বিষয়বস্তুতে চলুন

মতিয়ুর রহমান রেন্টু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মতিউর রহমান রেন্টু
১৯৮১ সালের ১৭ই মে বাম দিকে শেখ হাসিনা ডান দিকে মতিউর রহমান রেন্টু, এই দিনই শেখ হাসিনা তার পিতার হত্যাকান্ডের পর প্রথম বাংলাদেশে আসেন
১৯৮১ সালের ১৭ই মে বাম দিকে শেখ হাসিনা ডান দিকে মতিউর রহমান রেন্টু, এই দিনই শেখ হাসিনা তার পিতার হত্যাকান্ডের পর প্রথম বাংলাদেশে আসেন
পেশারাজনীতিবিদ লেখক
ভাষাবাংলা
জাতীয়তাবাংলাদেশি
নাগরিকত্বফ্রান্স
বাংলাদেশ
বিষয়বর্ণনা
সাহিত্য আন্দোলনবাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
উল্লেখযোগ্য রচনাআমার ফাঁসি চাই
উল্লেখযোগ্য পুরস্কারবীর প্রতীক
দাম্পত্যসঙ্গীময়না রহমান
সন্তানস্বর্না লতা & বর্না লতা
ওয়েবসাইট
https://www.amarfashichai.com/pdf

মতিয়ুর রহমান রেন্টু (১৯৫৪-২০০৭) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধা এবং লেখক। তিনি "আমার ফাঁসি চাই" গ্রন্থের জন্য ব্যাপকভাবে আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছেন।[]

প্রাথমিক জীবন

[সম্পাদনা]

রেন্টু গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের আব্দুল বারিকের পুত্র ছিলেন। তিনি আনুমানিক ১৯৫৪ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন। তাঁর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অবদান স্বীকৃত, যা সরকারি নথিপত্রে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্তি এবং ভারত সরকারের দেওয়া বিরল সনদের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে ঘনিষ্ঠ কর্মসম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন[] এবং তাঁর সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন।[]

উল্লেখযোগ্য কর্ম

[সম্পাদনা]

১৯৯৯ সালে আমার ফাঁসি চাই বইটি প্রকাশিত হয়। এরপর বইটি আওয়ামী লীগ সরকার নিষিদ্ধ করে।[] তাঁর উপর সংঘটিত হয় হত্যাচেষ্টা। ২০০০ সালের ২০ জুন, তাঁর বাড়ির সামনে, বিকেল সাড়ে ৩ টায় ৯ নম্বর বি কে দাস রোডে, তাঁকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। এই হামলায় তাঁর শরীরে চারটি গুলি বিদ্ধ হয়, কিন্তু অলৌকিকভাবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

এই ঘটনা তাঁর জীবনে এক মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে তিনি "অন্তরালের হত্যাকারী প্রধানমন্ত্রী" নামে আরেকটি বই লেখেন, যেখানে তিনি এই হত্যাচেষ্টার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তার জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন এই বইটিতে।

তিনি ২০০৩ সালে তাঁর স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নিয়ে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। এক বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে থাকার পর তিনি প্যারিসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

মৃত্যু

[সম্পাদনা]


মতিয়ুর রহমান রেন্টু ৫৩ বছর বয়সে, ১০ নভেম্বর, ২০০৭ সালে প্যারিসে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে প্যারিসেই দাফন করা হয়।[]

আলোচনা-সমালোচনা

[সম্পাদনা]

তাঁর জীবন ও কর্ম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। তার লেখা বিভিন্ন দেশে প্রচারিত হয়েছে এবং বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতি ও ইতিহাস নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।[] তিনি একজন জটিল ও বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যিনি মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে বিতর্কিত লেখক পর্যন্ত নানা ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

রচনাবলী

[সম্পাদনা]
  • আমার ফাঁসি চাই (২৬ মার্চ ১৯৯৯)[]
  • অন্তরালের হত্যাকারী প্রধানমন্ত্রী (১৬ ডিসেম্বর ২০০৩)

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "রানুর মাইক বন্ধ ৬ বার"বিডিনিউজ২৪ (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ জুন ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  2. Husain, Q. M. Jalal Khan, Zoglul Husain & Zoglul (২৮ জানুয়ারি ২০২২)। Bangladesh Under Awami Tyranny (ইংরেজি ভাষায়)। Writers Republic LLC। পৃ. ২১৯। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৬৪৬২০-৮৯৪-৪। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  3. "পাবনার রায় নিয়ে কাদের-ফখরুল পাল্টাপাল্টি"বিডিনিউজ২৪ (ইংরেজি ভাষায়)। ৪ জুন ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  4. "বাঙালি কি আসলেই 'মিডিওকার' জাতি!"আমাদের সময় (ইংরেজি ভাষায়)। ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ {{সংবাদ উদ্ধৃতি}}: |তারিখ= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)
  5. "Controversial author of 'Amar Fashi Chai' dies in Paris"বিডিনিউজ২৪ (ইংরেজি ভাষায়)। ১০ নভেম্বর ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  6. Khan, Q. M. Jalal (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১)। India’s Hegemonic Design in Bangladesh (আরবি ভাষায়)। Writers Republic LLC। পৃ. ১৩১। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৬৩৭২৮-১৫৮-১। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  7. Fascism, Bangladesh: Social Media Outcries Against the Awami (৩১ অক্টোবর ২০২২)। Bangladesh: Social Media Outcries Against the Awami Fascism। Writers Republic LLC। পৃ. ৪৬৭। আইএসবিএন ৯৭৯-৮-৮৮৫৩৬-৮২৬-১। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪