মিথিলা (অঞ্চল)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মিথিলা
অঞ্চল
রাজ দ্বারভাঙার রাজকীয় চিহ্ন
মহাদেশএশিয়া
দেশসমূহভারত ও নেপাল
রাজ্য বা প্রদেশবিহার ও ঝাড়খন্ড (ভারত) এবং মধেশ প্রদেশপ্রদেশ নং ১ এবং বাগমতী প্রদেশ (নেপাল)
বিশেষণমৈথিল
তিরহুতিয়
বিদেহ
মিথিলাবাসী
ভাষামৈথিলী

মিথিলা বা তিরহুত বা তিরাভুক্তি হল ভারতীয় উপমহাদেশের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক অঞ্চল যার পূর্বে মহানন্দা নদী, দক্ষিণে গঙ্গা নদী, পশ্চিমে গণ্ডকী নদী এবং উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশ অবস্থিত।[১][২] এটি ভারতের বিহারঝাড়খন্ডের কিছু অংশ নিয়ে[৩] এবং নেপালের পূর্ব তরাইয়ের পার্শ্ববর্তী জেলাগুলি নিয়ে গঠিত।[৪][৫]

মিথিলার মাতৃভাষা মৈথিলী, এবং এর অধিবাসীদের  মৈথিল বলা হয়।[১] কিশানগঞ্জে কিছু সংখ্যালঘু উর্দুভাষীরা আছে।

মিথিলা নামটি সাধারণত বিদেহ রাজ্যের সাথে সাথে বিদেহের প্রাচীন সীমানার মধ্যে পড়ে এমন আধুনিক অঞ্চলগুলিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।[৫] অষ্টাদশ শতাব্দীতে, যখন মিথিলা আংশিকভাবে রাজ দ্বারভাঙার শাসিত ছিল, ব্রিটিশ রাজ অঞ্চলটিকে রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়েই সংযুক্ত করে।[৬][৭]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মহারাজা লক্ষ্মেশ্বর সিং

বৈদিক যুগ[সম্পাদনা]

মিথিলা সর্বপ্রথম বিশিষ্টতা লাভ করে ইন্দো-আর্য জনগোষ্ঠী যারা বিদেহ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিল তাদের দ্বারা বসতি স্থাপনের পর।[৮] পরবর্তী বৈদিক যুগে, কুরুপাঞ্চালের সাথে বিদেহ প্রাচীন ভারতের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বিদেহ রাজ্যের রাজাদের বলা হত জনক।[৯] বিদেহ রাজ্যটি পরবর্তীতে বৃজি জোটে অন্তর্ভুক্ত হয়, যার রাজধানী ছিল বৈশালী শহরে, যা মিথিলায়ও রয়েছে।[১০]

মধ্য যুগ[সম্পাদনা]

১১ শতক থেকে ২০ শতক পর্যন্ত, মিথিলা বিভিন্ন আদিবাসী রাজবংশ দ্বারা শাসিত হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথমটি ছিল কর্ণাট, ঐনিবার রাজবংশ ও খান্দবাল রাজবংশ অথবা রাজ দ্বারভাঙা। ঐনিবার রাজবংশ এবং রাজ দ্বারভাঙার শাসকরা ছিলেন মৈথিল ব্রাহ্মণ। রাজ দ্বারভাঙা পরিবারের রাজত্বকালেই মিথিলার রাজধানী দ্বারভাঙায় স্থানান্তরিত হয়।[১১]

ভূগোল[সম্পাদনা]

নদী ও পাহাড়ের মতো প্রাকৃতিক সীমানা সহ মিথিলা একটি স্বতন্ত্র ভৌগোলিক অঞ্চল। এটি মূলত সমতল এবং উর্বর পলল সমভূমি যা হিমালয় থেকে উৎপন্ন অসংখ্য নদী দ্বারা অতিক্রম করে। সমতল সমভূমি এবং উর্বর ভূমির কারণে মিথিলায় প্রচুর পরিমাণে জৈব সম্পদ রয়েছে; তবে ঘন ঘন বন্যার কারণে মানুষ এসব সম্পদের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে পারেনি।[১২]

মিথিলার মধ্য দিয়ে সাতটি প্রধান নদী প্রবাহিত হয়: মহানন্দাগণ্ডকীকোশীবাগমতীকমলা, বলান ও বুধী গণ্ডকী।[১৩] এগুলি উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে গঙ্গা নদীতে প্রবাহিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Jha, M. (১৯৯৭)। "Hindu Kingdoms at contextual level"Anthropology of Ancient Hindu Kingdoms: A Study in Civilizational Perspective। New Delhi: M.D. Publications Pvt. Ltd। পৃষ্ঠা 27–42। আইএসবিএন 9788175330344 
  2. Mishra, V. (১৯৭৯)। Cultural Heritage of Mithila। Allahabad: Mithila Prakasana। পৃষ্ঠা 13। 
  3. Jha, Pankaj Kumar (২০১০)। Sushasan Ke Aaine Mein Naya Bihar। Bihar (India): Prabhat Prakashan। আইএসবিএন 9789380186283 
  4. Ishii, H. (১৯৯৩)। "Seasons, Rituals and Society: the culture and society of Mithila, the Parbate Hindus and the Newars as seen through a comparison of their annual rites"Senri Ethnological Studies 36: 35–84। ২৩ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  5. Kumar, D. (২০০০)। "Mithila after the Janakas"। The Proceedings of the Indian History Congress60: 51–59। 
  6. Singh, U. N. (১৯৮৬)। "The Maithili Language Movement: Successes and Failures"। Language Planning: Proceedings of an Institute: 174–201। 
  7. Jha, M. (১৯৯৭)। "Hindu Kingdoms at textual level"Anthropology of Ancient Hindu Kingdoms: A Study in Civilizational Perspective। New Delhi: M.D. Publications Pvt. Ltd। আইএসবিএন 9788175330344 
  8. Michael Witzel (1989), Tracing the Vedic dialects in Dialectes dans les litteratures Indo-Aryennes ed. Caillat, Paris, pages 13, 17 116–124, 141–143
  9. Witzel, M. (১৯৮৯)। "Tracing the Vedic dialects"। Caillat, C.। Dialectes dans les litteratures Indo-Aryennes। Paris: Fondation Hugot। পৃষ্ঠা 141–143। 
  10. Hemchandra, R. (১৯৭২)। Political History of Ancient India। Calcutta: University of Calcutta। 
  11. Jha, Makhan (১৯৯৭)। Anthropology of Ancient Hindu Kingdoms: A Study in Civilizational Perspective। পৃষ্ঠা 55–56। আইএসবিএন 9788175330344 
  12. Thakur, B.; Singh, D.P.; Jha, T. (২০০৭)। "The Folk Culture of Mithila"। Thakur, B.; Pomeroy, G.; Cusack, C.; Thakur, S.K.। City, Society, and Planning. Volume 2: Society। পৃষ্ঠা 422–446। আইএসবিএন 9788180694608 [অকার্যকর সংযোগ]
  13. "Rivers of Bihar | Bihar Articles"। Bihar.ws। ২৩ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১২ 

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]