মালিকাত আগা
| মালিকাত আগা | |
|---|---|
| তৈমুরি সাম্রাজ্যের রাজমহিষী | |
| মৃত্যু | ১৪৪৭ সালের আগে |
| সমাধি | |
| স্বামীগণ | প্রথম উমর শেখ মির্জা শাহরুখ |
| বংশধর | পীর মুহাম্মদ ইসকান্দার বায়কারা আহমদ সয়ুরঘাতমিশ |
| রাজবংশ | বোরজিগিন (জন্মসূত্রে) তৈমুরি রাজবংশ (বিবাহসূত্রে) |
| পিতা | খিজর উঘলান |
| ধর্ম | ইসলাম |
মালিকাত আগা ছিলেন একজন মঙ্গোল রাজকুমারী এবং তৈমুরি সাম্রাজ্যের শাসক শাহরুখের অন্যতম স্ত্রী।
জীবন
[সম্পাদনা]মালিকা আগা চাগতাই রাজপরিবারের একটি ছোট শাখার সদস্য ছিলেন। তার পিতা খিজর উঘলান ছিলেন খান বারাকের বংশধর এবং উজকান্দ কেন্দ্রিক একটি অঞ্চলের শাসনকর্তা। অনেক মঙ্গোল রাজকুমারীর মতো তাকেও তৈমুরিদের শাসনের বৈধতা দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে তৈমুরি রাজবংশে বিবাহ দেওয়া হয়েছিল। তার প্রথম স্বামী ছিলেন প্রথম উমর শেখ মির্জা, যিনি ছিলেন তৈমুর লংয়ের জ্যেষ্ঠ পুত্র।[১][২] এই বিবাহের মাধ্যমে মালিকার চার পুত্র ছিল: পীর মুহাম্মদ, ইসকান্দার, বায়কারা এবং আহমদ। ১৩৯৪ সালে উমর শেখের মৃত্যুর পর তার ছোট ভাই শাহরুখের সাথে মালিকার পুনরায় বিবাহ হয় এবং এই সংসারে তার আরও একজন পুত্র জন্মায়, যার নাম সয়ুরঘাতমিশ।[৩][৪]
উচ্চবংশীয় হওয়া সত্ত্বেও শাহরুখের সিংহাসনে আরোহণের পর মালিকা কেবল একজন কনিষ্ঠ স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা পেয়েছিলেন। প্রধান স্ত্রীর মর্যাদা পেয়েছিলেন রাজকীয় বংশের বাইরের নারী গওহর শাদ, যিনি ছিলেন তৈমুরের একজন ঘনিষ্ঠ অনুসারীর কন্যা।[৫] ফলস্বরূপ, এটি স্পষ্ট নয় যে মালিকার এই প্রভাবশালী বৈবাহিক সম্পর্ক তার প্রথম পক্ষের সন্তানদের জন্য খুব একটা সুবিধা বয়ে এনেছিল কি না।[৩] প্রকৃতপক্ষে, তার জ্যেষ্ঠ পুত্রদের কারণেই হয়তো মালিকার পদমর্যাদা নিচে ছিল, কারণ তাদের মধ্যে বেশিরভাগই শাহরুখের রাজত্বের প্রথম বছরগুলোতে বিদ্রোহ করেছিলেন। এই নিম্নতর অবস্থানের প্রভাব সয়ুরঘাতমিশের ওপরও পড়েছিল; গওহর শাদের পুত্রদের তুলনায় তিনি তার পিতার কাছ থেকে নিম্ন সামরিক পদ পেয়েছিলেন এবং অপেক্ষাকৃত বিচ্ছিন্ন অঞ্চল কাবুলের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।[৪]
তৈমুরি রাজপরিবারের অনেক নারীর মতো মালিকাও বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা যেমন সুফি খানকাহসমূহের নির্মাণে পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন।[৬] চিকিৎসাবিদ্যা শেখানোর জন্য হেরাতের প্রথমদিকের মাদ্রাসাসমূহের একটি তার পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[৭] এর পাশাপাশি বালখেও তিনি একই ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন যা সরাইখানা হিসেবেও ব্যবহৃত হতো।[৮]
পরবর্তীতে এই শেষোক্ত স্থাপনাতেই তাকে দাফন করা হয়। তিনি তার দ্বিতীয় স্বামীর আগে, কিন্তু কয়েকজন সন্তানের মৃত্যুর পরে, মৃত্যুবরণ করেন।[৪][৯]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Woods (1990), পৃ. 20।
- ↑ Jackson (2023), পৃ. 357-58।
- 1 2 Manz (2007), পৃ. 29।
- 1 2 3 Nashat ও Beck (2003), পৃ. 128।
- ↑ Nashat ও Beck (2003), পৃ. 125, 128।
- ↑ Arbabzadah (2017), পৃ. 66।
- ↑ Bosworth ও Asimov (2002), পৃ. 41–42।
- ↑ Rizvi (2011), পৃ. 226।
- ↑ Glassen (1989)।
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- Arbabzadah, Nushin (২০১৭), Nile Green (সম্পাদক), "Women and Religious Patronage in the Timurid Empire", Afghanistan's Islam: From Conversion to the Taliban, Oakland: University of California Press: ৫৬–৭০, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২০-২৯৪১৩-৪, জেস্টোর 10.1525/j.ctt1kc6k3q.8
- Bosworth, Clifford Edmund; Asimov, M.S. (২০০২), History of Civilizations of Central Asia, খণ্ড IV, Part Two, Delhi: Motilal Banarsidass Publ., আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৮-১৫৯৬-৪
- Glassen, E (১৫ ডিসেম্বর ১৯৮৯), "BĀYQARĀ B. ʿOMAR ŠAYḴ", Encyclopaedia Iranica, Encyclopaedia Iranica Foundation, সংগ্রহের তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০১৯
- Jackson, Peter (২০২৩)। From Genghis Khan to Tamerlane: The Reawakening of Mongol Asia। Yale University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩০০-২৭৫০৪-৯।
- Manz, Beatrice Forbes (২০০৭), Power, Politics and Religion in Timurid Iran, Cambridge: Cambridge University Press, আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৯-৪৬২৮৪-৬
- Nashat, Guity; Beck, Lois (২০০৩), Women in Iran from the Rise of Islam to 1800, University of Illinois Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৫২-০৭১২১-৮
- Rizvi, Kishwar (২০১১)। The Safavid Dynastic Shrine: Architecture, Religion and Power in Early Modern Iran। London, New York: I.B.Tauris। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৪৮৮৫-৩৫৪-৬।
- Woods, John E. (১৯৯০), The Timurid dynasty, Indiana University, Research Institute for Inner Asian Studies