বিষয়বস্তুতে চলুন

মাই সিজোফ্রেনিক লাইফ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মাই সিজোফ্রেনিক লাইফ: দ্যা রোড টু রিকোভারি ফ্রম মেন্টাল ইলনেস
লেখকস্যান্দ্রা ইয়েন ম্যাকে
ভাষাইংরেজি
প্রকাশকব্রিজরস কমিউনিকেশনস
প্রকাশনার তারিখ
আগষ্ট ২৮, ২০১০
পৃষ্ঠাসংখ্যা২১০
আইএসবিএন ৯৭৮-০-৯৮১০০৩৭-৯-৫
ওসিএলসি৬৫৯১৭৪১৭৪

মাই সিজোফ্রেনিক লাইফ: দ্য রোড টু রিকভারি ফ্রম মেন্টাল ইলনেস হল কানাডিয়ান শিল্পী স্যান্ড্রা ইউয়েন ম্যাকের ২০১০ সালের একটি স্মৃতিকথা। ব্রিজরস কমিউনিকেশনস দ্বারা প্রকাশিত, এই বইটি ম্যাকের জীবনের প্রথম-ব্যক্তি পুনর্বিবেচনা, বিশেষ করে প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ের পরে। সিজোএফেক্টিভ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হবার পরে ম্যাকে তার শৈশব, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া, পেশাগত ইতিহাস, বিবাহ, তার শিল্পকলা এবং মানসিক অসুস্থতার ফলে হ্যালুসিনেশন এবং হাসপাতালে ভর্তির গল্প বর্ণনা করেন। বইটির উপসংহারে লেখকের এই স্বীকৃতির মাধ্যমে শেষ হয় যে তার অসুস্থতা "যাবজ্জীবন কারাদণ্ড" নয়।

মানসিকভাবে যারা অসুস্থ তাদের মধ্যে আরোগ্য লাভের আশা জাগানোর জন্য "মাই স্কিজোফ্রেনিক লাইফ" বইটি সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। যদিও একজন সমালোচক বইটির লেখার ধরণকে বিচ্ছিন্ন বলে অভিহিত করেছেন। বইটি প্রকাশিত হবার পর, ম্যাকে অলাভজনক সংস্থা কোস্ট মেন্টাল হেলথ থেকে ২০১২ সালে কারেজ টু কাম ব্যাক পুরস্কার জিতে নেন।

লেখক এবং পটভূমি

[সম্পাদনা]

স্যান্ড্রা ইউয়েন ম্যাককে হলেন বইটির লেখক, যিনি একজন ভ্যাঙ্কুভার, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, কানাডা-ভিত্তিক শিল্পী এবং লেখক। তিনি ল্যাঙ্গারা কলেজ থেকে চারুকলায় ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিল্প ইতিহাসে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তার লেখাগুলি দ্য প্রেইরি জার্নাল, দ্য বুলেটিন এবং ফ্রন্ট ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। []:২০৭–২০৮ ম্যাককে ছয় মাসের মধ্যে বইটির একটি খসড়া লিখেছিলেন;[] বইটিতে অন্তর্ভুক্ত কিছু নির্বাচিত অংশ ইতিপূর্বে 'দ্য বুলেটিনে' প্রকাশিত হয়েছিল। এই অংশগুলি বইটির জন্য সামান্য সম্পাদনা করা হয়েছে। []:১৩

২০১০ সালে ব্রিজরস কমিউনিকেশনস মাই সিজোফ্রেনিক লাইফ বইটি প্রকাশ করে। []

কাহিনীর সারসংক্ষেপ

[সম্পাদনা]

বইটিতে ম্যাককের শৈশব, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, তার কর্মজীবনের ইতিহাস, বিবাহ, শিল্পকলা এবং মানসিক অসুস্থতার ফলে তার হ্যালুসিনেশন (বিভ্রম) ও হাসপাতালে ভর্তির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ভ্যাঙ্কুভারে বেড়ে ওঠার সময় ম্যাককের শৈশব স্বাভাবিক ছিল কিন্তু হাই স্কুলে পড়ার সময় তিনি ক্রমশ নিজেকে অপদার্থ এবং লাজুক অনুভব করতে থাকেন। []:১৪–১৫ তিনি একঘেয়েমি এবং সামাজিক মেলামেশায় অক্ষমতা অনুভব করতেন তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এগুলো সাধারণ কিশোর-কিশোরীদের আচরণের অংশও হতে পারে।[]:১৫–১৬ নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ম্যাককের ঘ্রাণ, শ্রবণ এবং দৃশ্য বিভ্রম বা হ্যালুসিনেশন শুরু হয়।[]:১৮–১৯, ২৩

তিনি জানান যে, তার এক প্রিয় সহপাঠীর কাল্পনিক কণ্ঠস্বরের সাথে তার একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।[]: ২৬ তার ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বা হাইজিনের অবনতি ঘটে কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে শাওয়ারে কেউ তাকে নজরদারি করছে। তিনি প্রতিদিন একই পোশাক পরতেন[]:২৯ এবং পরিষ্কার করার পাউডার দিয়ে তার পরিবারের খাবারে বিষ মিশিয়ে দেওয়ার কথা ভাবতেন।[]:৩২ নিজের বাড়ি ভাঙচুর করা এবং ওষুধ খেতে অস্বীকার করার পর[]:৩৩–৩৪ তাকে একটি হাসপাতালের মনোরোগ ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়[]:৩৯ যেখানে তাকে একটি হ্যালডলে ইনজেকশন দেওয়া হয় এবং তার প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া রোগ নির্ণীত হয়।[]:৪০–৪১

ভিন্ন আরেকটি মনোরোগ ওয়ার্ডে থাকার সময় ম্যাককে অন্য এক রোগীর দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হন।[]:৪৯ তবে পরবর্তীতে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।[]:৫১–৫২ গ্রেগ নামে এক পরিচিত ব্যক্তি ম্যাককে ডেটে যাওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি তা গ্রহণ করেন।[]:৮০ তিনি হাই স্কুল শেষ করেন[]:৮১ এবং একটি কমিউনিটি কলেজ থেকে ফাইন আর্টস (চারুকলা) বিষয়ে ডিপ্লোমা নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।[]:৯০ এর পরপরই তিনি সরকারি বৃত্তিতে শিল্পকলার ইতিহাসের ওপর পড়াশোনার জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।[]:৯০

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তার ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং "ম্যানিয়া, বিষণ্নতা এবং বিভ্রম" তার মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করছিল।[]:৯২ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের তুলনায় কিছুটা বেশি সময় লাগলেও তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।[]:৯৬–৯৭

ম্যাককে জনসম্মুখে এমন একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়া শুরু করেন যেখানে তার আগে একজন বক্তা সিজোফ্রেনিয়ার কারণগুলো ব্যাখ্যা করেছিলেন।[]:১৯১ তিনি উল্লেখ করেন যে এখন তার বেশ কয়েকজন বন্ধু রয়েছে যা কয়েক বছর আগের পরিস্থিতির সম্পূর্ণ বিপরীত যখন তার কোনো বন্ধুই ছিল না।[]:১৯৫ সামাজিক কলঙ্ক বা কুসংস্কার মোকাবিলার ক্ষেত্রে ম্যাককে পরামর্শ দেন যে, হয় একে এড়িয়ে চলো অথবা সরাসরি দৃঢ়ভাবে এর মোকাবেলা করো।[]:১৯৮

বইটির শেষ অধ্যায় রিফ্লেকশনে ম্যাককে মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আশাবাদী হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং তার মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে সঠিক অন্তর্দৃষ্টি বা উপলব্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।[]:২০২–২০৩ তার এই অসুস্থতা কোনো "যাবজ্জীবন কারাদণ্ড" নয় এই উপলব্ধির মাধ্যমে লেখক বইটি লেখা শেষ করেন ।[]:২০৫

প্রতিক্রিয়া

[সম্পাদনা]

মাই সিজোফ্রেনিক লাইফ বেশ কয়েকটি প্রকাশনায় ইতিবাচকভাবে পর্যালোচিত হয়েছে। সাইকিয়াট্রিক সার্ভিসেস সাময়িকীতে মনোরোগবিদ্যার অধ্যাপক ক্যাথলিন ক্রাপানজানো উল্লেখ করেছেন যে, লেখকের চিত্তবিকারের বর্ণনার পাশাপাশি বইটির শেষদিকের প্রতিফলনগুলো একে "বিশেষভাবে অসাধারণ" করে তুলেছে। তিনি ম্যাককের লেখাকে সোজাসাপ্টা কিন্তু ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতিমুক্ত বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, যারা মানসিক অসুস্থতা থেকে সুস্থতার পথে আশা খুঁজছেন তারা এই বইটি থেকে অনেক উপকৃত হবেন।

প্রকাশনা পরবর্তী

[সম্পাদনা]

বইটি প্রকাশের পর, ২০১২ সালে ম্যাককে অলাভজনক সংস্থা 'কোস্ট মেন্টাল হেলথ' থেকে 'কারেজ টু কাম ব্যাক' পুরস্কার জয় করেন। এই পুরস্কারটি মূলত সেই সকল ব্রিটিশ কলম্বিয়ানদের সম্মান জানাতে দেওয়া হয় যারা তাদের জীবন "পুনর্গঠন করতে এবং অন্যদের পাশে দাঁড়াতে অবিশ্বাস্য শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক প্রতিকূলতা জয় করেছেন"। [] ২০১৩ সালে সমাজে বিশেষ অবদানের জন্য তাকে কুইন এলিজাবেথ দ্বিতীয় ডায়মন্ড জুবিলি মেডেল প্রদান করা হয়। []

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 MacKay, Sandra Yuen (২০১০)। My Schizophrenic Life: The Road to Recovery from Mental Illness। Bridgeross Communications। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৯৮১০০৩৭-৯-৫MacKay, Sandra Yuen (2010). My Schizophrenic Life: The Road to Recovery from Mental Illness. Ontario, Canada: Bridgeross Communications. ISBN 978-0-9810037-9-5.
  2. 1 2 Chadwick, Julie (৭ নভেম্বর ২০১২)। "Author details recovery from mental illness"Nanaimo Daily News। পৃ. A৫। প্রোকুয়েস্ট 1148955473। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুন ২০২৫
  3. "Sandra Yuen MacKay & the Art of Courage"। Coast Mental Health। সংগ্রহের তারিখ ৬ অক্টোবর ২০২৫
  4. MacKay, Sandra Yuen (২৬ ডিসেম্বর ২০১৫)। "How the Courage To Come Back Mental Health Award Award changed my life"Courage to Come Back Awards। Coast Mental Health। সংগ্রহের তারিখ ৬ অক্টোবর ২০২৫

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]