ভুটানের জাতীয় প্রতীকসমূহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ভুটানের জাতীয় প্রতীকগুলি বলতে মূলত তিনটি চিহ্নকে বোঝায় — জাতীয় পতাকা, জাতীয় প্রতীক, জাতীয় সংগীত। এছাড়া অপর একটি জাতীয় প্রতীক হল পৌরাণিক 'দ্রুক' বা 'বজ্র ড্রাগন' যেটি কিনা পূর্বোল্লিখিত ৩টি জাতীয় প্রতীকেরই অংশ। ভুটানের এবং এখানকার প্রভাবশালি গ্যালোপ সংস্কৃতির মধ্যে অন্যান্য বিশিষ্ট চিহ্নগুলি হল জংখা — জাতীয় ভাষা, ভুটানের রাজতন্ত্র; এবং দ্রিগ্লাম নামযা (একটি সতেরো শতকের পোষাক ও তা পরার নিয়ম), শিষ্টাচার বা এটিকেট ও জুং স্থাপত্যশিল্প। ভুটানের প্রাকৃতিক প্রতীকগুলির মধ্যে পড়ে - জাতীয় ফুল হিমালয় নীল পপি; জাতীয় গাছ অর্থাৎ হিমালয়ান সাইপ্রাস; জাতীয় পাখি কাক (করভাস কোরাক্স); এবং জাতীয় পশু টাকি (টাকিন)।

এই জাতীয় প্রতীকগুলি আইন ও ঐতিহ্য দ্বারা বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠিত। ভুটানের বিধিবদ্ধ করা জাতীয় চিহ্নগুলির (যেমন পতাকা, প্রতীক) বেশীরভাগ আইন আধুনিক হলেও, তাদের পিছনে যে ঐতিহ্য রয়েছে তা আসলে বৌদ্ধ পুরাণ থেকে প্রাপ্ত এবং সেগুলি ভুটানের রাজতন্ত্রের চেয়েও পুরোনো বলে জানা যায়। দ্রুক বা বজ্র ড্রাগন ভুটানের রাষ্ট্রীয় ধর্মের সাথে জড়িত এবং দ্বাদশ শতাব্দীর শেষের দিক থেকে বিশেষত ভুটানের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক প্রতীকগুলি যেমন কাক এবং হিমালয়ান সাইপ্রাস কেবল স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় অর্থও ধারণ করে।

ভুটানের জাতীয় পতাকা[সম্পাদনা]

ভুটানের জাতীয় পতাকা।

ভুটানের জাতীয় পতাকা, তিব্বতীয় বৌদ্ধধর্মের একটি ধারা দ্রুকপা ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে বানানো হয় এবং এটি ভুটানি পুরাণের বজ্র ড্রাগন বা দ্রুক সমন্বিত। ময়ুম চয়েং ওয়াংমো দোর্জি (Mayum Choying Wangmo Dorji) পতাকার মূল নকশাটি ১৯৪৭ সালে করেন। ১৯৪৯ সালে ইন্দো-ভুটান চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সময় এর একটি সংস্করণ প্রদর্শিত হয়েছিল। ১৯৫৬ সালে দ্রুক গিয়ালপো জিগমে ডোরজি ওয়াংচুকের পূর্ব ভুটান সফরের জন্য একটি দ্বিতীয় সংস্করণ চালু হয়েছিল; এটি ১৯৪৯ এর প্রথম সংস্করণটির উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল এবং সবুজ দ্রুকের পরিবর্তে একটি সাদা দ্রুক পতাকায় দেখা যায়। পরবর্তীকালে ভুটানের অধিবাসীরা ভারতের পতাকার পরিমাপের সাথে মেলানোর জন্য (তাদের মনে হয় ভারতের পতাকাটির মাপ ওড়ার পক্ষে সুবিধাজনক) তাদের পতাকাটির নকশা আবার পরিবর্তন করে। এরপর আরেকটি পরিবর্তন করে লাল পটভূমির রঙ কমলা করা হয় এবং ১৯৬৯ সাল থেকে এই পতাকাই ব্যবহার করা হচ্ছে। ১৯৭২ সালে ভুটানের জাতীয় পরিষদ পতাকাটির নকশাকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য এবং পতাকা উড়ানোর বিভিন্ন আচরণবিধি ও শর্তাবলী আনুষ্ঠানিকভাবে বিধিবদ্ধ করে।[১]

২০০৮ সালের সংবিধানের প্রথম তফসিলটি পতাকাটিকে আইনিভাবে বর্ণনা করে —

ভুটানের প্রতীক[সম্পাদনা]

ভুটানের জাতীয় প্রতীক

ভুটানের এম্ব্লেম বা প্রতীক আইনি কাগজপত্রে এবং ওয়েবসাইটের মতো সরকারী প্রকাশনাতে ব্যবহৃত হয়। এই প্রতীকটি প্রথম ২০০৮ সালে সংবিধানে জাতীয় প্রতীক হিসাবে আইনিভাবে বিধিবদ্ধ করা হয়। তাই এটি ভুটানের জাতীয় প্রতীকগুলির তালিকায় তুলনামূলকভাবে নতুন সংযোজন। যদিও, জাতীয় পতাকার মতো, জাতীয় প্রতীকটিও বৌদ্ধ সংস্কৃতির অংশ এবং বহু শতাব্দী ধরে ভুটানের জনগণের কাছে অপরিসীম গুরুত্ব রাখে। বিধিবদ্ধ করার আগে বিভিন্ন পুরোনো ওয়েবসাইট ও আইনি গ্রন্থে এর ব্যবহার দেখা যেত।[৩][৪]

সংবিধান ভুটানের এম্ব্লেম বা প্রতীকটিকে আইনিভাবে বর্ণনা করে -

কিছু ক্ষেত্রে প্রতীকটির কিছু বৈশিষ্ট্য পৃথক হতে পারে; উদাহরণস্বরূপ, পটভূমি অগ্নিবর্ণ, নীল বা কালো হিসাবে থাকে।[৪][৫][৬] এছাড়া ভুটানের প্রতীকটি কিছু সরকারী সংস্থার লোগো হিসাবেও ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। উদাহরণ- ভুটান ট্রাস্ট ফান্ড।[৭]

ভুটানের জাতীয় সংগীত[সম্পাদনা]

"দ্রুক চেনদেন" যার অর্থ "বজ্র ড্রাগন রাজত্ব" হল ভুটানের জাতীয় সঙ্গীত[৮] ১৯৫৩ সালে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গৃহীত এই গানটি রচনা করেন গ্যালদুন থিনলে ও সুর দেন আকু তংমি।[৯] ভুটানের সরকার জাতীয় সংগীতের প্রয়োজনীয়তা প্রথম অনুভব করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জওহরলাল নেহেরু ভুটান সফরের প্রাক্কালে। সেই সময় তংমি ভারতে পড়াশোনা শেষ করে সদ্য়ই ভুটানের সামরিক ব্রাস ব্যান্ডের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। দ্রুক চেনদেন গানটি একটি প্রাচীন লোকসঙ্গীত "থ্রি ন্যাম্পা মেড পা পেমাই থ্রি" সুর দ্বারা অনুপ্রাণিত।[১]

এরপর থেকে তংমির উত্তরসূরিরা ব্যান্ড লিডার হিসাবে গানটির সুরে দুবার পরিবর্তন করেছেন। মূল গানে বারোটি লাইন ছিল, তবে পরে সংগীতটি ১৯৬৪ সালে দ্রুক গিয়ালপোর (ভূটানের রাষ্ট্র প্রধান) এর সেক্রেটারি দ্বারা সংক্ষেপিত হয়ে বর্তমান ছয়-লাইনের সংস্করণ চালু হয়। গানের কথাগুলি ২০০৮ সালের গণতান্ত্রিকভাবে কার্যকর করা সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিলে প্রকাশিত হয়েছে।[২] যেহেতু এই সংগীত একটি লোকসংগীতের সুর দ্বারা অনুপ্রাণিত, সেহেতু এটির একটি নৃত্য বা কোরিওগ্রাফিও রয়েছে, যা তংমিই সৃষ্টি করেন।[১][১০]

ভুটানী সমাজ[সম্পাদনা]

ঘো পোশাক পরে ভুটানী ছেলেরা.
ঘো পোশাক পরে ভুটানী ছেলেরা.

ভুটানের সংস্কৃতি এবং জাতীয় পরিচয়ের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রতীকগুলি হ'ল স্বতন্ত্র ভুটানী পোশাক, ভুটান রাজতন্ত্র এবং জংখা- জাতীয় ভাষা। দ্রিগ্লাম নামযা, সপ্তদশ শতাব্দীর পোশাক, শিষ্টাচার এবং শিল্পের যে রীতি অনুযায়ী, প্রকাশ্যে গ্যালপ পোশাক, ঘো এবং কীরা পরা আবশ্যকরণীয়, ভুটানী পরিচয়ের স্বাতন্ত্র্যসূচক এবং প্রতীকী, যদিও বহু অন্য গোষ্ঠী যেমন লোহটশম্পা এর প্রতি বিরুপ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে থাকে।[১১][১২] গ্যালপ রাজবংশ ও বর্তমান দ্রুক গ্যাল্পো বা সম্রাট ভুটানের বিশিষ্ট প্রতীক হিসেবে পরিচিত। ১৯০৭ সালে পরম রাজতন্ত্র হিসাবে শুরু হওয়া এই রাজ্যটি সর্বশেষ তিনটি রাজার পরিচালনায় আধুনিকীকরণ ও গণতন্ত্রকরণের পথে অগ্রসর হয়েছিল। ২০০৮ সালের গণতান্ত্রিক সংবিধানে রাজতন্ত্র তথা উগেন ওয়াংচুক এর রাজকুলকে সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংবিধান এবং আধুনিক আইনগুলি অনুযায়ী সকল আইনের পর্যালোচনা ও সম্মতি, বিচার আপিল শুনানি, এবং দেশীয় ও বিদেশী নীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজার সক্রিয় ভূমিকা রক্ষা করে থাকে।[২] অপর একটি বিশেষ প্রতীক যা ভুটানের পরিচয় দেয় তা হল রাজার মুকুট যা একটি কাকের মস্তক সম্বলিত হয়। উগেন ওয়াংচুক(১৯০৭-২৬)[১৩] প্রথম রাজা যিনি এই মুকুটুটি ধারণ করেন। কাক এই মুকুটে ভুটানের দেবতা মহাকালকে প্রকাশ করে যাকে এদেশের অধিবাসীরা দেশের রক্ষাকর্তা হিসেবে মান্য করে। জিগমে নামগিয়েল(১৮২৫-৮১) যিনি ওয়াংচুক বংশের পূর্বপুরুষ প্রথম এই ধরনের শিরস্ত্রান(যা কালো শাসক বা ব্ল্যাক রিজেন্ট নামে খ্যাত) যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করেছিলেন বলে জানা যায় এবং বহু শত্রূপক্ষকে পরাস্ত করেন(এমনকী ইংরেজদেরও)। জাতীয় ভাষা জংখা একটি সাধারণ ভাষা(লিঙ্গুয়া ফ্রানকা) হিসাবে পরিচিত যা প্রচলিত বিভিন্ন ভাষার সেতুস্বরুপ। জং বলতে ভুটানের বিশালাকার দুর্গ সদৃশ্য কাঠামোকে বোঝানো হয়, যা ১৭শতকে তৈরি হয়। এই দুর্গগুলি এখন সরকারী দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দ্রিগ্লাম নামযা ও ভুটান রাজপরিবারের ন্যায় এই ভাষাও গ্যালপ সংস্কৃতির অংশ।[২]:১:৮[১৩]

উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত[সম্পাদনা]

ভুটানের জাতীয় ফুল হিমালয়ান নীল পপি

ভুটানের জাতীয় ফুল হিমালয়ান নীল পপি (বিজ্ঞানসম্মত নাম-মেকোনোপিস গ্যাকিডিয়ানা)। ভুটানে, এটি ৩৫০০-৪৫০০ মিটার উচ্চতায় পাথুরে পাহাড়ী অঞ্চলে গাছের সারির উপরে ১ মিটার উচ্চতায় হয়। এদেশের মানুষের বিশ্বাস অনুযায়ী এই ফুল তুষারমানব বা ইয়েতির সাথে সম্পর্কিত। ১৯৩৩ সালে ইংরেজ উদ্ভিদবিজ্ঞানী জর্জ শেরিফ পূর্ব ভুটানের সাকটেং অঞ্চলে প্রথম এই ফুল আবিষ্কার করেছিলেন।[১৩]

হিমালয় সাইপ্রাস (বিজ্ঞানসম্মত নাম-কাপ্রেসাস টরোলুসা) হল ভুটানের জাতীয় গাছ। এগুলি ধর্মের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত এবং প্রায়শই মন্দির বা উপাসনাগৃহের কাছাকাছি এবং ১৮০০ মিটার এবং ৩৫০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে জন্মায়। ভুটানীদের কাছে, এই উদ্ভিদের শুষ্ক ভূখণ্ডে টিকে থাকার ক্ষমতা সাহসিকতা এবং সরলতার প্রতিনিধিত্ব করে।[১৩]

ভুটানের জাতীয় পাখি হচ্ছে কাক। পূর্বে উল্লিখিত, এটি রাজকীয় মুকুটের বিশিষ্ট অংশ। ভুটানে, কাকেরা উপাস্য দেবতা গনপো জারোডোংচেনের, মহাকাল, দেশের অন্যতম প্রধান আরাধ্য দেবতার প্রতিনিধিত্ব করে। [১৩] এমনকি, সপ্তদশ শতাব্দীতে ভুটানের প্রতিষ্ঠাতা শাবদ্রুং নাগাওয়ং নামগিয়ালকে, ইউ-সাং -এর (তিব্বত) আক্রমণের বিরুদ্ধে জয়লাভের পিছনেও এই জাতীয় পাখিটির ভূমিকা ছিল বলে এখানকার মানুষের বিশ্বাস।[১৪]

জাতীয় প্রাণী হ'ল টাকিন (বার্ডোর্কাস ট্যাক্সিকোলার)। এটি একটি ছাগলজাতীয় বা বোভিডি প্রজাতির প্রাণী যেটি এদেশের ধর্মীয় ইতিহাস এবং পুরাণের সাথেও যুক্ত। বর্তমানে এটি একটি বিরল প্রাণী এবং এর সংরক্ষণের অবস্থাটি সংকটাপন্ন বা ভালনারেবেল।[১৫] এর গর্দানটি মোটা এবং ছোটো ছোটো পাগুলি পেশীবহুল। এটি বাঁশজাতীয় ঘাস খেয়ে বেঁচে থাকে ও ভুটানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলে প্রায় ৪০০০ মিটার উঁচুতে দলবদ্ধভাবে ভ্রমণ করে।[১৩]

দ্রুক ঐতিহ্য[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ - দ্রুক

দ্রুক বা বজ্র ড্রাগন ভুটানের পুরাণ ও ধর্মের সাথে জড়িত বর্তমান রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার(১৯০৭) বহু আগে থেকেই ভুটানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। সপ্তদশ শতাব্দী থেকে ভুটান "দ্রুক ইউল" বা "বজ্র ড্রাগনের ভূমি"[১৬] হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ভুটানের দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার রাষ্ট্রীয় ধর্ম দ্রুকপা (বৌদ্ধরীতির একটি ধারা বা গোষ্ঠী) এই দ্রুক ঐতিহ্যের মূলে রয়েছে। এই ধারাটির সূচনা হয় পশ্চিম তিব্বত এর ধর্মগুরু সাংপা দরজের(১১৬১-১২১১) মাধ্যমে। কথিত আছে, এই ধর্মগুরু ও তার শিষ্যগণ স্বচক্ষে ৯টি ড্রাগনকে মাটি থেকে আকাশে গর্জনপূর্বক উড়ে যেতে ও সঙ্গে পুস্পবৃষ্টি হতে দেখেছিলেন। তাই এই গোষ্ঠীর নাম রাখা হয় দ্রুকপা।[১৭] এই দ্রুক ভুটানের ও ওয়াংচু রাজবংশের অন্যান্য একাধিক প্রতীকের মধ্যে উপস্থিত।

খেলা[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে জাতিসংঘে সংযোজনের পর ভুটানের জাতীয় খেলা ধনুর্বিদ্যা ঠিক হয়। [১৮] অন্যান্য ভুটানি খেলাগুলির মধ্যে রয়েছে ডিগর, শট-পুটের অনুরূপ; এবং খুরু, এক ধরনের ডার্ট গেম।[১৯] এই খেলাগুলির প্রতিযোগিতা এবং উদযাপন, স্থানীয় টেচু উৎসব ও ভুটানের সরকারী ছুটির দিনে করা হয়ে থাকে। এই ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলি, বিশেষ করে ধনুর্বিদ্যার আলাদা ধর্মীয়, উপাদান এবং বাণিজ্যিক তাৎপর্য আছে। ক্রমশ, ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়াগুলিতে আধুনিকতাকে গ্রহণ করা হয়েছে, যেমন কম্পাউন্ড ধনুক এবং কর্পোরেট স্পনসরশিপ ইত্যাদি।[২০][২১][২২][২৩][২৪]

আইন[সম্পাদনা]

ভুটানের জাতীয় প্রতীক সম্পর্কিত সাম্প্রতিক আইনসমূহ ২০০৮ সালের জাতীয় সংবিধানে বিধিবদ্ধ করা হয়। এই সংবিধান ভুটানের জাতীয় প্রতীক সম্পর্কিত একমাত্র গণতান্ত্রিকভাবে প্রণীত আইনি দলিল। সর্বাগ্রে, সংবিধান জংখাকেজাতীয় ভাষা হিসাবে মর্যাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে[২]:১:৮ এবং ১লা ডিসেম্বর - রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দিনটিকে - জাতীয় দিবস হিসাবে ঘোষণা করে।[২]:১:৭ এটিও নিশ্চিত করা হয় যে মহাযান বৌদ্ধধর্মের দ্রুকপা কাগু ধারাটি রাষ্ট্রীয় ধর্মের সম্মান পায়।[২]:২:২; ৩ সংবিধানের প্রথম তফসিলটি জাতীয় পতাকা এবং প্রতীকের সাম্প্রতিকতম আইনি বিবরণ পেশ করে, এবং এর দ্বিতীয় তফসিলটি ভুটানের জাতীয় সংগীতের গানের কথা ধারণ করে।[২]

২০০৮ সালের পূর্বের জাতীয় প্রতীক সংক্রান্ত সমস্ত আইনগুলি এখনো কার্যকরী আছে যদি না তা এই সংবিধানের আইনের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।[২]:১:১০ উদাহরণস্বরুপ ১৯৭২ সালের জাতীয় পতাকা আইনটির উল্লেখ করা যায় যাতে জাতীয় পতাকার বিভিন্ন অংশের রুপকগুলি বর্ণিত আছে(যা সংবিধানের বর্ণনার সাথে প্রায় একই)। এছাড়াও এই আইনের মধ্যে পতাকাটি উত্তোলন , ব্যবহার সংক্রান্ত নিয়মগুলি লিপিবদ্ধ করা আছে।[২৫]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Penjore, Dorji; Kinga, Sonam (২০০২)। The Origin and Description of The National Flag and National Anthem of The Kingdom of Bhutan (PDF)Thimphu: The Centre for Bhutan Studies। পৃষ্ঠা 14। আইএসবিএন 99936-14-01-7। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৪-১৯ 
  2. "The Constitution of the Kingdom of Bhutan" (PDF)। Government of Bhutan। ২০০৮-০৭-১৮। ২০১১-০৭-০৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১০-০৮ 
  3. "Archive: Bhutan Portal – Government Official Web Portal"Internet Archive Wayback MachineGovernment of Bhutan। ২০০৫-১২-৩১। ২০০৫-১২-৩০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০১-১২ 
  4. "Immigration Act of the Kingdom of Bhutan 2007" (PDF)Government of Bhutan। ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৩-২৭ 
  5. "Bhutan Portal"Government of Bhutan। ২০১১-০৪-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৩-২৭ 
  6. "Constitution of Bhutan online"Government of Bhutan। ২০১২-০১-০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৩-২৭ 
  7. "Bhutan Trust Fund for Environmental Conservation online"Government of Bhutan। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৩-২৬ 
  8. "National Anthem"Bhutan PortalGovernment of Bhutan। ২০১২-০২-০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১০-২৯ 
  9. Brozović, Dalibor (১৯৯৯)। Hrvatska Enciklopedija1। Miroslav Krleža। পৃষ্ঠা 569। আইএসবিএন 953-6036-29-0। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১০-২৯ 
  10. Blackwell, Amy Hackney (২০০৯)। Independence Days: Holidays and Celebrations। Infobase Publishing। পৃষ্ঠা 15। আইএসবিএন 1-60413-101-2। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১০-২৯ 
  11. "Country profile – Bhutan: a land frozen in time"। BBC News online। ১৯৯৮-০২-০৯। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১০-০১ 
  12. "Bhutan country profile"। BBC News online। ২০১০-০৫-০৫। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১০-০১ 
  13. "National Symbols"Bhutan 2008 onlineThimphu, Bhutan: Ministry of Home and Cultural Affairs, Department of Information Technology and Telecommunications। ২০১১-০২-২৫। ২০১১-০৭-০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০২-২৭ 
  14. Rahul, Ram (১৯৭৮)। The Himalaya as a Frontier। Vikas। পৃষ্ঠা 78। আইএসবিএন 0-7069-0564-4 
  15. {{{assessors}}} (2008). Budorcas taxicolor. 2008 IUCN Red List of Threatened Species. IUCN 2008. Retrieved on 31 March 2009. Database entry includes a brief justification of why this species is of vulnerable.
  16. Robert L. (১৯৯১)। "Chapter 6 - Bhutan: Origins and Early Settlement, A.D. 600-1600"। Worden; Savada, Andrea Matles। Nepal and Bhutan: Country Studies (3rd সংস্করণ)। Federal Research Division, United States Library of Congressআইএসবিএন 0-8444-0777-1। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১০-০৬ 
  17. Dargye, Yonten (২০০১)। History of the Drukpa Kagyud School in Bhutan (12th to 17th Century A.D.)Thimphu, Bhutanআইএসবিএন 99936-616-0-0 
  18. "The National Sport of Bhutan"। Yangphel Archery online। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৯-১৯ 
  19. Palden, Karma (২০১০-০৯-২৪)। "Thruebab Brings Fields Alive"Bhutan Observer online। ২০১২-০৪-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৯-১৯ 
  20. Palden, Karma (২০১১-০৯-০৩)। "Yangphel Final Tomorrow"Bhutan Observer online। ২০১১-০৯-১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৯-১৯ 
  21. Palden, Karma (২০১০-১২-১৭)। "The Battle of Astrologers, Deities and Money"Bhutan Observer online। ২০১২-০৪-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৯-১৯ 
  22. "Archery Off-Range"Bhutan Observer online। ২০১০-১২-০৩। ২০১১-১০-০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৯-১৯ 
  23. "Sonam Automobiles Join Finalists"Kuensel online। ২০১১-০৮-২৯। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৯-১৯ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  24. Wangchuk, Jigme (২০১০-১২-১৫)। "Let Sports Be Clean and Fair"Bhutan Observer online। ২০১১-০৯-১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৯-১৯ 
  25. "The National Flag Rules of Bhutan, 1972" (PDF)Government of Bhutan। ১৯৭২-০৬-০৮। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০১-০৯ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]