ভূটানের স্থাপত্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ত্রোংসা জং, ভুটানের সবচেয়ে বড় জং দূর্গ

ভূটানের স্থাপত্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈশিস্ট্যসূচক জং (Dzong) স্থাপত্য, যা সতের শতকের পর থেকে ভূটানে ধর্মীয় ও প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। উনিশ শতকের শেষের দিকে ভুটানের পারস্পরিক মিত্রতার সময়ে ধর্মনিরপেক্ষ উচ্চ ঘরবাড়ি স্বতন্ত্রভাবে উদিত হয়েছিল। ভুটান প্রধানত বৌদ্ধ স্থাপত্যের তিব্বতি ঐতিহ্য অনুসরণ করে।

ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য[সম্পাদনা]

বর্ণিল কাঠের ফ্রন্টেজ, ছোট খিলান জানালা এবং ঢালাই (ঢালু) ছাদ নির্মিত ভুটানি ঘর, পারো, ভূটান।
থিম্ফু কাওয়জঙ্গতসে একটি পুরনো ঘর

জং এবং সাধারণ ভবন নির্মাণের জন্য ড্রিগ্লাম নমঝা ঐতিহ্যবাহী নিয়মগুলো আইনবদ্ধ করেছে। একজন প্রত্যাদিষ্ট লামার নেতৃত্বে ঐতিহাসিকভাবে রাষ্ট্রের করচুক্তি হিসেবে অংশ নেয়া নাগরিকদের দ্বারা দুর্গটি নির্মিত হয়।[১] তবে আধুনিকভাবে, ঐতিহ্যগত কাঠামোগুলো মজুরদের দ্বারা নির্মিত হয়, বিশেষ করে জংগুলি মেরামত ও সংরক্ষণ করতে সরকারকে চাপ দেওয়া হয়।[২]

ভূটানের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যগুলো প্রাণবন্ত। সম্প্রতি ১৯৯৮ সালে রাজকীয় আইন অনুযায়ী সকল ভবন অবশ্যই বিভিন্ন রঙের কাঠের ফ্রন্টেজ, ছোট ধনুকাকার জানালা এবং ঢালু ছাদ নির্মিত হতে হবে।[১] গতানুগতিক পশ্চিমা ভুটানি কাঠামোগুলো প্রায়ই পার্থিব উপাদান দ্বারা কাঠের ফ্রেম তৈরি করা হয়।[৩] অনেক ঐতিহ্যবাহী কাঠামোগুলোতে স্বস্তিকচিহ্ন এবং ফ্যালিক চিত্র আছে।[৪]

উনিশ শতকের শেষের দিকে ভূটানের পারস্পরিক মিত্রতার সময়ে পশ্চিমা ভূটানের (বুমথং, পারো এবং ট্রংসা প্রদেশে) রাজকীয় প্রাসাদগুলো আবির্ভূত হয়েছিল। এগুলো জং-এর মতই বহুতল ভবন যদিও বাড়িগুলোতে অধিক জানালা আছে। বাড়ির উপরতলাগুলো সাধারণত খ্রীষ্টীয় ভজনালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় যেখানে চিত্র, মূর্তি এবং ধর্মীয় সাহিত্য সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে।[৫][৬]

স্থান ও উচ্চতা অনুসারে সাধারণ ঘরগুলোর স্থাপত্য পরিবর্তিত হয়। দক্ষিণস্থ নিম্ন উচ্চভূমিতে খড় ও বাঁশের ঘরগুলো প্রচলিত আছে এবং উঁচু উচ্চভুমিতে ভবনগুলো সাধারণ পাথরের তৈরি। দ্বিতল ভবনগুলোও অনুরূপ কিন্তু সমগ্র পশ্চিম ভূটানে যেসব রাজকীয় প্রাসাদ দেখা যায় তার চেয়ে ছোট। প্রাসাদের মত উপরতলা প্রায়ই খ্রীষ্টীয় ভজনালয়ের জন্য সংরক্ষিত থাকে যা অতিথিদের ঘরের তুলনায় দ্বিগুণ। বাঁশের মাদুর এবং খড় দ্বারা চিলে-কোঠা পৃথক করা থাকে। বেশিরভাগ বাড়ির মতোই পশ্চিমের সাধারণ ঘরগুলোর দেয়াল পিটান মাটির তৈরি।[৫][৬][৭]

জং স্থাপত্য[সম্পাদনা]

সতের শতকে মহান তিব্বতি লামা নওয়াং নামগিয়া্লের নেতৃত্বে ভূটানি জং স্থাপত্য সর্বোচ্চ স্থানে উপনীত হয়েছিল। জংগুলো তাদের কার্যক্ষেত্রে আত্মরক্ষামূলক দুর্গের সাথে সম্পর্কিত কিনা তা আধুনিক সামরিক কৌশলবিদরা পর্যবেক্ষণ করবেন। জংগুলো প্রায়ই পাহাড়ের উপরে, পাহাড়ের চূড়ায় অথবা গুরুত্বপূর্ণ নদীর নিকটে অবস্থান করে। জংগুলোর দেয়াল ভারি গাঁথনের পর্দা ঘেরা থাকে।[৪][৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Country profile – Bhutan: a land frozen in time". BBC News online. 1998-02-09. Archived from the original on 11 November 2010. Retrieved 2010-10-01
  2. Rinzin, Yangchen C (2011-10-29). "A Fortress That's About to Fall". Kuensel online. Archived from the original on 2012-06-16. Retrieved 2011-10-29
  3. Rael, Ronald (2008). Earth Architecture. Princeton Architectural Press. p. 92. ISBN 1-56898-767-6
  4. Brown, Lindsay; Armington, Stan (2007). Bhutan. Country Guides (3 ed.). Lonely Planet. pp. 78–83, 181. ISBN 1-74059-529-7.
  5. Brown, Lindsay; Armington, Stan (2007). Bhutan. Country Guides (3 ed.). Lonely Planet. pp. 78–83, 181. ISBN 1-74059-529-7
  6. Fraser, Neil; Bhattacharya, Anima & Bimalendu (2001). Geography of a Himalayan Kingdom: Bhutan. Concept. pp. 158–161. ISBN 81-7022-887-5.
  7. Bisht, Ramesh Chandra. International Encyclopaedia of Himalayas. Mittal Publications. pp. 134–7. ISBN 81-8324-265-0.

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]