বিষয়বস্তুতে চলুন

ভি কে কৃষ্ণমেনন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ভি. কে. কৃষ্ণ মেনন
Menon, আনু.1950s
Union Minister for Defence
কাজের মেয়াদ
17 April 1957  31 October 1962
পূর্বসূরীKailash Nath Katju
উত্তরসূরীYashwantrao Chavan
Member of Parliament, Lok Sabha
কাজের মেয়াদ
1957–1967
পূর্বসূরীVithal Balkrishna Gandhi
উত্তরসূরীConstituency Abolished
নির্বাচনী এলাকাBombay City North
কাজের মেয়াদ
1969–1971
পূর্বসূরীSachindra Nath Maity
উত্তরসূরীSubodh Chandra Hansda
নির্বাচনী এলাকাMidnapore
কাজের মেয়াদ
1971–1974
পূর্বসূরীP. Viswambharan
উত্তরসূরীM. N. Govindan Nair
নির্বাচনী এলাকাTrivandrum
Member of Parliament, Rajya Sabha
কাজের মেয়াদ
1953–1957
পূর্বসূরীN. Gopalaswami Ayyangar
উত্তরসূরীP J Thomas
নির্বাচনী এলাকাMadras (1953–56)
Kerala (1956–57)
Indian Ambassador to Ireland
কাজের মেয়াদ
1949–1952
পূর্বসূরীPosition established
উত্তরসূরীB. G. Kher
Indian High Commissioner to the United Kingdom
কাজের মেয়াদ
August 1947  1952
পূর্বসূরীM. K. Vellodi (Acting)
উত্তরসূরীB. G. Kher
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মVengalil Krishnan Krishna Menon
(১৮৯৬-০৫-০৩)৩ মে ১৮৯৬
Thalassery, Kannur district, Madras Presidency, British India (now in Kerala)
মৃত্যু৬ অক্টোবর ১৯৭৪(1974-10-06) (বয়স ৭৮)
Delhi, India
রাজনৈতিক দলIndian National Congress
মাতাLakshmi Kutty Amma
পিতাKomath Krishna Kurup
প্রাক্তন শিক্ষার্থীPresidency College (BA)
Madras Law College
London School of Economics (BSc, MSc)
University College London (MA)
Middle Temple (Barrister-at-Law)
পুরস্কারSee below
SourceParliament of India

ভি. কে. কৃষ্ণ মেনন (জন্ম: ৩ মে, ১৮৯৭, কালিকট [বর্তমানে কোঝিকোড়], ভারত—মৃত্যু: ৬ অক্টোবর, ১৯৭৪, নয়াদিল্লি) ছিলেন একজন ভারতীয় জাতীয়তাবাদী এবং ভারতের উপনিবেশবাদ-বিরোধিতা ও নিরপেক্ষতার প্রবক্তা ।

লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্সে পড়াশোনা করার পর , মেনন মিডল টেম্পল থেকে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি একজন একনিষ্ঠ সমাজতন্ত্রী হয়ে ওঠেন এবং ১৯৩৪ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত সেন্ট প্যানক্রাস বরো কাউন্সিলে লেবার পার্টির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে, ইংল্যান্ডে তাঁর প্রধান রাজনৈতিক আগ্রহ ছিল ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে কেন্দ্র করে এবং তিনি ১৯২৯ সাল থেকে ইন্ডিয়া লীগের সম্পাদক হিসেবে এই লক্ষ্যে অক্লান্তভাবে কাজ করে যান। সেই সময়েই স্বাধীন ভারতের জাতীয়তাবাদী ও প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সূচনা হয়।[]

জীবনী

[সম্পাদনা]

ভেঙ্গালিল কৃষ্ণান কৃষ্ণ মেনন ১৮৯৬ সালে কেরালার থালাসেরিতে এক ধনী ও প্রভাবশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন একজন আইনজীবী। তাঁর প্রপিতামহ ছিলেন ত্রিবাঙ্কুরের দেওয়ান। তিনি কোঝিকোডের জামোরিন কলেজ এবং চেন্নাইয়ের প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা করেন, যেখান থেকে তিনি ইতিহাস ও অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি মাদ্রাজ ল কলেজেও অধ্যয়ন করেন। এই সময়ে তিনি স্বশাসন আন্দোলন এবং থিওসফির সঙ্গে যুক্ত হন। মেনন ইউনিভার্সিটি কলেজ, লন্ডন এবং লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্সে তাঁর শিক্ষা অব্যাহত রাখেন। তাঁর শিক্ষক, ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ হ্যারল্ড লাস্কি তাঁকে 'তাঁর দেখা সেরা ছাত্র' হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি মনোবিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তিনি আইন নিয়েও পড়াশোনা করেন এবং একজন ব্যারিস্টার হন। তিনি পেঙ্গুইন বুকসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদকও ছিলেন। যুক্তরাজ্যে থাকাকালীন তিনি লেবার পার্টিতে যোগ দেন এবং লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস বরোর কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তিনি ইন্ডিয়া লীগের (১৯২৯ – ১৯৪৭) সাংবাদিক ও সম্পাদক হন এবং লন্ডনে ভারতের স্বাধীনতার একজন প্রধান প্রবক্তা হয়ে ওঠেন। সেখানে তিনি জওহরলাল নেহরুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন। বার্ট্রান্ড রাসেল, ই.এম. ফস্টার, জে.বি.এস. হ্যালডেন প্রমুখ রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

ইন্ডিয়া লীগে থাকাকালীন তিনি ভারতীয় স্বাধীনতার পক্ষে ব্রিটিশদের জনসমর্থন তৈরিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিলেন। তিনি তাঁর রসবোধ ও তীক্ষ্ণ প্রত্যুত্তরের জন্য পরিচিত ছিলেন; সেইসাথে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের প্রতি তাঁর অপছন্দের জন্যও। দেশ স্বাধীনতা লাভের পর, মেনন ১৯৫২ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে ভারতীয় হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৬২ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বও দেন। এই সময়ে তিনি একজন অসাধারণ কূটনীতিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। কোরিয়ার শান্তি পরিকল্পনা, ইন্দোচীনে যুদ্ধবিরতি এবং আলজেরিয়া ইস্যুতে জাতিসংঘ থেকে ফরাসিদের প্রত্যাহারের মতো জটিল আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোর সমাধানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ভারতের জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (ন্যাম) নামক উদ্ভাবনী পররাষ্ট্রনীতির জন্যও মেনন দায়ী ছিলেন, যেখানে ভারত তৎকালীন পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে মিত্রতা না করে একটি মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছিল। কিন্তু মেনন সোভিয়েত ইউনিয়নের চেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশি সমালোচক ছিলেন, যদিও তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের নীতি সমর্থন করতেন। পাকিস্তানের বিপরীতে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণের জন্যই কৃষ্ণ মেনন ভারতে সর্বাধিক স্মরণীয় । ১৯৫৭ সালের জানুয়ারিতে, তিনি প্রায় ৮ ঘণ্টা দীর্ঘ একটি ভাষণ দেন (যা জাতিসংঘে দেওয়া সর্বকালের দীর্ঘতম ভাষণ), যেখানে তিনি কাশ্মীরে ভারতীয় সার্বভৌমত্বকে জোরালোভাবে সমর্থন করেন। এর জন্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যম তাঁকে 'কাশ্মীরের নায়ক' উপাধি দেয়। উত্তর মুম্বাই আসন থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৫৭ সালের এপ্রিল মাসে তিনি ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হন । এর আগে তিনি দপ্তরবিহীন একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী ছিলেন।

মেনন সেনাবাহিনীতে জ্যেষ্ঠতা পদ্ধতির পরিবর্তে মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করেন। তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল কে এস থিমাইয়ার সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য ছিল, যার ফলে তিনি পদত্যাগ করেন। মেনন ভারতীয় সেনাবাহিনীকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করার জন্য একটি দেশীয় সামরিক শিল্প কমপ্লেক্সও গঠন করতে শুরু করেন। ১৯৬১ সালে, ভারত সরকার যখন পর্তুগিজদের কাছ থেকে গোয়া দখল করে নেয়, তখন মেনন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ভারতের শক্তি প্রয়োগের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। সেই সময়, ভারতের এই সহিংস পন্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আরও বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশের দ্বারা সমালোচিত হয়েছিল। মেনন তাঁর নিজস্ব ভঙ্গিতে সেগুলোকে “পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের অবশেষ” বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। ১৯৬২ সালে ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনের আগ্রাসন এবং তার ফলস্বরূপ যুদ্ধ ও পরাজয়ের কারণে মেনন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। যুদ্ধে ভারতের অপ্রস্তুতির জন্য তাঁকে দায়ী করা হয়েছিল।

১৯৪৮ সালের জিপ কেলেঙ্কারি মামলায় মেননের নাম উঠলেও, তিনি কিছু কিছু বিষয়ে তাঁর মিতব্যয়িতার জন্য পরিচিত ছিলেন। হাই কমিশনার হিসেবে তিনি নামমাত্র মাসিক ১ টাকা বেতন নিতেন এবং ভারতীয় হাই কমিশনে একটি এক কামরার ঘরে থাকতেন। কূটনৈতিক বিষয়ে অসাধারণ দক্ষতা এবং বুদ্ধিমত্তার জন্য মেনন অনেকের কাছে প্রশংসিত ছিলেন। তিনি পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী নীতির কঠোর সমালোচক ছিলেন এবং নিজের মতামত প্রকাশে বেশ সোচ্চার ছিলেন। বলা হয়ে থাকে, তিনি 'শ্বেতাঙ্গদের তাদের জায়গা দেখিয়ে দিয়েছিলেন' । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক মহলে তাঁকে 'বিপদ' এবং 'নেহরুর শয়তান প্রতিভা' হিসেবে গণ্য করা হতো। পশ্চিমা গণমাধ্যম তাঁকে 'ভারতের রাসপুটিন' উপাধিও দিয়েছিল। তাঁর বাগ্মিতা ছিল অনুকরণীয় এবং তাঁর ঔদ্ধত্য ও রূঢ় প্রকৃতির কারণে প্রায়শই তিনি শত্রু তৈরি করতেন। নেহরুর পর তাঁকে ভারতের দ্বিতীয় সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হতো।

কৃষ্ণ মেনন ৭৪ বছর বয়সে দিল্লিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে ইন্দিরা গান্ধী মন্তব্য করেছিলেন যে একটি আগ্নেয়গিরি নিভে গেছে। মেননের কীর্তি অনেকের কাছে বিতর্কিত মনে হতে পারে। কিন্তু এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের পক্ষে তাঁর অবস্থান ছিল আপসহীন এবং স্বাধীনতার আগে ও পরে তিনি ভারতের এক বলিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।[][][][]

অবদান

[সম্পাদনা]

তরুণ বয়সে মেনন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের বৈদেশিক শাখার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং লন্ডনে ইন্ডিয়া লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

তিনি ভারতের স্বাধীনতার পক্ষে জনসমর্থন আদায়ের জন্য যুক্তরাজ্যে জোরালোভাবে প্রচার চালাচ্ছিলেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো পরাশক্তিগুলোর সমর্থন জোগাড় করছিলেন।

স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই মেনন ভারতের পররাষ্ট্রনীতির রূপকার ও মুখপাত্র এবং আরও সাধারণভাবে, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের স্থপতি হিসেবে আবির্ভূত হন।

তিনি যুক্তরাজ্য ও জাতিসংঘে ভারতের কূটনৈতিক মিশনের প্রধান ছিলেন এবং সুয়েজ সংকটসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক বিষয়ে বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন।

১৯৫৭ সালে, মেনন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বিতর্কিত কাশ্মীর অঞ্চলের ওপর ভারতের অধিকার রক্ষার পক্ষে দীর্ঘতম (৮ ঘণ্টা) ভাষণ দেওয়ার রেকর্ড গড়েন এবং এর মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন ও 'কাশ্মীরের নায়ক' উপাধি লাভ করেন।

ভারতে ফিরে এসে তিনি মুম্বাই, বাংলা এবং তাঁর নিজ রাজ্য কেরালার ত্রিভান্দ্রমের মতো বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা থেকে ভারতীয় সংসদের উভয় কক্ষে বারবার নির্বাচিত হয়েছিলেন।

শুরুতে তিনি দপ্তরবিহীন মন্ত্রী এবং পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে তিনি ভারতীয় সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণ ও ভারতীয় সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের উন্নয়নের তত্ত্বাবধান করেন এবং গোয়াকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ভারত-চীন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের সামরিক অপ্রস্তুতির অভিযোগের জেরে তিনি পদত্যাগ করলেও, আমৃত্যু নেহরুর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য এবং প্রবীণ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।[][]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "biography / VK Krishna Menon"। britannica। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০২৬
  2. "menon v k krishna"। encyclopedia। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০২৬
  3. "the age of vk krishna menon"। the hindu। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০২৬
  4. "the man behind the nystique"। open the magazine। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০২৬
  5. "biography /vk krishna menon/this day in history"। byjus। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০২৬
  6. "v k krishna menon"। read dukeupress। সংগ্রহের তারিখ ৫ মে ২০২৬
  7. "Indian history / notes on v k krishna menon"। shankar ias। সংগ্রহের তারিখ ৫ মে ২০২৬