মনোযৌন বিকাশ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
মনঃসমীক্ষণ
Part of a series of articles on
Freud's couch, London, 2004 (2).jpeg
ডাক্তার সিগমুন্ড ফ্রয়েড, ১৯২১

মনোযৌন বিকাশ (Psychosexual development) হল বিশ্ববিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েড প্রদত্ত মানুষের মানসিক বিকাশ বিষয়ে এক বৈপ্লবিক তত্ত্ব। তিনি মানসিক বিকাশকে কাম তথা যৌনতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন। ফ্রয়েডের মতে, মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশ সর্বমোট পাঁচটি যৌন স্তরের মধ্যে দিয়ে সম্পূর্ণ হয়। এর যে কোনও একটিতে সমস্যা বিশেষ করে অতৃপ্তি ঘটে গেলে মানুষের ব্যক্তিত্ব অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। শিশুকাল থেকে যে পাঁচটি মানসিক যৌন স্তরের মধ্য দিয়ে মানুষকে যেতে হয় সেগুলো হলো:

  • মৌখিক অবস্থা (oral stage),
  • পায়ু অবস্থা (anal stage),
  • শিশ্ন অবস্থা (phallic stage),
  • সুপ্তযৌন অবস্থা (latency stage),
  • উপস্থ অবস্থা (genital stage)।


ফ্রয়েড বিশ্বাস করতেন যে, মানুষের যৌন বাসনাগুলি যদি ভালভাবে পূর্ণ না হয়, তবে মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সেজন্য তিনি মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশের স্তরগুলিকে মনোযৌন বিকাশ নামকরণ করেছিলেন। ফ্রয়েড মনোযৌন বিকাশ তত্ত্ব দ্বারা প্রমাণ করেন যে, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মতো শিশুদেরও যৌন অনুভূতি থাকে। শৈশবকালে নিজ দেহের যৌন-সংবেদী অঞ্চলগুলির সুখদায়ক অনুভূতি শিশুকে যৌন-তৃপ্তি দেয়। শৈশব যৌনতাকে ফ্রয়েড আত্ম-রতি (Auto-Erotism) বলে অভিহিত করেছিলেন।.[১][২]

ফ্রয়েডীয় মনোযৌন বিকাশ[সম্পাদনা]

অবস্থা বয়সসীমা যৌন-সংবেদী অঞ্চলে ক্রিয়া মানসিক সংস্থাপনের প্রভাবসমূহ
মৌখিক জন্ম – ১২-১৮ মাস মুখ মৌখিক সক্রিয়তাঃ চুইংগাম ও পেন্সিলের গোঁড়া ইত্যাদি চিবানো।
মৌখিক নিষ্ক্রিয়তাঃ ধূমপান, খাদ্যগ্রহণ, চুম্বন, মৌখিক যৌনচর্চা[৩]
মৌখিক দশার অবসাদ অনুভূতি একটি পরোক্ষ, অতি-আস্থাশীল, অপরিপক্ব ও হিসেবী ব্যক্তিত্বের জন্ম দিতে পারে।
পায়ু ১ - ৩ বছর পায়ু: মলত্যাগ ও মূত্রত্যাগ পায়ু সক্রিয়ক: অবসাদগ্রস্তভাবে সংগঠিত, অথবা মাত্রাতিরিক্তভাবে পরিচ্ছন্ন
পায়ুপথে বিচ্ছুরণ: দ্ব্যর্থহীন, বেপরোয়া, প্রতিরোধী, অসংগঠিত, সমবায় প্রবণতা
শিশ্ন ৩ - ৬ বছর কামাঙ্গসমূহ: যৌনাঙ্গ বিষয়ে কৌতূহল ইডিপাস কমপ্লেক্স (ছেলে ও মেয়ে উভয়ের মধ্যে); সিগমণ্ড ফ্রয়েডের মতবাদ অনুসারে।

ইলেক্ট্রা কমপ্লেক্স (মেয়দের মধ্যে); কার্ল ইয়ুং অনুযায়ী।

সুপ্তকাম ৬ - কৈশোর যৌন কামনা-বাসনা সুপ্ত উদ্ভব যৌন অতৃপ্তি, যদি এ পর্যায়ে অবসন্নতা ঘটে যায়।
উপস্থ কৈশোর - মৃত্যুকাল যৌন কামনা-বাসনার পরিপক্কতা কাম শীতলতা, ধ্বজভঙ্গ, অপূর্ণ সম্পর্কসমূহ

সমস্যা[সম্পাদনা]

ইডিপাস কমপ্লেক্স[সম্পাদনা]

Oedipus complex: Oedipus explains the riddle of the Sphinx, Jean Auguste Dominique Ingres. (ca. 1805)

ইডিপাস কমপ্লেক্স হচ্ছে মনোবিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েডের সৃষ্ট একটি মতবাদ। এই মতবাদ অনুসারে বলা যায়, পিতার প্রতি মেয়ে শিশুর ভালোবাসা এবং মায়ের প্রতি ছেলে শিশুর ভালোবাসা বিদ্যমান। ইডিপাস কমপ্লেক্স-এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে মাতার প্রতি শিশু পুত্রের দৈহিক আসক্তি,পিতার প্রতি শিশু পুত্রের ঈর্ষাবোধ এই আসক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

ইলেক্ট্রা কমপ্লেক্স[সম্পাদনা]

Electra complex: Electra at the Tomb of Agamemnon, by Frederic Leighton, c.1869

ইলেকট্রা কমপ্লেক্স হল কন্যা সন্তানের পিতার প্রতি থাকা এক ধরণের অবচেতন যৌনকামনা। ইলেকট্রা কমপ্লেক্স সংঘটিত হয় মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশের তৃতীয় স্তরে শিশ্ন অবস্থায় (৩ - ৬ বছর বয়সে) নিজ দেহের যৌন-সংবেদী অঞ্চলগুলির সুখদায়ক অনুভূতির সময়। বিশ্ববিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী সিগমাণ্ড ফ্রয়েডের মতবাদ অনুসারে, শৈশব কালেতেই কন্যা সন্তানদের পিতার প্রতি এক ধরণের অনুরাগ অথবা আকর্ষণ গড়ে ওঠে ও এই অনুরাগ গড়ে সন্তানের অকালজাত যৌন চেতনার প্রভাবে। এর সমান্তরালভাবে কন্যাসন্তানদের মনে মায়ের প্রতি এক ধরণের বিরাগ বা বিকর্ষণ ঠাই নেয়।
ইলেকট্রা কমপ্লেক্সের ধারণাটি গ্রীস দেশের এক পৌরাণিক লোক-কাহিনীর সাথে জড়িত হয়ে আছে। এই কাহিনী অনুসারে, ইলেকট্রা নামে একজন নারী যে তাঁর এক ভাইয়ের সঙ্গে মিলে নিজের মাকে হত্যা করে পিতার সাথে বিয়ে করেছিল। এই কাহিনীকে মনে করে সিগমুন্ড ফ্রয়েড কন্যা সন্তানের এই অসুস্থ যৌন মানসিকতাটির নাম রেখেছিলেন নারীবাদী ইডিপাস মনোভাব বা ঋণাত্মক ইডিপাস কমপ্লেক্সইলেকট্রা কমপ্লেক্স শব্দটি কার্ল ইয়ুং ১৯১৩ সালে সর্বপ্রথম প্রচলন করেন।

কামশীতলতা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Introduction to Sigmund Freud, Module on Psychosexual Development"। Cla.purdue.edu। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৮-০১ 
  2. Bullock, A., Trombley, S. (1999) The New Fontana Dictionary of Modern Thought Harper Collins:London pp. 643, 705
  3. Myre, Sim (1974) Guide to Psychiatry 3rd ed., Churchill Livingstone: Edinburgh and London pp. 35, 407