মনছর হ্রদ

স্থানাঙ্ক: ২৬°২৫′২৩″ উত্তর ৬৭°৪০′২৩″ পূর্ব / ২৬.৪২৩° উত্তর ৬৭.৬৭৩° পূর্ব / 26.423; 67.673
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মনছর
Manchar SPOT 1299.jpg
অবস্থানমনছর হৃদ সেহওয়ান শরীফ থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে সিন্ধু নদীর পশ্চিম দিকে জামশোরো জেলায় অবস্থিত
স্থানাঙ্ক২৬°২৫′২৩″ উত্তর ৬৭°৪০′২৩″ পূর্ব / ২৬.৪২৩° উত্তর ৬৭.৬৭৩° পূর্ব / 26.423; 67.673
হ্রদের ধরনজলাধার
যার অংশসিন্ধু নদী অববাহিকা
প্রাথমিক অন্তর্প্রবাহআরাল ওয়াহ খাল, ড্যানিস্টার খাল, নাই গজ
প্রাথমিক বহিঃপ্রবাহসিন্ধু নদী
অববাহিকার দেশসমূহপাকিস্তান
সর্বাধিক দৈর্ঘ্য২৩.৫ কিমি (১৪.৬ মা)
সর্বাধিক প্রস্থ১২.০৮ কিমি (৭.৫১ মা)
পৃষ্ঠতল অঞ্চল২২৮ থেকে ২৫০ কিমি (৮৮ থেকে ৯৭ মা)
সর্বাধিক গভীরতা৫ মি (১৬ ফু)
পানির আয়তন৬,০০,০০০ acre feet (৭৪,০০,০০,০০০ মি)
পৃষ্ঠতলীয় উচ্চতা৩৫ মিটার (১১৫ ফু)
দ্বীপপুঞ্জবহু দ্বীপপুঞ্জ এবং ক্ষুদ্র দ্বীপ
২০১০ সালে পাকিস্তানে বন্যার সময় স্ফিত সিন্ধু নদীর বাম দিকে বন্যাকবলিত হ্রদের চিত্র

লেক মনছর (সিন্ধি: منڇر ڍنڍ , উর্দু: منچھر جھیل‎‎)[১] পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রাকৃতিক মিঠা পানির হ্রদ[২] এবং এটি এশিয়ার মধ্যেও বৃহত্তম একটি।[৩] এটি সিন্ধু নদীর পশ্চিমে জামশোরো জেলা এবং সিন্ধুর দাদু জেলাতে সেহওয়ান শরীফ থেকে ১৮ কিমি দূরে অবস্থিত।[৪] মনছর হ্রদ কীর্তর পর্বতমালার অসংখ্য ছোট ছোট প্রবাহ থেকে পানি সংগ্রহ করে এবং পরে সিন্ধু নদীতে খালি করে।[৫] হ্রদের পৃষ্ঠের অঞ্চলটি বিভিন্ন ঋতুর সাথে ওঠানামা করে, সর্বনিম্ন ৩৬ বর্গকিলোমিটার থেকে[৬] থেকে বর্ষাকালীন বৃষ্টির সময় ৫০০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত।[৭]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

হ্রদের তীর ও আশেপাশে রয়েছে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান যেমন গাজী শাহ, ওয়াহী পান্ধি আলী মুরাদ[৮] মনছর হ্রদের কিনারায় অবস্থিত লাল চট্টো, মাশাক লোহরী এবং লখিওয়ের স্থানগুলি প্রাচীনতম স্থান[৯][১০] যা হরপ্পান সংস্কৃতি থেকে প্রাপ্ত।[১১]

কাশমোর থেকে সিন্ধু নদীর একটি শাখা প্রবাহিত হওয়ায় এই হ্রদটি তৈরি হয়েছিল।[৯] ১৯২১ সালে এটি মেইন নারা ভ্যালি ড্রেন দিয়ে হামল হ্রদের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছিল।[১২] ১৯৫৮ সালে খরার কারণে এই হ্রদটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে গিয়েছিল। ২০০৯ সালের ১০ আগস্ট থেকে ২৩ আগস্ট সিন্ধু নদীর মাধ্যমে ৭০০ ঘনফুট/সে (২০ মি/সে) পানি হ্রদে প্রবর্তিত হয়েছিল।[১৩] ২০১০ সালের বন্যায় পানির উচ্চ প্রবাহের কারণে হ্রদটি উপচে পড়েছিল।[১৪]

ভূগোল[সম্পাদনা]

মনছর হ্রদ হামাল হ্রদের দক্ষিণে অবস্থিত এবং এ হৃদ দুটি ১৯২১ সালে নির্মিত মূল নারা ভ্যালি ড্রেন দ্বারা সংযুক্ত।[১২] মনছর হ্রদের পৃষ্ঠের অঞ্চলটি ঋতুর সাথে ওঠানামা করে যা প্রায় সর্বনিম্ন ২০০ বর্গকিলোমিটার থেকে বর্ষাকালীন বৃষ্টির সময় ৫০০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর গড় গভীরতা মাত্র ২.৫ থেকে ৩.৭৫ মিটার।[৭] এটি সিন্ধুর তলদেশের চেয়ে ৬ মিটার নিচু এবং কখনও কখনও নদী থেকে বন্যার পানি এসে জমে। শীতকালে যখন নদীর গভিরতা কম থাকে, তখন হ্রদ থেকে পানি সিন্ধুতে প্রবাহিত হয়।[৬] খাল থেকে স্বাদুপানির প্রবাহের পরিমাণ ১.৫৪ এমএএফ, এবং এই অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ৪.৪৬ ইঞ্চি।

হ্রদের দক্ষিণ প্রান্তটি কীর্তর পর্বতের একটি শাখা লাকি পাহাড়ের গোড়ায় অবস্থিত। যেখান থেকে আরাল নালা[১৫] ও ড্যানিস্টার খালের মধ্য দিয়ে পানি সিন্ধুতে প্রবাহিত হয়।[১৬]

পরিবেশগত অবনতি[সম্পাদনা]

হ্রদটি হাজার হাজার জেলের অবলম্বন যারা হ্রদের মিঠা পানির মাছের উপর নির্ভর করে।[১৭] ১৯২১ সালে মূল নারা ভ্যালি ড্রেন নির্মাণের পর থেকে এই জলাশয়ে নর্দমা প্রবাহের সাথে পরিবেশের অবক্ষয় ঘটে।[১২]

সিন্ধুর গতিপথ পরিবর্তন এবং কীর্তর পর্বতমালার ঝড়ের প্রবাহিত হওয়া পরিষ্কার পানির সরবরাহ হ্রাস করেছে। ফলস্বরূপ পানি লবণাক্ত হয়ে গেছে এবং মাছ মেরে ফেলেছে। একই সময়ে বেলুচিস্তান এবং আশেপাশের অঞ্চলের কৃষিক্ষেত্রের লবণাক্ত নর্দমার পানি মনছড় হ্রদে প্রবাহিত হয়। হ্রদটি সাইবেরিয়ান অভিবাসী পাখিদের জন্য সিন্ধু ফ্লাইওয়েতে একটি স্টপ অফ ছিল, তবে ১৯৮৮ সালে গণনা করা ২৫,০০০ পাখির সংখ্যাটি সম্প্রতি কমে ২০০২ সালে মাত্র ২,৮০০ এ এসে দাঁড়িয়েছে কারণ হ্রদটি আর পাখির প্রধান খাবার মাছ সরবরাহ করে না। পাখিদের জায়গায় হ্রদটিতে এখন নোনা পানির নল রয়েছে।

এই হ্রদটি সেচের জন্য প্রচুর পরিমাণে জল সরবরাহ করতো। তবে হ্রদের মাধ্যমে সেচ দেওয়া ফসলী অঞ্চল ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। হ্রদ দূষণ থেকে বাঁচাতে রাইট ব্যাংক আউটফুল ড্রেন তৈরি করা হচ্ছে।[১৮] নৈ গজ বাঁধটি নির্মাণ করলে শুধুমাত্র মৌসুমি প্রবাহের পরিবর্তে সারাবছরই হৃদে মিঠাপানির প্রবাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে যার ফলে লেকের অবস্থার উন্নতি হতে পারে।[৩]

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

মনছর হ্রদটি মোহনা উপজাতির বাসস্থান, যাদের মাঝে মাঝে "নৌকার মানুষ" বলা হয়।[১৯] হ্রদটি মিঠা পানির মাছের উপর নির্ভরশীল হাজার হাজার জেলের অবলম্বন।[১৭]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Manchhar Lake | lake, Pakistan"Encyclopædia Britannica। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-২০ 
  2. "Indus River and Manchhar Lake"earthobservatory.nasa.gov। ২০১০-০৯-১০। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-২০ 
  3. "NaiGaj Dam inevitable for revival of Manchar Lake"Daily Times। ২০১৯-০৮-২৮। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-২০ 
  4. "Manchar Lake"Discover Pakistan। ২০১৮-১২-২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১২-১১ 
  5. "Manchar Lake - The Largest Artficial Freshwater Lake in Pakistan"Pakistantoursguide.com। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০১৮ 
  6. Goudie, Andrew (২০০২)। Great Warm Deserts of the World: Landscapes and Evolution (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। আইএসবিএন 978-0-19-924515-4 
  7. Ebrahim, Zofeen; September 17। "Photo story: The destruction of Pakistan's Manchar lake"The Third Pole। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-২০ 
  8. Ahmed, Mukhtar (২০১৪-১০-২৫)। Ancient Pakistan - an Archaeological History: Volume III: Harappan Civilization - the Material Culture। Amazon। আইএসবিএন 9781495966439 
  9. Abraham, Shinu Anna; Gullapalli, Praveena (২০১৬-০৬-১৬)। Connections and Complexity: New Approaches to the Archaeology of South Asia। Routledge। আইএসবিএন 9781315431840 
  10. Majumdar, Nani Gopal (১৯৯৬)। Explorations in Art and Archaeology of South Asia: Essays Dedicated to N.G. Majumdar। Directorate of Archaeology and Museums, Government of West Bengal। 
  11. Shendge, Malati J. (জুন ২০০৩)। The Civilized Demons: The Harappans in Rigveda। Abhinav Publications। আইএসবিএন 9788170170648 
  12. Ilyas, Faiza (২০১২-০৩-১৫)। "Release of minimum 10MAF water downstream Kotri urged"Dawn। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-২০ 
  13. http://www.akhbar-e-jehan.com/home/text/317hydrabad.gif[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] Baluchistan and Punjab Poisoning the Manchar Lake
  14. "Six weeks on, south Pakistan faces new flood threat"। Reuters। ২০১০-০৯-১৩। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-২০ 
  15. Pruthi, R. K. (২০০৪)। Indus Civilization (ইংরেজি ভাষায়)। Discovery Publishing House। আইএসবিএন 978-81-7141-865-7 
  16. "DADU: Manchhar lake to get water from Indus"Dawn। ২০০৬-০৬-২৬। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-২০ 
  17. "Rebuilding life on Manchar Lake in Pakistan"Caritas। ২০১১-০৭-২৬। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-২০ 
  18. "PC-I for Right Bank Outfall Drain rejected" 
  19. "PROJECT APPRAISAL DOCUMENT ON A PROPOSED CREDIT IN THE AMOUNT OF 100.1 SDR MILLION (US$150.2 MILLION EQUIVALENT) TO THE ISLAMIC REPUBLIC OF PAKISTAN FOR A SINDH WATER SECTOR IMPROVEMENT PHASE-I PROJECT" (PDF)। World Bank। ২০০৭। ৪ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  • Zofeen Ebrahim। "Life on Lake Turns from Sweet to Bitter"। Asia Water Wire। ২০১০-০১-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৬-১৪