বিষয়বস্তুতে চলুন

মাসলাহাত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

মাসলাহাত বা মাসলাহা (আরবি: مصلحة, আক্ষরিক অর্থ: ‘জনস্বার্থ’) অথবা মাসলাহাত মুরসালাত (বন্ধনহীন, উন্মুক্ত, শর্তহীন জনস্বার্থ) হলো শরিয়াহর একটি ধারণা, যা আইন প্রনয়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।[] এটি ইসলামি আইনশাস্ত্রের পদ্ধতিগত নীতি সমূহের (উসুলে ফিকহ) একটি বর্ধিত অংশ। মুসলিম উম্মাহর জনস্বার্থ রক্ষা হচ্ছে কি না, তার ওপর ভিত্তি করে এটি প্রয়োজন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী কোনো কিছুকে বৈধ বা অবৈধ ঘোষণা করে।[][] নীতিগতভাবে, যেসব বিষয় কুরআন, সুন্নাহ (ইসলামের নবী মুহাম্মাদের শিক্ষা ও অনুশীলন) অথবা কিয়াস (অন্তর্মিল) দ্বারা সরাসরি নিয়ন্ত্রিত নয়, সেগুলোর জন্য বিশেষভাবে মাসলাহাতকে ব্যবহার করা হয়। আইনজ্ঞ এবং ইসলামি আইনশাস্ত্রের বিভিন্ন মাযহাব অনুসারে এই ধারণাটি বিভিন্ন মাত্রায় স্বীকৃত ও ব্যবহৃত হয়। এই ধারণার প্রয়োগ আধুনিক যুগে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ এটি সমসাময়িক আইনি সমস্যার সঙ্গে ক্রমবর্ধমানভাবে প্রাসঙ্গিকতা রাখে।[]মাসলাহার বিপরীত শব্দ হল মাফসাদা (مفسدة, ক্ষতি)।[] ইসলামী রাজনীতি নিজেই মাসলাহার উপর ভিত্তি করে তৈরি, এবং এতটাই পরিবর্তনশীল যে সময়ের প্রয়োজনীয়তার সাথে এটিকে সাড়া দিতে হয়।[][] এই পরিভাষাটি বিদআত নামক পরিভাষা থেকে ভিন্ন।[]

ব্যুৎপত্তি

[সম্পাদনা]

কুরআনে

[সম্পাদনা]

মেহমেত গোরমেজ এর মতে, ইস্তাম্বুলআন্তর্জাতিক মুসলিম পণ্ডিতদের ইউনিয়ন কর্তৃক আয়োজিত ৫ম সাধারণ পরিষদের এক ভাষণে, কুরআনে আল-বাকারাহ এর ১১ নম্বর আয়াতে এবং ১১:১১৭ এবং ২:২০৫ নম্বর আয়াতে মাসলাহা এবং মাফসাদা উভয় শব্দের ক্রিয়া মূলের উল্লেখ ভিন্নভাবে করা হয়েছে, যেখানে সকলেই মাসলাহা এবং মাফসাদার সমান অর্থের দিকে নির্দেশ করে।[]

আর যখন তাদেরকে বলা হয়, পৃথিবীতে বিপর্যয় (تُفۡسِدُوۡا, তুফসিদু) সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো সংস্কারক (مُصۡلِحُوۡنَ, মুছলিহুন)।

কুরআন ২:১১

আর যখন সে চলে যায়, তখন সে পৃথিবীতে বিপর্যয় (لِیُفۡسِدَ, ইউফসিদু) সৃষ্টি করার চেষ্টা করে এবং ফসল ও পশুপাখি ধ্বংস করে। আর আল্লাহ বিপর্যয় পছন্দ করেন না (ٜلۡفَسَادَ, আল-ফাসাদ)।

কুরআন ২:২০৫

আর তোমার প্রতিপালক এমন নন যে, জনপদগুলো অন্যায়ভাবে ধ্বংস করতেন, যখন সেখানকার লোকেরা সংস্কারবাদী ছিল (مُصْلِحُونَ, মুসলিহুন)।

কোরআন ১১:১১৭

হাদীসে

[সম্পাদনা]

মাসলাহা ও মাফসাদার ক্ষেত্রেও একটি হাদিস উল্লেখ করা হয় যেখানে ইসলামের নবী মুহাম্মদ ক্ষতি না করার এবং ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ার বিষয়ে বলেছেন।[]

আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা ক্ষতি করো না এবং ক্ষতিগ্রস্থও হয়ো না। যে অন্যের ক্ষতি করবে, আল্লাহ তার ক্ষতি করবেন। যে অন্যের সাথে কঠোর হবে, আল্লাহ তার সাথে কঠোর হবেন।”

সূত্র: আল-সুনান আল-কুবরা লিল-বায়হাকী ১১৩৮৪, শ্রেণী: আল-আলবানীর মতে হাসান (উত্তম)

আরেকটি হাদিস, যা মাসলাহা এবং মাফসাদার মধ্যে সমন্বয় নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়, তা হল[]:

নবী (সাঃ) বলেছেন, "আমাকে ছেড়ে দাও যেমন আমি তোমাকে ছেড়ে থাকি, কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের প্রশ্ন এবং তাদের নবীদের উপর মতবিরোধের কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। সুতরাং, যদি আমি তোমাদের কোন কিছু করতে নিষেধ করি, তাহলে তা থেকে দূরে থাকো। আর যদি আমি তোমাদের কোন কিছু করতে আদেশ করি, তাহলে যতটা সম্ভব তা করো।"

(বুখারী:৭২৮৮)

মুহাম্মদ(সা:) নিষেধ অমান্য করতে নিষেধ করেছেন, যদি না একেবারে প্রয়োজন হয়, তবে তিনি সামর্থ্যের উপর নির্ভর করে আদেশ পালনের শর্ত আরোপ করেছেন। এটি দেখায় যে যখন বাধ্যবাধকতাগুলির মধ্যে সাংঘর্ষিকতা দেখা দেয়, তখন নিষেধাজ্ঞাগুলি এড়িয়ে চলা তাদের পালনের চেয়ে অগ্রাধিকার পায়। যখন একটি উল্লেখযোগ্য ক্ষতি লাভের চেয়ে বেশি হয়, তখন এই প্রবাদটি প্রযোজ্য। তবে, কোনও কার্যকলাপের ফলে যে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাওয়া যায় তার তুলনায় ক্ষতি যদি তুচ্ছ হয় তবে সুবিধা খোঁজাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

এই ধারণাটি সর্বপ্রথম স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেন আল-গাজ্জালি (মৃত্যু ১১১১ খ্রিস্টাব্দ)। তিনি মত প্রকাশ করেন যে, মাসলাহাত হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে ঐশী বিধান প্রণয়নের সার্বিক উদ্দেশ্য, আর এর বিশেষ লক্ষ্য হলো মানবকল্যাণের পাঁচটি মৌলিক উপাদান সংরক্ষণ করা: ধর্ম, জীবন, বুদ্ধি, বংশধারা ও সম্পদ।[১০] গাজ্জালী তার আল-মুস্তাসফা বইতে বলেছেন যে,

"ইসলামী শরীয়তের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বা মাকাসিদ কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা থেকে জানা যায়, যা পাঁচটি অপরিহার্য বিষয়কে রক্ষা করে তাকে মাসলাহা এবং কল্যাণ বলে মনে করা হয়, এবং যা পাঁচটি অপরিহার্য বিষয়ের ক্ষতি করে তাকে মাফসাদা বা অকল্যাণ বলে মনে করা হয়। যখন দুটি অকল্যাণ বা ক্ষতি একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, এমনভাবে যে তাদের মধ্যে একটির মোকাবেলা করতে হবে, তখন শরীয়াহ প্রণেতার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য হল বৃহত্তর ক্ষতি প্রতিরোধ করা।"[১১][১২]

প্রাচীন যুগের অধিকাংশ আইনজ্ঞ (ফকিহ) 'মাসলাহাত'-কে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি নীতি হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও, ইসলামি আইনে এর ভূমিকা কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে মতভেদ ছিল।[১৩][১৪] কিছু আইনজ্ঞ একে সহায়ক যুক্তি হিসেবে দেখতেন, যা ধর্মগ্রন্থের মূল উৎস এবং তুলনামূলক যুক্তির দ্বারা সীমাবদ্ধ।[১৩][১৫] আইনজ্ঞদের মধ্যে দ্বিতীয় এই মতটি পোষণ করতেন স্বল্প সংখ্যক আলেম। কিন্তু আধুনিক যুগে এই মতবাদটি বিভিন্ন রূপে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।[১৩][১৬] এর কারণ, প্রখ্যাত পণ্ডিতগণ ঐতিহ্যবাহী আইনশাস্ত্রের বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকারকে ব্যবহার করে পরিবর্তিত সামাজিক পরিস্থিতির সাথে ইসলামি আইনকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার চেষ্টা করেন।[১৩][১৭][১৮] এরই সাথে, এর সমার্থক মাকাসিদ ধারণাটিও আধুনিক যুগে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর প্রধান কারণ হলো, বর্তমানে এমন সব নতুন আইনি সমস্যার উদ্ভব হয়েছে, যা অতীতের ফিকহশাস্ত্রীয় আলোচনায় ছিল না।[][১৩][১৮][১৪]

উসুলে ফিকহ-এর মধ্যে আরও বেশ কিছু সমতুল্য বা সাদৃশ্যপূর্ণ ধারণা রয়েছে, যার মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট মাযহাবের সাথে সম্পর্কিত। মাকাসিদ (লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য) ধারণাটি এমন অর্থে তুলনীয় যা শরিয়াহ প্রয়োগের চূড়ান্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উভয়কেই নির্দেশ করে। ইসতিসলাহ ধারণাটি একটি সম্পর্কিত বিষয়, যা ইমাম আহমদ বিন হাম্বল প্রয়োগ করেছেন।[] মাসলাহাত অর্থ জনস্বার্থ, এবং ইসতিসলাহ অর্থ সর্বজনীন কল্যাণ অন্বেষণ করা, যা শরিয়াহর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য।[১৯] ইসতিহসান ধারণার অর্থ হলো আইনগত সমস্যার সমাধান নির্ধারণে ন্যায়সঙ্গত অগ্রাধিকার প্রদান। হানাফী মাযহাবে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এই ধারণা অনুযায়ী, যখন কিয়াসের ফলাফল ক্ষতিকর বা অবাঞ্ছনীয় বলে বিবেচিত হয়, তখন তা বাতিল করা যায়। হাম্বলী পণ্ডিত ইবনে কুদামাহ এবং মালিকী আইনজ্ঞ ইবনে রুশদও এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন। শাফিঈ মাযহাব মাসলাহাত প্রয়োগকে স্বীকৃতি দেয় না, কারণ এর মাধ্যমে ভ্রান্তপ্রবণ মানব মতের উপর ভিত্তি করে সীমাহীন ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে তাদের একটি সমতুল্য ধারণা রয়েছে ইসতিদলাল, যা প্রয়োজন অনুসারে কিয়াসের কঠোর প্রয়োগ এড়াতে ব্যবহৃত হয়।[]

ব্যবহার

[সম্পাদনা]

আন্দালুসীয় আইনজ্ঞ আশ-শাতিবি (মৃত্যু ১৩৮৮) ইসলামি আইনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে 'মাসলাহাত' শব্দটি ব্যবহার করেন। আল্লাহ সংক্রান্ত বিষয় ও ইবাদাত সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর মানুষকে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে অনুসন্ধান করতে হবে; আর মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক বা মু‘আমালাত সংক্রান্ত ক্ষেত্রে, সর্বোত্তম জনকল্যাণমুখী সমাধান অনুসন্ধান করাই সমীচীন। যেহেতু সমাজ পরিবর্তিত হয়, আশ-শাতিবি মনে করতেন যে ইসলামি আইনের মু'আমালাত অংশটিও পরিবর্তনের প্রয়োজন।[২০] বর্তমান শতাব্দীতে বেশ কয়েকজন মুসলিম সংস্কারকও মাসলাহাত ব্যবহার করেছেন। মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাব (মৃত্যু ১৭৯২) কয়েকটি ক্ষেত্রে মাসলাহাত ব্যবহার করেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এই ধারণাটি ইসলামি আধুনিকতাবাদীদের নিকট অধিক পরিচিত। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে, মুহাম্মদ আবদুহ আধুনিক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সাথে ইসলামি আইনের ঐতিহ্যবাহী নৈতিকতার সমন্বয় ঘটাতে মাসলাহাতের ধারণা ব্যবহার করে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ইসলামি আধুনিকতাবাদী সংগঠন ইখওয়ানুল মুসলিমিন জনকল্যাণে তাদের অঙ্গীকার ব্যাখ্যা করতে মাসলাহাত ধারণা উপস্থাপন করে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ফাহাদ ইবনে সালিহ আল আজলান বলেন, শরীআতে মাসলাহাকে বিবেচনায় নেওয়ার নমুনা হলো: শারঈ হুকুম মাসলাহার তারতম্য অনুসারে বিভিন্ন রকম হয়। মুস্তাহাবের চাইতে ওয়াজিবে মাসলাহা বেশি। মাকরুহের চাইতে হারামে মাফসাদা বেশি। অনুরূপভাবে হারামের ক্ষেত্রেও ছোটো-বড়ো স্তরবিন্যাস বিদ্যমান।[২১]

আশ-শাতিবি বলেন, 'কোনো কিছু চাওয়া বা পরিত্যাগ করার ক্ষেত্রে সকল আদেশ-নিষেধের জোর এক স্তরে নয়। আদেশ-নিষেধ মানার মাসলাহা এবং না মানার মাফসাদার বিবেচনায় এতে তারতম্য বিদ্যমান।[২২]

ইয ইবনু আব্দুস সালাম বলেন, 'মাসলাহা-মাফসাদার স্তরভেদ বিদ্যমান। মাসলাহার স্তরভেদ অনুযায়ী দুনিয়াবি দৃষ্টিতে কিংবা নেকির ক্ষেত্রে মর্যাদার তারতম্য হবে। আর মাফসাদার স্তরভেদ অনুযায়ী কবীরাহ-সগীরাহ গুনাহ এবং দুনিয়া-আখিরাতের শাস্তির মাত্রা নির্ধারিত হবে। মাফসাদার প্রকারসমূহের মাঝে সবচেয়ে বড়ো যেটা, সেটার ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। আর যেটা যত কম, সেটার ক্ষতিও তত কম। বৃহৎ মাফসাদার মাত্রা কমতে কমতে এক পর্যায়ে এসে এমন মাফসাদায় এসে থামে, যেটা থেকে একটু কমলে ক্ষুদ্র মাফসাদার সর্বোচ্চ স্তরে এসে যাবে। আর এটা দ্বিতীয় স্তর। আবার ক্ষুদ্র মাফসাদা কমতে কমতে এমন পর্যায়ে এসে থামে, যেটা থেকে একটু কমলে মাকরূহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আসবে। আর এটা মাফসাদার স্তরসমূহের দ্বিতীয় প্রকার। মাকরূহের মাফসাদা কমতে কমতে এমন এক পর্যায়ে এসে থামে, যেখান থেকে একটু নামলে মুবাহে এসে যাবে।[২৩]

কারাফি বলেন, 'শরীআতের নির্দেশ 'প্রাধান্যপ্রাপ্ত মাসলাহা' অনুসন্ধান করে। আর শরীআতের নিষেধ 'প্রাধান্যপ্রাপ্ত মাফসাদা'-র খোঁজ করে। মাসলাহার সর্বনিম্ন স্তর মানলে নেকি অর্জিত হয়। তারপর মাসলাহা উত্থিত হতে হতে এক পর্যায়ে এত উচ্চ পর্যায়ে চলে যায় যে, মুস্তাহাবের সর্বোচ্চ স্তরে তার জায়গা হয়। এর উপরের স্তরটা ওয়াজিবের সবচেয়ে নিচের স্তর। আর মাফসাদার সর্বনিম্ন স্তর হলো অপছন্দনীয় বা মাকরুহের স্তর। এরপর মাফসাদা উত্থিত হতে হতে এক পর্যায়ে মাকরুহের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায় যার উপরেই রয়েছে হারামের সর্বনিম্ন স্তর।[২৪]

তুফি বলেন, 'প্রশংসা, নিন্দা, নেকি ও শাস্তির তারতম্য নেক কাজ ও পাপ কাজ কতটুকু মাসলাহা ও মাফসাদার দিকে ধাবিত করে সেটার উপর নির্ভর করবে।[২৫]

কারাফি বলেন, 'এই সকল নসের দাবি হলো- সকলে প্রাধান্যপ্রাপ্ত মাফসাদা, অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত মাসলাহা, মাসলাহা-মাফসাদা সমান এমন ক্ষেত্র এবং মাসলাহা-মাফসাদা নেই এমন ক্ষেত্র (এই চারটি) থেকে সবাই বিরত থাকবে। কারণ এই চারটি প্রকার সর্বোত্তম কিছু নয়। বরং নেতৃত্বের দাবি হলো- খাঁটি ও পূর্ণ মাসলাহা নিশ্চিত করা এবং পূর্ণ ও মৌলিক মাফসাদা প্রতিহত করা।[২৬]

কুরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে সমাধান পাওয়া যায় না বা মাসলাহাতের এমন ইসলামী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যও ইস্তিখারা নির্ধারিত।[২৭] আব্দুল্লাহ আল-গুদাইয়্যান বলেন, কোন আবশ্যকীয় বা অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজে মাসলাহা মাফসাদা বা কল্যাণ অকল্যাণ স্পষ্ট না হলে সেক্ষেত্রে ইস্তিখারা করা উচিৎ।[২৮] তাহির ইবনে হুসাইন তার ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে তাহির কে দিয়ার রাবি'আ এর গভর্নর হওয়ার পর পরামর্শ দিয়েছিলেন:

যখনই তোমার উপর কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আসে, তখন আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করে এবং তাঁকে ভয় করে সাহায্য প্রার্থনা করো... এবং তোমার সকল বিষয়ে প্রচুর পরিমাণে ইস্তিখারা করো।[২৯][৩০]

উদাহরণ

[সম্পাদনা]

প্রাথমিক

[সম্পাদনা]

রশিদুন খলিফা

[সম্পাদনা]
আবু বকর
  • কুরআনকে এক খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
  • যারা যাকাত দিতে অস্বীকার করেছিলেন তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন এবং উমর ইবনে আল-খাত্তাবকে তার উত্তরসূরি নিযুক্ত করেছিলেন।[৩১]
উমর ইবনুল খাত্তাব
  • ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য কর্মকর্তাদের দায়ী করেছিলেন।
  • দুধে পানি মেশানোকে শাস্তির অন্তর্ভূক্ত করেছিলেন
  • দুর্ভিক্ষের সময় চুরির জন্য হাদ্দ স্থগিত করা
  • কুরআনের স্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও হত্যার জন্য দলগুলিকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে সাহাবীদের মতামতকে অনুমোদন করা।[৩১]
উসমান ইবনে আফফান
  • বিশুদ্ধ কুরআন বিতরণ করেছিলেন এবং অন্যান্য সমস্ত সংস্করণ ধ্বংস করেছিলেন
  • এমন মহিলার উত্তরাধিকার লাভের অনুমতি ঘোষণা করেছিলেন যার স্বামী তাকে তালাক দিয়েছিল যাতে তাকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায়।[৩১]
আলী ইবনে আবি তালিব
  • তাদের কাছে সংরক্ষিত পণ্যের ক্ষতির জন্য কারিগর এবং ব্যবসায়ীদের দায়ী করেছিলেন।[৩১]

পরবর্তী শাসক ও আইনজ্ঞ

[সম্পাদনা]

আইনশাস্ত্র

[সম্পাদনা]

পণ্ডিতরা মানুষকে রক্ষা করার জন্য অজ্ঞ ডাক্তার, মুফতি এবং প্রতারকদের উপর নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করেন এবং মালিকিরা তাজিরের অধীনে গ্রেপ্তার এবং শাস্তি অনুমোদন করেন, এমনকি প্রমাণ ছাড়াই।[৩১]

মালিকি মতবাদে মাসলাহার কিছু উদাহরণ:

  • ইমামের পদ মফদুল (নিকৃষ্ট) এর প্রতি আনুগত্যের শপথ দ্বারা বৈধ হয়, যা বিশৃঙ্খলা রোধ করে।
  • যদি সরকারি কোষাগারের তহবিল ফুরিয়ে যায়, তাহলে দুর্নীতি রোধে ইমাম ধনীদের উপর অতিরিক্ত কর আরোপ করতে পারেন।
  • যদি বৈধ জীবনযাপন প্রবেশাধিকারযোগ্য না হয়, তাহলে মুসলমানরা অবৈধ পেশায় জড়িত হতে পারে, তবে কেবল প্রয়োজনীয় পরিমাণে।[৩১]

আরও রয়েছে:

  • ওয়ালীর অমতে বিয়ের পর ওয়ালী রাজি না হলে স্বামী চিরতরে হারাম হওয়া।[৩৪]

সমসাময়িক

[সম্পাদনা]
  • সহীহ হাদিস বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও, কালাউন কর্তৃক নির্মিত সবুজ গম্বুজ সাময়িকভাবে না ভাঙা, যাতে মুসলমানদের মধ্যে ফিতনা এবং বিশৃঙ্খলা রোধ করা যায়।[৩৫]
  • বিয়ের আগে যৌনরোগের ডাক্তারি পরীক্ষা করা।[৩৬]
  • হজ ও ওমরা পালনকারীদের জন্য টিকা বাধ্যতামূলককরণ।[৩৭]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 5 6 I. Doi, আব্দুল রহমান. (1995). "Mașlahah". John L. Esposito-এর মধ্যে. The Oxford Encyclopedia of the Modern Islamic World. অক্সফোর্ড: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস.
  2. আব্দুল আজিজ বিন সত্তাম (২০১৫)। শরিয়াহ এবং মসলাহা ধারণা: ইসলামি আইনশাস্ত্রে মসলাহার ব্যবহার ও কার্যকারিতা। লন্ডন: I.B. Tauris। আইএসবিএন ৯৭৮১৭৮৪৫৩০২৪২
  3. Siddiqui, Sohaira (৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮)। Locating the Sharīʿa: Legal Fluidity in Theory, History and Practice (ইংরেজি ভাষায়)। BRILL। পৃ. ১৪৩। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-০৪-৩৯১৭১-০। সংগ্রহের তারিখ ১৫ আগস্ট ২০২৫
  4. Solomon, Hussein; Tausch, Arno (২২ আগস্ট ২০১৯)। Islamism, Crisis and Democratization: Implications of the World Values Survey for the Muslim World (ইংরেজি ভাষায়)। Springer Nature। পৃ. ১৭০। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-০৩০-২২৮৪৯-১। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৫
  5. Malekian, Farhad (৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮)। Corpus Juris of Islamic International Criminal Justice (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge Scholars Publishing। পৃ. ১৪৩। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫২৭৫-১৬৯৩-৯। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৫
  6. "Bid'ah (innovation) and maslahah mursalah (consideration of public interest); and the similarities and differences between them - Islam Question & Answer"Islam-QA (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  7. Gormez, Mehmet (২০ জুন ২০২৫)। "বিশ্বায়নের যুগে মাসলাহাত প্রতিষ্ঠায় মুসলিম স্কলারদের ভূমিকা - রোয়াক" [The role of Muslim scholars in establishing Maslahat in the era of globalization - Rowak]। royakbd.com। সংগ্রহের তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৫
  8. Khaleefah, Sarah (৬ ডিসেম্বর ২০২২)। "Justice and Autonomy in Islamic Bioethics"Acta Cogitata: An Undergraduate Journal in Philosophy১০ (1)। Michigan State University। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৫In a hadith, the Prophet Muhammed (PBUH) states that "there is no harm or harming in Islam"...Through the commitment to foster justice through their negative and positive obligations, Muslims' sphere of autonomous self-determination is limited in order for individuals to consider the interest of the public, known as maslaha mursala, when making decisions.
  9. 1 2 Djafer, Abdelkader (২০ অক্টোবর ২০২৫)। "Rulings on Harm and Its Rules in Islamic Fiqh"El-Wahat Journal for Research and Studies (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ (1): ৩৫। ডিওআই:10.54246/3g20ze22আইএসএসএন 2588-1892। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০২৫
  10. Opwis 2007, পৃ. 65।
  11. আলমুস্তাসফা, ইমাম আল-গাযালী, পৃঃ ২৫৮
  12. Elahi, Mohammad Manzoor; Zakaria, Abubakar Muhammad (২০১২)। "ইসলামী শারীয়াহ্ এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য : বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব" [The Purpose and Objectives of Islamic Sharia: Its Importance in the Current Context]islamcontent.com। সংগ্রহের তারিখ ১৬ আগস্ট ২০২৫
  13. 1 2 3 4 5 Duderija 2014, পৃ. 2–6।
  14. 1 2 Gleave 2012
  15. Opwis 2007, পৃ. 66–68।
  16. Opwis 2007, পৃ. 68–69।
  17. Ziadeh 2009
  18. 1 2 Brown 2009
  19. জন এল. এসপোসিটো (২০০৩)। দ্য অক্সফোর্ড ডিকশনারি অব ইসলাম। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। আইএসবিএন ৯৭৮০১৯৯৭৫৭২৬৮
  20. Vikør, Knut S. (২০০৫)। Between God and the Sultan: A History of Islamic Law। Oxford University Press। আইএসবিএন ৯৭৮০১৯৫২২৩৯৮৯
  21. আল মুহাররির ফী সিয়াসাতুশ শারিয়াহ, ২৫৫
  22. আল-মুওয়াফাকাত (৩:৫৩৬)।
  23. (আল-কাওয়ায়িদুল কুবরা (১:৭৮)। আরো দেখুন: আল-কাওয়ায়িদুল কুবরা (১:৭৭), (১:৪)-৪২)।
  24. আল-ফুরুক (২:১৮)। তানকীহুল ফুসূল (৪৫১)।
  25. মুখতাসারুত তিরমিযি (২:৩৮৮)। একই অর্থে দেখুন: মুখতাসারুত তিরমিযি (১:১০৭), (২:৯৫)। মাসলাহার তারতম্যে হুকুমের তারতম্য জানতে দেখুন, মুহাম্মাদ আমীন সুহাইলির 'কায়িদাতু দারইল মাফাসিদ আউলা মিন-জালবিল মাসালিহ' (৯৫-৯৬)।
  26. আল-ফুরুক (৪:৩৯)। আরো জানতে দেখুন: আল-ফুরুক (২:১৬২), আয়-যাগীরাহ (৬:২২৩)। মালিকিদের অনেকে কারাফির বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। দেখুন: আত-তাজ ওয়াল-ইকলীল (৬:৪০১), শারহু মাইয়্যারা আলা-তুহফাতিল আহকাম (২:৪০), আল-মি'ইয়ারুল মু'রিব (৭:১৯-২০)
  27. "حكم الاستخارة في مسائل شرعية لا يُدرَى وجه الصواب فيها"www.islamweb.net (আরবি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২৫
  28. "بعد صلاة الاستخارة والسعي في الأمر إذا وجدت بعض العقبات هل يتوقف الإنسان ويعدل عن الأمر أم يستمر حتى تنفك هذه العقبات؟"فضيلة الشيخ عبدالله بن عبدالرحمن بن غديان رحمه الله (আরবি ভাষায়)। ৭ মে ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০২৬أما إذا لم تتميز له المصلحة ولم تتميز له المفسدة فتشرع له صلاة الاستخارة، وهو عندما ينتهي من صلاة الاستخارة وينتهي من الدعاء ينظر إلى ما يسبق إلى قلبه، فإن حصل في قلبه انشراحٌ لهذا الأمر أقدم عليه، وإن أحس أن فيه انقباضاً فإنه يحجم عنه؛ هذا باعتبار ما يقع بعد الانتهاء من دعاء الاستخارة. (যদি তার কাছে উপকার-ক্ষতি স্পষ্ট না হয়, তাহলে তার জন্য ইস্তিখারার নামায জরুরি করা হয়। যখন সে ইস্তিখারার নামায শেষ করে এবং দুআ শেষ করে, তখন সে তার হৃদয়ে কী আসে তা দেখে। যদি সে এই বিষয়ে তার হৃদয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, তাহলে সে তা নিয়ে এগিয়ে যায়। যদি সে এতে সংকোচনের অনুভূতি অনুভব করে, তাহলে সে তা থেকে বিরত থাকে। এটি ইস্তিখারার নামায শেষ করার পরে কী ঘটে তা বিবেচনা করে।)
  29. Ansa, Muhammad (১ জানুয়ারি ২০১৪)। Istikhara - In The Light Of The Sunnah (ইংরেজি ভাষায়)। Turath Publishing। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৯০৬৯৪৯-২৭-৩। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০২৫
  30. "كتاب : تاريخ الرسل والملوك 29"www.islamicbook.ws। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০২৫
  31. 1 2 3 4 5 6 Kamali, Mohammad Hashim (২০০৩)। Principles of Islamic Jurisprudence (ইংরেজি ভাষায়)। Islamic Texts Society। পৃ. ২৩৫–২৩৭। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৯৪৬৬২১-৮২-৮। সংগ্রহের তারিখ ১৫ আগস্ট ২০২৫
  32. The Great Medieval Civilizations: 1963 (ইংরেজি ভাষায়)। Allen and Unwin for the International Commission for a History of the Scientific and Cultural Development of Mankind। ১৯৭৫। পৃ. ৩৯০। আইএসবিএন ৯৭৮-০-০৪-৯০০২২৫-৮। সংগ্রহের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০২৫
  33. al-Ouda, Salman (১৩ জুলাই ২০১৬)। "For Allah's Sake, Don't Do It"About Islam। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  34. العجلان, فهد صالح (১ জুন ২০২২)। المحرر في السياسة الشرعية (আরবি ভাষায়)। آفاق المعرفة للنشر। পৃ. ৩৬১–৩৬৪। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০২৫
  35. "History of the Green Dome in Madinah - Islam Question & Answer"Islam-QA (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ আগস্ট ২০২৫
  36. العجلان, فهد صالح (১ জুন ২০২২)। المحرر في السياسة الشرعية (আরবি ভাষায়)। آفاق المعرفة للنشر। পৃ. ৩৬৫–৩৬৭। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০২৫
  37. https://jurnal.istaz.ac.id/index.php/fikroh/article/download/1647/472/4609

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]
  • ব্রাউন, জোনাথন এ. সি. (২০০৯)। "মাসলাহাত"। জন এল. এসপোসিটো (সম্পাদক)। দ্য অক্সফোর্ড এনসাইক্লোপিডিয়া অব দ্য ইসলামিক ওয়ার্ল্ড। অক্সফোর্ড: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। ১১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  • দুদারিজা, আদিস (২০১৪)। আদিস দুদারিজা (সম্পাদক)। সমকালীন মুসলিম সংস্কারবাদী চিন্তা ও ইসলামি আইনে মাকাসিদ ও মাসলাহাত পদ্ধতির প্রয়োগ: একটি ভূমিকা। খণ্ড মাকাসিদ আল-শারিয়াহ অ্যান্ড কন্টেম্পোরারি রিফর্মিস্ট মুসলিম থট: অ্যান এগজামিনেশন। স্প্রিঙ্গার।
  • গ্লিভ, আর. এম. (২০১২)। "মাকাসিদ আল-শরিয়াহ"। পি. বেয়ারম্যান; টি. বিয়ানকিস; সি. ই. বসওয়ার্থ; ই. ভ্যান ডনজেল; ডব্লিউ. পি. হেইনরিখস (সম্পাদকগণ)। এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম (২য় সংস্করণ)। ব্রিল। ডিওআই:10.1163/1573-3912_islam_SIM_8809
  • ওপভিস, ফেলিসিটাস (২০০৭)। আব্বাস আমানাত; ফ্রাঙ্ক গ্রিফেল (সম্পাদকগণ)। ইসলামি আইন ও আইনি পরিবর্তন: প্রথাগত ও সমকালীন আইনি তত্ত্বে মাসলাহাত ধারণা। খণ্ড শরিয়াহ: ইসলামিক ল’ ইন দ্য কন্টেম্পোরারি কনটেক্সট। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস।
  • জিয়াদেহ, ফারহাত জে. (২০০৯)। "উসুল আল ফিকহ"। জন এল. এসপোসিটো (সম্পাদক)। দ্য অক্সফোর্ড এনসাইক্লোপিডিয়া অব দ্য ইসলামিক ওয়ার্ল্ড। অক্সফোর্ড: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। ডিওআই:10.1093/acref/9780195305135.001.0001আইএসবিএন ৯৭৮০১৯৫৩০৫১৩৫
  • আল-মাসালিহ আল-মুরসালাত, ড. মুহাম্মদ আব্দুল করিম হাসান, দার আন-নাহদা আল-ইসলামিয়া, বৈরুত, প্রথম সংস্করণ, ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ।
  • ইরশাদ আল-ফুহূল ইলা তাহকিক আল-হক ফি ইলম আল-উসুল, মুহাম্মদ আশ-শাওকানি রচিত, তাহকিক: ড. শাবান মুহাম্মদ ইসমাইল, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৬৪ ও পরবর্তী, দারুল কুতুব, প্রথম সংস্করণ, ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ।
  • তাকরিব আল-উসুল ইলা ইলম আল-উসুল, ইবনে জুযাই আল-গরনাতি রচিত, তাহকিক: ড. মুহাম্মদ আল-মুখতার আশ-শানকিতি, পৃষ্ঠা ৪০৫ ও পরবর্তী, মাকতাবাত ইবনে তাইমিয়া, প্রথম সংস্করণ, ১৪১৪ হিজরি।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]