মধ্যদেশ
মধ্যদেশ বা “মধ্য দেশ” ছিল প্রাচীন ভারতের পাঁচটি উপবিভাগের মধ্যে অন্যতম, যা গঙ্গা ও যমুনার উজানের অঞ্চল থেকে প্রয়াগে এই দুই নদীর সঙ্গমস্থল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। মধ্য অঞ্চলের ভূখণ্ডটি ভৌগোলিকভাবে ও সাংস্কৃতিকভাবে একটি সুসংহত সত্তা। উত্তর ভারতে (প্রাচীন আর্যাবর্ত) এই অঞ্চলটি অতি প্রাচীনকাল থেকেই ইতিহাসের প্রধান স্রোতধারা এবং সভ্যতার প্রসারে দিকনির্দেশক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।[১]
ঐতিহাসিকভাবে, মধ্যদেশে কনৌজ বা কান্যকুব্জের আধিপত্য ছিল যা কনৌজকে মধ্যদেশ ও আর্যাবর্তের আশেপাশের সাংস্কৃতিক রাজধানী ও কেন্দ্রে পরিণত করেছিল।[২][৩]
খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে এই অঞ্চলের ইতিহাস সঠিকভাবে পুনরুদ্ধার করা যায়। হিন্দু পুরাণ অনুসারে সমগ্র অঞ্চলটি পবিত্র বলে বিবেচিত হয়, কারণ রামায়ণ ও মহাভারত —এই দুই মহাকাব্যে উল্লেখিত দেবদেবী ও বীরেরা এখানেই বাস করতেন। এর পরবর্তী ইতিহাস পুরাণ ও অন্যান্য হিন্দু ধর্মগ্রন্থের সাথে মিশে গিয়েছিল। এই অঞ্চলে কুরু, পাঞ্চাল, কোশল এবং কুষাণ ও গুপ্ত রাজবংশের মতো বেশ কয়েকটি মহাজনপদের উত্থান ও পতন পরিলক্ষিত হয়েছে। খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে গুপ্ত রাজবংশের পতনের পর, এই অঞ্চলটি কন্নৌজের মৌখারি এবং থানেশ্বরের হর্ষদের মতো আঞ্চলিক শক্তি দ্বারা শাসিত হয়েছিল। ৯ম ও ১০ম শতাব্দীতে গুর্জর প্রতিহার এবং গাহড়বলরা এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করেছিল।[৪]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Mukhopadhyay, Mihir Mohan (১৯৮৪)। Sculptures of Ganga-Yamuna Valley (ইংরেজি ভাষায়)। Abhinav Publications। পৃ. ৫। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৭০১৭১৮৯৮।
- ↑ Nicolas Jimenez, Silvia Aguero (২০২০)। Resistencias gitanas। Editorial libros.com। আইএসবিএন ৯৭৮-৮৪-১৮২৬১-৭২-৫।
- ↑ Pruthi, R.K. (২০০৪)। The Classical Age (ইংরেজি ভাষায়)। Discovery Publishing House Pvt. Limited। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭১৪১-৮৭৬-৩।
- ↑ Singh, Pitam (২০০৩)। Women Legislators in Indian Politics (ইংরেজি ভাষায়)। Concept Publishing Company। পৃ. ৬২। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৮০৬৯০১৯৮।