বিষয়বস্তুতে চলুন

মঞ্জু বর্মা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মঞ্জু বর্মা
বিহার বিধানসভার সদস্য
পূর্বসূরীঅনিল চৌধুরী
নির্বাচনী এলাকাচেরিয়া-বারিয়ারপুর
কাজের মেয়াদ
২০১০  ২০১৫
কাজের মেয়াদ
২০১৫  ২০২০[]
ব্যক্তিগত বিবরণ
রাজনৈতিক দলজনতা দল (সংযুক্ত)
দাম্পত্য সঙ্গীচন্দ্রশেখর বর্মা
আত্মীয়স্বজনসুখদেও মাহতো (শ্বশুর)
বাসস্থানসুপল

মঞ্জু বর্মা একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ এবং জনতা দল (সংযুক্ত) (জেডি(ইউ)) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিহার বিধানসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বিহার মন্ত্রিসভায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন।[]

প্রাথমিক জীবন

[সম্পাদনা]

ম্ঞ্জু কুশওয়াহা বা কোয়েরি জাতের মানুষ।[] ভারতের নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তাঁর হলফনামা অনুসারে, তিনি মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন এবং তাঁর স্বামী একজন কৃষক।[] তিনি ভারতের প্রবীণ কমিউনিস্ট পার্টির নেতা সুখদেও মাহাতোর পুত্রবধূ।[]

রাজনৈতিক জীবন

[সম্পাদনা]

মঞ্জু বর্মা চেরিয়া-বারিয়ারপুর আসন থেকে দু'বার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন, এটি বেগুসরাই লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। তিনি যে আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন, তাঁর আগে তাঁর শ্বশুর সুখদেও মাহাতো সেই আসন থেকে বিধায়ক ছিলেন। সুখদেও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন, অন্যদিকে ম্ঞ্জুর স্বামী জনতা দল (সংযুক্ত)-এর একজন নেতা। ম্ঞ্জু ২০১০ এবং ২০১৫ সালেও বিধায়ক হয়েছিলেন। ২০১৫ সালে, তিনি নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভার একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন যেখানে তাঁকে সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।[]

কুখ্যাত মুজফফরপুর আশ্রয়কেন্দ্র মামলার পর ম্ঞ্জুকে জেডি(ইউ) থেকে বহিষ্কার করা হয়, তিনি এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যে আশ্রয়কেন্দ্রে নাবালিকা মেয়েদের রাখা হয়েছিল সেই আশ্রয়কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল তাঁর মন্ত্রণালয়ের অধীনে। পরে, যখন সিবিআই তাঁদের পৈতৃক বাড়িতে "আশ্রয় মামলা" নিয়ে অভিযান চালায়, তখন তাঁকে এবং তাঁর স্বামীকে অস্ত্র আইনের আওতায় আনা হয়। মামলা দায়েরের পর এবং আশ্রয়কেন্দ্রের মালিক ব্রজেশ ঠাকুরকে গ্রেপ্তার করার পর, পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়। তিন মাস পর, তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং জেডি(ইউ) ও নীতিশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন তাঁকে নিশানা করা হয়েছে।[][]

২০১৯ সালের মার্চ মাসে, পাটনা হাইকোর্ট উভয় মামলায় তাঁকে জামিন দেয়, যদিও তাঁর স্বামী কারাগারে ছিলেন।[] এই মামলার কারণে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর পদ থেকে ম্ঞ্জুর পদত্যাগের পর, নীতিশের ষষ্ঠ মন্ত্রিসভার শিক্ষামন্ত্রী কৃষনন্দন বর্মাকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিচারের সময় মঞ্জু বর্মা দাবি করেছিলেন যে, তাঁর বর্ণের কারণে তাঁকে হয়রানি করা হয়েছে, তাই কৃষনন্দন বর্মাকে মন্ত্রিত্ব বরাদ্দ করা জেডি(ইউ) নেতৃত্বের নরমপন্থী অবস্থা হিসাবে দেখা হয়েছিল।[১০] ২০১৮ সালে, দ্য টেলিগ্রাফের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে, ম্ঞ্জু তাঁর স্বামীকে নির্দোষ বলে দাবি করেছিলেন। তাঁর মতে, তিনি একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে কেবল একবার তাঁর স্বামীর সাথে আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। মেয়েদের ময়লা পোশাক পরে রান্না করতে দেখে প্রশ্ন করায় তারা কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।[]

ম্ঞ্জুর স্বামীর মুজাফফরপুর আশ্রয়কেন্দ্র মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগের পরে যে জনতা দল (সংযুক্ত) থেকে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন, তারাই তাঁকে আবার ২০২০ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে চেরিয়া-বারিয়ারপুর নির্বাচনী এলাকা থেকে বিহার বিধানসভার দলীয় প্রার্থী করে।[১১]

এই নির্বাচনে ম্ঞ্জু রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রাক্তন সংসদ সদস্য রাজ বংশী মাহতোর কাছে পরাজিত হন।[১২]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Cheria Bariarpur Election Result 2020: चेरिया बरियारपुर पर अब राजवंशी का 'राज', समर्थकों ने मनाया जश्न"Prabhat khabar। ১০ নভেম্বর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০২২
  2. "Nitish Kumar has traced the real culprit in the Muzaffarpur shelter home outrage - the 'system'"www.dailyo.in। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ আগস্ট ২০১৮
  3. 1 2 Bhelari, Amit। "Caste card counter"The Telegraph। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুলাই ২০২০"I belong to the Kushwaha caste which is also known as Koiri. Our caste has always become the role model of guiding the society, our ancestor is emperor Asoka and we follow his guidelines. We are engaged in farming and feed others. We never suppress anyone and are not involved in heinous crimes. It is the RJD and the Yadav caste that is involved in such acts," Manju declared at a media conference at her 6 Strand Road residence.
  4. "InfoBiharcandidate_Manju Verma"Myneta.com। ২৯ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুলাই ২০২০
  5. "मुजफ्फरपुर कांडः मंत्री मंजू वर्मा के पति कभी चुनाव नहीं लड़े, लेकिन रुतबा बना रहा"Aajtak। ৩ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৫ মে ২০২৪
  6. Sharma, Aman। "bihar-minister-manju-verma-plays-caste-card-in-muzaffarpur-aftermath"Economic Times। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুলাই ২০২০
  7. "'Being Harassed Due To Caste': Ex-Bihar Minister Named In Sex Abuse Case"NDTV। ২ ডিসেম্বর ২০১৮। ২৯ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুলাই ২০২০
  8. "muzaffarpur-shelter-home-brajesh-thakur-moves-hc-against-jail-for-life-for-sexual-assault"outlook India। ২৯ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুলাই ২০২০
  9. Tewary, Amarnath (১২ মার্চ ২০১৯)। "ex-minister-manju-verma-granted-bail-by-patna-hc"The Hindu। ২৯ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুলাই ২০২০
  10. "education-minister-krishnandan-varma-gets-social-welfare-charge-after-manju-verma-s-resignation-"Business Standard। Press Trust of India। ৯ আগস্ট ২০১৮। ২৯ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুলাই ২০২০
  11. Tewary, Amarnath (৭ অক্টোবর ২০২০)। "Bihar Assembly election: JD(U) offers ticket to Manju Verma"The Hindu। ৬ মে ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ অক্টোবর ২০২০
  12. "JDU ex minister Manju Verma trails"The Print। ১০ নভেম্বর ২০২০। ১০ নভেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২০