বিষয়বস্তুতে চলুন

মণিপুর রাজ্য জাদুঘর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মণিপুর রাজ্য জাদুঘর
জাদুঘরের সামনের দিক
মানচিত্র
স্থাপিত২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯
অবস্থানইম্ফল পোলো গ্রাউন্ডের নিকটে, ইম্ফল, মণিপুর
ধরনজাদুঘর
প্রতিষ্ঠাতামণিপুর সরকার
তত্ত্বাবধায়কশ্রীমতী ওয়াই বিনিতা দেবী
মালিকমণিপুর সরকার

মণিপুর রাজ্য জাদুঘর ভারতের মণিপুরের ইম্ফলে অবস্থিত এবং যেখানে শিল্প, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও বিজ্ঞানসংক্রান্ত বিভিন্ন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক বস্তু সংরক্ষিত ও প্রদর্শিত হয়। এই জাদুঘরে প্রাকৃতিক ইতিহাস, নৃতত্ত্ব এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের গ্যালারিগুলোতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী সংরক্ষিত আছে।[]

সংক্ষিপ্ত বিবরণ

[সম্পাদনা]

মণিপুর রাজ্য জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছ প্রাচীন মণিপুর, মধ্যযুগীয় মণিপুর এবং আধুনিক মণিপুরের অলংকার, বস্ত্র, কৃষিজ উপকরণসহ নানা সামগ্রী।[] এই জাদুঘরটি মণিপুরী জনগণের জীবন ও ইতিহাসের একটি সার্বিক চিত্র উপস্থাপন করে।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

মণিপুর রাজ্য জাদুঘর ১৯৬৯ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কর্তৃক উদ্বোধন করা হয়।[]

পরবর্তীতে এটি একটি বহুমুখী জাদুঘর হিসেবে সম্প্রসারিত হয়। এতে রয়েছে বিভিন্ন বিভাগ ও উপবিভাগ।[] এর অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি বিভাগ হলো নৃতাত্ত্বিক গ্যালারি। ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি এই গ্যালারিটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু করেন তৎকালীন মণিপুরের রাজ্যপাল বেদ মারওয়া।[]

সংগ্রহ

[সম্পাদনা]

জাদুঘরে প্রদর্শিত সবচেয়ে বিখ্যাত বস্তু হচ্ছে রাজকীয় নৌকা হিয়াং হিরেন, যা রাজপরিবারের ব্যবহারযোগ্য ছিল। এটি ৭৮ ফুট লম্বা এবং একটি খোলা গ্যালারিতে রয়েছে।

অন্যান্য সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে মেইতৈ মুদ্রা, হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি পুয়া, বাদ্যযন্ত্র, মাটির পাত্র, পোশাক, চিত্রকলা এবং অলংকার—যেগুলো প্রাচীন মণিপুর, মধ্যযুগীয় মণিপুর এবং আধুনিক মণিপুরের নিদর্শন।

জাদুঘরের একটি প্রকাশনায় ৫০০-র বেশি বিরল অর্কিড প্রজাতির উল্লেখ রয়েছে, যার মধ্যে ৪৭২টি প্রজাতি ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, মণিপুর ছাড়া ভারতের অন্য কোথাও এত বৈচিত্র্যময় অর্কিড প্রজাতি দেখা যায় না।

জাদুঘরে প্রদর্শিত রয়েল হাওদা ছিল মণিপুরের রাজা স্যার মেইদিংগু চুরাচাঁদ সিং (১৮৯১–১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দ)-এর ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত একটি সুসজ্জিত আসন।[]

প্রদর্শনী

[সম্পাদনা]

মণিপুর রাজ্য জাদুঘর মূলত সাংস্কৃতিক বিষয়বস্তু ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রদর্শনী আয়োজন করে। প্রদর্শিত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে উপজাতীয় অলংকার, মেইতৈ অলংকার, বিভিন্ন ধরনের টুপি, কৃষিকাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, গৃহস্থালির জিনিসপত্র, শিকার সরঞ্জাম, ধূমপানের পাইপ ও লাইটার, টেরাকোটার পাত্র, সোনা ও রুপার বাসন, পোলো খেলার জিনিসপত্র, ঐতিহ্যবাহী পানির পাইপ, মেইতৈ বস্ত্র, সময় পরিমাপক যন্ত্র, প্রাচীন সোনার মুখোশ, কাসকেট, অশ্বারোহীহীন ঘোড়ার মূর্তি, অস্ত্র ও গোলাবারুদ, ঝুড়ি তৈরি সামগ্রী, উপজাতীয় পোশাক ইত্যাদি।[][]

"তানেই পুং" এবং "তানেই ছেই" নামক সময় পরিমাপক যন্ত্রগুলো প্রাচীন মণিপুর সভ্যতায় মেইতৈদের জ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রমাণ বহন করে।[]

প্রদর্শিত ঐতিহ্যবাহী পোশাকগুলো মণিপুরের সামাজিক গঠন বিশ্লেষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।[]

স্যার চুরাচাঁদ সিং (১৮৯১–১৯৪১ খ্রি.)-এর রাজকীয় হাওদা জাদুঘরে প্রদর্শিত রয়েছে।[]

মণিপুর রাজ্য জাদুঘর ঐতিহ্যবাহী মণিপুরি ভাস্করদের জন্য স্মারক সামগ্রী নির্মাণে ৪৫ দিনের কর্মশালাও আয়োজন করে।[]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 5 6 7 Lisam, Khomdan Singh (২০১১)। Encyclopaedia Of Manipur (3 Vol.) (ইংরেজি ভাষায়)। Gyan Publishing House। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৮৩৫-৮৬৪-২
  2. Prakash, Col Ved (২০০৭)। Encyclopaedia of North-East India (ইংরেজি ভাষায়)। Atlantic Publishers & Dist। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২৬৯-০৭০৬-৯
  3. McDonald, John D.; Levine-Clark, Michael (১৫ মার্চ ২০১৭)। Encyclopedia of Library and Information Sciences (ইংরেজি ভাষায়)। CRC Press। আইএসবিএন ৯৭৮-১-০০০-০৩১৫৪-৬
  4. 1 2 দেবী, ড: ইয়ুমলেম্বাম গোপী (১৬ জুন ২০১৯)। Glimpses of Manipuri Culture (ইংরেজি ভাষায়)। Lulu.com। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৫৯-৭২৯১৯-৭
  5. Somorjit, Wangam (১ মার্চ ২০১৬)। Manipur: The Forgotten Nation of Southeast Asia (ইংরেজি ভাষায়)। Waba Publications & Advanced Research Consortium। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৯২৬৬৮৭-২-৭
  6. Devi, Jamini (২০১০)। Cultural History of Manipur: Sija Laioibi and the Maharas (ইংরেজি ভাষায়)। Mittal Publications। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৮৩২৪-৩৪২-১

বহিঃ সংযোগ

[সম্পাদনা]