মাদুভু
| মাদুভু | |
|---|---|
| প্রকার | হাতাহাতি |
| উদ্ভাবনকারী | তামিলনাড়ু, ভারত |
মাদুভু, যা মারু বা মাদু নামেও পরিচিত, ভারতের একটি অস্ত্র। এটি তামিল মার্শাল আর্ট সিলম্বমে ব্যবহৃত অনেক অস্ত্রের মধ্যে একটি।[১]
সাধারণত মাদু নামে পরিচিত এই অস্ত্রটিকে হরিণের শিং থেকে তৈরি করা হয়। বিশেষ করে ভারতীয় কৃষ্ণসারের (অ্যান্টিলোপ সার্ভিকাপ্রা) শিং থেকে এটি তৈরি হয় এবং একে মান কম্বু নামেও ডাকা হয়।[২] মাদুকে দ্বি-ফলা ছোরার মতো ব্যবহার করা হয়। এতে সাধারণত দুটি কৃষ্ণসার হরিণের শিং থাকে যেদুটি বিপরীত দিকে মুখ করে থাকে এবং দুটি আড়াআড়ি দণ্ড দ্বারা সংযুক্ত থাকে যেটি একটি হাতল হিসেবেও কাজ করে। সিলম্বম বিশেষজ্ঞরা প্রতিরক্ষামূলক এবং আক্রমণাত্মক উভয় উপায়ে প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার জন্য এই অস্ত্রটি ব্যবহার করেন।
নতুনতর সংস্করণগুলিতে প্রায়শই ইস্পাতের ডগা লাগানো হয় এবং কখনও কখনও ঢাল হিসেবে কাজ করার জন্য এর সাথে চামড়া বা ইস্পাতের একটি পাত লাগানো হয়। পাঞ্জাবে, একটি মাদু সাধারণত সম্পূর্ণরূপে ইস্পাত দিয়ে তৈরি করা হয়। অনুরূপ একটি অস্ত্র, যা একটি হাতলের ওপর বসানো কৃষ্ণসার শিং দিয়ে তৈরি হত, সেটি ক্রাচ হিসেবে ব্যবহৃত হতো, সেইসঙ্গে এটি যোগীদের আত্মরক্ষার একটি সরঞ্জাম হিসেবেও কাজ করত, তাদের সম্প্রদায়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রচলিত অস্ত্র বহন করা তাদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল।[৩]
কৌশল
[সম্পাদনা]মুখোমুখি সংঘর্ষে যখন প্রতিপক্ষ লম্বা ছুরি, তরবারি, সেডিকুচি (লম্বা লাঠি) বা মুচচান (ছোট লাঠি) দিয়ে আক্রমণ করে, তখন যোদ্ধারা এই অস্ত্র ব্যবহার করে। মাদু মূলত একটি আত্মরক্ষামূলক অস্ত্র, যা ব্যবহারের সময় ব্যবহারকারী নিচু হয়ে অবস্থান নেওয়াকে প্রাধান্য দেয় যাতে সে তার প্রতিপক্ষের চেয়ে নিচের দিকে থাকতে পারে। এটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এই অস্ত্র নিয়ে যোদ্ধার বিভিন্ন অবস্থান বিভিন্ন প্রাণীর নড়াচড়ার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যেমন ব্যাঙ, সাপ, ইঁদুর, বাঘ, হাতি এবং ঈগল।
দর্শকদের সামনে প্রদর্শন করার সময় সাধারণত যোদ্ধারা একযোগে আক্রমণ করে শুরু করে, এই সময় তারা প্রতিরক্ষামূলক দক্ষতা, তৎপরতা এবং সাহসিকতা প্রদর্শন করে। লড়াই শেষ হয় যখন একজন অংশগ্রহণকারী তার প্রতিপক্ষকে চূড়ান্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে অচল করে দেয় বা নিরস্ত্র করে যেজন্য প্রতিপক্ষ পালাতে পারেনা। একজন যোদ্ধার দক্ষতা বিচার করার সময় নির্ভুলতা, সময় এবং প্রতিরক্ষামূলক ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।[৪]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ PutraDanayu (৩০ মার্চ ২০২১)। Sword: Tell about sword in human history (ইংরেজি ভাষায়)। Putra Ayu। এএসআইএন B097SC83NR।
- ↑ Guruji Murugan, Chillayah (২০ অক্টোবর ২০১২)। "Silambam Weapons Deer Horn Maduvu"। Silambam। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০১৩।
- ↑ Richard F. Burton (১৮৮৪)। The Book Of The Sword। Dover। আইএসবিএন ০-৪৮৬-২৫৪৩৪-৮।
{{বই উদ্ধৃতি}}: আইএসবিএন / তারিখের অসামঞ্জস্যতা (সাহায্য) - ↑ Jesse (১২ জানুয়ারি ২০২২)। "Lethal Weapons: 5 of the Most Effective Man-Killing Tools in History"। WAR HISTORY ONLINE (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২২।