বিষয়বস্তুতে চলুন

মির্জা ফাত-উল-মুলক বাহাদুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মির্জা ফখরু
মির্জা[]
মির্জা ফখরুর প্রতিকৃতি
জন্ম১৮১৬–১৮
লালকেল্লা, পুরান দিল্লি, মুঘল সাম্রাজ্য
মৃত্যু১০ জুলাই ১৮৫৬ (বয়স ৩৮–৪০)
লালকেল্লা, পুরান দিল্লি, মুঘল সাম্রাজ্য
দাম্পত্য সঙ্গী
  • রাফাত সুলতান বেগম
  • ওয়াজির খানম
বংশধর
পূর্ণ নাম
ফাত-উল-মুলক, শাহজাদা মির্জা মুহাম্মদ সুলতান শাহ, ফিরোজ জং, ওয়ালি আহাদ বাহাদুর
রাজবংশমুঘল
পিতাবাহাদুর শাহ জাফর
মাতারহিম বখশ বাই বেগম

মির্জা ফাত-উল-মুলক বাহাদুর (যিনি মির্জা ফখরু নামেও পরিচিত; আনু. ১৮১৬ বা ১৮১৮ – ১০ জুলাই ১৮৫৬) ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের সর্বশেষ যুবরাজ বা ওয়ালি আহাদ।

জীবনী

[সম্পাদনা]

মুঘল রাজপরিবারের একজন জ্যেষ্ঠ রাজপুত্র হিসেবে তিনি ছিলেন শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর এবং তার স্ত্রী রহিম বখশ বাই বেগমের পুত্র।[]

১৮৫৩ সালে মির্জা ফখরুকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুঘল সাম্রাজ্যের যুবরাজ ঘোষণা করা হয়। তবে তিনি তার পিতার জীবদ্দশাতেই ১৮৫৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। ধারণা করা হয় তিনি কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন, যদিও কিছু সূত্র মতে তাকে তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছিল। তার শরীরে দেখা দেওয়া উপসর্গগুলো তার বন্ধু স্যার থমাস মেটকাফের মৃত্যুর লক্ষণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল।

পরিবার

[সম্পাদনা]

মির্জা ফাত-উল-মুলক ছিলেন রাজপুত্র মির্জা মুঘলের বড় ভাই এবং প্রাক্তন যুবরাজ মির্জা দারা বখতের ছোট ভাই।

ফাত-উল-মুলক বেশ কয়েকজন নারীকে বিয়ে করেছিলেন এবং তিনি অনেক সন্তানের জনক ছিলেন। তার স্ত্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ওয়াজির খানম, যিনি একজন ধনী জহুরির কন্যা এবং তৎকালীন সময়ের অন্যতম সুন্দরী ছিলেন। ওয়াজির খানম এর আগে ফিরোজাপুর ঝিরকার নবাব শামসুদ্দিনের স্ত্রী ছিলেন। নবাব শামসুদ্দিন ছিলেন কবি মির্জা গালিবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আত্মীয়। ব্রিটিশ কর্মকর্তা উইলিয়াম ফ্রেজার হত্যার দায়ে নবাবের ফাঁসি হওয়ার পর ওয়াজির খানম মির্জা ফখরুকে বিয়ে করেন। এই সূত্রে মির্জা ফখরু ছিলেন প্রখ্যাত কবি দাঘ দেহলভির সৎ পিতা।

ফাত-উল-মুলকের পুত্রদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মির্জা আবু বখত, মির্জা ফখরুন্দা জামাল এবং মির্জা মোহাম্মদ বেগ (যিনি দাক্ষিণাত্যে চলে যান)। তার কন্যাদের মধ্যে ছিলেন সিকান্দার জাহান বেগম, যিনি একজন সুফি সাধককে বিয়ে করেন। তার দৌহিত্র মির্জা কুতুব-ই-আলমও পরবর্তীতে পরিচিতি লাভ করেন।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. মুঘল উপাধি 'মির্জা', মির্জা উপাধিটি মঙ্গোল শাসকদের ব্যবহৃত উপাধি ছিল, খান বা পাদশাহ নয়।
  2. তৈমুরের বংশধারা: দিল্লির রাজপরিবার ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১১-০৬-১৩ তারিখে

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

উইকিমিডিয়া কমন্সে মির্জা ফাত-উল-মুলক বাহাদুর সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন।