মিক কোমেইল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মিক কোমেইল
মিক কোমেইল.jpg
১৯২৪ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে মিক কোমেইল
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামজন ম্যাকইলয়েন মুর কোমেইল
জন্ম২১ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৩
কেপ টাউন, কেপ প্রদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা
মৃত্যু২৮ জুলাই, ১৯৫৬
সী পয়েন্ট, কেপ টাউন, কেপ প্রদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৬৬)
১ জানুয়ারি ১৯১০ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট৩১ ডিসেম্বর ১৯২৭ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১২ ৯৬
রানের সংখ্যা ৩৫৫ ৫০২৬
ব্যাটিং গড় ১৬.৯০ ৩২.২১
১০০/৫০ ০/০ ৯/২৭
সর্বোচ্চ রান ৪৭ ১৮৬
বল করেছে ৭২
উইকেট
বোলিং গড় ৩৩.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/১৫
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- ৩২/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৫ এপ্রিল ২০২০

জন ম্যাকইলয়েন মুর মিক কোমেইল (ইংরেজি: Mick Commaille; জন্ম: ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৩ - মৃত্যু: ২৮ জুলাই, ১৯৫৬) কেপ প্রদেশের কেপ টাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও ফুটবলার ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯১০ থেকে ১৯২৭ সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।[১]

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্ট, অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটওয়েস্টার্ন প্রভিন্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেন মিক কোমেইল। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শৌখিন ফুটবলে অংশ নিতেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯০৫-০৬ মৌসুম থেকে ১৯৩০-৩১ মৌসুম পর্যন্ত মিক কোমেইলের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। সচরাচর উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। অনেকগুলো বছর কেপ টাউনের পক্ষে খেলেছেন। ১৯১২ সালে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। বিশ বছর বয়সের শুরু থেকে ৪৭ বছর পর্যন্ত কারি কাপে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের সাফল্যের অনুষঙ্গ ছিলেন।

বেশ দীর্ঘদিন ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন মিক কোমেইল। ১৯০৫-০৬ মৌসুমে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৩০-৩১ মৌসুমে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের পক্ষে সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

১৯০৫-০৬ মৌসুমে এমসিসি দল দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করে। মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের সদস্যরূপে এমসিসি’র বিপক্ষে একবার অংশ নেন। তবে, খুব কমই সফলতার স্বাক্ষর রাখেন।[২] ১৯০৮-০৯ মৌসুমের কারি কাপ প্রতিযোগিতায় ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার জগতে ফিরে আসেন। বর্ডারের বিপক্ষে খেলায় তিনি ৭৪ রান তুলেছিলেন তিনি।[৩] এর কিছুদিন পর ট্রান্সভালের বিপক্ষে ৩৪ ও ৬৫ রান তুলেন। এরফলে, ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স দল তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিপক্ষে ছয় রানে জয় পেয়ে কাপ ছিনিয়ে নেয়।[৪]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে বারোটি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন মিক কোমেইল। ১ জানুয়ারি, ১৯১০ তারিখে জোহেন্সবার্গে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ৩১ ডিসেম্বর, ১৯২৭ তারিখে কেপ টাউনে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯০৯-১০ মৌসুমে ইংল্যান্ড দল দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করে। মেরিলবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) নামে দলটি টেস্টবিহীন খেলায় অংশ নেয়। ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের বিপক্ষে দলটি দুইদিনের মধ্যে ইনিংস ব্যবধান জয়লাভে সক্ষম হয়। ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের দুই ইনিংসে তিনি মাত্র ১৩ ও ১৪ রান তুলতে সক্ষম হন।[৫] উল্লেখযোগ্যতাহীন ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করা সত্ত্বেও মিক কোমেইলকে জাতীয় দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৮ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন। ৮ ও ১৯ রান তুলেন তিনি। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে অব্রে ফকনারের সাথে অষ্টম উইকেট জুটিতে ৭৪ রান তুলেন। ফকনার ১২৩ রান করেছিলেন।[৬] দ্বিতীয় টেস্টে মিক কোমেইলের সঞ্চিত শক্তিমত্তা লক্ষ্য করা যায়। প্রথম ইনিংসে ৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৩ রান তুললেও দ্বিতীয় ইনিংসে রদ-বদল ঘটিয়ে ৬ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন। প্রথম ইনিংসে দলের সমান রান থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৩ রানের মধ্যে ৩০ রান তুলে খেলা জয়ে ভূমিকা রাখেন।[৭] তৃতীয় টেস্টে আরও উপরের দিকে ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পান। প্রথম ইনিংসে ৬ নম্বরে নেমে ৩৯ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ নম্বরে নেমে মাত্র ২ রান তুলতে পেরেছিলেন তিনি।[৮] অবশেষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে বিলি জাল্কের সাথে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে তাকে মাঠে নামানো হয়। দায়িত্বশীলতার সাথে ৪২ রান তুলেন। সিরিজে তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চসহ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র তিন রান তুলেছিলেন মিক কোমেইল।[৯] সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টে মোটেই সফল হননি তিনি। চার ও পাঁচ রান তুলেন। খেলায় ইংল্যান্ড দল খুব সহজেই জয় তুলে নেয়।[১০] পাঁচ টেস্টে অংশ নিয়ে মাত্র ১৫.৫০ গড়ে ১৫৫ রান তুলতে পেরেছিলেন।

অস্ট্রেলিয়া গমন[সম্পাদনা]

এ ধরনের ক্ষুদ্র সাফল্য লাভ সত্ত্বেও মিক কোমেইলকে ১৯১০-১১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে ঠাঁই দেয়া হয়। এ সফরে তিনি সফলতার স্বাক্ষর রাখতে ব্যর্থ হন। ১৯১১ সালে পি. ডব্লিউ. শেরওয়েলের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া গমন করলেও কোন টেস্টে তাকে রাখা হয়নি। কেবলমাত্র ছয়টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হয় ও আর কোন টেস্টে তাকে খেলানো হয়নি। কয়েকটি খেলায় তাকে ১০ নম্বরে ব্যাট হাতে মাঠে নামানো হয়। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ করেন মাত্র ২৯ ও মাত্র ৯.৯০ গড়ে রান তুলতে পেরেছিলেন।[১১] তবে, এ সফরকে ঘিরে সংবাদপত্রে কিছু প্রতিবেদন লিখে ঘাটতি পুষিয়ে নেন। দি আর্গাস নামীয় সংবাদপত্রে তাসমানিয়ায় পদার্পণ করে বয়স্কদের উপযোগী নিবন্ধ লিখেন।[১২]

১৯১২-১৩ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের ঘরোয়া আসরে অধিকতর সফলতা পান। অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের বিপক্ষে ৫৫ ও ১০৩ রান তুলেন। এটিই তার প্রথম শতরানের ইনিংস ছিল।[১৩]

১৯১৩-১৪ মৌসুমে ইংল্যান্ড দল দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করে। সফররত দলটির বিপক্ষে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের সদস্যরূপে দুইটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় খেলায় ৫২ রান তুলেছিলেন। এ সফরে তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়নি।[১৪]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট পুণরায় শুরু হলে মিক কোমেইল তার খেলোয়াড়ী জীবন চালিয়ে যান। ১৯১৯-২০ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ান ইম্পেরিয়াল ফোর্সেস ক্রিকেট দলের বিপক্ষে কয়েকটি খেলায় অংশ নেন। ১৯২০-২১ মৌসুমে ঘরোয়া প্রতিযোগিতা চালু হলে তিনি দ্রুত নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন ও যুদ্ধ-পূর্ব সময়কালের যে-কোন মৌসুমের চেয়েও বেশ ভালো খেলেন। মৌসুমের প্রথম খেলায় অত্যন্ত দূর্বলতম দল হিসেবে বিবেচিত বর্ডারের বিপক্ষে ১৫৬ রান তুলেন। এ সংগ্রহটি প্রতিপক্ষের দুই ইনিংসের চেয়েও বেশি ছিল।[১৫] মৌসুমের শেষদিকে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের বিপক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় সেঞ্চুরি হাঁকান।[১৬]

১৯২১-২২ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ও ১৯২২-২৩ মৌসুমে ইংল্যান্ড দল দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করে। ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের সদস্যরূপে উভয় দলের বিপক্ষে খেলেন তিনি। কিন্তু, টেস্ট দলে তাকা রাখা হয়নি। ১৯২৩-২৪ মৌসুমে ৪০ বছর বয়সে নিজস্ব সেরা ঘরোয়া মৌসুম অতিবাহিত করেন। এ পর্যায়ে নাটাল ও গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের বিপক্ষে অপরাজিত সেঞ্চুরি করেন। ফলশ্রুতিতে, ১৯২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমনের সুযোগ লাভ করেন। মৌসুমের শেষদিকে দুইটি প্রস্তুতিমূলক খেলার একটিতে অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। তার দল নেভিল লিন্ডসের দলের কাছে পরাজিত হলেও কোমেইলকে সফরে নেয়া হয়।[১৭]

ইংল্যান্ড গমন[সম্পাদনা]

১৯২৪ সালে ইংল্যান্ড সফরে মিক কোমেইল শুধুমাত্র খেলোয়াড়ই ছিলেন না; বরঞ্চ অধিনায়কের দায়িত্ব পালনকারী হার্বি টেলরের সহকারীরও দায়িত্বে ছিলেন। হার্বি টেলর সফরের প্রত্যেকটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। স্কটল্যান্ড, ডারহাম ও নর্থ ওয়েলস থেকে আগত একটি দলের বিপক্ষে তিনটি প্রথম-শ্রেণীবিহীন খেলায় কোমেইল অধিনায়কত্ব করেছিলেন। তবে তিনি নিয়মিতভাবে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে ২৫.৪০ গড়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১১১৮ রান তুলেন। সর্বোচ্চ করেন ৮৫। উইজডেনে এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করে যে, তিনি বেশ কার্যকরী ব্যাটসম্যান ও ধারাবাহিকভাবে রান সংগ্রহ করলেও সাধারণমানের চেয়ে অধিক নন।[১৮]

পাঁচ টেস্ট নিয়ে গড়া সবগুলো টেস্টে অংশ নেন তিনি। প্রথম টেস্টটি গত ১৪ বছরের মধ্যে তার প্রথম ছিল। এজবাস্টন টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা দল প্রথম ইনিংসে বেশ শোচনীয়ভাবে ৩০ রানে গুটিয়ে যায়। এ. ই. আর. জিলিগানএম. ডব্লিউ. টেটের বোলিং তোপে পড়ে ও তারা অপরিবর্তিত অবস্থায় বোলিং করেছিলেন। তিনি ৫ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে অপরাজিত ছিলেন। তবে রান পেয়েছিলেন মাত্র এক। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি তার স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে যান। ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে দলের ১০১ রানের জুটিতে ২৯ রান তুলে বিদেয় নেন। সবমিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকানরা ৩৯০ রান করলেও ইনিংস ব্যবধানে পরাভূত হয়।[১৯]

দ্বিতীয় টেস্টেও একই ধরনের ফলাফল রচিত হয়। তবে পূর্বের টেস্টের তুলনায় দক্ষিণ আফ্রিকানদের ব্যাটিং তুলনামূলকভাবে ভালো হয়েছিল। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৭ করেন। এটিই সমগ্র সিরিজে তার সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল।[২০] তৃতীয় টেস্টেও একই ধারা বহমান রাখেন। প্রথম ইনিংসে চার ও দ্বিতীয়টিতে ৩১ তুলেন।[২১] সিরিজের শেষ দুই টেস্টে বৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তবে, উভয় টেস্টের একমাত্র ইনিংসেও সফলতা পাননি। পাঁচ টেস্টের সবগুলো প্রথম ইনিংসে দুই অঙ্কের কোটা স্পশ করতে পারেননি। সবমিলিয়ে ১৬.১৪ গড়ে ১১৩ রান তুলেন।[২২]

১৯২৪-২৫ মৌসুমে দল পরিবর্তন করে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের দিকে ধাবিত হন। দুই বছর সেখানে অবস্থান করেন। তন্মধ্যে, ১৯২৬-২৭ শেষ মৌসুমে দীর্ঘদিনের খেলোয়াড়ী জীবনে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের সন্ধান পান। নাটালের বিপক্ষে ১৮৬ রান তুলেন। এ পর্যায়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে শান্টার কোয়েনের সাথে ৩০৫ রান তুলেন। এস. কে. কোয়েন করেন ১৬৫ রান। অদ্যাবধি ফ্রি স্টেটের প্রথম-শ্রেণীর রেকর্ড হিসেবে এটি চিত্রিত হয়ে আছে।[২৩] পরের খেলায়ও একই জুটি ২৩৬ রান সংগ্রহ করে ইস্টার্ন প্রভিন্সের বিপক্ষে দলকে জয় এনে দেয়। এ পর্যায়ে তারা প্রথম উইকেট জুটিতে অপরাজিত অবস্থায় ছিলেন।[২৪]

ইংল্যান্ডের মুখোমুখি[সম্পাদনা]

১৯২৭-২৮ মৌসুমে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করে। তখন মিক কোমেইলের বয়স ৪৪তম জন্মদিনের মাত্র কয়েক মাস কম ছিল। সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের সদস্যরূপে ৭৭ ও ৫৪ রান তুলেছিলেন।[২৫] এরপর, নাটালের বিপক্ষে দুইদিনের অনুল্লেখযোগ্য খেলায় সেঞ্চুরি করেন ও পাঁচ টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে তাকে দলে নেয়া হয়।[২৬]

প্রথম টেস্টে ২৩ ও ৪ রান তুলেন। নিম্নমূখী রানের খেলায় ৩৫টি ব্যক্তিগত ইনিংসের মাত্র ১২জন দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।[২৭] দ্বিতীয় খেলায় প্রথম ইনিংসে ১৩ রান সংগ্রহের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৭ রান তুলেন। হার্বি টেলরের সাথে উদ্বোধনী জুটিতে ১১৫ রান তুলেন। তাদের সংগ্রহটি দক্ষিণ আফ্রিকার সংগৃহীত ২২৪ রানের অর্ধেকের চেয়েও বেশি ছিল।[২৮] প্রথম দুই টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা দল পরাজিত হয়। এর পরের খেলাগুলো থেকে তাকে বাদ দেয়া হয় ও সিরিজ ড্রয়ের কৃতিত্ব প্রদর্শন করলে তাকে আর টেস্ট ক্রিকেটে রাখা হয়নি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ ইনিংসে ১৬.৯০ গড়ে ৩৫৫ রান তুলেন। সর্বোচ্চ করেন ৪৭ রান।

এরপর আরও তিন মৌসুম মিক কোমেইল প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের সাথে সংযুক্ত ছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্ট দলে চলে যান ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। ১৯৩০-৩১ মৌসুমে একটি খেলায় অংশগ্রহণের পর অবসর গ্রহণ করেন।

ফুটবলে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায়ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন মিক কোমেইল। ফুটবল খেলার পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকান ফুটবলে প্রশাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। ১৯১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল সংস্থার সম্মানীয় সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ঐ সময়ে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে ত্রিদেশী কমনওয়েলথ সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাবনা দেয়া হলেও তা বাতিল হয়ে যায়।[২৯]

খেলোয়াড় হিসেবে তিনি আউটসাইড কিংবা ইনসাইড-রাইট অবস্থানে মাঠে নামতেন।[৩০]

২৮ জুলাই, ১৯৫৬ তারিখে ৭৩ বছর বয়সে কেপ প্রদেশের সী পয়েন্ট এলাকায় মিক কোমেইলের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Mick Commaille"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০১২ 
  2. "Scorecard: Western Province v Marylebone Cricket Club"। www.cricketarchive.com। ৫ ডিসেম্বর ১৯০৫। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুন ২০১২ 
  3. "Scorecard: Western Province v Border"। www.cricketarchive.com। ১৯ মার্চ ১৯০৯। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০১২ 
  4. "Scorecard: Western Province v Transvaal"। www.cricketarchive.com। ২৬ মার্চ ১৯০৯। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০১২ 
  5. "Scorecard: Western Province v MCC"। www.cricketarchive.com। ৪ ডিসেম্বর ১৯০৯। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০১২ 
  6. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ১ জানুয়ারি ১৯১০। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০১২ 
  7. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ২১ জানুয়ারি ১৯১০। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১২ 
  8. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯১০। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১২ 
  9. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ৭ মার্চ ১৯১০। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১২ 
  10. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ১১ মার্চ ১৯১০। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১২ 
  11. "South Africans in Australia 1910–11: First-class Batting and Fielding"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১২ 
  12. "The Hobart Visit"The Argus। Melbourne। ১ এপ্রিল ১৯১১। পৃষ্ঠা 7। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১২ 
  13. "Scorecard: Western Province v Orange Free State"। www.cricketarchive.com। ১ জানুয়ারি ১৯১৩। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১২ 
  14. "Scorecard: Western Province v MCC"। www.cricketarchive.com। ৭ মার্চ ১৯১৪। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১২ 
  15. "Scorecard: Western Province v Border"। www.cricketarchive.com। ১৮ ডিসেম্বর ১৯২০। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১২ 
  16. "Scorecard: Griqualand West v Western Province"। www.cricketarchive.com। ৭ জানুয়ারি ১৯২১। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১২ 
  17. "Scorecard: JMM Comaille's XI v NV Lindsay's XI"। www.cricketarchive.com। ৩১ ডিসেম্বর ১৯২৩। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০১২ 
  18. "South Africans in England"। Wisden Cricketers' Almanack। Part II (1925 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 3। 
  19. "Scorecard: England v South Africa"। www.cricketarchive.com। ১৪ জুন ১৯২৪। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০১২ 
  20. "Scorecard: England v South Africa"। www.cricketarchive.com। ২৮ জুন ১৯২৪। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুলাই ২০১২ 
  21. "Scorecard: England v South Africa"। www.cricketarchive.com। ১২ জুলাই ১৯২৪। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুলাই ২০১২ 
  22. "South Africans in England"। Wisden Cricketers' Almanack। Part II (1925 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 49। 
  23. "Scorecard: Orange Free State v Natal"। www.cricketarchive.com। ৩০ ডিসেম্বর ১৯২৬। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুলাই ২০১২ 
  24. "Scorecard: Eastern Province v Orange Free State"। www.cricketarchive.com। ২২ জানুয়ারি ১৯২৭। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুলাই ২০১২ 
  25. "Scorecard: Orange Free State v MCC"। www.cricketarchive.com। ২৫ নভেম্বর ১৯২৭। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুলাই ২০১২ 
  26. "Scorecard: Orange Free State v Natal"। www.cricketarchive.com। ১৬ ডিসেম্বর ১৯২৭। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুলাই ২০১২ 
  27. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ২৪ ডিসেম্বর ১৯২৭। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুলাই ২০১২ 
  28. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ৩১ ডিসেম্বর ১৯২৭। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুলাই ২০১২ 
  29. "International Football"Sydney Morning Herald। Sydney। ৩ সেপ্টেম্বর ১৯১৩। পৃষ্ঠা 14। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১২ 
  30. "Obituary"। Wisden Cricketers' Almanack (1957 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 943 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]