মানসা মূসা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
মুসা ১ সম্রাট
Mansa Musa.jpg
মুসা ১৩৭৫
মানসা অব মালি
রাজত্ব আনুমানিক ১৩১২ – ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দ (২৫ বছর)
পূর্বসূরী আবুবাকারী ২
উত্তরসূরী মাঘান মুসা
জন্ম ১২৮০
মালি
মৃত্যু আনুমানিক ১৩৩৭ রাজবংশ
অজানা
দাম্পত্য সঙ্গী ইনারী কুনাতে
সন্তান মাঘান মুসা
রাজবংশ কেইতা রাজবংশ
পিতা কানকাউ মুসা
ধর্ম ইসলাম

মানসা মূসা (আনুমানিক ১২৮০ থেকে আনুমানিক ১৩৩৭ পর্যন্ত) অথবা মালির প্রথম মূসা ছিলেন ১৪শতকের মালি সম্রাজ্যের একজন মানসা। মানসা শব্দের অর্থ সুলতান, বিজেতা,[১] বা "সম্র্রাট",[২][৩][৪][৫][৬] মানসা ছিলেন মালি সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সান্দিয়াতা কেইতা'র ভাগ্নে। ১৩০৭ সালে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি প্রথম আফ্রিকান শাসক যিনি ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন।[৭]

হজ্জব্রত পালন ও স্বর্ণ বিতরণ[সম্পাদনা]

মূসা অধিক পরিচিত ছিলেন তার কথিত হজ্জপালনের জন্য ( ১৩২৪ থেকে ১৩২৫ )। প্রচলিত আছে, তার হজ্জবহরের কাফেলায় রসদপূর্ণ থলে বহনকারী ৬০,০০০ লোক ছিল, সাথে ছিল ৫০০ গোলাম যারা প্রত্যেকে একটি করে সোনার দন্ড বহন করছিল এবং ৮০ থেকে ১০০টি উট ছিল, যেগুলো প্রত্যেকটি প্রায় ১৪০ কেজি সোনার গুঁড়ো বহন করছিলো। তার এই যাত্রাপথে তিনি প্রায় কয়েকশত কোটি টাকা মূল্যের সোনা বিতরণ করেছিলেন। কায়রোতে তিনি এত বেশি স্বর্ণ বিতরণ করেছিলেন যে, বেশ কয়েক বছর ধরে সেখানে স্বর্ণের দাম তুলনামুলকভাবে অনেক কম ছিল।

ইসলাম প্রচারে সহায়তা[সম্পাদনা]

মানসা মূসা ইসলাম প্রচারেও সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি একজন অনুগত মুসলিম ছিলেন এবং কুর'আনের শিক্ষার উপর ভিত্তি করে অনেকগুলো বিদ্যালয় নির্মাণ করেন। তিনি উত্তর আফ্রিকার ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী প্রেরণ করতেন।[৮]

রাজকার্যে অবদান[সম্পাদনা]

মানসা মূসা তার রাজত্বকালে রাজ্যব্যবস্থা ও রাজকার্যাবলি নতুনভাবে সাজাতে সাহায্য করেছিলেন। তার রাজত্বকালে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেক স্থিতিশীল ছিলো।

ইউরোপীয় মানচিত্রে মানসা মূসা[সম্পাদনা]

মানসা মূসার হজ্জপালনের পর, ইউরোপীয় মানচিত্র-অঙ্কনকারীরা তাঁদের মানচিত্রগুলোতে মানসা মূসার ছবি আঁকা শুরু করে। মালি সাম্রাজ্যের পতনের পর মানসা মূসার খ্যাতিও কমে যেতে থাকে। এরপর থেকে তাঁকে আর কখনোই মানচিত্রগুলোতে সম্মানিত রাজা হিসেবে আঁকা হয় নি, বরঞ্চ আরও অসভ্যভাবে দেখানো হয়েছে। তাঁকে ইউরোপীয় রাজপরিবারের ব্যাঙ্গাত্মক নমুনারুপে আঁকা হত, যা ছিল একজন রাজমুকুট পরিহিত জংলী ব্যক্তি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Lapidus, Ira M. A History of Islamic Societies. 3rd edn. New York, NY: Cambridge University Press, 2014, p. 455.
  2. Knoblock, Kathleen, "An Interview with Ibn Battuta", Primary Source Fluency Activities: World Cultures (In Sub-Saharan Africa), Shell Education, 2007. আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪২৫৮-০১০২-১.
  3. Travels in Asia and Africa, 1325-1354, by Ibn Battuta, London 2005, p. 324, আইএসবিএন ০-৪১৫-৩৪৪৭৩-৫.
  4. Jansen, Jan (১৯৯৮)। "Hot Issues: The 1997 Kamabolon Ceremony in Kangaba (Mali)"। The International Journal of African Historical Studies31 (2): 253–278। জেস্টোর 221083(নিবন্ধন করা প্রয়োজন (সাহায্য))  On page 256, Jan Jansen writes: "Mansa is generally translated as 'king,' 'ruler' or 'ancestor.' The Griaulians, however, often translate mansa as 'God,' 'the divine principle' or 'priest king,' although they never argue the choice for this translation, which has an enormous impact on their analysis of the Kamabolon ceremony."
  5. Macbrair, Robert Maxwell, A Grammar of the Mandingo Language: With Vocabularies, London, 1873, p. 5.
  6. Berkin, Carol, Christopher Miller, Robert Cherny, James Gormly & Douglas Egerton, Making America – A History of the United States, 5th edition, Boston, 2011, p. 13. আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬১৮-৪৭১৩৯-৩.
  7. Goodwin 1957, পৃ. 109
  8. Goodwin 1957, পৃ. 110

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

আফ্রিকান লিজেন্ড পৃষ্ঠা