বিষয়বস্তুতে চলুন

মনসুর ইবনে আবদুর রহমান আল-তানুখি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মনসুর ইবনে আবদুর রহমান আল-তানুখি
منصور بن عبد الرحمن التنوخي
ইয়েমেনের আব্বাসীয় গভর্নর
কাজের মেয়াদ
৮৩৮  ৮৪২
সার্বভৌম শাসকআল-মুতাসিম,
আল-ওয়াসিক
ডেপুটিআবদুল্লাহ ইবনে হামদাওয়েহ ইবনে আলি ইবনে ঈসা ইবনে মাহানন
পূর্বসূরীআবদুর রহমান ইবনে জাফর ইবনে সুলায়মান আল-হাশিমি
উত্তরসূরীআবুল আলা আহমদ আল-আমিরি
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মআব্বাসীয় খিলাফত

মানসুর ইবনে আবদুর রহমান আল-তানুখি ( আরবি: منصور بن عبد الرحمن التنوخي) ছিলেন একজন আব্বাসীয় কর্মকতা, যিনি নবম শতাব্দীতে আব্বাসীয় খিলাফতের অধীনে ইয়েমেনে একজন গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৮৩৮ থেকে ৮৪২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ইয়েমেনের গর্ভনর ছিলেন।

জীবনী

[সম্পাদনা]

মানসুর ইবনে আবদুর রহমানের প্রাথমিক জীবনী সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তাঁর কর্মজীবনের ব্যাপারে বলা হয় যে, জাফর ইবন দিনার আল-খাইয়্যাতের প্রতিনিধিত্বে তাকে ইয়েমেনের স্থায়ী গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। জাফর ইবন দিনার আল-খাইয়াত তখন আব্বাসীয় খলিফা আল-মুতাসিমের (শা. ৮৩৩–৮৪২) পক্ষ থেকে ইয়েমেনের প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্বে নিযুক্ত হয়ে মানসুর ৮৩৯ সালের শেষে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় প্রবেশ করেন। প্রথমদিকে তিনি প্রদেশটি একাই পরিচালনা করতেন, যার ফলে প্রশাসনিক, সামরিক এবং আর্থিক বিভাগের দায়িত্ব তিনি নিজেই সামলাতেন। তবে শীঘ্রই জাফরের সহকারী গভর্নর আব্দুল্লাহ ইবন হামদায়েহ তাঁর সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর দুইজন গভর্নরের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি শুরু হয়। তবে ক্ষমতা নিয়ে উভয়ের মাঝে দ্বন্দ্ব বা সংঘর্ষের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না।[]

৮৪০ সালে জাফরকে গভর্নরের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এই পরিস্থিতিতেও মানসুর ও আবদুল্লাহকে তাদের পদে বহাল রাখা হয়। জাফরের উত্তরসূরি গভর্নর হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ইতাখ তাদের উভয়ের ক্ষমতা নিশ্চিত করেন। ফলে তারা ইয়েমেনে কার্যত কেন্দ্রীয় শাসনের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। এভাবে তারা প্রায় দুই বছরেরও অধিক সময় ধরে প্রাদেশিক প্রশাসন পরিচালনা করেন, যা খলিফা আল-মুতাসিমের মৃত্যু (৮৪২ খ্রি.) পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। আল-মুতাসিমের মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি আল-ওয়াসিক ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং ইতাখ মানসুর ও আব্দুল্লাহ উভয়কে বরখাস্ত করে তাঁদের স্থলে আবুল আলা আহমদ আল-আমিরিকে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু আবুল আলা তখনো সানা পৌঁছাতে পারেননি; এমন সময় হঠাৎ শহরটি ইউফিরি বিদ্রোহী নেতা ইউফির ইবনে আব্দুর রহমানের কারণে হুমকির মুখে পড়ে। তিনি শহর দখলের উদ্দেশ্যে তারিফ ইবনে সাবিত বা মালিকের নেতৃত্বে নিজের বাহিনী প্রেরণ করেন। এই সংকটে চলাকালীন মানসুর সক্রিয়ভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেন। তিনি নিজের বাহিনী নিয়ে শহরের বাইরে এগিয়ে যান এবং ইউফিরিদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে লিপ্ত হন। যুদ্ধের ফলাফলে ইউফিরিরা পরাজিত হয় এবং নিরাপত্তার জন্য তারা নিজেদের প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। এই বিজয়ের ফলে শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং আবুল আলা আহমেদ আল-আমিরি কোনো বাধা ছাড়াই সানায় প্রবেশে করেন।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Al-Mad'aj 1988, পৃ. 215–16; Van Arendonk 1919, পৃ. 103–04; Bikhazi 1970, পৃ. 30; Ibn Abd al-Majid 1985, পৃ. 37–38.
  2. Al-Mad'aj 1988, পৃ. 215–16; Van Arendonk 1919, পৃ. 103–04; Bikhazi 1970, পৃ. 30; Ibn Abd al-Majid 1985, পৃ. 37–38.

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]
  • Bikhazi, Ramzi J. (১৯৭০)। "Coins of al-Yaman 132-569 A.H."Al-Abhath২৩: ৩–১২৭। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুন ২০১৬
  • Ibn Abd al-Majid, Taj al-Din 'Abd al-Baqi al-Yamani (১৯৮৫)। Ta'rikh al-Yaman al-Musamma Bahjat al-Zaman fi Ta'rikh al-Yaman। Sana'a: Dar Kalimah।
  • Al-Mad'aj, Abd al-Muhsin Mad'aj M. (১৯৮৮)। The Yemen in Early Islam (9-233/630-847): A Political History। London: Ithaca Press। আইএসবিএন ০৮৬৩৭২১০২৮
  • Van Arendonk, Cornelius (১৯১৯)। De Opkomst Van Het Zaidietische Imamaat in Yemen। Leiden: E.J. Brill। আইএসবিএন ০৮৬৩৭২১০২৮ {{বই উদ্ধৃতি}}: আইএসবিএন / তারিখের অসামঞ্জস্যতা (সাহায্য)