ভারতে পর্নোগ্রাফি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ভারতের একটি লোকাল যৌন উত্তেজক ম্যাগাজিন 'ডেবোনায়ার' এর কভার প্রচ্ছদ

ভারতে পর্নোগ্রাফি বৈধ তবে অনেক সীমিত আকারে। পর্ন দেখা এবং নিজের কাছে রাখা বৈধ হলেও প্রযোজনা, প্রকাশনা এবং সরবরাহ করা অবৈধ, যদিও এই আইনের বাস্তব প্রয়োগ নেই এবং একভাবে ভারতে পুরোপুরিভাবেই পর্ন বৈধ যদিও পশ্চিমা দেশগুলোর মত ভারতের নিজস্ব পর্নোগ্রাফিক অভিনেতা বা অভিনেত্রী নেই এবং পর্নোগ্রাফিক কোনো বৈধ এবং স্বীকৃত ইন্ডাস্ট্রিও নেই।[১] পর্নোগ্রাফি প্রিন্টেড ম্যাগাজিনে পাওয়া যায় যদিও আজকাল ইন্টারনেট পর্নই বেশি জনপ্রিয়। ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে পর্ন দেখাটাও একেবারে সহজলভ্য হয়ে গিয়েছে। লঘু পর্নোগ্রাফি'র ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

২০১৯ সালে ভারত সরকার জনপ্রিয় পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটগুলো ব্লক করে রেখেছিলো যাতে মানুষ ওগুলোতে ঢুকতে না পারে, কারণ হিসেবে বলা হয় যে দেহরাদুন শহরে দশম শ্রেণীর এক মেয়েকে তার চেয়ে বয়সে বড় চারজন ছেলে ধর্ষণ করে এবং সেই ছেলেগুলো পর্নাসক্ত ছিলো, উত্তরখণ্ড প্রদেশের উচ্চ বিচারালয় ভারত সরকারের কাছে পরে পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইট ব্লক করার আবেদন জানায় কারণ অনেক আইনজীবীই মনে করেছিলেন যে পর্নোগ্রাফি দেখেই তরুণেরা নারীদের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দেয়।[২][৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ভারতে নগ্ন ছবি সর্বপ্রথম ষাটের দশকে বাজারে ম্যাগাজিন আকারে পাওয়া যেত তবে ওগুলো ছিলো বিদেশী এবং সত্তরের দশক থেকে ভারতীয় লোকাল ম্যাগাজিন বের হয় এক্ষেত্রে। প্রাথমিকভাবে এগুলোর ক্রেতা স্কুল-কুলেজ পড়ুয়া ছেলেরা হলেও পরে নব্বইয়ের দশকে মেয়েরাও কেনা শুরু করে।[৪]

প্রকাশনার ধরণসমূহ[সম্পাদনা]

আজকাল প্রিন্টেড পর্ন ইন্টারনেটের পর্নের চেয়ে কমই চলে। হরিয়ানার একটি সাইবারক্যাফেতে দেখা যায় ওখানে তরুণ-তরুণীরা প্রকাশ্যেই পর্ন দেখে।[৫] ভারতের গ্রামেও ইন্টারনেট পর্ন দেখা হয়, তাছাড়া ম্যাগাজিন পর্ন তো বিক্রিত হয়ই, যেমনঃ সবিতা ভাবি ম্যাগাজিন।[৬]

২০১৬ সালে দিল্লির ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাররা লক্ষ্য করেছেন যে তাদের গ্রাহকদের প্রায় ৪০ শতাংশই প্রতিদিন পর্ন সাইটে ঢুকে।[৭]

স্থানীয় পর্ন[সম্পাদনা]

আজকাল ভারতের তরুণ-তরুণী প্রেমযুগল সহ দম্পতি বা একা কোনো ছেলে বা মেয়ে নগ্ন হয়ে নিজে নিজেরাই ভিডিও তৈরি করে পর্ন সাইটে ছেড়ে দেয় এবং অনেক লোকাল পর্ন সাইটও আছে যেগুলো লঘু পর্ন প্রকাশ করে।[৪]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Rajak, Brajesh (২০১১) [2011]। Pornography Laws: XXX Must not be Tolerated (Paperback সংস্করণ)। Delhi: Universal Law Co.। পৃষ্ঠা 61। আইএসবিএন 978-81-7534-999-5 
  2. "Govt says porn sites blocked by Jio, Airtel, and others after 3 court orders, hints watching porn not illegal"indiatoday.in। ২৫ জুলাই ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  3. "Here is the full list of 827 porn websites blocked by DoT"indianexpress.com। ১৩ নভেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  4. Abraham, L. (2001). Redrawing the Lakshman rekha: Gender differences and cultural constructions in youth sexuality in urban India. South Asia, 24, 133–156.
  5. Ravi Shankar, (2012). NU (DE) MEDIA: A PRELIMINARY STUDY INTO THE YOUNG PEOPLES' ACCESS TO PORNOGRAPHY THROUGH THE NEW MEDIA. Indian Streams Research Journal, Vol. II, Issue. IV, DOI : 10.9780/22307850, http://isrj.org/UploadedData/975.pdf {{ওয়েব আর্কাইভ|ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20160508090417/http://isrj.org/UploadedData/975.pdf |তারিখ=৮ মে ২০১৬ }}
  6. Verma, R. K., & Mahendra, V. S. (2004). Construction of masculinity in India: A gender and sexual health perspective. Journal of Family Welfare, 50, 71–78.
  7. "Indians love 'desi' porn, Delhi tops with 39% traffic - The Economic Times"। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১৬