মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশ
মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের লোগো.jpeg
প্রতিষ্ঠাতা
আইনি অবস্থাধর্মীয় সংগঠন
উদ্দেশ্যমানবজীবনের সকল ক্ষেত্রে মুহাম্মদ (স.)-এর সুন্নত ও আদর্শের প্রতিফলন ঘটানো
সদরদপ্তরজামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা
যে অঞ্চলে
বাংলাদেশ
আমীর
মাহমুদুল হাসান
মূল ব্যক্তিত্ব
আশরাফ আলী থানভী
প্রধান প্রতিষ্ঠান
মজলিসে দাওয়াতুল হক

মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশ বাংলাদেশের একটি বৃহত্তর অরাজনৈতিক দাওয়াতি সংগঠন। ঢাকার জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়ায় এর মূল কেন্দ্র অবস্থিত। সংগঠনটির প্রধানকে বলা হয় আমীরুল উমারা। এর বর্তমান আমীরুল উমারা মাহমুদুল হাসানআবরারুল হক হক্কীর হাত ধরে এই সংগঠনের চর্চা শুরু হয়।[১] এটি প্রতিষ্ঠায় মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জীহাকিম মুহাম্মদ আখতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

আশরাফ আলী থানভী ইসলামের দৃষ্টিতে সমাজের পাঁচটি সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধান করার জন্য ১৯৩৯ সালে মজলিসে দাওয়াতুল হকের সূচনা করেন। তারপর তার শিষ্যদের নিজ নিজ এলাকায় এই সংগঠনের আলোকে কাজ করার নির্দেশ দেন।[২][৩] বাংলা অঞ্চলে আতহার আলী, শাহ আবদুল ওয়াহহাব, শামসুল হক ফরিদপুরী প্রমুখ এই কাজ চালিয়ে যান।[৪] ঢাকায় এই কাজ শুরু করেন মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী[৫] শেষ বয়সে হাফেজ্জী নিজের বার্ধক্যের কথা চিন্তা করে থানভীর আরেক খলিফা আবরারুল হক হক্কীহাকিম মুহাম্মদ আখতারকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ দেন।[৫] ১৯৮১ সালে তারা উভয়ই বাংলাদেশে আগমণ করেন। হাফেজ্জী নিজের শিষ্যদের তাদের হাতে বায়আত হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।।[৬] তারপর সংগঠনটির কাজ আরও গতিশীল হয়। ১৯৯৩ সালের ২৪ এপ্রিল আবরারুল হক হক্কী ২য় বারের মত বাংলাদেশে আসেন। তখন তিনি সংগঠনের ১৩টি হালকা গঠন করেন। প্রত্যেক হালকার জন্য একজন আমীর ও একজন নায়েবে আমীর নিধার্রণ করে কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দেন।[৪] তারপর তিনি মাহমুদুল হাসানকে আমীরুল উমারা বা আমীরদের আমীর মনোনীত করেন।[৭] তখন থেকে মাহমুদুল হাসানের তত্ত্ববধানে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য[সম্পাদনা]

সংগঠনটির মৌলিক উদ্দেশ্য মানবজীবনের সকল ক্ষেত্রে মুহাম্মদ (স.)-এর সুন্নত ও আদর্শের প্রতিফলন ঘটানো। থানভীর রচিত গ্রন্থসমূহে বিশেষত দাওয়াতীদ্দায়ী, তাফহীমুল মুসলিমীন, তানজীমুল মুসলিমীন এবং আবরারুল হক হক্কীর রচিত আশরাফুন্নেজামে সংগঠনটির বিস্তারিত লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও কর্মসূচী বিদ্যমান রয়েছে।[৪]

কর্মসূচি[সম্পাদনা]

এই সংগঠনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে:[৮]

  • মানবজীবনের প্রাত্যহিক কাজ সমূহের সুন্নত তরিকার বাস্তব প্রশিক্ষণ প্রদান।
  • মক্তব প্রতিষ্ঠা, বয়স্ক এবং মহিলাদের তালিম তরবিয়তের উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা।
  • কুরআনের বিশুদ্ধ পাঠ, প্রয়োজনীয় সূরা মশক করানো, দোয়া এবং জরুরী মাসলা-মাসায়েল শিক্ষাদান।
  • শিরক-বিদআত দমনে ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে উদ্ধুদ্ধ করা এবং এ কাজের জন্য স্বতন্ত্র জামাত তৈরী করা।

এ সমস্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য রয়েছে মজলিসুল উমারা, থানা ভিত্তিক হালকা, মজলিসে আম, কর্মী মজলিস, গাশতী মজলিস, ইসলাহি মজলিস, তরবিয়তুল মুআল্লিমীন, মজলিসুল ইফতা, মজলিসুল উলামা ওয়াল আইম্মা।[৮]

ওয়াজ মাহফিল আয়োজনে এটি সবচেয়ে কঠোর নীতি পালন করে। বাড়তি কিছু সংযোজন থেকে বিরত থাকে। তার মধ্যে রয়েছে: ওয়াজের জন্য মসজিদ বা মাদ্রাসা বেছে নেওয়া, রাস্তা বন্ধ করে মাহফিল না করা, সীমাবদ্ধ এলাকায় মাইক বসানো, বেশি রাত অবধি মাহফিল না করা, বয়ানের জন্য হাদিয়া বা সম্মানী পেশ না করা, অনুমতি ছাড়া খাবারের আয়োজন না করা, বক্তার আগমনে স্লোগান না দেওয়া, মঞ্চে আলোকসজ্জা না করা ইত্যাদি।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

উদ্ধৃতি[সম্পাদনা]

  1. শাকিল, সালমান তারেক (২১ মার্চ ২০১৯)। "ওয়াজ মাহফিলের যত ধারা"বাংলা ট্রিবিউন 
  2. মনসূরুল হক ২০১৬, পৃ. ২৮।
  3. "ইসলামী কর্মতৎপরতা: মজলিসে দাওয়াতুল হক"ইনকিলাব। ১৯ নভেম্বর ২০১৬। 
  4. গোলাম ছরোয়ার ২০১৩, পৃ. ৩৫১।
  5. মনসূরুল হক ২০১৬, পৃ. ২৯।
  6. মনসূরুল হক ২০১৬, পৃ. ৩০।
  7. মনসূরুল হক ২০১৬, পৃ. ৩১।
  8. গোলাম ছরোয়ার ২০১৩, পৃ. ৩৫২।

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]