মালয়েশীয় রন্ধনশৈলী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মালয়েশিয়ার মামক স্টলে এক খাবার পাচক মুর্তাবাক তৈরী করছে।

মালয়েশীয় রন্ধনশৈলী হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয়েশিয়া রাষ্ট্রের বিভিন্ন রন্ধন ঐতিহ্য ও চর্চা যেগুলিতে দেশটির জনগোষ্ঠীর বহুজাতিক সত্তার প্রতিফলন ঘটেছে।[১] মালয়েশিয়ার জনগণকে তিনটি প্রধান জাতিগোষ্ঠীতে বিভক্ত করা যায়: মালয়, চীনা এবং ভারতীয়। অবশিষ্ট জনগোষ্ঠীদের মধ্যে আছে পূর্ব মালয়েশিয়ায় সাবা এবং সারওয়াকের আদিবাসী জনগোষ্ঠী, উপদ্বীপীয় মালয়েশিয়ার ওরং আসলি, পেরানাকান এবং ইউরেশীয় ক্রেওল সম্প্রদায়। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বৈদেশিক কর্মী এবং প্রবাসী রয়েছে।

ঐতিহাসিক স্থানান্তর, বৈদেশিক ক্ষমতার উপনিবেশ এবং নিজস্ব ভৌগোলিক অবস্থানের বিস্তৃতির কারণে বর্তমানে মালয়েশিয়ার রন্ধনশৈলী প্রধানত মালয়, চীনা, ভারতীয়, ইন্দোনেশীয় এবং বোর্নীয় নাগরিকদের রান্না নিয়ে গড়ে উঠেছে যার উপর থাই, পর্তুগিজ, ওলন্দাজ এবং ব্রিটিশ রন্ধনশৈলীর হালকা প্রভাব রয়েছে। ফলে মালয়েশীয় রন্ধনশৈলী অত্যন্ত জটিল এবং বহুমুখী।

মালয়েশিয়া উপদ্বীপ সিংগাপুরের সঙ্গে একই ইতিহাসের অংশীদার হওয়ায় দুই দেশের সীমানায় একই ধরণের খাবার খুঁজে পাওয়া যায় যেমন লাক্কা ও মুরগী ভাত। এছাড়াও নৈকট্য, ঐতিহাসিক স্থানান্তর এবং জাতিগত ঘনিষ্ঠতা ও সাংস্কৃতিক আত্মীয়তার কারণে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সাথে রান্নার সম্পর্ক রয়েছে।[২] সাতে, রেন্ডাং, সাম্বালের মত কিছু খাবার এই দুই দেশেই সাধারণ খাবার হিসেবে গণ্য হয়।

খাদ্যাভ্যাস[সম্পাদনা]

মরিচ মালয়েশীয় রান্নার জন্য অপরিহার্য। তাজা এবং শুকনো দুই ধরনের মরিচই ব্যবহার করা হয়। মরিচ বিভিন্ন আকার, আকৃতি এবং এমনকি রঙের হয়। সাধারণত দুই ধরনের মরিচ সবচেয়ে বেশি চাষ করা হয়। একটি হল পাখির চোখ মরিচ, যা আকারে ছোট হলেও অত্যন্ত ঝাঁঝালো এবং খুব ঝাল। আরেকটি হল সবুজ মরিচ যা স্বাদে অনেক ঝাল। লাল মরিচ ও সবুজ মরিচকে পাকার জন্য রাখা হয়। মরিচ গুঁড়ো করে বিভিন্ন খাবার প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

বেলাকান মালয়েশিয়ার রান্নার জন্য আরেকটি অপরিহার্য উপকরণ। এটি এক ধরনের চিংড়ি ভর্তা যা একটি ব্লক দিয়ে চেপে সূর্যতাপে শুকানো হয়। কাঁচা অবস্থায় এর গন্ধ তীব্র যা অনেকের কাছে ভয়াবহ বলে মনে হতে পারে। তবে রান্না হলে চিংড়ির ভর্তা তার সুগন্ধি ছড়াতে শুরু করে এবং যেকোনও খাবারেই একটি ভিন্ন মাত্রা এনে দেয়। বেলাকান তৈরীর আরেকটি পদ্ধতিতে চিংড়ি পিষে টিনফয়েল কাগজে মুড়ে চুলার উপর গরম তাওয়ার উপরে রেখে দেওয়া হয় ও ভেজে নেওয়া হয়। স্থানীয় মরিচের সংগে বেলাকান বাটা হয়। এছাড়া বেলাকানের বহুবিধ ব্যবহার আছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Joe Bindloss (২০০৮)। Kuala Lumpur, Melaka & Penang. Ediz. Inglese। Lonely Planet। আইএসবিএন 978-1-74104-485-0 
  2. Kosaku Yoshino। "Malaysian Cuisine: A Case of Neglected Culinary Globalization" (PDF)। Sophia University Institute of Comparative Culture, Tokyo। পৃষ্ঠা 3। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০১৪