মহাপৃথিবী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
মহাপৃথিবী
Môhaprithibi
লেখক জীবনানন্দ দাশ
মূল শিরোনাম মহাপৃথিবী
দেশ ভারত
ভাষা বাংলা
ধরণ আধুনিক বাংলা কবিতা
প্রকাশক সত্যপ্রসন্ন দত্ত, পূর্বাশা লিমিটেড
প্রকাশনার তারিখ
১৯৪৪
মিডিয়া ধরণ মুদ্রিত গ্রন্থ
পাতা ৪৮ (প্রথম প্রকাশ)
পূর্ববর্তী বই বনলতা সেন (১৯৪২)
পরবর্তী বই সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮)

মহাপৃথিবী (ইংরেজি: Môhaprithibi) কবি জীবনানন্দ দাশের চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে (১৩৫১ বঙ্গাব্দ); প্রকাশক ছিলেন পূর্বাশা লিমিটেডের পক্ষে সত্যপ্রসন্ন ঘোষ। ঝরাপালক (১৯৪২), ধূসর পাণ্ডুলিপি (১৯৩৬) ও বনলতা সেন (১৯৪২) এর পর ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে ‘মহাপৃথিবী’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ করেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। মহাপৃথিবী’র সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা আট বছর আগের একদিন

জীবনানন্দ দাশ এই কাব্যটি কবি প্রেমেন্দ্র মিত্রসঞ্জয় ভট্টাচার্যকে উৎসর্গ করেছিলেন। ‘রয়াল’ আকারের ৪৮ পৃষ্ঠার গ্রন্থটির জন্য জীবনানন্দ দাশ ৩৫টি কবিতা বাছাই করিয়াছিলেন। পরবর্তীকালে অন্যান্য প্রকাশক ও সম্পাদক এ কাব্যগ্রন্থে নতুন কবিতা সংযোজন করেছেন। কবির মৃত্যুর পর ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার সিগনেট প্রেস কর্তৃক প্রকাশিত মহাপৃথিবী’র সংস্করণে কবিতার সংখ্যা ৩৯। আরো উল্লেখ্য যে, এ সংস্করণ থেকে বনলতা সেন-এর ১২টি কবিতা বাদ দেয়া হয়েছে।

উৎসর্গপত্র[সম্পাদনা]

জীবনানন্দ দাশ এই কাব্যটি কবি কবি প্রেমেন্দ্র মিত্রসঞ্জয় ভট্টাচার্যকে উৎসর্গ করেছিলেন। ২৪ বৎসরের ব্যবধানে ১৯৭০-এ প্রকাশিত সিগনেট সংস্করণে দেখা যায় উৎসর্গ পত্রে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। সিগনেটের কর্তৃপক্ষ লিখেদিয়েছিলেন: “শ্রীমতী মঞ্জুশ্রীকে -- বাবার আশীর্বাদ”। মঞ্জুশ্রী জীবনানন্দ দাশের কন্যা। পিতা তাকে আশীর্বাদস্বরূপ একটি গ্রন্থ উৎসর্গ করতেই পারেন। তবে স্মরণযোগ্য ১৯৫৪-তেই বাবা’র প্রয়াণ হয়েছিল। কবির মৃত্যুর চৌদ্দো বৎসর পরে সিগনেট প্রেস ‘মহাপৃথিবী’র ২য় সংস্করণ প্রকাশ করে।

ভূমিকা ও রচনা কাল[সম্পাদনা]

মহাপৃথিবী কাব্যগ্রন্থের ভূমিকায় জীবনানন্দ লিখেছেন:

"মহাপৃথিবী"র কবিতাগুলো (বঙ্গাব্দ) ১৩৩৬ থেকে ১৩৪৫-৪৮-এর ভিতর রচিত হয়েছিলো; বিভিন্ন সাময়িকপত্রে বেরিয়েছে (বঙ্গাব্দ) ১৩৪২ থেকে ১৩৫০-এ। 'বনলতা সেন' ও অন্য কয়েকটি কবিতা বার হয়েছিলো "বনলতা সেন" বইটিতে। বাকী সব কবিতা আজ প্রথম বইয়ের ভিতর স্থান পেল। শ্রাবণ, ১৩৫১

জীবনানন্দ দাশের স্বীয় ভাষ্য অনুযায়ী ‘মহাপৃথিবী’র কবিতাগুলি বঙ্গাব্দ ১৩৩৬ থেকে ১৩৪৫-৪৮ (১৯২৯ থেকে ১৯৩৮-৪১ খ্রিঃ) অবধি যুগব্যাপী কালপরিসরে বিরচিত। তবে ‘বনলতা সেন’ ও অন্য কয়েকটি কবিতা বনলতা সেন নামীয় কাব্যগ্রন্থে পূর্বেই (১৯৪২ খ্রিঃ) গ্রন্থস্থ হয়েছিল। বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থের প্রথম প্রকাশ পৌষ ১৩৪৯ (ডিসেম্বর ১৯৪২); কবি বুদ্ধিদের বসুর ‘কবিতাভবন’ থেকে প্রকাশিত ‘এক পয়সায় একটি’ গ্রন্থমালার অর্ন্তভুক্ত। বনলতা সেন-এর প্রথম সংস্করণে কবিতার সংখ্যা ১২। কবিতা: ১. বনলতা সেন ২. কুড়ি বছর পরে ৩. ঘাস ৪. হাওয়ার রাত ৫. আমি যদি হতাম ৬. হায় চিল ৭. বুনো হাঁস ৮. শঙ্খমালা ৯. নগ্ন নির্জন হাত ১০. শিকার ১১. হরিণেরা ১২. বিড়াল এবং জীবনানন্দ দাশ মহাপৃথিবীতে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।

জীবনানন্দ ‘মহাপৃথিবী’র ৩৫(-১২) টি কবিতা হইতে ১৩টি তাহার শ্রেষ্ঠ কবিতার (১৯৫৪) নির্বাচন করিয়াছিলেন। শ্রেষ্ঠ কবিতা’র ‘মনোকণিকা’, ‘সুবিনয় মুস্তফি’ ও ‘অনুপম ত্রিবেদী’ পরবর্তীকালে মহাপৃথিবী’র সিগনেট সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সারমর্ম[সম্পাদনা]

কবিতাসূচী[সম্পাদনা]

এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৩৫টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত আছে।[১] কবিতাগুলোর শিরোনাম হলোঃ

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বিভিন্ন সংস্করণের প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি নিম্নরূপ:

(ক) মহাপৃথিবী: প্রথম প্রকাশ ১৩৫১ (১৯৪৪)। প্রকাশক ও মুদ্রক : সত্যপ্রসন্ন দত্ত, পূর্বাশা লিমিটেড, পি ১৩ গণেশচন্দ্র এভিনিউ। উৎসর্গ: প্রেমেন্দ্র মিত্র, সঞ্জয় ভট্টাচার্য প্রিয়বরেষু, মূল্য: দেড় টাকা। রয়াল পৃ. ৮+৪০। প্রথম সংস্করণে কবিতার সংখ্যা ৩৫।

(খ) মহাপৃথিবী: প্রথম সিগনেট সংস্করণ বৈশাখ ১৩৭৬ (১৯৬৯)। প্রকাশক : দিলীপকুমার গুপ্ত, সিগনেট প্রেস, ২৫/৪ একবালপুর রোড, কলকাতা ২৩। প্রচ্ছদ : পৃথ্বীশ গঙ্গোপাধ্যায়। উৎসর্গ: শ্রীমতী মঞ্জুশ্রীকে--বাবার আশীবার্দ। প্রথম সংস্করণের ভূমিকা/সম্পাদনা মানবেন্দ্র বন্দোপাধ্যায় [২৪ আশ্বিন ১৩৭৫]। মূল্য: চার টাকা। পৃ. ১২+৮২। এই সংস্করণে কবিতার সংখ্যা ৩৯।

(গ) মহাপৃথিবী: প্রথম নিউ স্ক্রিপ্ট সংস্করণ, মাঘ ১৪১১ (জানুয়ারি ২০০৪)। প্রকাশক: অমিতানন্দ দাশ, নিউ স্ক্রিপ্ট, ১) ১৭২/৩, রাসবিহারী অ্যাভিনিউ, কলকাতা; ২) এ-১৪ কলেজ স্ট্রিট মার্কেট, কলকাতা উৎসর্গ: শ্রীমতি মঞ্জুশ্রীকে--বাবার আশীবার্দ। প্রচ্ছদ: অমিত রায়। মূল্য: সুলভ কুড়ি টাকা (পেপারব্যাক), শোভন তিরিশ টাকা (বোর্ড বাঁধাই)। পৃ. ৮৭। এই সংস্করণে কবিতার সংখ্যা ৩৫।

১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত সিগনেট সংস্করণে কবিতা সংখ্যা বৃদ্দি প্রসঙ্গে নিম্নরূপ ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছিল:

“সেইজন্যই আমরা ১৩৪২ থেকে ১৩৫১ বঙ্গাব্দের মধ্যে (স্মরণীয়: ‘মহাপৃথিবী’র প্রকাশকাল ১৩৫১) প্রকাশিত কবিতা থেকে অন্তত কিছু কবিতা সংগ্রহ করার চেষ্টা করি। এর পিছনে আমাদের বিনীত অভিপ্রায় ছিল এই যে, ‘মহাপৃথিবী’ থেকে চোদ্দটি কবিতা অন্যত্র সরানো হয়েছে, অন্তত এই সেই সংখ্যাক নূতন কবিতা যোগ ক’রে তাকে প্রায় একটি পূর্ববৎ আকার দেয়া। জীবনানন্দর অনেক স্মরণীয় ও কৌতূহলোদ্দীপক কবিতা লুপ্ত হয়ে যাবার আগেই, অন্তত তার কয়েকটিকে, আমরা তাঁর অনুরাগীদের কাছে তুলে ধরতে চাচ্ছিলুম। ১৩৩২ থেকে অন্তত ১৩৫০ পর্যন্ত জীবনানন্দ যে প্রায়-কোনো ‘অধিকৃত’ কবির মতো, কবিতা লিখছিলেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাঁর উপমা ও কাব্যভাষা তাঁরই দ্বারা সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত; তাঁর চিন্তা ও ইন্দ্রিয়ময়তার তীব্র ও ‘স্বতন্ত্র সারবত্তা’ স্বতই প্রকাশিত। সেই জন্যেই, প্রায় পঁচিশ বছর পরে, এখন, দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ করার সময়, তাঁর লেখা তৎকালীন অন্য কবিতা থেকে কয়েকটি এই ‘মহাপৃথিবী’তে প্রথিত হলো।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. কবিতাসমগ্র, আবদুল মান্নান সৈয়দ সম্পাদিত, অবসর প্রকাশনা সংস্থা, ঢাকা, ১৯৯৪, পৃ. ৬২০

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]