বিষয়বস্তুতে চলুন

ভীষ্ম গুহঠাকুরতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ভীষ্ম গুহঠাকুরতা
জন্ম১৯৪৯
মৃত্যু১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২
জাতীয়তাভারতীয়
মাতৃশিক্ষায়তনসেন্ট জেভিয়ার'স কলেজ, কলকাতা
আদি নিবাসকলকাতা
দাম্পত্য সঙ্গীশাশ্বতী গুহঠাকুরতা
সন্তানশ্রেয়া গুহঠাকুরতা (কন্যা)
সৌনক গুহঠাকুরতা (পুত্র)
আত্মীয়শুভ গুহঠাকুরতা (পিতা)
মঞ্জুলা দেবী
(মাতা)
সত্যজিৎ রায় (মাতুল)

ভীষ্মদেব গুহঠাকুরতা সংক্ষেপে ভীষ্ম গুহঠাকুরতা (১৯৪৯ – ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২)[১][২][৩] ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি অভিনেতা যিনি কলকাতার প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট জগৎ থেকে হঠাৎই চলচ্চিত্র জগতে যুক্ত হয়ে নিজেকে অভিনেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।[৪]

জন্ম ও শিক্ষা জীবন

[সম্পাদনা]

ভীষ্মদেব গুহঠাকুরতার জন্ম পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ কলকাতার গুহঠাকুরতা পরিবারের এক সাংগীতিক পরিবেশে। পিতা কলকাতার সেরা রবীন্দ্র সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দক্ষিণীর প্রতিষ্ঠাতা ও রবীন্দ্র সঙ্গীতের শিক্ষক শুভ গুহঠাকুরতা ও মাতা মঞ্জুলা দেবী। ভীষ্ম'র সহোদরেরা হলেন সুদেব ও রনোদেব। ভীষ্মও ছোটবেলা থেকে রবীন্দ্রসংগীত শেখার পাশাপাশি, পিয়ানোও বাজানোতেও পারদর্শিতা অর্জন করেন। তবে ছাত্রাবস্থায় ক্রিকেট খেলতে খুব ভালবাসতেন। কলেজে পড়ার সময় তিনি কলকাতার ফার্স্ট ডিভিশন ক্রিকেটের খেলোয়াড় হয় যান। পড়াশোনা করেন কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার'স কলেজে। তার পিতার প্রতিষ্ঠিত রবীন্দ্র সঙ্গীত শিক্ষার প্রতিষ্ঠান দক্ষিণীর রজত জয়ন্তী উদযাপনের "নষ্টনীড়" নাটকে 'অমল'-এর ভূমিকায় ভীষ্ম একরকম পিতার আগ্রহে অভিনয়ে অংশ নেন। সেই অভিনয়ের সূত্রেই ভীষ্ম আকস্মিকভাবেই একজন তারকা হয়ে যান।

অভিনয় জীবন

[সম্পাদনা]

তপন সিংহের হাত ধরেই ভীষ্ম গুহঠাকুরতার চলচ্চিত্র জগতে আগমন। ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্র সদনে রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে দক্ষিণীর মঞ্চস্থ সেই নষ্টনীড় নাটকে 'অমল'-এর ভূমিকায় অভিনয়ে, দর্শক তপন সিংহ ভীষ্মকে নির্বাচন করেন তার চলচ্চিত্র রাজা-র এক ছোট্ট চরিত্রে। এরপর ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে আর একটু বড় চরিত্রে সঙ্গীত শিক্ষক 'অশোক'-এর ভূমিকায় হারমোনিয়াম ছবিতে। তারপর একে একে তপন সিংহ পরিচালিত বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন। মুখ্য চরিত্রে অভিনয় না করেও, আপাতভাবে উপেক্ষিত চরিত্রগুলিকে জীবন্ত করে তোলায় মোটামুটি তাঁর জুড়ি মেলা ছিল ভার। সেকারণে, ভীষ্ম তপন সিংহের ছবিগুলিতে স্বতন্ত্র জায়গা করে রেখেছিলেন। সত্যজিৎ রায়েরও প্রিয় অভিনেতা ছিলেন তিনি। 'গণশত্রু' ও 'শাখা প্রশাখা'য় অভিনয় করেছেন। শাখাপ্রশাখা-র শুটিংয়ে অসুস্থ সত্যজিৎ রায় ভীষ্ম'র অভিনয় দেখে অনিল চৌধুরীকে বলেছিলেন-

“আমার সুস্থ অবস্থায় পেলে ওকে দিয়ে অনেক কিছু করাতে পারতাম, এত ন্যাচারাল অ্যাক্টর খুব কম পাওয়া যায়...”

[৫]

এরপর ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দের ‘ফটিকচাঁদ’ থেকে শুরু করে তার পরের সন্দীপ রায়ের বেশ কয়েকটি ছবিতেও অভিনয় করেন তিনি।

অভিনীত চলচ্চিত্র-
তপন সিংহ পরিচালিত-
সত্যজিৎ রায় পরিচালিত-
  • গণশত্রু (১৯৮৯) রণেন হালদার
  • শাখা প্রশাখা (১৯৯২) ^
সন্দীপ রায় পরিচালিত-

ব্যক্তিগত জীবন ও জীবনাবসান

[সম্পাদনা]

ভীষ্ম গুহঠাকুরতা বিবাহ করেন ভক্তি ও শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্যা, দূরদর্শনের জনপ্রিয় সঞ্চালিকা শাশ্বতী গুহঠাকুরতাকে। পরে যদিও তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।[১] তাদের কন্যা শ্রেয়া গুহঠাকুরতা একজন প্রতিষ্ঠিত রবীন্দ্র সঙ্গীত গায়িকা।[৬] পুত্র হলেন সৌনক গুহঠাকুরতা। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সংক্রমণ হ্রাস হলেও পরবর্তী সমস্যাগুলি তাকে কাবু করে ফেলে। দক্ষিণ কলকাতার এক হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু ২০২২ খ্রিস্টাব্দের ১১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।[১]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 "সত্যজিৎ-তপন-সন্দীপের প্রিয় অভিনেতা ভীষ্ম গুহঠাকুরতা প্রয়াত"। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
  2. 1 2 "Bhishma Guhathakurta- Biography - IMDb"। সংগ্রহের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
  3. ↑ "প্রয়াত সত্যজিতের প্রিয় অভিনেতা ভীষ্ম, শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর"। সংগ্রহের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
  4. ↑ "ক্রিকেটার থেকে অভিনেতা, ভীষ্মে মুগ্ধ তপন-সত্যজিৎ"। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
  5. ↑ "প্রয়াত হলেন ভীষ্ম গুহঠাকুরতা, বাঙালি হারাল তার 'রণেন'কে"। সংগ্রহের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
  6. ↑ "কলকাতার ফুচকা, রোল, বিরিয়ানি খুব মিস করি"। সংগ্রহের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।