ভুটানী রন্ধনশৈলী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ভুটানী জাতীয় খাবার এমা ডাটসি (ཨེ་མ་དར་ཚིལ།) যা ভুটানী লাল চাল ও সাদা চাল দিয়ে তৈরী করা হয়

ভুটানী রন্ধনশৈলী ভুটানে প্রচলিত বিভিন্ন স্থানীয় রন্ধনপ্রণালী। ভুটানী রন্ধনশৈলীতে প্রচুর পরিমাণে লাল চাল, ভুট্টা ইত্যাদির ব্যবহার হয়। পাহাড়ের খাদ্যতালিকায় মাংসের উৎস হিসেবে আছে মুরগী, চমরীগাইয়ের মাংস, শুকনো গোমাংস, পোর্ক, শুকরের চর্বি এবং ভেড়ার মাংস ইত্যাদি।শীতকালে স্যুপ ও মাংসের ঝোল, ভাত, ফার্ন, ডাউল ও শুটকি সব্জি, মরিচের ঝাল ও পনির দিয়ে রান্না ভুটানীদের প্রিয় খাদ্য। বেঁচে যাওয়া সব্জির সংগে ভাত মিশিয়ে যোউ শুঙ্গো তৈরী করা হয়। বড়, সবুজ মরিচ দিয়ে তৈরী মশলাদার এমা ডাটসি (ཨེ་མ་དར་ཚིལ།) ভুটানীদের গর্বের খাবার এবং এটাকে জাতীয় খাবারও বলা যায়।[১]

খাদ্যাভ্যাস[সম্পাদনা]

ভুটানীদের মুরগীর মাংসের তরকারী জাসুয়া মারু নামে পরিচিত। শুটকি পোর্ক মরিচ, মশলা এবং সবজি দিয়ে ফাকশা পা তৈরী করা হয়। থুকপা, বাথুপ ও ভাজা ভাত এদের খাদ্য তালিকায় স্থান দখল করে আছে। গরুর দুধ থেকে তৈরী পনির ডাটসি এরা কখনো সরাসরি খায় না। বিভিন্ন সস তৈরীতে এটা ব্যবহৃত হয়। পূর্বাঞ্চলের জেলায় জৈডৈ নামে একধরনের পনির তৈরী করা হয় যা স্যুপে ব্যবহার করা হয়। জৈডৈ সাধারণত সবুজাভ বর্ণের হয় এবং কড়া গন্ধযুক্ত। এখানে পশ্চিমা ধরনের পনির যেম চেড্ডার ও গৌউডার ব্যবহার আছে। পশ্চিমা চীজ বুম্থাংয়ের সুইস চীজ ফ্যাক্টরিতে তৈরী করা হয় এবং ভারত থেকে আমদানী করা হয়।

ভুটানের জনপ্রিয় স্ন্যাকসের মধ্যে আছে মম (ভূটানী ডাম্পলিং), শ্যাকাম ইইজ্যায়, খাব্জে, শাবালায়, জুমা (মশলাদার ভুটানী সসেজ), নুডলস ইত্যাদি। দেশের আধুনিক রেস্তোরা গুলোতে চীনা, নেপালী, তিব্বতী এবং ভারতীয় খাবার পাওয়া যায়। ভুটান পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হওয়ায় এর রন্ধনশৈলীতে বৈচিত্র্যতা যোগ হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভুটানে কোরিয়ান সংস্কৃতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় কোরীয় রেস্তোরা গড়ে উঠেছে।[২]

চমরীগাই ও গরু থেকে প্রাপ্ত ঘি ও পনির এতই জনপ্রিয় যে এই অঞ্চলের প্রায় সব দুধই ঘি এবং পনির তৈরীতে ব্যবহৃত হয়। এদের জনপ্রিয় পানীয়ের মধ্যে আছে সুজা(ঘি চা), দুধ চা, লাল চা, স্থানীয়ভাবে ভাত থেকে প্রস্তুত মদ আরা এবং বিয়ার। এদের প্রতিদিনকার মশলা তালিকায় আছে সিচুয়ান মরিচ থিঙ্গে, হলুদ, জিরা ইত্যাদি।

আদবকায়দা[সম্পাদনা]

ভুটানীদের যদি কেউ খাবার খেতে বলে তবে এরা এক হাত দিয়ে মুখ ঢেকে মেসু মেসু বলে অনীহা প্রকাশ করে। দ্বিতীয় বা তৃতীয় অনুরোধে খাবার পরিবেশিত হয়।

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "༈ རྫོང་ཁ་ཨིང་ལིཤ་ཤན་སྦྱར་ཚིག་མཛོད། ༼ཨ༽" [Dzongkha-English Dictionary: "A"]। Dzongkha-English Online Dictionary। Dzongkha Development Commission, Government of Bhutan। ২০১১-০৮-২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১০-৩০ 
  2. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ নভেম্বর ২০১৭