মিরজান মসজিদ
| মিরজান মসজিদ | |
|---|---|
جامع مرجان | |
২০২০ সালে মসজিদটি | |
| ধর্ম | |
| অন্তর্ভুক্তি | সুন্নি ইসলাম |
| যাজকীয় বা সাংগঠনিক অবস্থা | মসজিদ |
| অবস্থা | চালু |
| অবস্থান | |
| অবস্থান | আল-রশিদ স্ট্রিট, শোরজা, বাগদাদ |
| দেশ | ইরাক |
বাগদাদ-এ মসজিদের অবস্থান | |
| স্থানাঙ্ক | ৩৩°২০′২০″ উত্তর ৪৪°২৩′৩৭″ পূর্ব / ৩৩.৩৩৯০° উত্তর ৪৪.৩৯৩৫° পূর্ব |
| স্থাপত্য | |
| ধরন | ইসলামি স্থাপত্য |
| প্রতিষ্ঠাতা | আমিন আল-দীন মিরজান |
| সম্পূর্ণ হয় |
|
| বিনির্দেশ | |
| ধারণক্ষমতা | ১,২০০ মুসল্লি |
| অভ্যন্তরীণ | ১,৫০০ বর্গমিটার (১৬,০০০ বর্গফুট) |
| গম্বুজসমূহ | তিনটি |
| মিনার | একটি |
মিরজান মসজিদ (আরবি: جامع مرجان ) হল ইরাকের বাগদাদের আল-রশিদ স্ট্রিটের শোরজা বাজারের কাছে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক সুন্নি মসজিদ এবং সাবেক মাদ্রাসা।[১] এটি বাগদাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন নিদর্শন।[২] প্রাচীর ঘেরা মসজিদটিতে নু'মান আল-আলুসিসহ বিশিষ্ট ইসলামী পণ্ডিতদের সমাধি রয়েছে।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]১৪শ থেকে ১৯শ শতাব্দী
[সম্পাদনা]
এখানে মাদ্রাসা মুরজানিয়া নামে একটি মাদ্রাসা ছিল, যেটি ১৩৫৬ সালে জালাইরিদ সুলতান শায়খ উওয়াইস জালাইরের অর্থায়নে আমিন আল-দিন মিরজান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি মসজিদের কাছে অবস্থিত খান মুরজানও নির্মাণ করেছিলেন। মাদ্রাসাটি চারটি সুন্নি মাযহাবকে শিক্ষা দিত এবং বাগদাদ থেকে আসা অর্থায়ন ও সরবরাহ দ্বারা পরিচালিত হত। পরবর্তীতে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য টাইগ্রিস নদীর তীরে অবস্থিত হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয়। হাসপাতালটিতে একটি ক্যাফেও ছিল। ১৩৫৩ সালে মুরজানের মৃত্যুর পর তাকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয় এবং তার সমাধির উপরে গম্বুজটি তৈরি করা হয়।[৩][৪][৫][৬]
১৮১৬ সালে জেমস সিল্ক বাকিংহামের বাগদাদ সফরের সময়ে তিনি আল-খুলাফা মসজিদের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করে ফিরে আসার সময় মিরজান মসজিদও পরিদর্শন করেন। মিরজান মসজিদের শিলালিপি, প্রবেশপথ এবং ইটের কাজ পর্যবেক্ষণ করে জেমস উল্লেখ করেন যে: [৭]
"মসজিদটির উপরিভাগে সমানভাবে পুরাতন এবং অত্যন্ত সমৃদ্ধ আরবি কাজের কিছু ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। মসজিদের মূল অংশটি আধুনিক এবং এর অভ্যন্তরটি উল্লেখযোগ্য কিছু দেখায় না, তবে এর প্রবেশদ্বারটি খুব সূক্ষ্ম। এটি সূক্ষ্ম আকৃতির একটি উঁচু খিলান দ্বারা গঠিত, যার প্রতিটি পাশে সমৃদ্ধ ব্যান্ডের ধারাবাহিকতা রয়েছে, সূক্ষ্মভাবে ভাস্কর্যযুক্ত, এর পাশগুলি উপরে উঠে যায় এবং প্রায় খিলানের আকারে শীর্ষে মিলিত হয়।"
— জেমস সিল্ক বাকিংহাম, ১৮২৭।
বিংশ শতাব্দী
[সম্পাদনা]
ইরাক রাজ্যের স্বাধীনতার পর যখন আল-রশিদ স্ট্রিট চালু হয়, তখন প্রকৌশলীরা মসজিদটি সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দেন কারণ এটি রাস্তা সোজা করার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। তবে বাদশাহ প্রথম ফয়সাল মসজিদ সংরক্ষণের পক্ষে অবস্থান করেন এবং এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন। ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক এবং লেখক গার্ট্রুড বেলও এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন, যিনি মসজিদটির গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যকেও স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। যদিও ১৯৪৬ সালে আল-রশিদ স্ট্রিট সম্প্রসারণের সময় এই বিতর্ক পুনরুত্থিত হয়েছিল, যেখানে মসজিদের কিছু অংশ কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। অনেক বাগদাদী পণ্ডিত মসজিদটি ভেঙে ফেলার ধারণার বিরোধী ছিলেন, যার ফলে কিছু সময়ের জন্য এটি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়েছিল। [২]
রাজধানীর মেয়র আরশাদ আল-ওমারি, একটি সংবাদ সম্মেলন করে বলেন: [২]
"একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন মসজিদের প্রতি এই তীব্র আগ্রহ দেখে আমি অবাক, এবং ধ্বংসের পর আমি এই জায়গায় আরও বৃহত্তর ও বিলাসবহুল মসজিদ নির্মাণ করতে প্রস্তুত। তাহলে কেন এই জেদ এবং এর প্রতি আনুগত্য?"
— আরশাদ আল-ওমারি
তখন বাগদাদি সংবাদপত্র মেয়রের বক্তব্যের প্রশংসা করে। পরবর্তীতে, আল-রশিদ স্ট্রিট প্রশস্ত করার জন্য আমিন আল-দিন মিরজানের মাজার ধারণকারী প্রত্নতাত্ত্বিক গম্বুজসহ মসজিদ এবং মাদ্রাসার কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছিল।[২][৩][৪][৫][৬]
সরকারি বিভাগের তত্ত্বাবধানে মসজিদটির মূল বিন্যাস অনুসারে মসজিদের অপর পাশের চ্যাপেলসহ মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল।[৮] ১৯৭৩ সালে দান ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় মসজিদটি সংস্কার করে।[৩]
একবিংশ শতাব্দী
[সম্পাদনা]
২০২৩ সালে ঐতিহাসিক এই মসজিদটিকে অবহেলিত অবস্থায় পরে থাকার কিছু ছবি প্রচারিত হওয়ার পর অনেক ইরাকি নাগরিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। মসজিদটিকে আবর্জনার স্তূপ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছিল। ছবিতে মসজিদের গেটের কাছে প্রচুর পরিমাণে আবর্জনা দেখা গেছে; অন্যান্য ছবিতে মসজিদের প্রবেশপথ এবং বাইরের উঠোনে জমে থাকা পানি এবং ময়লা দেখা গেছে। অধিকার কর্মীরা গেটের ভিত্তির সাথে বাসি জলের লিকেজ থাকার কারণে মসজিদের গেট ভেঙে পড়ার বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই দৃশ্যটি প্রত্নতাত্ত্বিক এবং ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভগুলির প্রতি সরকারের অব্যাহত অবহেলা প্রকাশ পায়। সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বা স্মৃতিস্তম্ভগুলির পর্যায়ক্রমিক রক্ষণাবেক্ষণ পরিচালনা না করার জন্য ব্লগার এবং অধিকার কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের ঢেউ তুলেছিল। কথিত অবহেলাকে বাগদাদের ঐতিহাসিক পরিচয় মুছে ফেলা এবং এর পুরাকীর্তিগুলিকে ক্ষতি করার একটি উপায় হিসাবে দেখা হয়েছিল। কেউ কেউ সন্দেহ করেছিলেন যে এটি ছিল ইচ্ছাকৃত অবহেলা।[৯][১০]
স্থাপত্য
[সম্পাদনা]
মসজিদটির আয়তন ১,৫০০ বর্গমিটার (১৬,০০০ বর্গফুট) এবং ১,২০০ জন মুসল্লি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন। এটির নামাজ কক্ষের উপরে একটি প্রধান গম্বুজ এবং দুটি ছোট গম্বুজ রয়েছে। মসজিদটি একটি প্রাচীর দ্বারা ঘেরা রয়েছে।[৩] প্রাথমিকভাবে মসজিদটির নির্মাণকাজ মাদ্রাসার অন্য একটি শাখায় শুরু হয়েছিল, যেখানে এটি ধ্বংসের হাত থেকে নিরাপদ ছিল। মসজিদের উপরে তিনটি গম্বুজ তৈরি করা হয়েছিল, যার মধ্যে মধ্যম গম্বুজটি বৃহত্তম। অস্থায়ী মসজিদের গম্বুজটি মূলত মাদ্রাসার লাইব্রেরির অনুকরণে তৈরি করা হয়েছিলো। ২০০৩ সালের পর মসজিদের অবকাঠামো আরও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে এবং এর চারপাশে এলোমেলো বেসমেন্ট এবং সিলিং তৈরি করা হয়। বাজারের বিক্রেতারা সেখানে আবর্জনা ফেলে রেখে যাওয়া শুরু করে। অবহেলার কারণে ময়লা এবং বর্জ্য এখানকার সাধারণ বিষয় হয়ে ওঠে।[২][৯]
মাদ্রাসা লাইব্রেরি
[সম্পাদনা]মাদ্রাসায় একটি বিশাল গ্রন্থাগার ছিল, যেটি পণ্ডিত নু'মান আল-আলুসির উপহার দিয়েছিলো। তিনি সমগ্র গ্রন্থাগারটি মাদ্রাসার ছাত্রদের জ্ঞান অর্জনের জন্য দান করেছিলেন। এই গ্রন্থাগারে বিরল সালাফি বইয়ের অনেক পাণ্ডুলিপি ছিল। পরবর্তীতে পাণ্ডুলিপিগুলি বাব আল-মু'আধামে অবস্থিত পাবলিক এনডাউমেন্টস লাইব্রেরিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল, যেগুলি ইরাকে মার্কিন আক্রমণের সময় পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল।[১১]
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Advish Abboud Building... Recalling the Past as a Modernist"। Al Mada newspaper। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০২২।
- 1 2 3 4 5 الگاردينيا - مجلة ثقافية عامة - حول تاريخ جامع مرجان .. واكذوبة قصة الايطالي موركان! وحالة। www.algardenia.com (আরবি ভাষায়)। ৩১ মার্চ ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ আগস্ট ২০২৩।
- 1 2 3 4 البغداديون أخبارهم ومجالسهم - إبراهيم عبد الغني الدروبي - مطبعة الرابطة -بغداد - 1958। পৃ. ২৮১।
- 1 2 جامع مرجان। Masajed Iraq (আরবি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০১৮।
- 1 2 Al-Alusi, Mahmoud Shukri। "Baghdad Mosques and their Antiquities"। ketabpedia.com। ২৮ মে ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- 1 2 قراءة ثانية لعمارة: خان مرجان: بهو بغداد المترف। almadapaper.net (আরবি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০২৩।
- ↑ Buckingham, James Silk (১৮২৭)। Travels in Mesopotamia (ইংরেজি ভাষায়)। H. Colburn।
- ↑ فرنسيس, بشير يوسف। موسوعة المدن والمواقع في العراق - الجزء الأول। E-Kutub Ltd। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৭৮০৫৮-২৬২-৭।
- 1 2 العراق.. استياء لتحوّل جامع مرجان الأثري إلى مكب نفايات। Al Jazeera (আরবি ভাষায়)। ৩১ মার্চ ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০২৩।
- ↑ جامع مرجان.. الفساد والاهمال يهددان ايقونة بغدادية تأريخية » وكالة بغداد اليوم الاخبارية (আরবি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০২৩।
- ↑ دليل الجوامع والمساجد التراثية والأثرية। Sunni Endowment Office ديوان الوقف السني في العراق - صفحة 43.।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]
উইকিমিডিয়া কমন্সে মিরজান মসজিদ সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন।