বিষয়বস্তুতে চলুন

মল্লিকপুর মসজিদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মল্লিকপুর জামে মসজিদ
অবস্থান নলছিটি উপজেলা, ঝালকাঠি জেলা, বাংলাদেশ
শাখা/ঐতিহ্য সুন্নি ইসলাম
স্থাপত্য তথ্য
ধরন মুঘল স্থাপত্য
গম্বুজ
ভবনের উপকরণ চুন-সুড়কি

মল্লিকপুর জামে মসজিদ বা মুঘল শাহ সুজার মসজিদ বাংলাদেশের ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন মুঘল স্থাপত্যশৈলীর মসজিদ। মসজিদটি মুঘল শাহ সুজার মসজিদ নামেও পরিচিত। মসজিদটি প্রায় ৪০০ বছরের পুরানো মুঘল স্থাপত্য।

অবস্থান

[সম্পাদনা]

মসজিদটি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সুগন্ধা নদীর দক্ষিণ তীরে নির্মাণ করা হয়। মসজিদটি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি শহরের নলছিটি-বরিশাল সড়ক সংলগ্ন মল্লিকপুর গ্রামে অবস্থিত।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

মসজিদটি মুঘল সম্রাট শাহ সুজার আমলে মল্লিকপুরে নির্মিত হয়। ধারণা করা হয় মসজিদটি সপ্তদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে নির্মাণ করা হয়েছে হয়।[] ১৬৪৮ সালে বরিশালের উপকূলীয় অঞ্চলে মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের উৎপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোঘল সম্রাট শাহজাহান তার পুত্র শাহজাদা সুজাকে বাংলার সুবেদার হিসেবে এই অঞ্চলে পাঠান। সুবেদার সুজা জলদস্যু দমন করতে এসে স্থানীয়দের অনুরোধে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। এই মসজিদটি ঐতিহাসিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং মোঘল স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়। মসজিদ গায়ে নির্মাণকাল হিসেবে ১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দ লেখা রয়েছে।[]

স্থাপত্য

[সম্পাদনা]

মসজিদটি একটি গম্বুজবিশিষ্ট। এর উচ্চতা প্রায় ৩০ ফুট এবং দেয়ালের পুরুত্ব ৩২ ইঞ্চি। নির্মাণকাজে চুন-সুড়কি ব্যবহার করা হয়েছে, যা মুঘল আমলের স্থাপত্যে প্রচলিত ছিল। প্রাথমিকভাবে মসজিদে একসাথে ৩০–৩৫ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। পরবর্তীকালে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় মসজিদের তিন পাশে বারান্দা যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে এখন প্রায় ১০০ জন মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করতে পারেন।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "প্রায় ৪০০ বছরের পুরানো মল্লিকপুর জামে মসজিদ রক্ষার দাবি"দৈনিক সবুজ বাংলা। ১১ জানুয়ারি ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০২৫
  2. "শাহ সুজার দৃষ্টিনন্দন মল্লিকপুর জামে মসজিদ"ntvbd.com। ১২ মার্চ ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০২৫
  3. "সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ৪০০ বছরের পুরোনো মসজিদ"জাগো নিউজ। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০২৫
  4. নিউজ, সময়। "জলদস্যু তাড়াতে এসে এই মসজিদ তৈরি করেছিলেন শাহ সুজা!"Somoy News। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০২৫