মাহমুদ খান (মঘুল খান)
| মাহমুদ খান | |
|---|---|
![]() মাহমুদ খান। বাবরনামা (১৫৮৯) | |
| পশ্চিম মঙ্গোলিস্তানের খান | |
| রাজত্ব | ১৪৮৭–১৫০৮ |
| পূর্বসূরি | ইউনুস খান |
| উত্তরসূরি | মনসুর খান |
| জন্ম | তারিখ চেনা যায়নি। বছরে অবশ্যই ৪টি সংখ্যা থাকতে হবে (<১০০০ বছরের জন্য শুরুতে শূন্য ব্যবহার করুন)। |
| মৃত্যু | ১৫০৮ (বয়স ৪৩–৪৪) |
| দাম্পত্য সঙ্গী | রাবিয়া সুলতান বেগম |
| প্রাসাদ | বোরজিগিন |
| পিতা | ইউনুস খান |
| মাতা | শাহ বেগম |
| ধর্ম | ইসলাম |

সুলতান মাহমুদ খান (চাগাতাই ও ফার্সি: سلطان محمود خان; জন্ম ১৪৬৪ – মৃত্যু ১৫০৮) ছিলেন তাশখন্দের খান (১৪৮৭–১৫০২ বা ১৫০৩) এবং পশ্চিম মঙ্গোলিস্তানের মুঘলদের খান (১৪৮৭–১৫০৮)। তিনি ইউনুস খানের জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন। তিনি ১৪৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা শাহ বেগম ছিলেন বাদাখশানের যুবরাজ লালির (শাহ সুলতান মুহাম্মদ বাদাখশি) কন্যা, যিনি নিজেকে মহান আলেকজান্ডারের বংশধর বলে দাবি করতেন।
পিতার মৃত্যুর পর মাহমুদ খান তাশখন্দ এবং পশ্চিম মঙ্গোলিস্তানের (বর্তমান কিরগিজস্তান) উত্তরাধিকারী হন, অন্যদিকে তার ভাই আহমদ আলাক ইতিমধ্যেই পূর্ব মঙ্গোলিস্তানের (বর্তমান শিনচিয়াং, চীন) নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলেন।
মাহমুদ খানকে সমরকন্দের সুলতান আহমেদ মির্জা এবং ফারগানার ওমর শেখ মির্জার মতো তৈমুরি শাসকদের হাত থেকে তাশখন্দ রক্ষা করতে হয়েছিল, যারা কয়েক বছর আগে শহরটি হারানোর পর তা পুনরুদ্ধার করতে চেয়েছিল। মাহমুদ খান তাশখন্দ রক্ষায় সফল হন এবং সুলতান আহমদের সাথে যুদ্ধের সময় তিনি শত্রুপক্ষের একজন যোদ্ধা—উজবেক মুহাম্মদ শায়বানিকে নিজের দলে টানতে সক্ষম হন। পুরস্কার হিসেবে ১৪৮৮ সালে মাহমুদ খান শায়বানিকে কিছু জমি দান করেন। তবে এই পদক্ষেপটি উজবেকদের শত্রু কাজাখদের ক্ষুব্ধ করে। মুঘলরা ঐতিহাসিকভাবে কাজাখদের মিত্র হলেও তারা একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং মাহমুদ খান পরাজিত হন।
মাহমুদ খান দুঘলাত আমীর মুহাম্মদ হোসেন মির্জার সাথে ঘনিষ্ঠ মিত্রতা বজায় রেখেছিলেন এবং ১৪৯০ সালে তার বোন খুব নিগার খানমকে তার সাথে বিয়ে দেন। তাদের পুত্র ছিলেন বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ শাসক মির্জা মুহাম্মদ হায়দার দুঘলাত, যিনি ১৫০০ সালে তাশখন্দে জন্মগ্রহণ করেন।
ইতিমধ্যে ১৪৯৪ সালে সুলতান আহমদ এবং ওমর শেখ উভয়ই মারা যান। মাহমুদ খান তাদের উত্তরসূরিদের কাছ থেকে সমরকন্দ দখলের চেষ্টা করেন, কিন্তু তৈমুরিরা যুদ্ধক্ষেত্রে জয়ী হয়। নিজে মাওয়ারান্নাহর দখলে ব্যর্থ হয়ে মাহমুদ খান মুহাম্মদ শায়বানিকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেন, যার ফলে উজবেকদের শক্তি ৩,০০০ থেকে বেড়ে ৫০,০০০-এ দাঁড়ায়। উজবেকরা ১৫০১ সালে সমরকন্দ দখল করলেও শীঘ্রই তারা তাদের মুঘল সমর্থকদের বিরুদ্ধে চলে যায়। মুহাম্মদ শায়বানি যখন মাহমুদ খানকে হুমকি দিচ্ছিলেন, তখন পূর্ব দিক থেকে আহমদ আলাক সাহায্যের জন্য আসেন এবং দুই ভাই উজবেকদের বিরুদ্ধে অগ্রসর হন। তবে ১৫০৩ সালে আখসির যুদ্ধে তারা পরাজিত ও বন্দি হন। মুহাম্মদ শায়বানি তাদের মুক্তি দিলেও মুঘল সৈন্যদের নিজের দলে রেখে দেন এবং তাশখন্দের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন।
পরাজয়ের কিছুকাল পরেই আহমদ আলাক মারা যান। মাহমুদ খান মঙ্গোলিস্তানের স্তেপ অঞ্চলে পাঁচ বছর অত্যন্ত কষ্টের সাথে জীবনযাপন করেন। অবশেষে তিনি মুহাম্মদ শায়বানির কাছে করুণা পাওয়ার আশায় তার শরণাপন্ন হন। কিন্তু মুহাম্মদ শায়বানি ১৫০৮ সালে খুজান্দের কাছে সির দরিয়া নদীর তীরে মাহমুদ খান এবং তার পাঁচ পুত্রকেই হত্যার নির্দেশ দেন।
পরিবার
[সম্পাদনা]সঙ্গিনী
- রাবিয়া সুলতান বেগম, সুলতান আহমেদ মির্জা ও কাতা বেগম-এর কন্যা এবং বাবা খানের মা।[১]
পুত্র
তার ছয়জন পুত্র ছিল, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
কন্যা
তার তিন কন্যা ছিল:
- জয়নব সুলতান খানম, সুলতান সাঈদ খানের স্ত্রী;[১]
- আয়েশা সুলতান খানম, মুহাম্মদ শায়বানির স্ত্রী;[১]
- কুতলুগ খানম, জনি বেগ খান উজবেকের স্ত্রী;[১]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 Begum, Gulbadan (১৯০২)। The History of Humayun (Humayun-Nama)। Royal Asiatic Society। পৃ. ২১১–২১২, ২৭২, ২৭৪, ২৯৫।
- 1 2 Mirza Muhammad Haidar (১৮৯৫)। N. Elias (সম্পাদক)। A History Of The Moghuls Of Central Asia Being The Tarikh-i-Rashidi of Mirza Muhammad Haidar, Dughlat। E. Denison Ross কর্তৃক অনূদিত। Curzon Press। পৃ. ১৬২। আইএসবিএন ৯৭৮১৬০৫২০১৫০৪।
{{বই উদ্ধৃতি}}: আইএসবিএন / তারিখের অসামঞ্জস্যতা (সাহায্য)
| পূর্বসূরী ইউনুস খান |
মঙ্গোল খান ১৪৮৭–১৫০৮ |
উত্তরসূরী মনসুর খান (পশ্চিম মঙ্গোলিস্তানে) |
