বিষয়বস্তুতে চলুন

মজলিস খাঁন হুমায়ূন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মজলিস খাঁন হুমায়ূন

مجلس خان همایون
গড়জরিপার গভর্নর
কাজের মেয়াদ
১৪৯১
সার্বভৌম শাসকসাইফউদ্দিন ফিরোজ শাহ
পূর্বসূরীরাজা দলিপ সামন্ত
ব্যক্তিগত বিবরণ
মৃত্যুগড়জরিপা, শাহী বাঙ্গালা
সমাধিস্থলগড়জরিপা, শাহী বাঙ্গালা

মজলিস খাঁন হুমায়ূন ছিলেন শাহী বাঙ্গালা সলতনতের একজন সেনাপতি যিনি বর্তমান বাংলাদেশের শেরপুর জেলার গড়জরিপা (সাবেক গড়দলিপা) বিজয়ের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।[] তার সামরিক কৃতিত্বের ফলে সলতনতের কর্তৃত্বের কৌশলগত উত্তরাঞ্চলীয় সম্প্রসারণ ঘটে এবং কামরূপী কোচ রাজবংশ থেকে এই অঞ্চলটি দখল করা হয় এবং এর শাসক রাজা দলিপ সামন্তকে পরবর্তীতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ইতিহাসবিদ শরৎচন্দ্র ঘোষালের মতে, গড়জরিপায় বাঙ্গালীদের বিজয়ের বিশালতা কামতায় বিশ্ব সিংহের উত্থানের মাত্রার সাথে তুলনা করা যেতে পারে।[]

কেরিয়ার

[সম্পাদনা]

 টেমপ্লেট:Bengal Sultanate মজলিস খাঁন হুমায়ূনকে শাহী বাঙ্গালার সুলতান সৈফুদ্দীন ফিরোজ শাহ্ কামরূপ অঞ্চলে একটি সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিযুক্ত করেছিলেন। ১৪৯১ সালে বিশাল ব্রহ্মপুত্র নদ অতিক্রম করে, হুমায়ূনের ফওজ আজকের জামালপুর, শেরপুর এবং উত্তর ময়মনসিংহের দিকে অগ্রসর হয় এবং কৌশলগত গুরুত্বের আঞ্চলিক কোচ দুর্গ এবং চাঁদ সদাগরের ডিঙ্গির স্থান গড়দলিপা সফলভাবে দখল করে। [] এই অভিযানে রাজা দলিপ সামন্তের পতন কোচ প্রতিরোধের চূড়ান্ত অবসান এবং এলাকায় মুসলিম শাসনের আনুষ্ঠানিক প্রবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। []

বিজয়ের পর, হুমায়ূনকে গড়দলিপাকে কেন্দ্র করে নতুন সংযুক্ত অঞ্চলের শাসনভার ন্যস্ত করা হয়। তাছাড়া আজকের গৌরীপুর উপজেলায় অবস্থিত বোকাইনগর কেল্লা এবং তাজপুর কেল্লা কায়েমের কৃতিত্ব তাঁর উপর বর্তায়, যা গারো পাহাড়ের বিরুদ্ধে শাহী বাঙ্গালা সালতানাতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করেছিল। আঞ্চলিক অস্থিরতার সময় তাঁর প্রশাসনিক ও সামরিক নেতৃত্ব এই অঞ্চল জুড়ে সুলতান ফিরুজ শার নিয়ন্ত্রণকে সুদৃঢ় করতে সাহায্য করেছিল। আজকের শেরপুর শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গড়দলিপ রাজধানীটি মোসলেম অলী সুফী জরিপ শাহের (যিনি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে মনে করা হয়) নামানুসারে গড়জরিপা নামকরণ করা হয়। [] মজলিস খাঁন হুমায়ূন জরিপ শাহের নামে গড়ের নামকরণ করেন, যিনি কেবল তখনই তার জায়গা ছেড়ে দিতে রাজি হন যদি নতুন বসতিটি তার নামে থাকে। কালিদাহ সাগরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত এই অলীমাজারটি এখনও একটি জিয়ারত স্থান। [] মজলিস খাঁন হুমায়ূনের শাসনামলে, সুরক্ষিত শহরটি প্রায় ১,১০০ একর জমিতে বিস্তৃত ছিল, দুর্গটি ছিল একটি বিস্তৃত সামরিক কমপ্লেক্স যেখানে সাতটি ঘনকেন্দ্রিক মাটির দেয়াল এবং ছয়টি প্রতিরক্ষামূলক পরিখা ছিল। এই স্থানটিতে চারটি দরজা দিয়ে প্রবেশ করা যেত: কুমুদুয়ারি (পূর্ব), পানিদুয়ারি (পশ্চিম), শ্যামদুয়ারি (দক্ষিণ), এবং খিড়কীদুয়ারী (উত্তর) এবং হেফাজতের জন্য এখানে বুরুজ ছিল। []

প্রভাব

[সম্পাদনা]

মজলিস খাঁন হুমায়ূনকে তার শাসনাধীন গড়জরিপা রাজধানীর মধ্যেই সমাহিত করা হয়েছিল। তাঁর কবরে প্রাপ্ত আরবি শিলালিপিগুলি ১৯ শতকে কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি দ্বারা অনুবাদ করা হয়েছিল। [] অধিকন্তু, বারদুয়ারী শাহী মসজিদটি মজলিস খাঁন হুমায়ূনের শাসনামলে নির্মিত বলে মনে করা হয়। [] ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে মাওলানা আজিজুল হক জামালপুরী তিন বছর ধরে হারিয়ে যাওয়া মসজিদটির সন্ধানের পর পুনরায় আবিষ্কৃত হন। খননকাজে এর তিনটি গম্বুজ এবং জটিলভাবে নকশা করা ১২-দরজা কাঠামো আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত মসজিদটি মাটি এবং গাছপালার স্তরের নিচে চাপা পড়ে ছিল। ১৯৮৪ সালে পুনর্নির্মিত, মসজিদটি প্রায় ১০০ ফুট বাই ৪০ ফুট পরিমাপ করে এবং শেরপুরে মজলিস খাঁন হুমায়ূনের ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করে। [] গড়জরিপা কেল্লার খিড়কীদুয়ারী (উত্তরের) ফটকের কাছে, একসময় একটি কোচ মন্দির ছিল, যা রাজা দলিপ সামন্তের রাজপরিবারের সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। বিজয়ের পর, মন্দিরটি মসজিদে রূপান্তরিত হয়। রাজা দলিপ সামন্তের মাতার সম্মানে প্রতি বৈশাখে কোচ সম্প্রদায়ের দ্বারা একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। [] গড়জরিপার প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য এবং ধ্বংসাবশেষ ধ্বংসের হুমকির সম্মুখীন হওয়ায়, সরকার সেগুলি সংরক্ষণের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব তদারকির জন্য শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসাম্মৎ নিলুফা আক্তার সাহেবার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি গড়জরিপার ইতিহাসের উপর একটি পুস্তিকা প্রকাশ করার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করেছে। উপরন্তু, তারা সুপারিশ করবে যে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর গড়জরিপায় একটি জাদুঘর স্থাপন করুক যাতে এর তহজীবী সম্পদ হেফাজৎ এবং প্রদর্শন করা যায়। []

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 5 "Committee formed to protect archaeological relics of ancient Garhjaripa"Dhaka Tribune। ২৯ নভেম্বর ২০২০। উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "dhaka" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  2. 1 2 Ghoshal, Sarah Chandra (১৯৪২)। A History of Cooch Behar। State Press, Coach Behar। উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "cooch" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  3. Mazumder, Kedarnath (২০০৫)। ময়মনসিংহের ইতিহাস ও ময়মনসিংহের বিবরণ। Anandodhara। পৃ. ২৬–২৭। আইএসবিএন ৯৮৪-৮০২-০৫-X {{বই উদ্ধৃতি}}: |আইএসবিন= মান: দৈর্ঘ্য পরীক্ষা করুন (সাহায্য)
  4. Rashid, Harunur (২০২৪), সুফি জরিপ শাহ (রহ.), Our Sherpur
  5. 1 2 Farooq, Abdus Samad, Majlis Khan Humayun, SDF Prakashan উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "sdf" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  6. Mukhopadhyay, Sukhamay (১৯৮০)। বাংলার ইতিহাসের দুশো বছর: স্বাধীন সুলতানদের আমল (১৩৩৮-১৫৩৮)। Bhāratī Book Stall। পৃ. ৯৩।