মসজিদ আল-হুদা
| মসজিদ আল-হুদা | |
|---|---|
জাভি: مسجد الهدى | |
২০০৭ সালে মসজিদ আল-হদা | |
| ধর্ম | |
| অন্তর্ভুক্তি | সুন্নি ইসলাম |
| অবস্থান | |
| অবস্থান | ৩৪ জালান হাজি আলিয়াস, সিঙ্গাপুর ২৬৮৫৩৪ |
| দেশ | সিঙ্গাপুর |
| স্থানাঙ্ক | ১°১৯′২৩″ উত্তর ১০৩°৪৭′৪১″ পূর্ব / ১.৩২৩১৩৯৫° উত্তর ১০৩.৭৯৪৭৯৭১° পূর্ব |
| স্থাপত্য | |
| ধরন | মসজিদ |
| স্থাপত্য শৈলী | ইসলামি স্থাপত্য |
| সম্পূর্ণ হয় | ১৯২৫ |
| বিনির্দেশ | |
| ধারণক্ষমতা | ৪০০ |
| গম্বুজসমূহ | ১ |
| মিনার | ১ |
মসজিদ আল-হুদা (জাভি: مسجد الهدى) সিঙ্গাপুরের বুকিত তিমাহ, সিঙ্গাপুর এলাকায় জালান হাজি আলিয়াস সড়কের পাশে অবস্থিত একটি মসজিদ। পুরোনো কাঠামোর পরিবর্তে ১৯৬৬ সালে মসজিদটি সম্পূর্ণভাবে পুনর্নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এটি ল্যান্ডেড টেরেস বাড়িঘর দ্বারা ঘেরা একটি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। বুকিত তিমাহ এলাকায় অবস্থিত দুটি মসজিদের একটি এটি; অন্যটি হলো লুইস রোডের পাশে অবস্থিত মসজিদ বা'আলউইয়ে।
নামকরণ
[সম্পাদনা]মসজিদের নাম আল-হুদা এসেছে একটি আরবি শব্দ আল-হুদা থেকে, যার অর্থ পথনির্দেশ বা হিদায়াত।[১][২][৩] ১৯৭০ সালে মসজিদ কমিটি এই নামটি নির্বাচন করে। সে সময় নতুন মসজিদগুলোর নাম মালয় বা মালয় ভাষা কিংবা তামিল ভাষা-এর পরিবর্তে আরবি নাম দিয়ে রাখার প্রবণতা ছিল।[৪]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]১৯২৫ সালে ওই এলাকার গ্রামবাসীদের জন্য একটি কাঠের সুরাউ (ছোট নামাজঘর) নির্মাণ করা হয়। জমিটি ছিল এক হিন্দু জমিদারের মালিকানাধীন, যিনি সুরাউ নির্মাণের জন্য জমি দান করেছিলেন।[৪][৫] এই সুরাউটি আশপাশের মালয় গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের জন্য ব্যবহৃত হতো। এসব গ্রামের মধ্যে ছিল কামপং টেম্পে, কামপং চানতেক, কামপং বানজির এবং কামপং হল্যান্ড।[৪][৫]
১৯৬৬ সালে সুরাউটি সম্পূর্ণভাবে পুনর্নির্মাণ করা হয় এবং এটিকে পূর্ণাঙ্গ মসজিদে রূপান্তর করা হয়। নতুন ভবনটি কংক্রিটের ইট দিয়ে নির্মিত হয় এবং আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি করা হয়।[৫] পুনর্নির্মাণের জন্য অর্থ মূলত দাতব্য খাদ্য বিক্রির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে টেম্পে বিক্রি ছিল উল্লেখযোগ্য, যা সে সময় গ্রামবাসীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ছিল।[৫]
১৯৯৯ সালে মসজিদের ছাদে ফাটল দেখা দেওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি নামাজঘরে ঢুকতে শুরু করে। ফলে মেরামতের জন্য মসজিদটি দুই মাস বন্ধ রাখা হয়।[৬] মেরামতের জন্য অর্থায়নের প্রধান অংশ আসে বুকিত তিমাহ এলাকার কর্মীদের কাছ থেকে এবং ওই এলাকার সাবেক মালয় গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের কাছ থেকেও অনুদান আসে।[৭]
২০১৪ সালে মসজিদটি ব্যাপকভাবে সংস্কার এবং নামাজঘর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়, যাতে আরও বেশি মুসল্লি সেখানে নামাজ আদায় করতে পারেন।[৮] ২০১৫ সালে সংস্কার কাজ শেষ হয়। এ সময় মসজিদের ভেতরে একটি নতুন সংযোজিত করিডর তৈরি করা হয়, যেখানে মসজিদের ইতিহাস তুলে ধরা হয় এবং ১৯২০-এর দশকের কিছু নিদর্শনও প্রদর্শন করা হয়।[৫][৯]
বর্তমানে মসজিদটি বুকিত তিমাহ পরিকল্পনা এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত।[৫][১০] ২০২১ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময় সিঙ্গাপুরের অন্যান্য মসজিদের মতো এটিও প্রভাবিত হয়েছিল।[১১] পরে মহামারী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মসজিদটি পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করে এবং ধর্মীয় ক্লাস ও অন্যান্য ইসলামি কর্মসূচি চালু রাখে।[১২]
ঘটনা
[সম্পাদনা]২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে মসজিদটিতে চুরি হয় এবং দানবাক্স থেকে ১২০ সিঙ্গাপুর ডলার চুরি করা হয়।[১৩][১৪] একই সন্দেহভাজন ব্যক্তি ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর আবারও মসজিদে ঢুকে দানবাক্স থেকে ৫০ সিঙ্গাপুর ডলার চুরি করে। একই দিন তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।[১৩][১৪]
যাতায়াত
[সম্পাদনা]মসজিদ আল-হুদা জালান হাজি আলিয়াস সড়কের পাশে একটি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত, যা মূলত টেরেস ঘরবাড়ি দ্বারা পরিবেষ্টিত। মসজিদের নিকটতম এমআরটি স্টেশন হলো ডাউনটাউন লাইনের অন্তর্ভুক্ত সিক্সথ অ্যাভিনিউ এমআরটি স্টেশন। এটি হুন সান মন্দির থেকে তিনটি রাস্তার দূরত্বে অবস্থিত। ১৯০২ সালে ফুজিয়ান প্রদেশের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে আসা চীনা অভিবাসীরা এই বৌদ্ধ মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন।[১৫]ref name=":4" />[১৫][১৬]
গ্যালারি
[সম্পাদনা]- মসজিদের প্রধান নামাজঘর।
- মসজিদের মিম্বর—যেখানে খতিব জুমার নামাজের সময় খুতবা প্রদান করেন।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Oxford English-English-Malay dictionary। Oxford Fajar। United States of America: Oxford University Private। ২০২২। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৩৪৭২৫৮৭৭।
- ↑ Comprehensive Malay Dictionary: English • Malay • Malay • English। Pelanduk Publications। ৩১ ডিসেম্বর ২০০০। আইএসবিএন ৯৬৭৯৭৮৭৫০৮।
- ↑ Ghazali, Amar; Rizwan, Muhammad (২০০৬)। Dictionary English-Malay Malay-English (1st সংস্করণ)। Selangor, Malaysia: Crescent News। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৩০৬১৮০৭৪।
- 1 2 3 "A mosque that originated from a surau"। Berita Harian। ২৫ মে ১৯৯৯। পৃ. ১৫।
- 1 2 3 4 5 6 "Masjid Al-Huda"। www.roots.gov.sg (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ অক্টোবর ২০২৫।
- ↑ "Masjid Al-Huda is closed for two months for improvisations"। Berita Harian। ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯। পৃ. ১৫।
- ↑ "The donators were mainly workers and former residents"। Berita Harian। ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯। পৃ. ১৫।
- ↑ Rahmat, Johari (৩১ মে ২০১৪)। "A unique approach to updating Masjid Al-Huda"। Berita Harian। পৃ. ১।
- ↑ Adilah, Nur (২৫ জুলাই ২০১৫)। "Masjid Al-Huda gets a new look after being upgraded using endowment proceeds"। Berita Harian। পৃ. ৬।
- ↑ "Bukit Timah Benchmarks"। Tabla। ৬ জানুয়ারি ২০১২। পৃ. ১২–১৩।
- ↑ Rencana (৩১ ডিসেম্বর ২০২১)। "The mosque is quite small, the location is quite remote... Masjid Al-Huda still prioritizes the comfort of its worshippers"। Berita Harian (মালয় ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ অক্টোবর ২০২৫।
- ↑ Esoof, Nur (২৮ নভেম্বর ২০২৪)। "Father, son travel Singapore in search of historic mosque"। Berita Harian (মালয় ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ অক্টোবর ২০২৫।
- 1 2 Lam, Lydia (৭ মার্চ ২০২৩)। "Jail for man who got financial aid from mosque and climbed back in to steal donations"। Channel News Asia (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ অক্টোবর ২০২৫।
- 1 2 Zalizan, Taufiq (২৭ মার্চ ২০২৪)। "Jail for man who returned to steal from same mosque after doing time, then tried to steal from 2nd mosque"। TODAY News (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ অক্টোবর ২০২৫।
- 1 2 "Masjid Al-Huda (Mosque) – 34 Jalan Haji Alias (S)268534"। www.streetdirectory.com। সংগ্রহের তারিখ ৬ অক্টোবর ২০২৫।
- ↑ "Hoon San Temple"। www.roots.gov.sg (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ অক্টোবর ২০২৫।