয়। টেড টক। ১৩ মে ২০১৩। (ভিডিও, ১৪:৪৯)
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি কি অর্থের অপচয়? বিবিসি নিউজ: দ্য ন্যাশনাল। ১ মার্চ ২০১৭। (ভিডিও, ১৪:৩৯)
- আপনার স্মার্টফোন কেন অপ্রতিরোধ্য (এবং কেন এটি প্রতিরোধ করা উচিত), পিবিএস নিউজআওয়ার। ২১ এপ্রিল ২০১৭। মনোবিজ্ঞানী আডাম অল্টার।
| পূর্বসূরী জেনারেশন এক্স ১৯৬৫ – ১৯৮০ |
মিলিনিয়ালস ১৯৮১ – ১৯৯৬ |
উত্তরসূরী জেনারেশন জি ১৯৯৭ – ২০১২ |