বিষয়বস্তুতে চলুন

ভুজঙ্গাসন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সর্পাসন বা ভুজঙ্গাসন

ভুজঙ্গাসন অথবা সর্পাসন (সংস্কৃত: भुजङ्गासन, IAST: Bhujaṅgāsana) হঠযোগ ও আধুনিক যোগাভ্যাসে ব্যবহৃত এক প্রকার শায়িত পশ্চাৎবাঁক আসন। সূর্যনমস্কারের বিভিন্ন পর্যায়ে এটি কখনও কখনও উর্ধ্বমুখ শ্বানাসনের বিকল্প হিসেবেও অনুশীলিত হয়। ইয়িন যোগে এর সহজতর রূপকে স্ফিংক্স আসন বলা হয়।

ব্যুৎপত্তি এবং উৎপত্তি

[সম্পাদনা]

ভুজঙ্গাসন শব্দটি সংস্কৃত भुजङ्ग (ভুজঙ্গ) অর্থাৎ “সাপ” এবং आसन (আসন) অর্থাৎ “অবস্থান” বা “সিট”, এই দুটি শব্দ থেকে উদ্ভূত। মাথা উঁচু করে থাকা সাপের আকৃতির সঙ্গে সাদৃশ্য থাকার কারণে এই নামকরণ।[১] সপ্তদশ শতকে রচিত হঠযোগগ্রন্থ ঘেরণ্ডসংহিতা-তেও এই আসনের উল্লেখ পাওয়া যায়। উনবিংশ শতকে শ্রীতত্ত্বনিধি গ্রন্থে এই আসনকে সর্পাসন নামে বর্ণনা করা হয়েছে।[২] বিংশ শতকের প্রথমভাগে যোগাচার্য নারায়ণ গামণ্ডে তাঁর যোগসোপান পূর্বচতুষ্টয় গ্রন্থে ভুজঙ্গাসনের চিত্র ও বর্ণনা প্রদান করেন।[৩]

উর্ধ্বমুখশ্বানাসন (সংস্কৃত: ऊर्ध्वमुखश्वानासन, IAST: Urdhva mukha śvānāsana) শব্দটি ऊर्ध्व (উর্ধ্ব) অর্থাৎ “উর্ধ্বমুখে”, मुख (মুখ) অর্থাৎ “মুখ”, এবং श्वान (শ্বান) অর্থাৎ “কুকুর”, এই তিনটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।[৪] বিংশ শতকের মধ্যভাগে যোগাচার্য কৃষ্ণমাচার্য সূর্যনমস্কারের ধারাবাহিকতা থেকে এই আসনটিকে আধুনিক যোগাভ্যাসে প্রবর্তন করেন। পরবর্তীকালে তাঁর শিষ্য পট্টাভি জোইস ও বি. কে. এস. আয়েঙ্গার এই আসনকে জনপ্রিয় করে তোলেন।[৫][৬]

বিবরণ

[সম্পাদনা]

এই পশ্চাৎবাঁক আসনটি উপুড় হয়ে শোয়া অবস্থান থেকে অথবা অধোমুখ শ্বানাসন থেকে শুরু করা যায়। দুই হাতের তালু কাঁধের নীচে স্থাপন করে চাপ দিলে নিতম্ব সামান্য উঁচু হয়। পায়ের পৃষ্ঠ ভূমিতে স্থির থাকে এবং দুই পা সোজা প্রসারিত থাকে; দৃষ্টি সামনের দিকে নিবদ্ধ থাকে—এটাই প্রস্তুতিমূলক অবস্থান। পূর্ণ ভুজঙ্গাসনে পিঠ আরও বাঁকানো হয় যতক্ষণ না দুই হাত সোজা হয়ে যায়, এবং দৃষ্টি সোজা উপরের দিকে বা সামান্য পিছনের দিকে থাকে।[৭][৮][৯] ভুজঙ্গাসনে দুই পা ভূমিতে স্থির থাকে, কিন্তু উর্ধ্বমুখ শ্বানাসনে নিতম্ব, উরু ও হাঁটু ভূমি থেকে সামান্য উপরে উঠে যায়। শলভাসন বা স্ফিংক্স আসন ভুজঙ্গাসনের প্রস্তুতি হিসেবে অনুশীলন করা যেতে পারে। সূর্যনমস্কারের কিছু ধারায় ভুজঙ্গাসন একটি প্রধান পশ্চাৎবাঁক আসন। বালাসন (শিশু আসন) ভুজঙ্গাসনের একটি স্বাভাবিক প্রতিপক্ষ আসন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।[১০][১১][১২]

বৈচিত্র্য

[সম্পাদনা]

সহজতর রূপ হল স্ফিংক্স আসন, যাকে কখনও ষলম্ব ভুজঙ্গাसनন (সংস্কৃত: षलम्ब भुजङ्गासन) বলা হয়।[১৩] এতে কনুই ও পূর্ববাহু ভূমিতে স্থির থাকে, ফলে পিঠের বাঁক তুলনামূলকভাবে কোমল হয়। ইয়িন যোগে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখার জন্য এই আসনটি ব্যবহৃত হয়—কখনও পূর্ববাহু ভূমিতে রেখে, কখনও হাত সোজা করে। গর্ভাবস্থার মতো অবস্থায় পেলভিসের নীচে নরম কম্বল রেখে আসনটি পরিবর্তিতভাবে অনুশীলন করা যায়।[১৪][১৫]

উর্ধ্বমুখ শ্বানাসন বা “আপডগ” উপুড় হয়ে শ্বাস গ্রহণের সঙ্গে শুরু হয় (অথবা চতুরঙ্গ দণ্ডাসন বা অষ্টাঙ্গ নমস্কার থেকে)। পা সামান্য দূরে রাখা হয়, পা সোজা প্রসারিত থাকে, আঙুল বাইরে থাকে (ভেতরে ভাঁজ করা নয়), এবং দুই হাতের উপর ভর দিয়ে শরীরকে এমনভাবে তোলা হয় যাতে নিতম্ব ভূমি থেকে উপরে থাকে। দৃষ্টি সোজা উপরের দিকে থাকে, ফলে ঘাড় ও পিঠে গভীর পশ্চাৎবাঁক সৃষ্টি হয়।[৪]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ "Bhujangasana, Bhujanga-asana, Bhujaṅgāsana: 2 definitions"। Wisdom Library। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুন ২০২৩।
  2. ↑ "Cobra Pose"। Yoga Journal। ২৮ মে ২০০৭।
  3. ↑ "Cobra Pose"। Yoga Journal। ২৮ মে ২০০৭।
  4. 1 2 Mehta, Mehta এবং Mehta 1990, পৃ. 91।
  5. ↑ Singleton 2010, পৃ. 204-205।
  6. ↑ Singleton, Mark (৪ ফেব্রুয়ারি ২০১১)। "The Ancient & Modern Roots of Yoga"। Yoga Journal।
  7. ↑ Iyengar 1979, পৃ. 107–108, 396–397।
  8. ↑ "Urdhva Mukha Shvanasana"। AshtangaYoga.info। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১১।
  9. ↑ "Cobra Pose"। Yoga Journal। ২৮ মে ২০০৭।
  10. ↑ Dehnke, Andrea (২৮ আগস্ট ২০০৭)। "Cobra Pose"। Yoga Journal। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুলাই ২০২২।
  11. ↑ "Surya Namaskara"। Divine Life Society। ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুলাই ২০১৯।
  12. ↑ Dehnke, Andrea (২৮ আগস্ট ২০০৭)। "Cobra Pose"। Yoga Journal। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুলাই ২০২২।
  13. ↑ "Cobra Pose"। Yoga Journal। ২৮ মে ২০০৭।
  14. ↑ "Cobra Pose"। Yoga Journal। ২৮ মে ২০০৭।
  15. ↑ "Sphinx & Seal"। Yin Yoga। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুলাই ২০১৯।