মদন মোহন (সুরকার)
মদন মোহন | |
|---|---|
| জন্ম | মদন মোহন কোহলি ২৫ জুন ১৯২৪ |
| মৃত্যু | ১৪ জুলাই ১৯৭৫ (বয়স ৫১) |
| জাতীয়তা | ভারতীয় |
| পেশা | সঙ্গীত পরিচালক কণ্ঠশিল্পী |
| কর্মজীবন | ১৯৫০–১৯৭৫ |
| সন্তান | সঞ্জীব কোহলি সমীর কোহলি |
| আত্মীয় | Anju Mahendru (niece) |
| পুরস্কার | ১৯৭১: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, সেরা সঙ্গীত পরিচালনা – দস্তক |
| ওয়েবসাইট | দাপ্তরিক ওয়েবসাইট |
মদন মোহন কোহলি (২৫ জুন ১৯৪২ – ১৪ জুলাই ১৯৭৫), (যিনি মদন মোহন নামে পরিচিত), ছিলেন ভারতের বিশ শতকের পঞ্চাশ, ষাট ও সত্তর দশকের কিংবদন্তী সুরকার ও প্রবাদপ্রতিম সঙ্গীত পরিচালক। নিজের সৃষ্ট সঙ্গীতে তিনি তুলে ধরেছেন স্বকীয় বৈশিষ্ট্য - যা নির্দিষ্ট নিয়মবিধি অনুকরণ করে না, কিন্তু শ্রোতারা ঠিক নিশ্চিত হয়ে যান এটি একান্তই মদন মোহন।[১] অধীত দক্ষতায় হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে এক অসামান্য সাঙ্গীতিক পরিমণ্ডল গড়েন।[২] তিনি ছিলেন গজলের রাজকুমার। হিন্দি ছবিতে তার অবিস্মরণীয় গজলের সফল প্রয়োগে কণ্ঠ দেন লতা মঙ্গেশকর, মোহাম্মদ রফি এবং তালাত মাহমুদ.[৩][৪]
জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন
[সম্পাদনা]মদন মোহন ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জুন ব্রিটিশ ইরাকের বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা রায় বাহাদুর চুনীলাল কোহলি ছিলেন ইরাক পুলিশ বাহিনীর অ্যাকাউন্ট জেনারেল। মদন মোহনের শৈশবে প্রথম পাঁচ বছর অতিবাহিত হয় মধ্যপ্রাচ্যে। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের পর তার পরিবার নিজের শহর ব্রিটিশ ভারতের (অধুনা পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের) চকওয়ালে। পিতা ব্যবসার সন্ধানে বোম্বাই অধুনা মুম্বই চলে যাওয়ার সময় মদনমোহন সঙ্গীতপ্রেমী পিতামহের হেকিম যোগরাজের তত্ত্বাবধানে থাকেন। পরবর্তী কয়েক বছর তিনি লাহোরের একটি স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা করেন। সেই সময়ে, তিনি কিছুদিন কর্তার সিং-এর কাছ থেকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বুনিয়াদি পাঠ নেন, যদিও তিনি কখনও সঙ্গীতের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ পাননি। পরে তার পরিবার মুম্বাইতে গেলে তিনি ১১ বৎসর বয়সে বাইকুল্লার 'সেন্ট মেরি স্কুল'-এ ভর্তি হন এবং সিনিয়র কেমব্রিজ সম্পন্ন করেন। এই সময়েই তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিওর শিশুদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শুরু করেন। ১৭ বছর বয়সে, তিনি দেরাদুনের কর্নেল ব্রাউন কেমব্রিজ স্কুলে ভর্তি হন এবং এক বছরের প্রশিক্ষণ নেন।
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]সূচনাকাল-
[সম্পাদনা]মদন মোহন কর্মজীবনের সূচনায় ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে যোগ দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন। তারপর তিনি সঙ্গীতের টানে সেনাবাহিনী ছেড়ে মুম্বাই ফিরে আসেন। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে, তিনি আকাশবাণী লখনউ কেন্দ্রের প্রোগ্রাম সহকারী হিসেবে যোগ দেন। এরই সুবাদে তিনি উস্তাদ ফৈয়াজ খান, উস্তাদ আলী আকবর খান, উস্তাদ বড়ে গুলাম আলী খান, তালাত মাহমুদ, গজলসম্রাজ্ঞী বেগম আখতার প্রমুখ জ্যোতিষ্কদের সংস্পর্শে আসেন। তাদের সান্নিধ্য মদনমোহনের সাঙ্গীতিক সত্তার স্ফূরণে অসম্ভব সাহায্য করে।[৫] এই সময়কালে তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিওতে সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানের জন্য সঙ্গীত রচনাও করেন। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে, তিনি অল্প সময়ের জন্য আকাশবাণী দিল্লি কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হন।
মদন মোহন গান গাইতে খুব পছন্দ করতেন, তাই ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি বেহজাদ লক্ষ্নভীর দুটি গজল, "আনে লগা হ্যায় কোই নজর জলওয়া মুঝে" এবং "ইস্ রাজ কো দুনিয়া জানতি হ্যায়" রেকর্ড করার প্রথম সুযোগ পান। এরপরই, ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিওয়ান শররের লেখা আরও দুটি ব্যক্তিগত গজল রেকর্ড করেন, ও আয়ে তো মেহফিল মে ইথলাতে হুয়ে আয়ে এবং দুনিয়া মুঝে কহতি হ্যায় কে ম্যায় তুঝকো ভুলা দুঁ।
সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের সাথে মদন মোহনের প্রথম পরিচয় হয় ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে, ভাই বোনের সিকোয়েন্সে দ্বৈতকণ্ঠে ফিল্মিস্তান-এর "শহীদ" ছবির রেকর্ডিং-এ। সুরকার মাস্টার গোলাম হায়দারের সুরারোপিত- পিঞ্জরে মে বুলবুল বোলে এবং মেরা ছোটাসা দিল দোলে গান দুটিতে। দ্বৈতকণ্ঠে গাওয়া গান দুটি চলচ্চিত্রের জন্য প্রথম গাওয়ার হলেও গান দুখানি কখনই মুক্তি পায়নি বা ছবিতে ব্যবহার করা হয়নি। তবে ভাই ও বোনের মধুর এক চিরকালীন বন্ধনে জড়িয়ে পড়েন দুই কিংবদন্তি। মদন মোহন লতা সমন্বয়ে পরবর্তী কালে অনেক অসাধারণ হিন্দি ফিল্ম গানের জন্ম হয়।
সঙ্গীত পরিচালক
[সম্পাদনা]১৯৪৬ এবং ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে খ্যাতিমান সঙ্গীত পরিচালক শচীন দেববর্মণের দো ভাই ছবিতে সহকারী হিসাবে ছিলেন মদন মোহন। তিনি প্রথম সঙ্গীত পরিচালনা করেন ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে মুক্তিপ্রাপ্ত আঁখে ছবিতে। এই ছবিতে পুরুষ গায়ক মহম্মদ রফির গায়কী মদন মোহনের বিশেষ পছন্দের স্থান পায়। এই ছবিতে মদন মোহন স্বয়ং একটি দ্বৈত কণ্ঠে গান পরিবেশন করেন শামসাদ বেগমের সাথে।
পঁচিশ বছরের ওপরের সঙ্গীত জীবনে মদন মোহন সুরকার এবং সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে অন্তত ১১২ টি ছবিতে সুরে সুরে ভরিয়ে দিয়েছেন। এছাড়াও এই মহান সুরকারের "আপ কি সম্পত্তি তথ্যচিত্র সহ বারোটি ছবি মুক্তি পায় নি। মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চলচ্চিত্রে পরিবেশিত গানগুলি হল-[৫]
| বছর | চলচ্চিত্র | গান | ভূমিকা |
|---|---|---|---|
| ১৯৫০ | আঁখে | "প্রীত লগা কে ম্যায় ইয়ে ফল পায়া" | সুরকার |
| ১৯৫২ | বাপ রে বাপ | "ম্যায় তেরে দ্বার খাড়া" | সুরকার |
| ১৯৫৫ | রেলওয়ে প্ল্যাটফর্ম | "বস্তি বস্তি পর্বত পর্বত" | সুরকার |
| ১৯৫৮ | আদালত | "উন হাসরাতোঁ কে দাগ" | সুরকার |
| ১৯৬৪ | ওহ কৌন থি? | "লগ জা গলে," "নয়না বরসে রিমঝিম" | সুরকার |
| ১৯৬৬ | মেরা সায়া | "তু জাহাঁ জাহাঁ চলেগা" | সুরকার |
| ১৯৭০ | দস্তক | "ম্যায় রে ম্যায়নে ক্যায়সে কহুঁ" | সুরকার |
| ১৯৭৫ | মৌসম | "দিল ঢুঁনঢতা হ্যায় ফির ওহি" | সুরকার |
মৃত্যু এবং উত্তরাধিকার
[সম্পাদনা]অত্যন্ত পরিশ্রমের কারণে মদন মোহনের দৈনন্দিন জীবনে বিশেষ কুপ্রভাব পড়ে। প্রচুর মদ্যপানে তিনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হন। ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের ১৪ জুলাই মুম্বইয়ে প্রয়াত হন।

- মদন মোহনের মৃত্যুর পর ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে শাহরুখ খান, প্রীতি জিন্টা এবং রানী মুখার্জি অভিনীত যশ চোপড়া পরিচালিত ছবি বীর-জারা-এর জন্য মদন মোহনের অব্যবহৃত সুরগুলি তার পুত্র সঞ্জীব কোহলি ব্যবহার করেন। গানের কথা লেখেন জাভেদ আখতার এবং কণ্ঠ দেন লতা মঙ্গেশকর, জগজিতৎ সিং, উদিত নারায়ণ, সোনু নিগম প্রমুখেরা।
- ২০০৭ খ্রিস্টাব্দের ১৪ জুলাই তার প্রয়াণ দিবসে সঞ্জীব কোহলি, অক্ষয় কোহলি, ওপি দত্ত, উত্তম সিং, বিআর ঈশ্বর, ডঃ অশোক রানাডে, অলকা দেও মারুলকার, মৃদুলা জোশী, ডঃ কীর্তি শ্রীবাস্তব, দীপক জেসওয়াল প্রমুখের লেখা নিবন্ধ এবং লতা মঙ্গেশকর, শ্রেয়া ঘোষাল, মহালক্ষ্মী আইয়ার এবং রেহানা সুলতান প্রমুখের সাক্ষাৎকার সম্বলিত একটি স্মরণিকা পুস্তক প্রকাশিত হয়।[৬]
চলচ্চিত্র তালিকা
[সম্পাদনা]| বছর | চলচ্চিত্রের নাম | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ১৯৫০ | আঁখে | |
| ১৯৫১ | অদা | |
| ১৯৫১ | Madhosh | |
| ১৯৫২ | আশিয়ানা | |
| ১৯৫২ | অনজাম | |
| 1952 | Khoobsurat | |
| 1952 | Nirmohi | |
| 1953 | Baaghi | |
| 1953 | Chacha Choudhary | |
| 1953 | Dhoon | |
| 1954 | Ilzaam | |
| 1954 | Mastana | |
| 1955 | Ehsaan | |
| 1955 | Railway Platform | |
| 1956 | Bhai-Bhai | |
| 1956 | Fifty Fifty | |
| 1956 | Mem Sahib | |
| 1956 | Pocket Maar | |
| 1957 | Beti | |
| 1957 | Chhote Babu | |
| 1957 | Dekh Kabhira Roya | |
| 1957 | Gateway of India | |
| 1957 | Samundar | |
| 1957 | Sheroo | |
| 1958 | Aakhri Dao | |
| 1958 | Adalat | |
| 1958 | Chandan | |
| 1958 | Ek Shola | |
| 1958 | Jailor | |
| 1958 | Khazanchi | |
| 1958 | Khota Paisa | |
| 1958 | Night Club | |
| 1959 | Baap Bete | |
| 1959 | Bank Manager | |
| 1959 | Chacha Zindabaad | |
| 1959 | Duniya Na Maane | |
| 1959 | Jaagir | |
| 1959 | Minister | |
| 1959 | Mohr | |
| 1960 | Bahaana | |
| 1961 | Sanjog | |
| 1961 | Senapati | |
| 1962 | Anpadh | Nominated – Filmfare Award for Best Music Director |
| 1962 | Manmauji | |
| 1963 | Akeli Mat Jaiyo | |
| 1964 | Aap Ki Parchhaiyan | |
| 1964 | Gazal | |
| 1964 | Haqeeqat | |
| 1964 | Jahan Ara | |
| 1964 | Pooja Ke Phool | |
| 1964 | Sharabi | |
| 1964 | Suhagan | |
| 1964 | Woh Kaun Thi? | Nominated – Filmfare Award for Best Music Director |
| 1965 | Bombay Race Course | |
| 1965 | Naya Kanoon | |
| 1965 | Neela Aakash | |
| 1965 | Rishte Naate | |
| 1966 | Dak Ghar | |
| 1966 | Dulhan Ek Raat Ki | |
| 1966 | Ladka Ladki | |
| 1966 | Mera Saaya | |
| 1966 | Neend Hamari Khwab Tumhare | |
| 1967 | Ghar Ka Chirag | |
| 1967 | Jab Yaad Kisi Ki Aati Hai | |
| 1967 | Naunihal | |
| 1967 | Nawab Sirajuddaula | |
| 1968 | Ek Kali Muskaai | |
| 1969 | Chirag | |
| ১৯৭০ | দস্তক | Won – জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, সেরা সঙ্গীত পরিচালনা |
| 1970 | Heer Raanjha | |
| 1970 | Maa Ka Aanchal | |
| 1970 | Maharaja | |
| 1971 | Parwana | |
| 1972 | Bawarchi | |
| 1972 | Koshish | |
| 1972 | Sultana Daku | |
| 1973 | Ek Mutthi Aasmaan | |
| 1973 | Hanste Zakhm | |
| 1973 | Hindustan Ki Kasam | |
| 1973 | Prabhat | |
| 1973 | Dil Ki Rahen | |
| 1974 | Asliyat | |
| 1974 | Chowkidar | |
| ১৯৭৫ | মৌসম | Nominated – Filmfare Award for Best Music Director |
| ১৯৭৬ | লায়লা মজনু | |
| 1976 | Sharafat Chod Di Maine | |
| 1977 | Saheb Bahadur | |
| 1978 | Jalan | |
| 1979 | Inspector Eagle | Posthumously released |
| ১৯৮০ | চালবাজ | Posthumously released |
| ২০০৪ | বীর-জারা | Posthumously released Nominated – Filmfare Award for Best Music Director Nominated – Producers Guild Film Awards for Best Music Director |
| 2023 | Rocky Aur Rani Kii Prem Kahaani | Posthumously released Co-composed with Pritam for song "What Jhumka?" |
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]- ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীত পরিচালকদের তালিকা
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "জন্মশতবর্ষে প্রবাদপ্রতীম মদনমোহন"। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০২৫।
- ↑ The king of melody[অকার্যকর সংযোগ]. The Hindu (20 July 2001). Retrieved 9 November 2018.
- ↑ Ishtiaq Ahmed (১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬)। "The Punjabi contribution to cinema - XII"। The Friday Times (newspaper)। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০২১।
- ↑ Arunachalam, Param (21 June 2015) Bollywood Retrospect: The musical legacy of composer Madan Mohan in 5 songs. DNA India. Retrieved 9 November 2018.
- 1 2 অভীক চট্টোপাধ্যায়, সম্পাদক (২০১৯)। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় -আনন্দধারা। সপ্তর্ষি প্রকাশন, কলকাতা। পৃ. ১০২,১০৩। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৮২৭০-৬৫৪-০।
- ↑ জোশী, ভি এম; রাও, সুরেশ (সম্পাদনা) (২০০৭)। মদন মোহন:অ্যান আনফরগেটেবল কম্পোজার। ভি এম জোশী অ্যান্ড সুরেশ রাও।