মানুয়েল পুইগ
এই নিবন্ধ বা অনুচ্ছেদটি পরিবর্ধন বা বড় কোনো পুনর্গঠনের মধ্যে রয়েছে। এটির উন্নয়নের জন্য আপনার যে কোনো প্রকার সহায়তাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। যদি এই নিবন্ধ বা অনুচ্ছেদটি কয়েকদিনের জন্য সম্পাদনা করা না হয়, তাহলে অনুগ্রহপূর্বক এই টেমপ্লেটটি সরিয়ে ফেলুন। ২ মাস আগে ShakilBoT (আলাপ | অবদান) এই নিবন্ধটি সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন। (হালনাগাদ) |
মানুয়েল পুইগ | |
|---|---|
আর্জেন্টিানা কথাসাহিত্যিক পুইগ |
মানুয়েল পুইগ বিংশ শতাব্দীর ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম মৌলিক ও প্রভাবশালী কথাসাহিত্যিক হিসেবে বিবেচিত, যিনি তার চলচ্চিত্রের মতো কাহিনী বিন্যাস ও জনসংস্কৃতির ব্যবহারের জন্য খ্যাত। বলা হয় তিনি কথাসাহিত্য ও চলচ্চিত্রের মধ্যবর্তী একজন গল্পকথক। তাকে ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম সাহসী, বৈপ্লবিক এবং পপ-কালচার দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত একজন সমকামী লেখক হিসেবে গণ্য করা হয়। তার জীবন ছিল সিনেমা, সাহিত্য এবং রাজনৈতিক নির্বাসনের এক রোমাঞ্চকর মিশ্রণ।
জীবন, শিক্ষা ও স্বপ্ন
[সম্পাদনা]১৯৩২ সালের ২৮শে ডিসেম্বর আর্জেন্টিনার পাম্পাস অঞ্চলের এক প্রত্যন্ত ছোট শহর জেনারেল ভিলেগাসে তার জন্ম হয়। রক্ষণশীল ও একঘেয়ে গ্রামীণ পরিবেশ থেকে বাঁচতে তিনি মায়ের সাথে প্রতিদিন স্থানীয় সিনেমা হলে হলিউডের চলচ্চিত্র দেখতে যেতেন। এই রূপালী পর্দার মোহ এবং ফ্যান্টাসি তার মনে আজীবনের জন্য দাগ কেটে যায়। ১০ বছর বয়সেই তিনি ইংরেজি শিখতে শুরু করেন শুধুমাত্র হলিউডি সিনেমার সংলাপ বোঝার জন্য।[১]
১৯৫০-এর দশকে বুয়েনস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি স্থাপত্য ও পরে দর্শন ও সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন। চলচ্চিত্র পরিচালক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ১৯৫৭ সালে বৃত্তি পেয়ে ইতালির রোম শহরে বিখ্যাত সিনেচিত্তা (Cinecittà) ফিল্ম স্কুলে পড়তে যান। তবে সেখানকার প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রবণতা তাকে হতাশ করে। তিনি প্যারিস ও লন্ডনে গিয়ে ছোটখাটো কাজের মাধ্যমে জীবিকা অর্জ্জনের মাধ্যমে (যেমন, রেস্টুরেণ্টে থালাবাসন ধোয়ার কাজ) জীবন ধারণ করে চিত্রনাট্য লেখার চেষ্টা করতে থাকেন।[২]
সাহিত্যিক জীবন
[সম্পাদনা]চলচ্চিত্র পরিচালক হওয়ার আশা ছেড়ে তিনি ১৯৬৩ সালে নিউ ইয়র্ক শহরে চলে যান এবং এয়ারপোর্টে লাগেজ হ্যান্ডলারের কাজ নেন। সেখানে একটি ব্যর্থ চিত্রনাট্যকে রূপান্তর করে তিনি তার প্রথম উপন্যাস Betrayed by Rita Hayworth (১৯৬৮) লেখেন। এই উপন্যাসটি তাকে রাতারাতি আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। ১৯৭০-এর দশকে আর্জেন্টিনার তৎকালীন পেরনপন্থী রক্ষণশীল সরকার এবং চরম ডানপন্থীদের দ্বারা তার বই নিষিদ্ধ হতে শুরু করে। একজন বামপন্থী ভাবাদর্শের মানুষ ও সমকামী লেখক হিসেবে নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে ১৯৭৩ সালে তিনি স্থায়ীভাবে দেশ ছাড়েন। এরপর তিনি মেক্সিকো, নিউ ইয়র্ক এবং ব্রাজিলে নির্বাসিত জীবন অতিবাহিত করেন। নির্বাসন কালে ১৯৭৬ সালে মেক্সিকোতে বসে তিনি তার মাস্টারপিস উপন্যাস ব্ল্যাক স্পাইডার (El beso de la mujer araña। ইং: (The Kiss of the Spider Woman) রচনা করেন।
স্বীকৃতি ও পুরস্কার
[সম্পাদনা]মানুয়েল পুইগ তার কাজের মৌলিকত্বের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছেন। নোবেল পুরস্কার বা সের্ভান্তেসের মতো সবচেয়ে বড় সাহিত্য পুরস্কার না পেলেও জীবদ্দশায় তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার লাভ করেছিলেন। তার প্রাপ্ত সম্মাননার মধ্যে রয়েছে:
- ফ্রান্সে শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃতি (১৯৭০): তার প্রথম উপন্যাস Betrayed by Rita Hayworth ফরাসি অনুবাদে প্রকাশের পর বিখ্যাত ফরাসি পত্রিকা লে মঁদ (Le Monde) এটিকে বছরের অন্যতম সেরা উপন্যাস হিসেবে ঘোষণা করে এবং এটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়।
- কুরজিও মালাপার্তে পুরস্কার (১৯৮৬): ইতালির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কারে (Curzio Malaparte Prize) তাকে ভূষিত করা হয় ১৯৮৬ সালে।
- ড্রামা-লগ পুরস্কার (১৯৮৯): তার লেখা নাটক Mystery of the Rose Bouquet-এর চমৎকার চিত্রনাট্যের জন্য মৃত্যুর মাত্র এক বছর আগে তিনি আমেরিকার বিখ্যাত ড্রামা-লগ পুরস্কার (Drama-Logue Award) লাভ করেন।
চলচ্চিত্র জগতের স্বীকৃতি
[সম্পাদনা]তার জীবদ্দশাতেই তার মাস্টারপিস উপন্যাস El beso de la mujer araña অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। সিনেমাটি ৪টি ক্যাটাগরিতে অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিল। প্রধান চরিত্র 'মলিনা'-র ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য উইলিয়াম হার্ট সেরা অভিনেতার অস্কার লাভ করেন। লেখক হিসেবে এটি ছিল মানুয়েল পুইগের জীবনের অন্যতম বড় বৈশ্বিক স্বীকৃতি।[২]
মৃত্যু
[সম্পাদনা]১৯৯০ সালের ২২ জুলাই মেক্সিকোর কুয়ের্নাভাকা শহরে পিত্তথলির অস্ত্রোপচারের পর আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৭ বৎসর।