বিষয়বস্তুতে চলুন

ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
একটি সাধারণ ভিডিও এডিটরের ইউজার ইন্টারফেস

ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার বা ভিডিও এডিটর হলো এমন এক ধরনের সফটওয়্যার যা একটি নন-লিনিয়ার এডিটিং সিস্টেম (এনএলই)-এ ডিজিটাল ভিডিও সিকোয়েন্সের পোস্ট-প্রোডাকশন সম্পাদনার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি প্রচলিত ফ্ল্যাটবেড সেলুলয়েড চলচ্চিত্র সম্পাদনা সরঞ্জাম এবং অ্যানালগ ভিডিও টেপ এডিটিং মেশিনের স্থান দখল করেছে।

ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়, যেমন চলচ্চিত্র নির্মাণ, অডিও ধারাভাষ্য এবং ভিডিও কন্টেন্টের সাধারণ সম্পাদনা।

এনএলই সফটওয়্যারে ব্যবহারকারী একটি সিকোয়েন্সে থাকা ভিডিও, ছবি এবং অডিওর বিভিন্ন অংশ সম্পাদনা করেন। এই ক্লিপগুলো ট্রিম করা, কাট করা এবং নানাভাবে পরিবর্তন করা যায়। সম্পাদনা শেষ হলে, ব্যবহারকারী সিকোয়েন্সটিকে একটি ভিডিও ফাইল হিসেবে এক্সপোর্ট করেন।

উপাদান

[সম্পাদনা]

সময়রেখা

[সম্পাদনা]
দুটি ভিডিও ক্লিপের মধ্যে রূপান্তরের একটি প্রচলিত পদ্ধতি হলো ওয়াইপ।

এনএলই সফটওয়্যার সাধারণত একটি টাইমলাইন ইন্টারফেসের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, যেখানে ক্লিপ নামে পরিচিত চলমান চিত্র ভিডিও রেকর্ডিংয়ের বিভিন্ন অংশ ক্রমানুসারে সাজানো থাকে এবং প্লেব্যাক করা হয়। এনএলই টাইমলাইনে ক্লিপ ট্রিম করা, জোড়া লাগানো, কাট করা এবং সাজানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম সরবরাহ করে।

আরেক ধরনের ক্লিপ হলো টেক্সট ক্লিপ, যা ভিডিওতে টেক্সট যোগ করতে ব্যবহৃত হয়, যেমন টাইটেল স্ক্রিন বা মুভি ক্রেডিট ।[] এছাড়াও অডিও ক্লিপগুলো একসাথে মেশানো যেতে পারে, যেমন একটি সাউন্ডট্র্যাকের সাথে একাধিক সাউন্ড ইফেক্ট মেশানো।

সাধারণত, টাইমলাইনটি y-অক্ষে একই সাথে চলতে থাকা বিভিন্ন ক্লিপের জন্য একাধিক সারিতে বিভক্ত থাকে, একইভাবে x-অক্ষটি ভিডিওর মোট সময়কাল নির্দেশ করে।[]

প্রতিটি ক্লিপের উপর ট্রানজিশনের মতো ইফেক্ট প্রয়োগ করা যেতে পারে, যেমন একটি দৃশ্য থেকে অন্য দৃশ্যে যাওয়ার সময় ক্রসফেড ইফেক্ট।

এক্সপোর্ট

[সম্পাদনা]

যেহেতু ভিডিও এডিটররা প্রোগ্রামটির জন্য নির্দিষ্ট একটি ফাইল ফরম্যাটে প্রজেক্ট উপস্থাপন করেন, তাই ভিডিও ফাইলটি প্রকাশ করার জন্য সেটিকে এক্সপোর্ট করতে হয়।

প্রজেক্ট সম্পন্ন হয়ে গেলে, এডিটর তখন বিভিন্ন ফরম্যাটে মুভি এক্সপোর্ট করতে পারেন, যা ব্রডকাস্ট টেপ ফরম্যাট থেকে শুরু করে ওয়েব পাবলিশিং (যেমন অনলাইন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম বা ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে ) এর জন্য কম্প্রেসড ভিডিও ফাইল, অপটিক্যাল মিডিয়া অথবা মোবাইল ডিভাইসে সেভ করার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।

সম্পাদনার সুবিধার জন্য উৎস ভিডিওর রেজোলিউশন সাধারণত কাঙ্ক্ষিত আউটপুটের চেয়ে বেশি হয়। তাই, উচ্চ রেজোলিউশনের ভিডিও এক্সপোর্ট করার সময় অথবা এক্সপোর্ট করার পরে ট্রান্সসাইজিং নামে পরিচিত একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডাউনস্কেল করার প্রয়োজন হয়।

ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট

[সম্পাদনা]
ক্রোমা কি, যা সাধারণত সবুজ পর্দা ব্যবহার করে করা হয়, এর মাধ্যমে কোনো বিষয়বস্তুকে পটভূমির বিপরীতে সমন্বিতভাবে দেখানো যায়।

ডিজিটাল ভিডিও সম্পাদনার অগ্রগতির সাথে সাথে ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে এবং এটি এখন একটি স্ট্যান্ডার্ড টুলকিটের অংশ, যা সাধারণত প্রোস্যুমার এবং প্রফেশনাল গ্রেড সফটওয়্যারে পাওয়া যায়।

একটি সাধারণ ক্ষমতা হলো ক্রোমা কি বা লুমা কির মতো কম্পোজিটিং কৌশল ব্যবহার করা, যা বিভিন্ন বস্তুকে এমনভাবে দেখাতে সাহায্য করে যেন তারা একই দৃশ্যে রয়েছে।[]

এক ভিন্ন ধরনের ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট হলো মোশন ক্যাপচারব্লেন্ডারের মতো সফটওয়্যার মোশন ক্যাপচারের মাধ্যমে অ্যানিমেটেড বস্তুগুলোকে অভিনেতার নড়াচড়া অনুসরণ করাতে পারে।

অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য

[সম্পাদনা]

বেশিরভাগ পেশাদার ভিডিও এডিটররা কালার গ্রেডিং করতে পারেন। যার মাধ্যমে ভিডিওর ভিজ্যুয়াল বৈশিষ্ট্য, যেমন কনট্রাস্ট, পরিবর্তন করে আউটপুট উন্নত করা হয় এবং আবেগগত প্রভাব বাড়ানো হয়।[]

আইমুভির মতো কিছু ভিডিও এডিটরে ব্যবহারের জন্য স্টক ফুটেজ অন্তর্ভুক্ত থাকে।

হার্ডওয়্যারের প্রয়োজনীয়তা

[সম্পাদনা]

যেহেতু ভিডিও সম্পাদনার কাজ স্টোরেজ এবং গ্রাফিক্স পারফরম্যান্সের উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে, বিশেষ করে ৪কে-এর মতো উচ্চ রেজোলিউশনে এবং অনেক ভিজ্যুয়াল ইফেক্টযুক্ত ভিডিওর ক্ষেত্রে, তাই প্রায়শই শক্তিশালী হার্ডওয়্যারের প্রয়োজন হয়।

ভিডিও সম্পাদনার জন্য তৈরি কম্পিউটারে প্রচুর ড্রাইভ ক্ষমতা এবং একটি শক্তিশালী গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট থাকাটা অস্বাভাবিক নয়,[] যেটিতে সর্বোত্তমভাবে হার্ডওয়্যার অ্যাক্সিলারেটেড ভিডিও এনকোডিং থাকে।

ডিস্কে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ব্যবহৃত রেজোলিউশন এবং কম্প্রেশন ফরম্যাটের উপর নির্ভর করে ভিডিওগুলি প্রচুর পরিমাণে স্টোরেজ নিতে পারে। ৩০ এফপিএসে একটি ফুল এইচডি (১০৮০পি) ভিডিওর প্রতি মিনিটে ৬০ মেগাবাইট জায়গা লাগে।[]

ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ব্যবহার করার সময়, রেন্ডারিং প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে একটি সার্ভার ফার্ম কাজে লাগানো যেতে পারে।

উদাহরণ

[সম্পাদনা]

ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যারকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়: কনজিউমার গ্রেড সফটওয়্যার, যা ব্যবহারের সহজতার উপর বেশি জোর দেয় এবং পেশাদার গ্রেড সফটওয়্যার, যা বিভিন্ন ফিচারের সহজলভ্যতা এবং উন্নত এডিটিং কৌশলের উপর গুরুত্ব দেয়। সাধারণত, প্রথমোক্ত সফটওয়্যারটি চলার পথে ব্যক্তিগত ভিডিও সম্পাদনার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা সাধারণত উন্নত সম্পাদনার প্রয়োজন হয় না।

কনজিউমার গ্রেড

[সম্পাদনা]

প্রোস্যুমার গ্রেড

[সম্পাদনা]

মালিকানাধীন সফটওয়্যার

[সম্পাদনা]
  • আইমুভি
  • সাইবারলিঙ্ক পাওয়ারডিরেক্টর

পেশাদার গ্রেড

[সম্পাদনা]

মালিকানাধীন সফটওয়্যার

[সম্পাদনা]

বিনামূল্যে এবং উন্মুক্ত উৎস সফটওয়্যার

[সম্পাদনা]

যদিও বেশিরভাগ ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার অপারেটিং সিস্টেম থেকে আলাদা থাকে। কিছু অপারেটিং সিস্টেমে ডিফল্টভাবে একটি ভিডিও এডিটর ইনস্টল করা থাকতে পারে, যেমন উইন্ডোজ এক্সপির উইন্ডোজ মুভি মেকার অথবা এটি ডিফল্ট ফটো ভিউয়ারের একটি অংশ হিসেবে থাকত, আবার আইওএসের ফটোজ অ্যাপ থেকে থাকে।

টিকটক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো কিছু সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ক্লিপ ছাঁটাই করার জন্য একটি প্রাথমিক ভিডিও এডিটর থাকতে পারে।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Titles, Kdenlive Manual"
  2. "How to Edit Videos in the Timeline, The TechSmith Blog"
  3. "Green screen software - Chroma key video editing tools, Adobe Software"
  4. "What is color grading and why is it important? - Videomaker"
  5. "Hardware Configuration for 4K Video Editing - VideoProc"
  6. "How Much Space an HD, FullHD, 4K and 8K Video Occupies"

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Video editorsটেমপ্লেট:Film Editing