বিষয়বস্তুতে চলুন

মারিয়ান টম্পসন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
২০১১ সালের জুনে ইলিনয়ের ইভান্সটনে মারিয়ান লিওনার্ড টম্পসন

মারিয়ান লিওনার্ড টম্পসন হলেন 'লা লেচে লিগ ইন্টারন্যাশনালের' সাতজন প্রতিষ্ঠাতার একজন। তিনি ১৯৫৬ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৪ বছর লা লেচে লিগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন, কিন্তু ২০২৪ সালের নভেম্বরে রূপান্তরকামী নারীদের অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেন।[] তিনি প্রয়াত ক্লেমেন্ট টম্পসনের স্ত্রী এবং সাত সন্তানের জননী; এছাড়াও তিনি বহু নাতি-নাতনি ও প্রপৌত্র-প্রপৌত্রীর গর্বিত দাদী ও পরদাদী। বাড়িতে সন্তান প্রসব বা হোম বার্থের একজন প্রারম্ভিক প্রবক্তা হিসেবে তার নিজের চার সন্তান এবং অনেক নাতি-নাতনি ও প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেছে।

কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

টম্পসন চিকিৎসকদের জন্য স্তন্যদান বিষয়ক সেমিনার আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা ১৯৭৩ সাল থেকে লা লেচে লিগ নিয়মিতভাবে আয়োজন করে আসছে। তিনি বহু বোর্ড, কমিটি এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে 'ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর ব্রেস্টফিডিং অ্যাকশনের' আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা পরিষদ (১৯৯৬ থেকে বর্তমান), ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ পোস্ট পার্টাম কেয়ার সার্ভিসেসের উপদেষ্টা বোর্ড (১৯৯৫) এবং ১৯৮৩ সালে ইলিনয় রাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিভাগের পেরিনেটাল হেলথ অ্যাডভাইজরি কমিটি। এছাড়াও তিনি ১৯৮০ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শিশু ও কিশোরদের পুষ্টি বিষয়ক ডব্লিউএইচও/ইউনিসেফের সভায় পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন।

১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে যখন স্তন্যদান এবং এইচআইভি/এইডসের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দেয়, তখন টম্পসন লভ্য গবেষণাগুলো খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। এর ফলস্বরূপ ২০০১ সালে 'অ্যানাদারলুক অ্যাট ব্রেস্টফিডিং অ্যান্ড এইচআইভি/এইডস' নামক একটি অলাভজনক সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংস্থাটি এইচআইভি/এইডস প্রেক্ষাপটে স্তন্যদান সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ, সমালোচনামূলক প্রশ্ন উত্থাপন এবং গবেষণাকে উৎসাহিত করার জন্য নিবেদিত। তিনি সংস্থাটির সভাপতি এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। ১৯৯৮ সালের মার্চ মাসে মাদারিং ম্যাগাজিন মিসেস টম্পসনকে 'লিভিং ট্রেজার' বা জীবন্ত সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করে।

২০১০ সালে 'হেল পাবলিশিং' এর ড. থমাস ডব্লিউ. হেল মারিয়ান টম্পসনকে তার স্মৃতিকথা লেখার অনুরোধ জানান। মেলিসা ক্লার্ক ভিকার্সের সহায়তায় রচিত তার বই প্যাশনেট জার্নি, মাই আনএক্সপেক্টেড লাইফ ২০১১ সালের জুনে প্রকাশিত হয়।

২০২৪ সালে টম্পসন লা লেচে লিগ থেকে পদত্যাগ করেন। ট্রান্স বা রূপান্তরকামী নারীদের স্তন্যদানের বিষয়ে মতবিরোধের কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। পদত্যাগপত্রে তিনি লেখেন যে, "প্রকৃতির নিয়ম অনুসরণ করা, যা স্তন্যদানের মাধ্যমে মাতৃত্বের মূল ভিত্তি, সেখান থেকে সরে এসে প্রাপ্তবয়স্কদের ফ্যান্টাসি বা কল্পনাকে প্রশ্রয় দেওয়া আমাদের সংস্থাকে ধ্বংস করছে।"[]

সাক্ষাৎকার

[সম্পাদনা]

১৯৮২ সালের সেপ্টেম্বর/অক্টোবর সংখ্যায় মাদার আর্থ নিউজে লা লেচে লিগ এবং বাড়িতে সন্তান প্রসবের উপকারিতা নিয়ে মিসেস টম্পসনের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়।[]

২০০৭ সালের মার্চে নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির মেডিল স্কুল অফ জার্নালিজম মিসেস টম্পসনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। সেখানে তিনি বলেন, “আমি আমার শিশুদের বুকের দুধ খাওয়াতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার প্রথম তিন সন্তানের ক্ষেত্রে এবং তিনজন ভিন্ন ভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শেও আমি ছয় মাসের বেশি স্তন্যদান করতে পারিনি।”[]

২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর 'পাইওনিয়ার প্রেসের' উইলমেট লাইফে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি লা লেচে লিগের প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন: "তারা আমাকে সভাপতি বানিয়েছিল কারণ এটি ছিল আমার ধারণা," টম্পসন বলেন। "আমি খুবই লাজুক এবং অন্তর্মুখী ছিলাম।"

তিনি স্থানীয় হাসপাতালে কোনো ওষুধ ছাড়াই তার প্রথম সন্তান প্রসবের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন: "আমিই ছিলাম হাসপাতালের একমাত্র নারী যাকে তারা স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব করতে দেখেছিল," টম্পসন বলেন। যখন তিনি তার তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেন, তখন হাসপাতালের ১৭ জন কর্মী, এক্সটার্ন, ইন্টার্ন, এমনকি রিসেপশনিস্টও, দেখতে এসেছিলেন। "তারা আমার প্রসব টেবিল ঘিরে দাঁড়িয়েছিল," টম্পসন বলেন। "সব শেষ হওয়ার পর, একজন রেসিডেন্ট আমার ডাক্তারের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, 'ডাক্তার, আপনি এটা কীভাবে করলেন?'"[]

প্রকাশনা

[সম্পাদনা]
  • প্যাশনেট জার্নি, মাই আনএক্সপেক্টেড লাইফ, মারিয়ান লিওনার্ড টম্পসন এবং মেলিসা ক্লার্ক ভিকার্স, হেল পাবলিশিং এল.পি., ২০১১।
  • দ্য ওম্যানলি আর্ট অফ ব্রেস্টফিডিং, লা লেচে লিগ ইন্টারন্যাশনাল, সহ-রচয়িতা, ১ম-৬ষ্ঠ সংস্করণ (১৯৫৮, ১৯৬৩, ১৯৮১, ১৯৮৭, ১৯৯১)।
  • "দ্য কনভিনিয়েন্স অফ ব্রেস্ট ফিডিং", আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন, খণ্ড ২৪, সংখ্যা ৮, পৃষ্ঠা ৯৯১–৯৯২, আগস্ট ১৯৭১।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 সিলভার, ইলিয়ানা (১২ নভেম্বর ২০২৪)। "রূপান্তরকামী নারীদের সমর্থন গোষ্ঠীতে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়ায় স্তন্যদান দাতব্য সংস্থার ট্রাস্টি পদত্যাগ করলেন"জিবি নিউজ
  2. টম্পসন, মারিয়ান। "মারিয়ান টম্পসন হোম বার্থ অধিকারের পক্ষে কথা বলছেন – মাদার আর্থ নিউজ"www.motherearthnews.com (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০২৩
  3. কেলি মাহোনির মেডিল শিকাগো রিপোর্ট ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০০৯-০২-১৫ তারিখে
  4. লা লেচে লিগের ৫০ বছর পূর্তি, পাইওনিয়ার প্রেস, ২৭ ডিসেম্বর ২০০৭

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]