মানব পাচার দমন এবং অন্যদের পতিতাবৃত্তির শোষণ দমনে সম্মেলন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মানব পাচার দমন এবং অন্যদের পতিতাবৃত্তির শোষণ দমনে সম্মেলন পাতাটি তৈরি করছেন
{{{image_alt}}}
অংশগ্রহণকারী দেশ সমূহ এবং সম্মেলনের অন্যান্য স্বাক্ষরকারীরা। গাড় নীল রঙে সদস্য দেশ সমূহ। হালকা নীল রঙে স্বাক্ষরকারী দেশ সমূহ।
খসড়া২ ডিসেম্বর ১৯৪৯ (জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কতৃক অনুমোদন)
স্বাক্ষর২১ মার্চ ১৯৫০
স্থানলেক সাকসেস, নিউ ইয়র্ক
কার্যকর২৫ জুলাই ১৯৫১[১]
শর্ত২ টি রাষ্ট্র কতৃক অনুমোদন
স্বাক্ষরকারী২৫
অংশগ্রহণকারী৮২
Depositaryজাতিসংঘ মহাসচিব
Convention for the Suppression of the Traffic in Persons and of the Exploitation of the Prostitution of Others at Wikisource

মানব পাচার দমন এবং অন্যদের পতিতাবৃত্তির শোষণ দমনে সম্মেলন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কতৃক ১৯৪৯ সালের ২ ডিসেম্বর অনুমোদিত হয়[২] এবং ২৫ জুলাই ১৯৫১ তারিখ হতে কার্যকর হয়। এর প্রস্তাবনাতে বলা আছে-

"যেহেতু পতিতাবৃত্তি এবং পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে মানব পাচার মানবিক মর্যাদা এবং মূল্যবোধের সাথে বেমানান এবং এটি ব্যক্তি, পরিবার এবং সম্প্রদায়ের কল্যাণকে বিপন্ন করে"

২০১৩ সাল নাগাদ ৮২ টি দেশ এই সম্মেলনের সদস্য হয়েছে (মানচিত্র দেখুন)। আরও ১৩ টি দেশ চুক্তিটি সাক্ষর করলেও এখনো অনুমোদন দেয়নি।[১]

এই সম্মেলন প্রাক্তন কিছু জোর পুর্বক পরিতাবৃত্তি বিষয়ক সম্মেলনকে বাতিল করে। সাক্ষরকারীদের পরিবর্তন করা হয় ১৯৪৯ সালের ৩ টি বাধ্যবাধকতা অনুসারে। যথাঃ পাচার নিরোধ, সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক এবং প্রয়োগীক ব্যবস্থা, এবং পাচারের শিকার ব্যক্তির জন্য সামাজিক পদক্ষেপ। ১৯৪৯ সালের কনভেনশন পাচার সমস্যার দৃষ্টিভঙ্গিতে দুটি পরিবর্তন উপস্থাপন করে যাতে এটি পতিতাদেরকে ক্রয়কারীর শিকার হিসাবে দেখে এবং এতে "শ্বেত দাস পাচার" এবং "মহিলা" শব্দগুলি এড়িয়ে যাও্যা হয়, প্রথমবারের মতো বর্ন ও লিঙ্গ নিরপেক্ষ শব্দ ব্যবহার করা হয়।[৩] ১৯৪৯ সালের কনভেনশনের আওতায় পড়ার জন্য পাচারের আন্তর্জাতিক সীমা অতিক্রমের প্রয়োজন নেই।[৩]

বিধানসমূহ[সম্পাদনা]

সম্মেলনে[৪] বলা হয়েছে সদস্য দেশ গুলোকে যারা পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে "ক্রয় করে, প্রলোভন দেখায় বা তাদের চালনা করে, এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তির সম্মতিতে হলেও" তাদের শাস্তির বিধান করতে হবে, "অন্য ব্যক্তিকে পতিতাবৃত্তির মাধ্যমে শোষণ করা, এমনকি সেই ব্যক্তির সম্মতিতে হলেও" (অনুচ্ছেদ ১), অথবা "যদি কোন পতিতালয় পরিচালনা করা অথবা পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্য ভাড়া প্রদান করা" (অনুচ্ছেদ ২) কাজের সাথে জড়িতদের শাস্তির বিধান করতে হবে। এতে পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক মানব পাচার রোধে নির্দেশনাও রয়েছে, যাতে অপরাধীর প্রত্যর্পণও অন্তঃর্ভুক্ত।

এছাড়াও, সদস্য দেশগুলিকে পতিতাদের "তত্ত্বাবধান বা বিজ্ঞপ্তির জন্য বিশেষ কোন নিবন্ধন বা কোন বিশেষ নথি প্রণয়ন বা কোন অন্যন্য শর্ত প্রণয়ন" বিষয়ক সমস্ত বিধি বাতিল করতে হবে (অনুচ্ছেদ ৬)। এবং এছাড়াও, তাদের চাকরিতে নিয়োগকারী সংস্থার তত্ত্বাবধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যাতে কর্মসংস্থান চাওয়া ব্যক্তিদের, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের, পতিতাবৃত্তির মতো বিপদের সম্মুখীন হতে বাধা দেওয়া যায় (অনুচ্ছেদ ২০)। কনভেনশনের ব্যাখ্যা বা প্রয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সদস্যদের মধ্যে বিরোধ, বিরোধের যে কোন একট পক্ষের অনুরোধে বিষয়টি আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে পাঠানো যেতে পারে (অনুচ্ছেদ ২২)।

অবস্থা[সম্পাদনা]

বেশ কয়েকটি দেশ যারা কনভেনশনটি অনুমোদন করেছে তারা আইসিজে -তে বিরোধের সুপারিস সম্পর্কিত আপত্তি প্রকাশ করেছে এবং কিছু দেশ কিছু অনুচ্ছেদের উপস্থিতিতে তাদের আপত্তির কারণে কনভেনশনটি অনুমোদন করেনি।

কনভেনশনটি অনেক দেশ কর্তৃক অনুমোদিত না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হল অনুচ্ছেদ ১ এ "এমনকি সেই ব্যক্তির সম্মতিতে হলেও" কথাটির উপস্থিতির কারণে এটি স্বেচ্ছা পতিতাবৃত্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য[৫]। উদাহরনণস্বরূপ, জার্মানি[৬], নেদারল্যান্ডস[৬], নিউজিল্যান্ড[৭], গ্রীস[৮], তুরস্ক এবং অন্যান্য কিছু দেশে স্বেচ্ছায পতিতাবৃত্তি "পেশা" হিসেবে বৈধ এবং নিয়ন্ত্রিত।

আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের কনভেনশনে মানব পাচার প্রোটোকল (২০০০) "পাচার" ১৯৪৯ সালের কনভেনশনে থেকে আলাদা সংজ্ঞা ব্যবহার করেছে,[৯] এবং অনেক দেশ এটি অনুমোদন করেছে।

মানবাধিকার কেন্দ্র, বিশেষ করে দাসত্ব বিষয়ক কার্যনির্বাহি গ্রুপের সচিবালয়, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক বিষয়ক কেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায়, কনভেনশনটি সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে থাকে।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Signatories and ratifications status
  2. General Assembly resolution 317(IV)
  3. [১] ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ফেব্রুয়ারি ৪, ২০০৯ তারিখে
  4. Convention for the Suppression of the Traffic in Persons and of the Exploitation of the Prostitution of Others
  5. Bantekas, Ilias; Susan Nash (২০০৩)। International Criminal Law 2/E। Cavendish: Routledge। পৃষ্ঠা 6। আইএসবিএন 1859417760 
  6. "Prostitution: Sex is their business"। The Economist। ২ সেপ্টেম্বর ২০০৪। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০০৯  (সদস্যতা প্রয়োজনীয়)
  7. "Policing prostitution: The oldest conundrum"। The Economist। ৩০ অক্টোবর ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০১০  (সদস্যতা প্রয়োজনীয়)
  8. US Department of State Report - Greece
  9. Convention against Transnational Organized Crime ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০০৫-০৫-২৫ তারিখে