ভূসংস্থানবিজ্ঞান


ভূসংস্থানবিজ্ঞান বলতে স্থলপৃষ্ঠের রূপ ও বৈশিষ্ট্যসমূহের বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নকে বোঝায়। কোনও এলাকার ভূসংস্থান বলতে সেই এলাকার ভূমিরূপ ও ভূপৃষ্ঠীয় বৈশিষ্ট্যসমূহকে বোঝাতে পারে; আবার সেই বৈশিষ্ট্যগুলোর বর্ণনা বা চিত্রায়নকেও বোঝাতে পারে।
ভূসংস্থানবিজ্ঞান ভূবিজ্ঞান ও গ্রহীয় বিজ্ঞানের একটি শাখা এবং সাধারণভাবে কোনও স্থানের স্থানীয় বিশদ খুঁটিনাটি নিয়ে কাজ করে। এতে কেবল ভূপ্রকৃতির বন্ধুরতা নয়, বরং প্রাকৃতিক, কৃত্রিম এবং সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য, যেমন সড়ক, ভূমিসীমানা ও ভবনও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।[১] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভূসংস্থান বলতে প্রায়ই বিশেষভাবে ভূপ্রকৃতির বন্ধুরতাকে বোঝায়। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ (United States Geological Survey, USGS) সংস্থার ভূসংস্থানিক মানচিত্রগুলিতে উচ্চতারেখার পাশাপাশি সড়ক, জনবসতি, স্থাপনা, ভূমিসীমানা, ইত্যাদিও নথিবদ্ধ করা হয়।[২]
সংকীর্ণ অর্থে ভূসংস্থানবিজ্ঞান বলতে ভূপ্রকৃতির বন্ধুরতা নথিবদ্ধ করা, ভূপৃষ্ঠের ত্রিমাত্রিক বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা এবং নির্দিষ্ট ভূমিরূপ শনাক্ত করাকে বোঝায়; এটিকে ভূমিরূপমিতি নামেও অভিহিত করা হয়। আধুনিক ব্যবহারে, এর মধ্যে ডিজিটাল/দ্বি-আঙ্কিক রূপে ভূমির উচ্চতার উপাত্ত তৈরি করাও (ডিজিটাল উচ্চতা প্রতিমান) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিভিন্ন মানচিত্রবৈজ্ঞানিক বন্ধুরতা চিত্রায়ন (Cartographic relief depiction) কৌশলের মাধ্যমে মানচিত্রে ভূমিরূপের চিত্রলৈখিক উপস্থাপনাকেও প্রায়ই এর অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়; এর মধ্যে রয়েছে সমোচ্চরেখা, ভূ-উচ্চতামিতিক বর্ণপ্রয়োগ (hypsometric tints) এবং ছায়াবৃত বন্ধুরতা (Shaded relief)।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ West, Terry R.; Shakoor, Abdul (১৯ মার্চ ২০১৮)। Geology Applied to Engineering (ইংরেজি ভাষায়) (2nd সংস্করণ)। Waveland Press। পৃ. ৫৪৫। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৭৮৬-৩৭২২-৬।
- ↑ "US Topo—Topographic Maps for the Nation" (পিডিএফ)। United States Geological Survey। অক্টোবর ২০১৩।