মায়া কোডনানি
মায়া কোডনানি | |
|---|---|
| গুজরাট বিধানসভার সদস্য | |
| কাজের মেয়াদ ১৯৯৮ – ২০১২ | |
| পূর্বসূরী | গোপালদাস ভোজওয়ানি |
| উত্তরসূরী | নির্মলা ওয়াধওয়ানি |
| নির্বাচনী এলাকা | নারোদা |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | ১৯৫৬ (বয়স ৬৯–৭০) ইটানগর, অরুণাচল প্রদেশ, ভারত |
| জাতীয়তা | ভারতীয় |
| রাজনৈতিক দল | ভারতীয় জনতা পার্টি |
মায়া সুরেন্দ্রকুমার কোডনানি ভারতের গুজরাট সরকারের একজন প্রাক্তন নারী ও শিশু উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী। ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে নারোদা নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর কোডনানি গুজরাটের দ্বাদশ বিধানসভায় যোগদান করেন।
২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার সময় নারোদা পাটিয়া গণহত্যায় অংশগ্রহণের জন্য ২০১২ সালে, কোডনানিকে আঠাশ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল কিন্তু ২০১৮ সালে গুজরাট হাইকোর্ট তাঁকে খালাস দেয়। কোডনানি ছিলেন এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া সবচেয়ে উচ্চ পদমর্য্যাদাযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন, এবং অভিযুক্তদের মধ্যে তিনি ছিলেন একমাত্র মহিলা।[১][২]
প্রাথমিক জীবন এবং শিক্ষা
[সম্পাদনা]কোডনানি হলেন একজন সিন্ধি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) কর্মীর মেয়ে, যিনি ভারত বিভাগের সময় ভারতে চলে এসেছিলেন। কোডনানি একটি গুজরাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। তিনি আরএসএসের মহিলাদের জন্য সমান্তরাল সংগঠন, রাষ্ট্র সেবিকা সমিতিতেও যোগ দেন।[৩]
কোডনানি বরোদা মেডিকেল কলেজে যোগদান করেন, যেখান থেকে তিনি এমবিবিএস ডিগ্রি এবং স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যায় ডিপ্লোমা অর্জন করেন। তিনি আহমেদাবাদের নারোদার কুবেরনগরে শিবম মেটারনিটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন।[৪]
রাজনৈতিক জীবন
[সম্পাদনা]১৯৯৫ সালে আহমেদাবাদ পৌর নির্বাচনের মাধ্যমে কোডনানি তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। তিনি বিজেপির হয়ে তিনবার নারোদা আসন থেকে বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন।[৫] ১৯৯৮ সালের নির্বাচনে, তিনি ৭৫,০০০ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার পরপরই, ২০০২ সালের ডিসেম্বরে, তিনি ১১০,০০০ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। ২০০৭ সালে, তাঁর ভোটের ব্যবধান বৃদ্ধি পেয়ে ১৮০,০০০ হয়।[৬] ২০০৭ সালে নির্বাচনে জয়লাভের পর, তাঁকে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি সরকারে গুজরাটের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়,[৫] কিন্তু ২০০৯ সালে নারোদা পাটিয়া গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।[৭]
২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গায় ভূমিকা
[সম্পাদনা]২০০২ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি গুজরাট দাঙ্গার সময় নারোদা গাম এবং নরোদা পটিয়া গণহত্যার পরিকল্পনার জন্য কোডনানিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, যেখানে ৩৬ জন মহিলা এবং ৩৫ জন শিশু সহ ৯৭ জন মুসলিমকে ছুরিকাঘাত ক'রে, টুকরো টুকরো ক'রে এবং পৃথকভাবে ও দলবদ্ধভাবে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল।[৫][৭] প্রত্যক্ষদর্শীরা সাক্ষ্য দিয়েছেন যে কোডনানি ঘটনাস্থলে ছিলেন, হিন্দু দাঙ্গাকারীদের তরবারি দিয়েছিলেন, তাদের মুসলমানদের উপর আক্রমণ করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন এবং এক পর্যায়ে পিস্তল থেকে গুলি চালিয়েছিলেন।[৮] বজরং দলের সদস্য সুরেশ রিচার্ড এবং প্রকাশ রাঠোড় তেহলকার সাংবাদিকদের স্পাই ক্যামেরায় বলেছিলেন যে কোডনানি সারাদিন নারোদা ঘুরে বেড়াতেন, জনতাকে অনুরোধ করতেন মুসলিমদের খুঁজে বের করে হত্যা করার জন্য।[৯] মোবাইল ফোন রেকর্ড থেকেও বোঝা গিয়েছিল তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং দেখা গিয়েছিল যে তিনি শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোর্ধন জাদাফিয়া এবং মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন।[১০] মোবাইল ফোনের রেকর্ডগুলি পুলিশ পুঁতে ফেলেছিল। ২০০৪ সালে নানাবতী-মেহতা কমিশন মারফৎ এগুলি প্রকাশ্যে আসে। পরে ২০০৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক নিযুক্ত আর কে রাঘবনের নেতৃত্বাধীন বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) এগুলির তদন্ত করে।
কোডনানি এসআইটি-র কাছ থেকে আসা জবানবন্দির জন্য নোটিশ উপেক্ষা ক'রলে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে পলাতক ঘোষণা করা হয়। কোডনানি একটি দায়রা আদালত থেকে আগাম জামিন পান, যা ২০০৯ সালের ২৭শে মার্চ গুজরাট হাইকোর্ট বাতিল করে দেয়, যার ফলে পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।[৬]
নারোদা পাটিয়া গণহত্যা মামলায় তাঁর বিচার হয় এবং ২০১২ সালের ৩১শে আগস্ট তারিখে হত্যা ও হত্যার ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ক'রে তাঁকে ২৮ বছরের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়।[৮][১১] আদালতের রায়ে তাঁকে "নারোদা পাটিয়া গণহত্যার মূল হোতা" হিসেবে অভিহিত করা হয়। কোডনানি তাঁর নির্দোষতার দাবি বজায় রেখে বলেন যে দাঙ্গার সময় তিনি সোলা সিভিল হাসপাতালে ছিলেন এবং গোধরার অত্যাচারিতদের আত্মীয়দের সাথে দেখা করেছিলেন।[১২]
২০১৩ সালের ১৭ই এপ্রিল তারিখে, গুজরাট সরকার হাইকোর্টে কোডনানির মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করে[১৩] কিন্তু ১৪ই মে তা প্রত্যাহার করে নেয়।[১৪] ২০১৩ সালের নভেম্বরে, অন্ত্রের যক্ষ্মার চিকিৎসার জন্য তাঁকে তিন মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়।[১৫] ২০১৪ সালের ৩০শে জুলাই তারিখে, গুজরাট হাইকোর্ট অসুস্থতার কারণে তাঁকে জামিন দেয় এবং তাঁর কারাদণ্ড স্থগিত করে।[১৬] ২০১৮ সালের ২০শে এপ্রিল, হাইকোর্ট ট্রায়াল কোর্টের রায় বাতিল করে এবং মায়া কোডনানিকে খালাস দেয়, একই সাথে সুরেশ রিচার্ড এবং প্রকাশ রাঠোরের শাস্তি বহাল রাখে।[১৭][১৮]
ব্যক্তিগত জীবন
[সম্পাদনা]সুরেন্দ্র কোডনানির সাথে মায়া কোডনানির বিয়ে হয়েছিল। সুরেন্দ্র একজন সাধারণ চিকিৎসক।[১৯]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Naroda Patiya riots: Former minister Maya Kodnani gets 28 years in jail"। NDTV.com। ৩ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০১২।
- ↑ "Gujarat riots: BJP's Maya Kodnani jailed for 28 years"। BBC News। ৩১ আগস্ট ২০১২। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০১৮।
- ↑ "Naroda Patiya: How Maya Kodnani fell from BJP poster girl to convict"। Firstpost। ৩০ আগস্ট ২০১২। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ আগস্ট ২০১৪।
- ↑ Express News Service। "The rise and fall of Maya Kodnani"। Express India। ২৭ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০১২।
- 1 2 3 "For Maya Kodnani, riots memories turn her smile into gloom"। DNA India। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১২। ২ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুন ২০১২।
- 1 2 Mitta, Manoj (২০১৪)। The Fiction of Fact-Finding: Modi & Godhra। HarperCollins Publishers India। পৃ. ৭৮–৯৭। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৫০২৯-১৮৭-০।
- 1 2 "Maya gets bail"। India Today। ১৯ মে ২০০৯। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুন ২০১২।
- 1 2 "Indian nationalist MP gets 28 years for 2002 massacre"। Reuters। ৩১ আগস্ট ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৩১ আগস্ট ২০১২।
- ↑ Ashish Khetan (২৯ আগস্ট ২০১২)। "Ahmedabad: Carnage Capital"। Tehelka। ২১ মে ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০১৪।
- ↑ "Naroda verdict may spell trouble for top cops, ex-minister"। Hindustan Times। ১ সেপ্টেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭।
- ↑ Manas Dasgupta (৩১ আগস্ট ২০১২)। "News / National : 28 years for Kodnani, Bajrangi to spend entire life in prison"। The Hindu। Chennai, India। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০১২।
- ↑ "Naroda Patiya case: Mayaben Kodnani's fate hangs in balance"। India Today। ২৫ মে ২০১৩। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৪।
- ↑ "Gujarat government to seek death penalty for Kodnani, Bajrangi"। The Hindu। Chennai, India। ১৭ এপ্রিল ২০১৩। ১২ জুন ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০১৩।
- ↑ "Narendra Modi's U-turn on Maya Kodnani; seeks advocate general's opinion on death penalty"। The Times of India। ৮ আগস্ট ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ "Supreme Court refuses to grant Maya Kodnani extension of Bail"। IANS। news.biharprabha.com। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪।
- ↑ Gujarat high court grants bail to Kodnani 30 July 2014
- ↑ "Naroda Patiya case: Trial court presumed Maya Kodnani's guilt, sought reasons to support its belief, says HC"। The Indian Express। ২২ এপ্রিল ২০১৮। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০১৮।
- ↑ "Maya Kodnani Acquitted in 2002 Gujarat Riots Case"। The Wire। ২০ এপ্রিল ২০১৮। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ এপ্রিল ২০১৮।
- ↑ "Naroda Patiya massacre: Who is Maya Kodnani?"। Yahoo! News India। ৩১ আগস্ট ২০১২। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০১৪।
- ভারতে হিন্দু অনুপ্রাণিত সহিংসতা
- হিন্দু জাতীয়তাবাদী
- খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ভারতীয়
- গুজরাত বিধানসভার সদস্য ২০০৭-২০১২
- গুজরাত বিধানসভার সদস্য ২০০২-২০০৭
- গুজরাত বিধানসভার সদস্য ১৯৯৮-২০০২
- ১৯৫৬-এ জন্ম
- গুজরাতের ভারতীয় জনতা পার্টির রাজনীতিবিদ
- ২১শ শতাব্দীর ভারতীয় নারী রাজনীতিবিদ
- ২০শ শতাব্দীর ভারতীয় রাজনীতিবিদ
- ২০শ শতাব্দীর ভারতীয় নারী রাজনীতিবিদ
- অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ভারতীয় রাজনীতিবিদ
- সিন্ধি বংশোদ্ভূত ভারতীয় ব্যক্তি
- জীবিত ব্যক্তি