বিষয়বস্তুতে চলুন

ভারতে দাসপ্রথা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ভারতীয় উপমহাদেশে দাসপ্রথার প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, কারণ এটি দাস এবং দস্যু শব্দগুলোর অনুবাদের উপর নির্ভর করে।[][] গ্রীক লেখক মেগাস্থিনিস তাঁর খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে তার রচনা 'ইন্ডিকা'-তে উল্লেখ করেন যে মৌর্য সাম্রাজ্যে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ ছিল।[] তবে মৌর্য সাম্রাজ্যের সময়েই সম্রাট অশোকের তৃতীয় শতাব্দী খ্রিস্টপূর্বের শিলালিপিতে দাসদের প্রতি করণীয় দায়িত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই শিলালিপিতে বিভিন্ন ভাষায় লেখা ছিল এবং সেখানে দাসদের জন্য (গ্রীক: δούλοις) এবং এবং মজুরদের জন্য (গ্রীক: μισθωτοῖς), আলাদা করে দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে।[][]

ভারতে দাসপ্রথার ব্যাপক প্রসার ঘটে যখন একাদশ শতাব্দীর পর উত্তর ভারতে মুসলিম আধিপত্যে প্রতিষ্ঠিত হয়।[][][] তখন দাসপ্রথা একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। বিশেষ করে হিন্দুদের দাস বানানোর ঘটনা সাধারণ হয়ে ওঠে, এবং সেই সময়ের মুসলিম রাজ্যগুলোর সেনাবাহিনীতেও দাসদের ব্যবহার করা হতো।[] দিল্লি সালতানাত এবং মুঘল সাম্রাজ্যের মুসলিম ঐতিহাসিকদের লেখায় পাওয়া যায় যে, হিন্দু রাজ্যগুলো বিজয়ের পর অনেক ভারতীয়কে দাস হিসেবে বন্দি করা হতো এবং তাদের একটি বড় অংশ মধ্য এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ায় রপ্তানি করা হতো।[][] আফ্রিকার শৃঙ্গ থেকে দাস আনা হতো ভারতীয় উপমহাদেশে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাড়ির কাজে নিযুক্ত হতো, আবার অনেকে দাক্ষিণাত্যের মুসলিম রাজ্যগুলোর বা মুঘল সাম্রাজ্যের সেনাবাহিনীতে যোগ দিত।[][১০][১১]

পর্তুগিজরা ৫৩০ থেকে ১৭৪০ সালের মধ্যে ভারতের কোঙ্কণ উপকূলে তাদের উপনিবেশগুলোতে আফ্রিকান দাস আমদানি করেছিল।[১২][১৩] এরপর ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ভারতেও দাসপ্রথা চালু থাকে, বিশেষ করে ১৮তম ও ১৯তম শতাব্দীতে। ঔপনিবেশিক যুগে বিভিন্ন ইউরোপীয় বাণিজ্যিক সংস্থার মাধ্যমে ভারতীয়দের দাস হিসেবে নিয়ে যাওয়া হতো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে। এটি মূলত ভারত মহাসাগরীয় দাস ব্যবসার জন্য করা হতো।[১১][১৪]

ভারতে দাসপ্রথা ধীরে ধীরে আইনি নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে ভারতীয় ভূখণ্ডে ১৮৪৩ সালের ভারতীয় দাসপ্রথা বিলোপ আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হয়। ফরাসি ঔপনিবেশিক ভারতে ১৮৪৮ সালে, ব্রিটিশ ভারতে ১৮৬১ সালে এবং পর্তুগিজ ভারতে ১৮৭৬ সালে দাসপ্রথা আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়।[][১৫][১৫][১৬][১৭] তবে ১৮৩০-এর দশকে ইউরোপীয় দাসপ্রথা বিলোপের পর নতুন এক ধরনের শ্রমব্যবস্থা গড়ে ওঠে, যা ছিল চুক্তিভিত্তিক শ্রম। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে প্রায় দশ লাখের বেশি ভারতীয়কে গিরমিটিয়া শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তারা নির্দিষ্ট মেয়াদ (সাধারণত পাঁচ বছর) শেষে মুক্তি পাওয়ার শর্তে কাজ করত। এই শ্রমিকদের পাঠানো হতো আফ্রিকা, ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ, এশিয়া এবং আমেরিকার বিভিন্ন ইউরোপীয় উপনিবেশে, যেখানে আগে দাসশ্রম নির্ভর চাষাবাদ ও খনি খনন চলত।[১৮][১৯] যদিও এটি চ্যাটেল দাসপ্রথার (ক্রীতদাসত্ব) মতো ছিল না, অনেক গিরমিটিয়া শ্রমিক ভয়ংকর পরিশ্রমের শিকার হতেন এবং তাদের চলাফেরার স্বাধীনতাও ছিল সীমিত। এই কারণে কিছু ইতিহাসবিদ এই শ্রম ব্যবস্থাকে দাসত্বের অনুরূপ বলে মনে করেন।[২০]

প্রাচীন ভারতে দাসপ্রথা

[সম্পাদনা]

ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন যে শিলালিপি এখনো টিকে আছে তা হলো সম্রাট অশোকের তৃতীয় শতাব্দী খ্রিস্টপূর্বের শিলালিপি। এই শিলালিপিগুলো গ্রিক এবং আরামাইক ভাষায় পাওয়া গেছে। সেখানে দাসদের (গ্রীক: δούλοις, আরামাইক: עבד) এবং মজুরদের (গ্রীক: μισθωτοῖς) জন্য আলাদা করে দায়িত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে অশোকের আদেশে সম্রাজ্যের ভেতরে দাস কেনাবেচা নিষিদ্ধ করা হয়।[][২১][২১]

সংস্কৃত ব্যাকরণবিদ পাণিনি সম্ভবত চতুর্থ শতাব্দী খ্রিস্টপূর্বে অষ্টাধ্যায়ী রচনা করেছিলেন, সেখানে "দাস" শব্দের ব্যবহার পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, ২.৩.৬৯ শ্লোকে বলা হয়েছে দাসের প্রতি আকাঙ্ক্ষা এবং ২.৪.২৪ শ্লোকে বলা হয়েছে নারী ও দাসদের সমাবেশ[২২]

দাস এবং দস্যু শব্দ দুটি বৈদিক ও অন্যান্য প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে পাওয়া যায়। কিছু গবেষক এগুলোকে "কর্মচারী" বা "দাস" অর্থে অনুবাদ করেছেন, তবে এ ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। [][২৩] ঋগ্বেদে "দাস" শব্দটি শত্রু বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়েছে। তবে এই শব্দের প্রকৃত অর্থ কী ছিল সে বিষয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে।[২৪]

ইতিহাসবিদ স্কট লেভির মতে, প্রাচীন ভারতে দাসপ্রথা একটি প্রতিষ্ঠিত প্রথা হয়ে উঠেছিল। তার এই মতের ভিত্তি মূলত অর্থশাস্ত্র, মনুস্মৃতি[২৫] এবং মহাভারতের মতো মতো প্রাচীন গ্রন্থসমূহ। তার মতে, "বুদ্ধের জীবদ্দশাতেই ভারতে দাসপ্রথা সম্ভবত ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল এবং সম্ভবত এটি বৈদিক যুগ থেকেই চালু ছিল।" তবে বৈদিক যুগের দাস শব্দের সঙ্গে দাসত্বের সম্পর্ক নিয়ে "সংশয় রয়েছে এবং এটি পরবর্তী সময়ে গঠিত একটি ধারণা হতে পারে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেছেন।"[]

উপিন্দর সিং বলেন যে ঋগ্বেদ-এ দাসপ্রথার উল্লেখ পাওয়া যায়। বিশেষ করে যুদ্ধের সময় শত্রুকে দাস হিসেবে বন্দি করা বা ঋণের ফলে দাসত্বে পরিণত হওয়ার ঘটনা সেখানে উল্লেখিত হয়েছে। তিনি বলেন, পরবর্তী কালে দাস (সংস্কৃত: दास) এবং দাসী শব্দ দুটি যথাক্রমে পুরুষ ও নারী দাস বোঝাতে ব্যবহৃত হতো।[২৬] অন্যদিকে সুবীরা জয়সওয়াল মনে করেন যে, দাস উপজাতিগুলো বৈদিক ঐতিহ্যের পারিবারিক কাঠামোর অংশ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি দাসী-পুত্ররাও সমাজে উচ্চ অবস্থানে যেতে পারত। উদাহরণস্বরূপ, কাক্ষীবন্ত ঔসিজ, বলভূত, তারুক্ষ, দিবোদাস প্রমুখ দাসী-পুত্র হয়েও পুরোহিত, যোদ্ধা এবং গোত্রপ্রধানের মর্যাদা অর্জন করেছিলেন।[২৭] কিছু গবেষক প্রাচীনকালে " দাস " শব্দের অর্থ "দাসত্ব" বলে ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেছেন। তারা মনে করেন এই শব্দের অর্থের সঙ্গে "জাতিগত পার্থক্য" বা "বর্ণগত বৈষম্যের" সম্পর্ক নেই। ভারতবিদ স্টেফানি ডব্লিউ জামিসন ও জোয়েল পি. ব্রেরেটনের মতে, যারা সাম্প্রতিক ঋগ্বেদ অনুবাদ করেছেন সেখানে দাস এবং দস্যু শব্দ দুটি মানব ও অমানব শত্রুদের বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। [২৮] ঋগ্বেদ অনুসারে, দেবতা ইন্দ্র তাদের ধ্বংস করেন।[২৮] বৈদিক যুগে "দাসদের দাস হিসেবে" এই ব্যাখ্যার বিপরীতে কিছু মন্ত্র পাওয়া যায়, যেমন ২.১২ ও ৮.৪৬-এ উল্লেখ রয়েছে যে কিছু "দাস ছিল ধনী", যারা দানশীল ছিল এবং তারা তাদের সম্পদ দান করত। জামিসন ও ব্রেরেটনের মতে, এ থেকেই বোঝা যায় যে ঋগ্বেদীয় দাস মানেই ক্রীতদাস নয় এবং "জাতিগত পার্থক্যের" তত্ত্বেরও যথেষ্ট ভিত্তি নেই।[২৮] ভারতবিদ থমাস ট্রটম্যানের মতে, ঋগ্বেদে "আর্য" এবং "দাস"-এর সম্পর্ক মাত্র দুটি শ্লোকে পাওয়া যায় এবং এই সম্পর্ক অস্পষ্ট ও অপ্রত্যাশিত। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় "দাসরা আর্যদের তুলনায় বেশি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ছিল।"[২৯]

আস্কো পারপোলার মতে, প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থে "দাস" শব্দটির মূল আদি -শক ভাষা, যেখানে "দাস" বা " দহা" শব্দটি সাধারণত "মানুষ" অর্থে ব্যবহৃত হতো। [৩০] তার মতে, দাস এবং দস্যু শব্দ দুটি সংস্কৃত বা পালির মতো ইন্দো-ইরানীয় ভাষাগুলোতে খুব বেশি প্রচলিত ছিল না এবং এগুলো সম্ভবত প্রাচীন পাই (আদি ইন্দো ইউরোপীয়) (পআইই - প্রোটো ইন্দো ইউরোপীয়) মূল "ডেন্স (*dens-)" থেকে এসেছে। এমনকি "শক" শব্দটিও "দাস" থেকে বিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।[৩০] মানবাধিকার ও সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়নকারী মিশেলিন ইশে মনে করেন যে "দাস" শব্দটিকে "ক্রীতদাস" অর্থেও অনুবাদ করা যায়। তার মতে, এটি ছিল অ-মুক্ত শ্রমের একটি প্রথা যেখানে দাসদের অধিকার সীমিত ছিল। [প্রাচীন] ভারতে কথিত দাসপ্রথা ব্যাবিলনীয় বা হিব্রু দাসপ্রথার মতো ছিল যা গ্রিক দাসপ্রথার তুলনায় অনেক কম কঠোর এবং সীমিত আকারের ছিল।[৩১] ইশয় বলেন প্রাচীন ভারতে "অবাধ শ্রম" মূলত দুইভাবে দেখা যেত: অধঃসত্ত্ব এবং অহিতক[৩১] ইশয়ের মতে, একজন ব্যক্তি যদি কোনো কঠিন সংকটে পড়ত তবে সে অধঃসত্ত্ব-এর মাধ্যমে নিজেকে শ্রমে নিয়োজিত করতে বাধ্য হতো। অন্যদিকে অহিতক-এর অধীনে কেউ যদি ঋণের বোঝায় পড়ত বা যুদ্ধবন্দি হতো তবে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দাস হিসেবে "অবাধ শ্রম" দিতে বাধ্য করা হত।[৩১] তবে এই ধরণের "অবাধ শ্রমের" দাসত্ব সাধারণত স্থায়ী দাসত্ব ছিল না। এমনকি এই শ্রমিকদের সম্পত্তির অধিকার ছিল এবং তারা নিজেদের সম্পদ উত্তরাধিকারসূত্রে সন্তানদের দিতে পারত।[৩১]

প্রাচীন বৌদ্ধ গ্রন্থগুলিতে "দাস" শব্দটির ব্যবহার দেখা যায় যেটিকে কিছু গবেষক "কর্মচারী" বা "চাকর" হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। [৩২] এরূপ নামেরও উল্লেখ পাওয়া যায় যা গবেষকরা সাধারণত আইনি দাসত্ব বা বাধ্যতামূলক কর্মচারী হিসেবে অনুবাদ করেছেন।[৩৩] গ্রেগরি শোপেনের মতে, মহাবিহারীণ বিনয়া-তে বুদ্ধ বলেন যে ভিক্ষুদের একটি সম্প্রদায়ের জন্য দাস নেওয়া যেতে পারে যাদের কাজ হবে মেরামত এবং অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ। পরবর্তীতে একই বৌদ্ধ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে বুদ্ধ মঠগুলিতে শ্রমের জন্য কল্পিকার এবং কাপ্যারি-দের কাজে নিয়োজিত করার অনুমোদন দিয়েছিলেন এবং তাদের জন্য পৃথক আবাসস্থল নির্মাণেরও অনুমোদন দিয়েছিলেন।[৩৪] শোপেন দাস শব্দটিকে কর্মচারী হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, অন্যদিকে তিনি কল্পিকার এবং কাপ্যারি-দের তিনি দাসত্বের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করেন। কারণ এই ব্যক্তিদের মঠে কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে এবং সাধারণ মানুষ তাদের দান করতে পারত।[৩৪] শোপেন আরও উল্লেখ করেছেন যে এই পাঠগুলো ভারতীয় মুদ্রণগুলোতে পাওয়া যায়নি, তবে শ্রীলঙ্কার সংস্করণে তা পাওয়া গেছে, তাই তিনি মনে করেন যে এই অংশগুলো প্রাথমিক ভারতীয় ঐতিহ্যের অংশ নয় বরং সম্ভবত শ্রীলঙ্কার ঐতিহ্য অনুযায়ী পরে যোগ করা হয়েছে।[৩৪] এছাড়া তিব্বত থেকে পাওয়া কিছু বৌদ্ধ পাণ্ডুলিপিতেও দাস, বাধ্যতামূলক শ্রম এবং দাসপ্রথা নিয়ে আলোচনা আছে, তবে সেগুলোর বিবরণ কিছুটা ভিন্ন।[৩৪][৩৫]

শোপেন আরও বলেন, শব্দগুলো সংস্কৃত হোক বা পালি; একই বৌদ্ধ গ্রন্থের নানা সংস্করণে, যেমন ভারত, নেপাল এবং তিব্বত থেকে পাওয়া পাণ্ডুলিপিতে দাস, বাধ্যতামূলক শ্রম এবং দাসত্ব আলোচনা উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন।[৩৫] এই পাণ্ডুলিপিগুলোতে এমন কিছু প্রশ্নও রয়েছে যা একজন ব্যক্তি যখন সন্ন্যাসী বা সন্ন্যাসিনী হতে ইচ্ছুক তখন তাদের করা হয়। প্রশ্নগুলোর মধ্যে থাকে "আপনি কি দাস বা দাসী?", এবং আরও কিছু প্রশ্ন, যেমন "আপনি কি অহৃতক?" এবং "আপনি কি বিকৃতক?"। পরবর্তীকালে এই প্রশ্নগুলোর দুটি ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এক দিকে, "আপনি কি দাসত্বে বন্দী" (অহিতক) এবং "আপনি কি বিক্রি হয়েছেন?" (বিকৃতক) যথাক্রমে এই শব্দগুলো দাসত্বের ইঙ্গিত দেয়।[৩৫] অন্য দিকে, এগুলোর অর্থ হতে পারে "তুমি কি সন্দেহাতীত?" এবং "তুমি কি দোষী?" যেটা দাসত্বের কোনো ইঙ্গিত দেয় না।[৩৫] অধিকন্তু, এই গ্রন্থ অনুসারে বৌদ্ধ মঠে কর্মচারী, বাধ্যতামূলক শ্রমিক এবং দাসদের সন্ন্যাসী বা সন্ন্যাসিনী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি, তবে তাদের মঠের কাজে কর্মী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল।[৩৪][৩৫]

ভারতীয় গ্রন্থগুলিতে দাস এবং বাধ্যতামূলক শ্রমের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে যেখানে তাদের অধিকার এবং এক মনস্তাত্ত্বিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বও উল্লেখ করা হয়েছে—যাদের কাজের জন্য তাদের খাবার, পোশাক এবং চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে হয়। গ্রেগরি শোপেন বলেন, বৌদ্ধ বিনয়া গ্রন্থে এই অধিকার এবং দায়িত্বের বর্ণনা হিন্দু ধর্মশাস্ত্র এবং ধর্মসূত্র গ্রন্থগুলোর মধ্যে থাকা বর্ণনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।[৩৬] শোপেন আরও বলেন, বৌদ্ধ গ্রন্থে দাসত্ব বা দাসত্বের প্রতি বৌদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি হয়তো তাদের পারিপার্শ্বিক ব্রাহ্মণ্য সমাজের সাংস্কৃতিক রীতিনীতির "নিষ্ক্রিয় গ্রহণযোগ্যতা" বা এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি "সক্রিয় সমর্থন" হিসেবে প্রতিফলিত হতে পারে।[৩৭] শোপেন দাবি করেন, এই বৌদ্ধ গ্রন্থগুলিতে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে "কোনো প্রতিবাদ বা সংস্কারের কোনো ইঙ্গিতও" পাওয়া যায়নি।[৩৭]

কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রের ত্রয়োদশ অধ্যায় দাসদের উপর নিবেদিত যা এর আইন সম্পর্কিত তৃতীয় বইতে রয়েছে। এই সংস্কৃত গ্রন্থটি মৌর্য সাম্রাজ্যের সময়কালের (খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী) এবং একে বিভিন্ন অনুবাদক বিভিন্নভাবে অনুবাদ করেছেন। ১৯১৫ সালে শামাশাস্ত্রীর অনুবাদে গোলাম হিসেবে তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে, কাঙ্গলে দাসকর্মকার শব্দদ্বয় অপরিবর্তিত রেখে দিয়েছেন। কাঙ্গলের ব্যাখ্যা অনুসারে, অর্থশাস্ত্রের ১৩.৬৫.৩–৪ শ্লোকে বলা হয়েছে "যে কোনও পরিস্থিতিতেই কোনো আর্যকে দাসত্বে" বাধ্য করা যাবে না। তবে ম্লেচ্ছরা "একটি সন্তান বিক্রি করতে বা বন্ধক হিসাবে রাখতে" রাখতে পারে।[৩৮] গবেষক প্যাট্রিক অলিভেলেও এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত। তবে তিনি আরও যোগ করেন যে কোনো আর্য বা তার পরিবার যদি সংকটময় পরিস্থিতিতে পড়ে তবে তারা নিজেদের বন্ধক রাখতে পারত। সেই ব্যক্তি যদি কোনো অপরাধ করত তাহলে তাকে দাসে পরিণত করা হতে পারত। এই দিক থেকে অলিভেলের ব্যাখ্যা কাঙ্গলের ব্যাখ্যার সঙ্গে কিছুটা পার্থক্য রাখে। [৩৯] কাঙ্গেলের মতে, অর্থশাস্ত্র নাবালক এবং চারটি বর্ণের ব আর্যের দাসত্ব নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখানে শূদ্রদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা বৈদিক সাহিত্যের ব্যাখ্যার থেকে আলাদা।[৪০] কাঙ্গলের মতে, কৌটিল্যের ব্যবহৃত দাস শব্দটির অর্থ আধুনিক ‘দাস’ শব্দের থেকে আলাদা। এটি গ্রিক বা অন্যান্য প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় সভ্যতার দাসপ্রথার ধারণার সঙ্গেও পুরোপুরি মেলে না।[৪১] [ যাচাইকরণ প্রয়োজন ] অর্থশাস্ত্র অনুসারে, কেউ যদি নিষ্পতিতঃ (সংস্কৃত: निष्पातित, অর্থাৎ ঋণগ্রস্ত, দেউলিয়া বা ছোটখাটো অপরাধে)[৪২] দোষী প্রমাণিত হতেন তবে তিনি নিজেকে বন্ধক রাখতে পারতেন। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি তার জামিন দিতে এবং তাকে অর্থ ও সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে কর্মে নিয়োজিত করতে ইচ্ছুক হতেন, তার দাস হয়ে যেতে পারতেন।[৪১][৪৩]

এছাড়া ভারতীয় সাহিত্যে "দাস" শব্দটি যদি কোনো ভগবানের (দেবতা) নামের প্রত্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তার অর্থ হয় একনিষ্ঠ ভক্ত।[৪৪][৪৫]

বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ বাণিজ্য সূত্র, অঙ্গুত্তরনিকায় ৫:১৭৭ তে পাঁচটি পেশাকে ভুল জীবিকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে যা গৃহস্থদের জন্য বর্জনীয়। এই সূত্রে বুদ্ধ বলেন, "ভিক্ষুগণ, একজন গৃহস্থ অনুসারী পাঁচ ধরনের ব্যবসায় জড়িত হওয়া উচিত নয়। এই পাঁচটি কী? অস্ত্রের ব্যবসা, মানব ব্যবসা (দাস ব্যবসা), মাংসের ব্যবসা, মাদকদ্রব্যের ব্যবসা এবং বিষের ব্যবসা। এরা সেই পাঁচ ধরনের ব্যবসা, যা গৃহস্থ অনুসারীর করা উচিত নয়।"[৪৬]

পরবর্তীকালের ধ্রুপদী হিন্দু ধর্মশাস্ত্রগুলিতে দাসত্ব নিয়ে বিভিন্ন বিধান নির্ধারিত হয়েছিল। এখানে নির্দিষ্ট করা হয়েছিল কারা দাস হতে পারবে, দাসদের প্রতি কী ধরনের আচরণ করা উচিত এবং কোন পরিস্থিতিতে বিষ্টি বা বর্ণভিত্তিক বাধ্যতামূলক শ্রম (করভি শ্রম) গ্রহণযোগ্য হবে। মধ্যযুগের পরবর্তী সময়ে, দেবনভট্টের 'স্মৃতিচন্দ্রিকা'র মতো গ্রন্থে এই বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা আরও বিস্তৃতভাবে উপস্থাপিত হয়।[৪৭][৪৮][৪৯]

মধ্যযুগীয় ভারতে দাসপ্রথা

[সম্পাদনা]

ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম বিজয়ের সময় দাসপ্রথা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল।[][] গবেষক আন্দ্রে উইঙ্ক এই সময়কাল সম্পর্কে সংক্ষেপে বলেন—

দাসত্ব এবং সাম্রাজ্য গঠনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক ছিল, বিশেষত ইকতা ব্যবস্থার সাথে এটি নিবিড়ভাবে জড়িত ছিল। ইসলামি বিস্তারের প্রসঙ্গে অভিজাত দাসপ্রথা গড়ে ওঠে যা ত্রয়োদশ শতাব্দীতে উত্তর ভারতে প্রধান ব্যবস্থা হয়ে ওঠে এবং চতুর্দশ শতাব্দীতেও তা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পঞ্চদশ শতকে বাংলায় দাসপ্রথা বেশ সক্রিয় ছিল, কিন্তু এর পর এটি দক্ষিণ ভারতে (দাক্ষিণাত্যে) স্থানান্তরিত হয়, যেখানে সপ্তদশ শতক পর্যন্ত এটি টিকে ছিল। সপ্তদশ শতকে মোগল সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রদেশে এটি সীমিত পরিসরে বিদ্যমান থাকলেও, অষ্টাদশ শতকে উত্তর ভারতে আফগানদের শাসনামলে এটি পুনরুজ্জীবিত হয়।

আল হিন্দ, আন্দ্রে উইঙ্ক[৫০]

তবে মধ্যযুগীয় মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় কাশ্মীরে দাসপ্রথার বিস্তার ঘটেনি। সুলতান ব্যতীত কোনো উচ্চবর্গীয় ব্যক্তির দাস রাখার প্রমাণ পাওয়া যায় না। কাশ্মীরিরা দাসত্বকে ঘৃণা করত এবং সেখানে উপপত্নী প্রথারও প্রচলন ছিল না।[৫১]

ইসলামি আক্রমণ (৮ম থেকে ১২ শতাব্দী)

[সম্পাদনা]

গবেষক আন্দ্রে উইঙ্ক ৮ম ও ৯ম শতকের ভারতে দাসপ্রথার চিত্র সংক্ষেপে এভাবে তুলে ধরেছেন—

মুহাম্মদ বিন কাসিমের আক্রমণের সময় বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশুকে দাসত্বে বাধ্য করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী ধর্মীয় আইনের প্রতি অনুগত থেকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ খলিফার কোষাগারে পাঠানো হয় এবং তা ইরাক ও সিরিয়ায় পাঠানো হতো। বাকিদের ইসলামি বাহিনীর সৈন্যদের মধ্যে বিতরণ করা হতো। রুর শহরে ৬০,০০০ জনকে দাসত্বে বাধ্য করা হয়। ব্রাহ্মণাবাদে ৩০,০০০ জন দাস বানানো হয়। মুলতানে ৬,০০০ জন বন্দি করা হয়। সিন্ধু অঞ্চলে উমাইয়া শাসনামলের শেষ পর্যন্ত দাস ধরার অভিযান অব্যাহত ছিল এবং তা হিন্দুস্তানের আরও গভীরে উজ্জয়িনীমালব পর্যন্ত পৌঁছায়। আব্বাসীয় গভর্নররা পাঞ্জাবে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক বন্দি ও দাস সংগ্রহ করেন।

আল-হিন্দ, আন্দ্রে উইঙ্ক[৫২]

উমাইয়াদের সিন্ধু বিজয়ের সময় দাসত্বের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর একটি ছিল সূর্যদেবী ও তার বোনের দাস হওয়া।[৫৩] ১১ শতকের গোড়ার দিকে আরব ইতিহাসবিদ আল-উতবি তার 'তারিখে ইয়ামিনি' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে ১০০১ সালে গজনীর মাহমুদের সেনাবাহিনী পেশোয়ারের যুদ্ধের পর পেশোয়ার এবং ওয়াইহান্দ (গান্ধার রাজধানী) জয় করার পর হাজার হাজার মানুষকে দাসত্বে বাধ্য করেছিল।[৫৪][৫৫] পরবর্তীতে, ১০১৮-১৯ সালে তার দ্বাদশ অভিযানের পর তিনি এত বিপুলসংখ্যক দাস নিয়ে ফিরে এসেছিলেন যে দাসদের মূল্য মাত্র দুই থেকে দশ দিরহামে নেমে আসে। আল-উতবি লিখেছেন, "এই স্বল্পমূল্যের কারণে দূরদূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে দাস ক্রয় করেছিল যার ফলে মধ্য এশিয়া, ইরাক এবং খুরাসানের অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় দাস ছড়িয়ে পড়েছিল। এখানে শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ, ধনী ও দরিদ্র সবাই একসঙ্গে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়েছিল।"

উমাইয়াদের সিন্ধু বিজয়ের সময় ৮ম শতকের সিন্ধু বিজয়কাল থেকেই মধ্য এশিয়ার দাস বাজারের জন্য ভারতীয়দের দাস বানানো শুরু হয়েছিল। উমাইয়া সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে হাজার হাজার ভারতীয় সাধারণ মানুষ ও সৈন্যকে বন্দি করে দাসে পরিণত করা হয়েছিল।[৫৬]

একাদশ শতাব্দীতে গজনভিদের ভারত অভিযানের সময় লক্ষাধিক ভারতীয় বন্দি হয়ে মধ্য এশিয়ার দাস বাজারে বিক্রি হয়েছিল। ১০১৪ সালে, "ইসলামি বাহিনী গজনভিতে প্রায় ২,০০,০০০ বন্দি (কারিব দো সিত হাজার বান্দা) এবং বিপুল ধন-সম্পদ নিয়ে আসে, ফলে রাজধানীটি যেন এক ভারতীয় নগরীতে পরিণত হয়েছিল। সেনাবাহিনীর কোনো সৈন্যই সম্পদহীন বা দাসবিহীন ছিল না।" পরবর্তীকালে গজনভি শাসক সুলতান ইব্রাহিম যখন উত্তর-পশ্চিম ভারতের মুলতান অঞ্চলে অভিযান চালান তখন সেখান থেকে ১,০০,০০০ বন্দিকে মধ্য এশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। গজনবিদদের এই অভিযানে "পাঁচ লক্ষেরও বেশি দাস, সুদর্শন পুরুষ ও সুন্দরী নারী" বন্দি হয়েছিল বলে জানা যায়।[৫৬]

দিল্লি সালতানাত (১২ থেকে ১৬শতাব্দী)

[সম্পাদনা]

দিল্লি সালতানাতের (১২০৬-১৫৫৫) শাসনামলে ভারতীয় দাসদের সহজলভ্যতার বহু উল্লেখ পাওয়া যায়।[] মুসলিম অভিজাতরা ভারতীয় দাসদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করত, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও দাসদের রপ্তানি করা হতো। অনেক দাস জোরপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য হতো। মুসলিম প্রভুদের সন্তান হিসেবে জন্ম নেওয়া অমুসলিম দাসদের সন্তানদের ইসলাম ধর্মে বড় করা হতো। মুসলিম সেনা ও অভিজাতদের সাথে সম্পর্ক থাকা অমুসলিম নারীরা সমাজে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়ে ইসলাম গ্রহণ করত।[৫৭] ইতিহাসবিদ স্কট লেভি বলেন, "মধ্য এশিয়ার দাস বাজারে বিপুল সংখ্যক হিন্দুর সরবরাহ মূলত দিল্লি সালতানাত এবং মুঘল সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রগঠনের প্রচেষ্টার ফল ছিল।"[]

দিল্লি সালতানাতের রাজস্ব ব্যবস্থা ভারতীয় দাস জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তৈরি করেছিল। এই শাসকেরা এবং তাদের অধীনস্থ শিকদাররা (শাসকগণ) সৈন্যদের নির্দেশ দিত স্থানীয় জনগণের একটি বড় অংশকে বন্দি করতে, যা রাজস্ব আদায়ের একটি পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হতো।[][৫৮] যেসব সম্প্রদায় সুলতানের প্রতি অনুগত ছিল এবং নিয়মিত কর পরিশোধ করত, তারা সাধারণত এই প্রথা থেকে রেহাই পেত। তবে যারা কম অনুগত ছিল বা কর পরিশোধে ব্যর্থ হতো, তাদের কাছ থেকে কর আদায়ের পরিবর্তে দাস হিসেবে বন্দি করা হতো। ইতিহাসবিদ বারানির মতে, "দাস-রাজা" বলবন (শাসনকাল ১২৬৬-৮৭) আওধের শিকদারদের আদেশ দিয়েছিলেন তার শাসনের প্রতি যেসব মানুষ বিদ্রোহী ছিল, তাদের দাস করে নিতে। এর মানে হলো, যারা তাকে কর প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানাত, তাদের দাসত্বে পরিণত করা হতো।.[৫৯] সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি (শাসনকাল ১২৯৬-১৩১৬) কর পরিশোধে ব্যর্থদের দাসে পরিণত করার একটি আইন চালু করেছিলেন বলে জানা যায়।[৫৯] এই নীতি পরবর্তীকালে মুঘল যুগেও বহাল ছিল।[][৬০][৬১][৬২][৬৩]

দিল্লির সুলতানরা নতুন অঞ্চলে তাদের সম্প্রসারণের জন্য অর্থায়নের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে দাস বানানো হয়েছিল। [৬৪] উদাহরণস্বরূপ, ঘুরি সুলতান মুইজ্জউদ্দিনের সামরিক দাস থাকা অবস্থায় কুতুব-উদ্দিন আইবক ( শামসি দাস-রাজাদের মধ্যে প্রথম হিসাবে ১২০৬-১০) গুজরাট আক্রমণ করেন ১১৯৭ সাল এবং সেখানে প্রায় ২০,০০০ মানুষকে দাসে পরিণত করেন। এরপর প্রায় ছয় বছর পরে, কালিঞ্জার দখলের সময় তিনি আরও ৫০,০০০ মানুষকে দাস করেন। ১৩ শতকের শেষের দিকে, বালবানের রণথম্ভোর অভিযানেও ভারতীয় সেনাবাহিনী পরাজিত হয় এবং "অগণিত বন্দি" তার দখলে আসে।[৬৩][৬৫]

ইতিহাসবিদ স্কট লেভির মতে, দিল্লি সালতানাতের শাসনামলে অমুসলিমদের জোরপূর্বক দাসত্বে পরিণত করার মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অর্জন এবং সামরিক সম্প্রসারণ। বিশেষ করে খলজিতুঘলক বংশের শাসকদের অধীনে এই প্রবণতা আরও বেড়ে যায়, যা ঐতিহাসিক নথিতে উল্লিখিত পরিসংখ্যান দ্বারা সমর্থিত।.[][৬৩] জিয়াউদ্দিন বারানি উল্লেখ করেছেন যে, সুলতান আলাউদ্দিন খলজি ৫০,০০০ দাস-বালকের মালিক ছিলেন, যা ছাড়াও তার নির্মাণ প্রকল্পগুলোর জন্য তিনি আরও ৭০,০০০ দাস ব্যবহার করতেন। অপরদিকে, সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক প্রায় ১,৮০,০০০ দাসের মালিক ছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ১২,০০০ ছিলেন দক্ষ কারিগর। [][৫৮][৬৩][৬৬][৬৭][৬৮] মঙ্গোল লুণ্ঠনকারীদের হাত থেকে সালতানাতকে রক্ষা করার জন্য একটি সুসংহত সীমান্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন দেখা দেয়।[৬৯] এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য বিপুলসংখ্যক দাস কেনা হতে থাকে। এসব দাসদের প্রতি আনুগত্য ছিল জাতিগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে এবং তারা শাসকদের বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হতো। এর ফলে, তারা সময়ের সঙ্গে সামরিক নেতৃত্বেও জায়গা করে নেয়। সুলতানরা বিশেষভাবে তুর্কি দাসদের ক্রয় করতেন, যাতে তারা শক্তিশালী অশ্বারোহী বাহিনী গড়ে তুলতে পারেন, বিশেষ করে দক্ষ অশ্বারোহী তীরন্দাজ বাহিনী গঠনের জন্য।[৭০] এটি ছিল সামরিক শক্তি বৃদ্ধির একটি বিশেষ কৌশল, যেখানে নির্দিষ্ট সামরিক দক্ষতাকে কাজে লাগানো হতো। জালালউদ্দিন ফিরোজ খিলজি এবং গিয়াসউদ্দিন তুঘলক, দুজনেই ছিলেন সীমান্ত অঞ্চলের সামরিক কমান্ডার। তারা যখন তাদের সামরিক সফলতাকে পুঁজি করে দিল্লি সালতানাতের ক্ষমতা গ্রহণের চেষ্টা করেন, তখন তাদের বংশগত অভিজাততার অভাবে তেমন সমর্থন পাননি।[৭১] তবে, সামরিক বাহিনীতে তুর্কি দাসদের অসাধারণ সাফল্য ও অবদানের তুলনায় তাদের জাতিগত পরিচয় নিয়ে সাধারণ ধারণাগুলো ছিল অনেকাংশেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

সুলতান আলাউদ্দিন খলজি দাস ও গৃহপালিত পশুর মূল্য নির্ধারণ করেছিলেন। ঐতিহাসিক বারানি তার লেখায় দাসদের নিম্নলিখিত মূল্য উল্লেখ করেছেন— [৭২]

দাসের দাম
দাসের ধরণ দাম
গৃহস্থালির কাজের জন্য দাসী ৫-১২ টঙ্কা
উপপত্নী বা উপভোগের জন্য দাসী ২০-৪০ টঙ্কা
সুদর্শন, তরুণ পুরুষ দাস ২০-৩০ টঙ্কা
দক্ষ পুরুষ দাস ১০-১৫ টঙ্কা
অনভিজ্ঞ তরুণ দাস ৭-৮ টঙ্কা

বারানির মতে, খুব কমসংখ্যক দাস ১০০-২০০ টঙ্কায় বিক্রি হতো। এমনকি আলাউদ্দিনের মৃত্যুর পর, যখন সাধারণত কোনো দাসের মূল্য ১,০০০-২,০০০ টঙ্কা হতে পারত, তখনও কেউ এত দামি দাস কিনতে চাইত না, কারণ আলাউদ্দিনের গুপ্তচরদের ভয়ে বাজারে এরকম দামি দাসের লেনদেন কমই হত। [৭২]

দিল্লি সালতানাতের (১২০৬-১৫২৬) সময়কালে, এত বিপুলসংখ্যক হিন্দুকে দাস হিসেবে বন্দি করা হয়েছিল যে, ভারতীয় দাসদের মূল্য অত্যন্ত কমে গিয়েছিল এবং তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছিল।[৫৬] যুদ্ধবন্দি ছাড়াও, রাজস্ব ব্যবস্থা দাসত্বের একটি বড় উৎস হয়ে ওঠে। দিল্লি সালতানাতের অধীনস্থ ইকতা'দার বা স্থানীয় প্রশাসকেরা নিজেদের রাজস্ব সংগ্রহের জন্য সেনাবাহিনীকে হিন্দুদের বড় দলে ধরে নিয়ে আসতে আদেশ দিত। এই প্রক্রিয়ায় কর পরিশোধে অক্ষম বা সুলতানের প্রতি অনুগত নয়—এমন সম্প্রদায়গুলোর মানুষকে দাসত্বে পরিণত করা হত। আলাউদ্দিন খলজি (শাসনকাল ১২৯৬-১৩১৬) ঘোষণা করেন যে, যারা কর দিতে ব্যর্থ হবে, তারা দাস হিসেবে পরিণত হওয়ার উপযুক্ত। এর ফলে, রাজস্ব সংগ্রহের অংশ হিসেবে হিন্দুদের দাসে পরিণত করার প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পায়।[৫৬]

মুঘল সাম্রাজ্য (১৬শ থেকে ১৯ শতাব্দী)

[সম্পাদনা]

মুঘল সাম্রাজ্যেও দাস বাণিজ্য অব্যাহত ছিল। ১৭শ শতকের এক ওলন্দাজ ব্যবসায়ী লিখেছেন যে, উজবেক বংশোদ্ভূত মোগল অভিজাত আবদুল্লাহ খান ফিরুজ জংকে কালপি ও খের অঞ্চলের গভর্নর নিয়োগ করা হয়েছিল যিনি ১৬২০ থেকে ১৬৩০-এর দশকে মোগল দরবারে ছিলেন। স্থানীয় বিদ্রোহীদের পরাজিত করার প্রক্রিয়ায় তিনি তাদের নেতাদের শিরশ্ছেদ করেন এবং তাদের স্ত্রী, কন্যাশিশুদের দাস বানিয়ে নেন। বন্দিদের সংখ্যা ছিল ২,০০,০০০-এরও বেশি।[৭৩]

শাহ সুজা যখন কাবুলের গভর্নর নিযুক্ত হন, তখন তিনি সিন্ধু নদীর ওপারে ভারতীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। সেই সময় বহু নারী নিজেদের সম্মান রক্ষার জন্য নিজেদের পুড়িয়ে হত্যা আত্মহত্যা করেছিলেন। যারা ধরা পড়েছিল তাদের মোগল মানসবদারদের (সামরিক কর্মকর্তা) মধ্যে "বিতরণ" করা হয়[৬০][যাচাইকরণ ব্যর্থ হয়েছে][৭৪][যাচাইকরণ ব্যর্থ হয়েছে][৭৫][৭৬] অগাস্টিনীয় খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক ফ্রে সেবাস্টিয়ান ম্যানরিক ১৬২৯-৩০ সালে এবং আবার ১৬৪০ সালে বাংলায় ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে মোগল শাসন ব্যবস্থার সবচেয়ে ছোট প্রশাসনিক একক পরগনার কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা (শিকদার) রাজস্ব আদায়ের জন্য প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করতে পারত এবং কর পরিশোধে ব্যর্থ কৃষকদের দাস বানিয়ে দিতে পারত।[৭৪]

মজমুয়ায়ে ওয়াসাইক নামের একটি নথিপত্রের সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনায় দেখা যায় যে ৭৭টি চিঠির মধ্যে যেগুলো দাস বিক্রয় বা মুক্তির বিষয়ে, তার মধ্যে ৫৮ শতাংশ দাস ভারতীয় বংশোদ্ভূত (হিন্দি আল-আসল) ছিল। ১৮ শতকের প্রথম দিকে বুখারা শহরের খুতুত-ই-মামহুরা বেমাহর-ই কাদাত-ই বুখারা নামক একদল বিচারিক নথির মধ্যেও বেশ কয়েকটি দাসমুক্তির চিঠি রয়েছে যার অধিকাংশ "ভারতীয় দাসদের" সম্পর্কে। এমনকি প্রধান কাজী যখন তার সহকারীকে দাসমুক্তির আইনি নথি লেখার জন্য একটি উদাহরণ দেন, তখন তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত দাসের উদাহরণ ব্যবহার করেন।[৭৭] উনিশশতক পর্যন্ত মধ্য এশিয়ার দাস বাজারগুলোতে, বিশেষত বুখারার দাস বাজারে, ভারতীয় দাসদের বিক্রি চালু ছিল।[৫৬]

মুঘল শাসনামলে দাস রপ্তানি প্রধানত ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ ব্যক্তি ও বিদ্রোহীদের ক্ষেত্রেই সীমিত ছিল। পাঞ্জাবের ঘাক্কার সম্প্রদায় মধ্য এশীয় ক্রেতাদের কাছে এই দাস বাণিজ্যের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করত।[৭৮]

ফতোয়া-ই আলমগিরি

[সম্পাদনা]

ফতোয়া-ই-আলমগিরি ( যা ফতোয়া-ই-হিন্দিয়া এবং ফতোয়া-ই হিন্দিয়া নামেও পরিচিত) ১৭ শতকের শেষের দিকে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পৃষ্ঠপোষকতায় সংকলিত হয়।[৭৯] এটি মুঘল সাম্রাজ্যের আইন সংকলন ছিল এবং দক্ষিণ এশিয়া, ইরাক ও সৌদি আরবের ৫০০ জন মুসলিম আইনজ্ঞের বহু বছরের পরিশ্রমের ফল। ৩০ খণ্ডের এই সংকলন মূলত হানাফি শরিয়াভিত্তিক আইন নির্ধারণ করেছিল এবং আওরঙ্গজেবের শাসনকাল ও পরবর্তী সময়ে তা প্রভাবশালী ছিল। এর মধ্যে ভারতের দাসপ্রথা ও দাসদের সম্পর্কিত বহু আইন অন্তর্ভুক্ত ছিল।[৮০][৮১][৮২]

ফতোয়া-ই-আলমগিরিতে দাসপ্রথা সংক্রান্ত কিছু উল্লেখযোগ্য বিধান:

  • মুসলমানদের দাস ক্রয় এবং মালিকানার অধিকার স্বীকৃত।[৮১]
  • একজন মুসলিম পুরুষ তার মালিকানাধীন দাসী বা অন্য কোনো মুসলমানের দাসীর (মালিকের অনুমতি নিয়ে) সঙ্গে বিবাহ ছাড়াই যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে।[৮৩]
  • দাসদের কোনো উত্তরাধিকারের অধিকার থাকবে না।[৮৪]
  • দাসদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়, তাই আদালতে দাসদের সাক্ষ্য প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে না।[৮৫]
  • দাসদের বিয়ে করতে হলে তাদের মালিকের অনুমতি লাগবে।[৮৬]
  • একজন অবিবাহিত মুসলিম ব্যক্তি তার মালিকানাধীন দাসীকে বিয়ে করতে পারবে, তবে কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি আগে থেকেই মুসলিম স্ত্রী থাকেন, তাহলে তিনি দাসীকে বিয়ে করতে পারবেন না।[৮৭]
  • দাসমুক্তির আংশিক বা পূর্ণ শর্তাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে।[৮২]

আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় দাস রপ্তানি

[সম্পাদনা]

মধ্যযুগ ও আধুনিক প্রারম্ভিক সময়ে মধ্য এশিয়ার সক্রিয় দাস বাজারে ভারতীয় দাসরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। বৌদ্ধ ওয়াইরাত, খ্রিস্টান রুশ, আফগান ও প্রধানত শিয়া ইরানিদের পাশাপাশি ভারতীয় দাসদেরও ব্যাপকভাবে কেনাবেচা করা হতো। ১৭ শতকের নকশবন্দী সুফি জুয়বারি শেখের নথিপত্রে দেখা যায়, তিনি ৫০০-রও বেশি দাসের মালিক ছিলেন, যাদের মধ্যে ৪০ জন দক্ষ মৃৎশিল্পী ছিলেন, বাকিরা কৃষিকাজে নিযুক্ত ছিলেন। ভারতের বস্ত্রবয়ন শিল্প, কৃষি উৎপাদন ও স্থাপত্যবিদ্যায় উন্নততর দক্ষতার কারণে প্রতিবেশী অঞ্চলগুলো ভারতীয় দক্ষ শ্রমিকদের ব্যাপক প্রয়োজন অনুভব করত।[৮৮] তাই, সফল আক্রমণের পর বিজয়ী শাসকেরা দক্ষ শ্রমিকদের দাসে পরিণত করে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করত।[৮৯][৯০]

দিল্লি দখলের পর, তৈমুর কয়েক হাজার দক্ষ কারিগরকে দাস বানিয়েছিল। তাদের অনেককে সে তার অধস্তন অভিজাতদের উপহার দেয়, তবে নির্মাণকর্মীদের সংরক্ষণ করে সমরকন্দের বিবি-খানিম মসজিদ নির্মাণে কাজে লাগানো হয়।[৯১] তরুণী দাসীরা দক্ষ নির্মাণ শ্রমিকদের তুলনায় ১৫০% বেশি মূল্যে বিক্রি হতো,[৯২] কারণ তাদের যৌন দাসী হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা ছিল বেশি।[]

প্রাথমিক ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তির অধীনে

[সম্পাদনা]

১৭শ শতাব্দী

[সম্পাদনা]

ষোড়শ শতাব্দীর পরে পর্তুগিজ শাসিত ভারতে দাসপ্রথা বিদ্যমান ছিল। ভ্রমণকারী জার্মান লেখক আলবার্ট ডি ম্যান্ডেলসলোর মতে, "প্রায় সব পর্তুগিজদেরই বহু দাস-দাসী ছিল। তারা শুধু ব্যক্তিগত কাজে নয়, দাসদের যে কাজে দক্ষ বলে মনে করতেন, সে কাজেও নিযুক্ত করতেন। দাসদের উপার্জিত সম্পদও প্রভুর অধীনে থাকত।"

ভারত ভিত্তিক পর্তুগিজ (লুসিটানীয়) পরিবারগুলোর কাছে তখনো জাপানি দাসী ছিল। ১৬৯৮ সালে জেসুইট ফ্রান্সিসকো ডি সুসা এই বিষয়ে লিখেছিলেন, যদিও তার আগেই ১৬৩৬ সালে জাপানের টোকুগাওয়া শাসকরা পর্তুগিজদের জাপান থেকে বের করে দিয়েছিল।[৯৩]

ওলন্দাজরাও দাস ব্যবসায় জড়িত ছিল। তারা প্রধানত আবিসিনিয়ার (বর্তমান ইথিওপিয়া) লোকদের দাস হিসেবে আনত, যাদের ভারতে হাবশি নামে পরিচিতি ছিল। কর্নাটকের পশ্চিম উপকূলে শিদি নামে পরিচিত এক মিশ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে এই আফ্রিকান দাসদের উত্তরাধিকার খুঁজে পাওয়া যায়।[৯৪]

ওলন্দাজ ভারত মহাসাগরের দাস ব্যবসা মূলত ওলন্দাজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যস্থতায় পরিচালিত হত, এই দাস ব্যবসার উৎস ছিল তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল— পশ্চিম আফ্রিকা, বা দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকা, মাদাগাস্কার এবং মাসকারেন দ্বীপপুঞ্জ (মরিশাস এবং রিইউনিয়ন); মধ্য ভারতীয় উপমহাদেশ (মালাবার, করমন্ডল এবং বাংলা/আরাকান উপকূল); এবং পূর্ব মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, নিউ গিনি (ইরিয়ান জায়া) এবং দক্ষিণ ফিলিপাইন

ওলন্দাজরা সাধারণত ইসলামের প্রভাবের বাইরে থাকা দুর্বল বা বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রহীন সমাজ থেকে দাস সংগ্রহ করত। এসব দাসদের পাঠানো হতো কোম্পানির এশীয় সদর দপ্তরে যা ছিল "চীনা ঔপনিবেশিক শহর" বাতাভিয়ায় (জাকার্তা)। এছাড়া উপকূলীয় শ্রীলঙ্কায় এর আঞ্চলিক কেন্দ্রে বিক্রি করত। অন্যান্য গন্তব্যস্থলগুলির মধ্যে ছিল মালাক্কা (মালাকা) এবং মাকাসার (উজুংপান্ডাং) এর গুরুত্বপূর্ণ বাজার, পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার (মালুকু, আম্বন এবং বান্দা দ্বীপপুঞ্জ) বৃক্ষরোপণ অর্থনীতি এবং দক্ষিণ-পশ্চিম কেপ কলোনির (দক্ষিণ আফ্রিকা) কৃষি জমি।

১৬৬০-এর দশক পর্যন্ত আরাকান-বাংলা, মালাবার এবং করমন্ডল উপকূল জোরপূর্বক শ্রমের প্রধান উৎস ছিল। ১৬২৬ থেকে ১৬৬২ সালের মধ্যে ওলন্দাজরা প্রতি বছর গড়ে ১৫০-৪০০ জন দাস আরাকান-বাংলা উপকূল থেকে রপ্তানি করত। বাতাভিয়ার (বর্তমান জাকার্তা) প্রথম ত্রিশ বছরের ইতিহাসে ভারত ও আরাকানের দাসরাই ছিল ওলন্দাজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এশীয় সদর দপ্তরের প্রধান শ্রমশক্তি। ১৬৪৬ থেকে ১৬৪৯ সালের মধ্যে বাতাভিয়ায় মুক্তি পাওয়া ২১১ জন দাসের মধ্যে ১২৬ জন (৫৯.৭১%) দক্ষিণ এশিয়া থেকে এসেছিল। এদের মধ্যে ৮৬ জন (৪০.৭৬%) ছিল বাংলার অধিবাসী। বাংলার নদীবন্দরগুলোতে দাস ধরার জন্য অভিযান চালাত মগ জলদস্যুরা ও চট্টগ্রামের পর্তুগিজ দাস ব্যবসায়ীরা (যাদের "চাটিন" বলা হতো)। তারা "গ্যালিয়াস" নামে সশস্ত্র জাহাজ ব্যবহার করত এবং পর্তুগিজ শাসনের আওতার বাইরে থেকে দাস শিকার করত। এসব আক্রমণ আরাকানের টৌংগু রাজাদের প্রত্যক্ষ মদদে পরিচালিত হতো। তবে মুঘল সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলীয় সম্প্রসারণ, বিশেষ করে ১৬৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিজয়ের ফলে আরাকান ও বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী দাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ওলন্দাজরা ১৬৫৮-৬৩ সালের মধ্যে মালাবার উপকূলে অবস্থিত পর্তুগিজ উপনিবেশগুলো দখল করার আগ পর্যন্ত ভারতের পশ্চিম উপকূল থেকেও প্রচুর সংখ্যক দাস বাতাভিয়া, সিলন (শ্রীলঙ্কা) ও অন্যান্য স্থানে পাঠানো হতো। কিন্তু ১৬৬৩ সালের পর কোচিন থেকে দাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং বাতাভিয়ায় বছরে মাত্র ৫০-১০০ জন ও সিলনে ৮০-১২০ জন দাস পাঠানো হতো।

ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় করমন্ডল উপকূলে সপ্তদশ শতক জুড়ে মাঝে মাঝে দাস বাণিজ্য চলতে থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবসৃষ্ট সংকটের সময়ে দাস ব্যবসা বাড়ত এবং ওলন্দাজরা ভারতের পূর্ব উপকূল থেকে হাজার হাজার দাস রপ্তানি করত। ১৬১৮-২০ সালে দীর্ঘমেয়াদী খরা ও দুর্ভিক্ষের ফলে প্রথমবারের মতো করোমন্ডল উপকূল থেকে বড় আকারে দাস রপ্তানি শুরু হয়। ১৬২২-২৩ সালের মধ্যে পুলিকট ও দেবানমপত্তিনমের মতো মধ্য করোমন্ডলের বন্দর থেকে ১,৯০০ জন দাস পাঠানো হয়। উপকূলবর্তী ওলন্দাজ কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যে, পর্যাপ্ত অর্থ থাকলে আরও ২,০০০ দাস কেনা সম্ভব হতো।

দ্বিতীয় দফায় করমন্ডল থেকে দাস রপ্তানি বেড়ে যায় ১৬৪৫ সালে বিজাপুরের শাশকদের বিরুদ্ধে তাঞ্জাভুর, সেনজি ও মাদুরাইয়ের নায়ক রাজাদের বিদ্রোহের পর। বিজাপুরের বাহিনী তাঞ্জাভুরের গ্রামাঞ্চল ধ্বংস করে, যার ফলে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এই আক্রমণের সময় ১,৫০,০০০-এরও বেশি মানুষ বিজাপুর ও গোলকোন্দার দাক্ষিণাত্য মুসলিম বাহিনীর হাতে বন্দি হয়েছিল। ১৬৪৬ সালে দক্ষিণ করোমন্ডল থেকে ২,১১৮ জন দাস বাতাভিয়ায় রপ্তানি করা হয়। কিছু দাস আরও দক্ষিণের টোন্ডি, আদিরামপত্তিনম ও কায়লপত্তিনম থেকেও সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিছু দাস সংগ্রহ করা হয়েছিল।

১৬৫৯ থেকে ১৬৬১ সালের মধ্যে বিজাপুরের ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে তাঞ্জাভুর থেকে তৃতীয় দফায় দাস সংগ্রহ করা হয়। এই সময় নাগাপট্টিনম, পুলিকট ও অন্যান্য স্থানে ওলন্দাজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রায় ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ দাস কিনেছিল। এদের বেশিরভাগকে সিংহলে পাঠানো হয়, আর একটি ছোট অংশ বাতাভিয়া ও মালাক্কায় রপ্তানি করা হয়। ১৬৭৩ থেকে ১৬৭৭ সালের মধ্যে চতুর্থ দফায় দাস রপ্তানি শুরু হয়। মাদুরাই ও দক্ষিণ করোমন্ডলে দীর্ঘমেয়াদী খরা এবং তাঞ্জাভুর নিয়ে মাদুরাই-মারাঠা সংঘর্ষ ও কঠোর কর ব্যবস্থার ফলে বহু মানুষ দাসত্বের শিকার হয়। এই সময় শুধুমাত্র মাদুরাই উপকূল থেকে ১,৮৩৯ জন দাস রপ্তানি করা হয়। ১৬৮৮ সালে কর্ণাটকে মুঘল সাম্রাজ্যের অগ্রযাত্রা এবং দুর্বল শস্য উৎপাদনের কারণে পঞ্চম দফায় দাস রপ্তানি ঘটে। তাঞ্জাভুর থেকে হাজার হাজার মানুষ—বিশেষত মেয়েশিশু ও কিশোর ছেলেদের দাস হিসেবে বিক্রি করা হয়। এশিয়ার ব্যবসায়ীরা নাগাপট্টিনম থেকে এই দাসদের আচেহ, জোহর এবং অন্যান্য দাস বাজারে রপ্তানি করে। ১৬৮৭ সালের সেপ্টেম্বরে, ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মাদ্রাজের সেন্ট জর্জ দুর্গ থেকে ৬৬৫ জন দাস রপ্তানি করে। ১৬৯৪ থেকে ১৬৯৬ সালের মধ্যে দক্ষিণ ভারতে যুদ্ধের ফলে আবারও ব্যাপক দাস রপ্তানি ঘটে। এই সময় ব্যক্তিগত ব্যবসায়ীরা করমন্ডল থেকে সিংহলে মোট ৩,৮৫৯ জন দাস নিয়ে আসে।[৯৫] [৯৬] [৯৭][৯৮]

ওলন্দাজ ভারত মহাসাগরীয় দাস বাণিজ্যের মোট পরিমাণ অনুমান করা হয় আটলান্টিক দাস বাণিজ্যের ১৫-৩০% এর সমান যা সাহারা পার হয়ে আফ্রিকায় দাস রপ্তানির তুলনায় কিছুটা কম, কিন্তু সোয়াহিলি উপকূল, লোহিত সাগর এবং ওলন্দাজ ওয়েস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দাস বাণিজ্যের দেড় থেকে তিনগুণ বেশি।[৯৯]

মালাবারে দাসপ্রথা

[সম্পাদনা]

মালাবারের প্রধান কৃষিভিত্তিক দাস সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে পুলয়ার, পরয়ার, কুরুভার ও চেরুমা উল্লেখযোগ্য ছিল। প্রধান কালেক্টরের হিসাবে, মালাবারের মোট দাস জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেকই পুলয়ার ও চেরুমা সম্প্রদায়ভুক্ত ছিল। ১৮০১ সালে ভুখানান উল্লেখ করেন যে প্রায় সকল চাষিই তখন দাস ছিল। তিনি আরও বলেন যে, দাসদের প্রধানত মাঠে শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করা হতো এবং পরয়ার, পুলয়ার ও কুরুভার সম্প্রদায়ের দাসদের অবস্থা ছিল সবচেয়ে শোচনীয়। তারা কার্যত পশুর মতো কঠোর পরিশ্রমে বাধ্য হতো। চেরুভান ও পুলয়ারদের শহরে এনে কেনাবেচা করা হতো। ১৮০৬ থেকে ১৮৪২ সালের মধ্যে মালাবারে দাস জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৩৬ বছরে ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। দাস পরিবারের সন্তানরাও দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতো।[১০০] ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে ডঃ ফ্রান্সিস ভুখানানের হিসাব অনুযায়ী, মালাবারের দক্ষিণ, মধ্য ও উত্তর অঞ্চলে মোট ২,৯২,৩৬৬ জন মানুষের মধ্যে ৪১,৩৬৭ জন দাস ছিল। ১৮৩৬ সালে ত্রাভাঙ্কোরে মোট জনসংখ্যা ছিল ১২,৮০,৬৬৮, যার মধ্যে ১,৬৪,৮৬৪ জনই দাস ছিল। ঊনবিংশ শতকের মধ্যভাগে কেরালায় আনুমানিক ৪.২৫ লাখ (৪,২৫,০০০) দাস ছিল।[১০১]

দাসপ্রথার অংশ হিসেবে সামাজিক নিপীড়নও বিদ্যমান ছিল। দাসদের পরিষ্কার পোশাক পরার অনুমতি ছিল না এবং ব্রাহ্মণ ও নাইর সম্প্রদায়ের প্রভুদের রাস্তা থেকে দূরে থাকতে হতো। মেজর ওয়াকার উল্লেখ করেন যে, দাসরা যখন অসুস্থ হয়ে পড়ত তখন তাদের প্রকৃতির হাতে ছেড়ে দেওয়া হতো বা পরিত্যাগ করা হতো। কখনো কখনো তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধানের জমিতে দাঁড় করিয়ে রাখা হতো যার ফলে তারা বাত, কলেরা ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হতো।[১০০] দাসরা নিম্নবর্ণের সম্প্রদায়ভুক্ত ছিল এবং কেবল সামন্ততান্ত্রিক কাজেই নিয়োজিত থাকত। সমাজে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, তাদের প্রভুদের কাছ থেকে দূরে রাখতে কঠোর বিধিনিষেধ মেনে চলা হতো। স্যামুয়েল ম্যাটিয়ার উল্লেখ করেন যে এমনকি ক্ষেতখামারেও দাসদের দূর থেকে নজরদারি করা হতো।[১০১] জাতিভিত্তিক বর্ণ ব্যবস্থার কারণে তারা 'অস্পৃশ্য' হিসেবে বিবেচিত হতো এবং বহু উপবর্ণে বিভক্ত ছিল। ১৯তম শতাব্দীতেও চেরুমা সম্প্রদায়ের অবস্থা অপরিবর্তিত ছিল। ১৮৯৮ সালে কেরালা পত্রিকা লিখেছিল যে, চেরুমা দাসরা তাদের প্রভুদের অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখত, কারণ উচ্চবর্ণের মানুষরা তাদের বিশ্বাস করিয়ে দিয়েছিল যে জন্মগতভাবে তাদের উচ্চবর্ণের সেবা করতেই হবে।[১০০]

১৮৭১ থেকে ১৮৮১ সালের মধ্যে আনুমানিক ৪০,০০০ দাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল যা ১৮৮১ সালের আদমশুমারিতে উল্লেখ করা হয়। একই সময়ে কোচিন ও ত্রাভাঙ্কোরের বহু দাস খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিল। ১৮৮২ সালের খ্রিস্টান মিশনারি সম্মেলনে বলা হয়েছিল যে মুসলিম মাপিলা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, কারণ হিন্দু সমাজের নিম্নবর্ণের মানুষরা ব্যাপক হারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে পশ্চিম উপকূলের পুরো অঞ্চল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যেতে পারে।[১০১]

১৮শ থেকে ২০শ শতাব্দী

[সম্পাদনা]

১৭৭২ থেকে ১৮৩৩ সালের মধ্যে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচলিত দাসপ্রথা নিয়ে আলোচনা হয় এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়।[১০২] কলকাতায় সক্রিয় একটি দাসবাজারের অস্তিত্ব উল্লেখ করা হয়, যেখানে দাস কেনাবেচা হতো। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আদালত দাসদের মালিকানা নিবন্ধনের অনুমতি দিত, যার জন্য ৪.২৫ টাকা অথবা ৪ টাকা ৪ আনা মুল্য ধার্য করা হয়েছিল।[১০৩]

এই সময়ে দাসপ্রথা বিলোপের পক্ষে অবস্থান নেওয়া মিশনারিদের মধ্যে রেভারেন্ড জেমস পেগস, রেভারেন্ড হাওয়ার্ড ম্যালকম, স্যার থমাস ফাওয়েল বাক্সটন এবং উইলিয়াম অ্যাডামস ছিলেন উল্লেখযোগ্য। তারা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দাসপ্রথার বিরুদ্ধে চলমান বিতর্ক সম্পর্কে মতামত দেন এবং দক্ষিণ এশিয়ায় দাসপ্রথার প্রসার ও তার প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেন। ১৮৩০-এর দশকে তাদের প্রকাশিত একাধিক গ্রন্থে বিভিন্ন অঞ্চল ও জাতিভেদে দাসপ্রথার প্রকৃতি এবং তার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা সম্পর্কে বিশদ তথ্য তুলে ধরা হয়। "ইন্ডিয়ার ক্রাইজ টু ব্রিটিশ হিউমেনিটি, রিলেটিভ টু ইনফ্যানটিসাইড, ব্রিটিশ কনেকশন উইথ আইডলাট্রি, ঘাউ মার্ডার্স, সাটী, দাসপ্রথা, এবং কলোনাইজেশন ইন ইন্ডিয়া", "স্লেভারি অ্যান্ড দ্য স্লেভ ট্রেড ইন ব্রিটিশ ইন্ডিয়া; উইথ নোটিসেস অব দ্য এক্সিস্টেন্স অব থিজ ইভিলস ইন দ্য আইল্যান্ডস অব সিলন, মালাক্কা, অ্যান্ড পেনাং, ড্রাউন ফ্রম অফিসিয়াল ডকুমেন্টস", এবং "দ্য ল অ্যান্ড কাস্টম অব স্লেভারি ইন ব্রিটিশ ইন্ডিয়া: ইন আ সিরিজ অব লেটার্স টু থমাস ফাওয়েল বাক্সটন, এসকিউ" এসব গ্রন্থে বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়, যেখানে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত দাসপ্রথার চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল।

১৮৩০-এর দশকে বিভিন্ন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অঞ্চল এবং স্থানীয় রাজ্যে দাসদের আনুমানিক হিসাব[১০৪][১০৫][১০৬]
প্রদেশ বা রাজ্য আনুমানিক দাস
মালাবার১৪৭,০০০
মালাবার এবং বয়নাড়১০০,০০০
কানাড়া, কুর্গ, বয়নাড়, কোচিন এবং ট্রাভাঙ্কোর২৫৪,০০০
তিরুনেলভেলি৩২৪,০০০
ত্রিচিনোপোলি১০,৬০০
আরকট২০,০০০
ক্যানারা৮০,০০০
আসাম১১,৩০০
সুরাট৩,০০০
সিলন (শ্রীলঙ্কা)২৭,৩৯৭
পেনাং৩,০০০
সিলেট এবং বাকেরগঞ্জ৮০,০০০
বিহার২২,৭২২
তিঝুট১১,০৬১
দক্ষিণ মহারাত্তা দেশ৭,৫০০
মোট১,১২১,৫২৫

এই প্রকাশনাগুলোকে আধুনিক ঐতিহাসিকরা ভারতে দাসপ্রথার ইতিহাস নিয়ে আলোচনার সময় প্রায়ই উল্লেখ করেন। এগুলোতে বিভিন্ন অঞ্চলে দাসপ্রথা চালু থাকার বিষয়টি নিয়ে ব্যক্তিগত চিঠি ও প্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে দাসত্বের শিকার হওয়া মানুষের সংখ্যা সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া হয়েছিল।

দাক্ষিণাত্যে দাসপ্রথা অত্যন্ত প্রচলিত এবং এটি যে হিন্দু আইনে স্বীকৃত এবং বহু শতাব্দী ধরে প্রচলিত, তা স্পষ্টভাবেই বোঝা যায়।" সরকারি কর্মকর্তা মি. ব্যাবার আরও নির্দিষ্ট তথ্য দেন। তিনি জানান, "কৃষ্ণা ও তুঙ্গভদ্রা নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে আনুমানিক ১৫,০০০ দাস রয়েছে।" তিনি আরও লেখেন যে, "দক্ষিণ মহারাষ্ট্র অঞ্চলে সমস্ত জাগীরদার, দেশওয়াল, জমিদার, প্রধান ব্রাহ্মণ ও সাহুকাররা তাদের গৃহস্থালী কাজে দাস-দাসীদের ব্যবহার করে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মারাঠা পরিবারের মধ্যে দাস-দাসীর উপস্থিতি অত্যন্ত সাধারণ ব্যাপার। বিশেষত নারী দাসীদের অপরিহার্য বলে মনে করা হয়।"

পার্লামেন্টারি পেপারস নং ১২৮, ১৮৩৪, পৃষ্ঠা ৪।

১৮২৩ সালে ক্যালকাটা জার্নালের সম্পাদক জেমস সিল্ক বাকিংহাম একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি কলকাতাকে বর্ণনা করেন এভাবে—

এই মহান রাজধানী একই সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্য ও সম্পদের কেন্দ্রস্থল এবং সেই বাজার, যেখানে শৃঙ্খলিত আফ্রিকানদের পশুর মতো সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে বিক্রি করা হয়।[১০৭]

ইতিহাসবিদ আন্দ্রেয়া মেজর উল্লেখ করেন যে, ভারতে দাসপ্রথার সঙ্গে ইউরোপীয়দের, বিশেষ করে ব্রিটিশদের জড়িত থাকার মাত্রা ছিল গভীর। তিনি বলেন

আসলে অষ্টাদশ শতকে ইউরোপীয়রা ভারতীয় দাসদের কেনা, বিক্রি ও রপ্তানিতে জড়িত ছিল, যার মধ্যে কিছু ব্রিটিশও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তারা দাসদের উপমহাদেশের বিভিন্ন অংশে স্থানান্তর করত বা ইউরোপীয় উপনিবেশগুলিতে পাঠাত। এছাড়া সেই সময় ভারতে বহু ইউরোপীয় পরিবারে গৃহদাস ছিল এবং তাদের মালিকদের সম্পত্তির অধিকার আইনত স্বীকৃত ছিল। ফলে, যদিও ঔপনিবেশিক পর্যবেক্ষক এবং পরবর্তী ঐতিহাসিকরা সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ার দাসপ্রথাকে একটি স্থানীয় প্রথা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যেখানে ব্রিটিশরা শুধুমাত্র ঔপনিবেশিক সংস্কারক হিসেবে জড়িত ছিল, বাস্তবে অষ্টাদশ শতকের শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয়রা এই অঞ্চলে দাস মালিকানা ও দাস বাণিজ্যে গভীরভাবে জড়িত ছিল।

আন্দ্রেয়া মেজর[১৪][১০৮]

নিয়ন্ত্রণ এবং নিষেধাজ্ঞা

[সম্পাদনা]

বাংলায়, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পূর্ববর্তী বহুবিধ বিচার ব্যবস্থা সংহত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ব্যবস্থায় ইউরোপীয়দের জন্য সাধারণ আইনের, মুসলমানদের জন্য শরিয়া ভিত্তিক ফতোয়া-ই-আলমগিরির এবং হিন্দুদের জন্যমনুস্মৃতি নামক ধর্মশাস্ত্রের একটি সংশোধিত রূপ প্রযোজ্য ছিল যা পরে হিন্দু আইন নামে পরিচিত হয়।[১০৯] এই আইনি কাঠামোর অধীনে হিন্দুদের জন্য মনুস্মৃতি-এর[২৫] শ্লোক ৮.৪১৫-এর একটি ব্যাখ্যা ব্যবহার করে দাসপ্রথা নিয়ন্ত্রিত হতো।[১০৪] এরপর ১৭৭৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কানুন ৯ এবং ১০ জারি করে যেখানে লিখিত দলিল ছাড়া দাস কেনাবেচা নিষিদ্ধ করা হয়। একইসঙ্গে যাদের আগে থেকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়নি তাদের বিক্রিও অবৈধ ঘোষণা করা হয়।[১০৮] পরবর্তীতে ১৭৮৯ সালে কোম্পানির এই আইন পুনরায় কার্যকর করা হয় কারণ এক ডেনিশ দাস ব্যবসায়ী পিটার হরেবো ১৫০ জন বাঙালি দাসকে ওলন্দাজ সিলোনে পাচার করার চেষ্টা করেছিলেন। তাকে গ্রেপ্তার করে বিচার, জরিমানার পর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।[১০৮] এর পরিপ্রেক্ষিতে, ১৮১১ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কানুন ১০ জারি করে যা কোম্পানির শাসিত অঞ্চলে দাস পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে।[১০৮]

১৮৩৩ সালে যখন যুক্তরাজ্য এর উপনিবেশগুলোতে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করে দাসত্ব বিলোপ পাস করে তখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসিত অঞ্চলগুলোকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল।[১১০] ১৮৪০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জন সি. ক্যালহুন ব্রিটিশ ভারতকে একটি "বিশাল ব্রিটিশ বাগান" হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথার ঘোর সমর্থক ছিলেন।[১১১][১১২]

১৮৪৩ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনাধীন অঞ্চলে ভারতীয় দাসপ্রথা আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইন কোম্পানির কর্মকর্তাদের দাস রাখার বা দাস কেনাবেচার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একইসঙ্গে, দাসদের জন্য কিছু সীমিত আইনি সুরক্ষা প্রদান করা হয়। এই সুরক্ষার আওতায় দাসদের সম্পত্তি অর্জন, হস্তান্তর এবং উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি পাওয়ার অধিকার দেওয়া হয়। ধারণা করা হয়, এই আইন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধিকারে থাকা লক্ষাধিক দাসের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ১৮৮৩ সালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে ভারত ও মিশরের দাসপ্রথা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। এই প্রবন্ধে স্যার হেনরি বার্টল ফ্রের, যিনি ১৮৫৯ থেকে ১৮৬৭ সাল পর্যন্ত ভাইসরয় কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন, ১৮৪৩ সালের দাসপ্রথা আইনের সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনাধীন অঞ্চলে দাসদের সংখ্যা সম্পর্কে একটি অনুমান দেন।

তিনি লেখেন—

বিভিন্ন জেলার তথ্য তুলনামূলকভাবে যাচাই করে, এবং প্রায় পঞ্চাশ বছর আগের মোট জনসংখ্যার অসম্পূর্ণ অনুমানের ভিত্তিতে, আমি দেখেছি যে ১৮৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের মোট দাস জনসংখ্যা ছিল অন্তত আট থেকে নয় মিলিয়ন। ১ আগস্ট ১৮৩৪ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশগুলিতে যে দাসদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তাদের সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৮০০,০০০ থেকে ১,০০০,০০০। অন্যদিকে, ১৮৬০ সালে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় মোট দাসের সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৪,০০০,০০০। অর্থাৎ, ব্রিটিশ ভারতে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় যে বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বাধীনতা ও ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছিল, তা ব্রিটেন ও আমেরিকার সমস্ত দাসপ্রথা বহনকারী উপনিবেশ এবং অঞ্চলের মোট সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি ছিল।

ফর্টনাইটলি রিভিউ, ১৮৮৩, পৃষ্ঠা ৩৫৫[১১৩]

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের উপনিবেশগুলোতে যখন ১৮৩৩ সালে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করা হয়, তখন ভারতকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়নি। এর কারণ ছিল ব্রিটিশ ভারতের অঞ্চলগুলো সরাসরি ব্রিটিশ রাজ উপনিবেশ ছিল না; বরং এগুলো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অধীনে পরিচালিত হতো।[১১৪]

১৮৩০-এর দশকে ভারতের বেশিরভাগ দাস ছিল দেশীয় নারী ও শিশু যাদের প্রধানত গৃহপরিচারিকা, উপপত্নী (যৌনদাসী), নর্তকী, সৈনিক বা কৃষিশ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তবে সাধারণ কৃষিশ্রমিকদের মধ্যে দাসত্বের পরিবর্তে ভূমিদাসত্বের প্রচলন বেশি দেখা যেত। ১৮৪১ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সে সময় ভারতে আনুমানিক ৯ মিলিয়ন (৯০ লক্ষ) দাস ছিল, যাদের বেশিরভাগই ঋণদাস বা পরিবারের দ্বারা বিক্রি হওয়া শিশু।[১১৪]

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নীতি ছিল দাসপ্রথাকে সরাসরি নিষিদ্ধ না করা, বরং এটিকে আইনি স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত করা। অর্থাৎ, দাস মালিকদের জন্য দাস রাখা বেআইনি ঘোষণা করা হয়নি, তবে দাসদের আর আইনগতভাবে দাস হিসেবে গণ্য করা হতো না। ফলে যদি কোনো দাস পালাতে চাইত, তবে তাকে আইনগতভাবে বাধা দেওয়ার সুযোগ থাকত না। একইসঙ্গে, দাস-মালিকদের ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়নি। তবে বাস্তবে দাসদের এই আইনি পরিবর্তন সম্পর্কে সাধারণত জানানো হতো না, যদি না মালিকরা তাদের মুক্তি দিতে চাইত বা তাদের বাড়ি থেকে বের করে দিত। অধিকাংশ দাস তাদের পরিবর্তিত আইনি অবস্থান সম্পর্কে জানত না এবং আগের মতোই দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকত। যারা মুক্তি পেত, তাদের অনেকেই তাদের সাবেক মালিকদের কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হতো। এই ঋণের চাপে তারা আবারও কার্যত ঋণদাসত্বে আবদ্ধ হয়ে পড়ত এবং আগের মতোই তাদের প্রভুদের অধীনস্থ থেকে যেতে হতো। ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন ঔপনিবেশিক শাসন দ্বারা প্রতিস্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত ভারতে দাসপ্রথা সম্পূর্ণরূপে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়নি [১১৫]

ব্রিটিশ দাসপ্রথা বিরোধীরা সাধারণত ভারতের দাসপ্রথাকে সৌম্য দাসত্ব বলে অভিহিত করতেন। কারণ, তাদের মতে অধিকাংশ ভারতীয় দাস নিজের ইচ্ছাতেই দাসত্ব গ্রহণ করত এবং আইনত কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে দাস হিসেবে আটকে রাখা সম্ভব ছিল না। ফলে, তারা মনে করতেন যে এই দাসেরা স্বেচ্ছায় দাস হিসেবে থেকে যেত।

পর্তুগাল ধীরে ধীরে পর্তুগিজ ভারতে দাস আমদানি নিষিদ্ধ করতে শুরু করে। প্রথমে ১৮১৮ সালের ইঙ্গ-পর্তুগিজ দাসপ্রথা-বিরোধী চুক্তির মাধ্যমে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরে ১৮৩৬ সালের একটি রাজকীয় নির্দেশ এবং ১৮৪২ সালের আরেকটি ইঙ্গ-পর্তুগিজ চুক্তির মাধ্যমে দাস ব্যবসার বহিরাগত দিকটি আরও সীমিত করা হয়। তবে দাসপ্রথা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয় ১৮৭৬ সালে। [১৩]

২৭ এপ্রিল ১৮৪৮ সালে ফরাসি উপনিবেশগুলিতে দাসত্ব বিলোপের ঘোষণার মাধ্যমে ফ্রান্স ফরাসি ভারতে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করে। [১১৬]

ব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজ্য
[সম্পাদনা]

১৮৬১ সালের ভারতীয় দণ্ডবিধির এর বিধানসমূহ কার্যত ব্রিটিশ ভারতে দাসপ্রথা বিলোপ করে, কারণ এই আইন অনুযায়ী কোনো মানুষকে দাসত্বে বাধ্য করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়েছিল।[][১১৭][১১৮][১১৯] ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকা দেশীয় রাজ্যগুলোকেও এই আইনের আওতায় আসতে হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, ১৮৬১ সালের ইঙ্গ-সিকিম চুক্তির মাধ্যমে সিকিমকে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করতে বাধ্য করা হয়। তবে ১৮৯১ সালের জনগণনার তথ্য থেকে জানা যায় যে এই নিষেধাজ্ঞার পরও সিকিমে দাস রাখা হত।[১০৩][১২০]

কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি অসাবধানতাবশত "দাস" শব্দটি ব্যবহার করতেন তাহলে তাকে শাস্তির সম্মুখীন হতে হতো। কিন্তু বাস্তবে দাসত্বের মতো প্রথাগুলি আগের মতোই চলতে থাকে। গবেষক ইন্দ্রাণী চট্টোপাধ্যায় এই পরিস্থিতিকে "অস্বীকারের মাধ্যমে বিলোপ" বলে অভিহিত করেছেন।[১২১] দাসপ্রথা-বিরোধী আইন কদাচিৎ কার্যকর করা হলেও তা মূলত দাস ব্যবসার রপ্তানি ও আমদানির মতো ছোটখাটো দিকগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কৃষি ক্ষেত্রে প্রচলিত দাসপ্রথার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির কর্মকর্তারা কৃষিক্ষেত্রে প্রচলিত দাসত্বকে একপ্রকার সৌম্য বা নিরীহ বন্ধন বলে অভিহিত করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে এটি মুক্ত শ্রমের চেয়ে উত্তম।[১২২]

ব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজ্যের দেশীয় রাজ্য ও অধীনস্থ অঞ্চলগুলিতে দাসদের তালিকা করা, হিসাব রাখা এবং জনগণনার সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনগুলিতে প্রকাশ করা হতো, যদিও আইনি দৃষ্টিতে দাসপ্রথা বিলোপ করা হয়েছিল। ১৮৯১ সালের জনগণনার সারসংক্ষেপে দেখা যায় যে সিক্কিমে ১২৪ জন পুরুষ, ৯৯ জন নারী এবং ১০৩ জন শিশুকে দাস হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, যদিও এই অঞ্চলে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ হওয়ার ত্রিশ বছর কেটে গিয়েছিল।[১২০]

১৯২০-এর দশকে ঔপনিবেশিক কর্মকর্তারা অস্থায়ী দাসত্ব কমিশন (টিএসসি)-এ স্বীকার করেন যে ভারতের দূরবর্তী অঞ্চলে এখনো চ্যাটেল দাসত্ব (ক্রীতদাসপ্রথা) টিকে ছিল, যেখানে ব্রিটিশ শাসনের বাস্তবিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল ছিল। তবে তারা এটিও বলেন যে এই প্রথা ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে ছিল।[১২৩] বার্মা ও ভারতের দাসপ্রথা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ব্রিটিশ ভারতীয় দপ্তর উল্লেখ করে যে আসামের বাউইয়ের দাসরা নিজেদের স্বাধীনতা কিনে নেওয়ার অধিকার পেয়েছিল। এছাড়াও আসামের কিছু অঞ্চলে তখনো ক্রীতদাসপ্রথা প্রচলিত ছিল, যেখানে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ দুর্বল ছিল। উজানি বার্মার হুকাওং উপত্যকাতে দাসপ্রথা বিলোপের জন্য ব্রিটিশরা স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করেছিল এবং দাসদের মুক্তির জন্য ঋণ প্রদান করেছিল। ব্রিটিশরা দাস ব্যবসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছিল এবং ১৯২৬ সালের মধ্যে উজানি বার্মায় দাসপ্রথা কার্যত বিলুপ্ত হবে বলে আশা করা হয়েছিল।[১২৪]

ভুটান ১৯৫০-এর দশকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করে। নেপালও ২০০০-এর দশকে হালিয়া, হারুয়া-চারুয়া, কামাইয়া এবং ২০০০-এর দশকে কমলারি প্রথা বিলোপ করে।[১২৫]

চুক্তিভিত্তিক ভারতীয় শ্রম ব্যবস্থা

[সম্পাদনা]

১৮৩৩ সালে ব্রিটিশ সরকার তার অধিকাংশ উপনিবেশে দাসপ্রথা বিলোপের আইন প্রণয়ন করলে শ্রমের চাহিদা মেটাতে ভারতীয় চুক্তিভিত্তিক শ্রম ব্যবস্থা চালু হয়। অনেক ইতিহাসবিদ এই ব্যবস্থাকে দাসপ্রথার সঙ্গে তুলনা করেছেন। [১২৬][১২৭][১২৮] রিচার্ড শেরিডান, দুখানের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেন, "[চাষিরা] দাসত্বে প্রচলিত বলপ্রয়োগের কৌশল অব্যাহত রেখেছিল, এবং এই দিক থেকে ভারতীয়দের অবস্থা প্রাক্তন দাসদের চেয়ে ভালো ছিল না।"[২০]

এই ব্যবস্থায় ভারতীয় শ্রমিকদের চুক্তিভিত্তিক কাজের জন্য নিয়ে যাওয়া হতো সেইসব অঞ্চলে, যেখানে দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়েছিল। ১৮৩৬ সালে প্রথম ভারতীয় চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের বহনকারী জাহাজ দেশ ছাড়ে। নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর পর, তাদের বিভিন্ন চাষের জমি বা খনিতে মিক হিসেবে কাজ করতে পাঠানো হতো।[১২৯][১২৯] নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর পর, তাদের বিভিন্ন চাষের জমি বা খনিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে পাঠানো হতো। তাদের কাজের পরিবেশ এবং জীবনযাত্রার মান ছিল অত্যন্ত শোচনীয়, অনেক ক্ষেত্রেই তারা প্রাক্তন দাসদের মতোই কঠিন অবস্থার শিকার হতো। শ্রমিকরা তাদের মালিকদের এস্টেটের বাইরে যেতে পারত না এবং কম মজুরি পেত। চুক্তিভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফৌজদারি মামলা দায়ের হতো এবং জেলে পাঠানো হতো।[১২৯] অনেক ভারতীয় শ্রমিক প্রতারণার মাধ্যমে চুক্তিভুক্ত হয়ে পড়ত। মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ অঞ্চল থেকে হাজার কিলোমিটার দূরের বন্দর এলাকায় তাদের নিয়ে যাওয়া হতো, যেখানে তাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলা হতো যে ভালো কাজের সুযোগ আছে। কিন্তু তাদেরকে জানানো হতো না যে, কী ধরনের কাজ করতে হবে বা তাদের নিজের দেশ ও সম্প্রদায় ছেড়ে যেতে হবে। অনেককে জোর করে জাহাজে তুলে দেওয়া হতো, অথচ তারা দীর্ঘ চার মাসের সমুদ্রযাত্রার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না। এসব খামারগুলোর তদন্তকারী একজন বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট চার্লস অ্যান্ডারসন ব্রিটিশ উপনিবেশ সচিবকে লিখে জানান যে ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সব ক্ষেত্রেই ভারতীয় শ্রমিকদের প্রতি "চরম ও অন্যায়মূলক নিষ্ঠুরতা" দেখানো হতো। চাষিরা তাদের শ্রমিকদের চরম নির্যাতন করত যার ফলে ক্ষেতের মধ্যে পচে যাওয়া মৃতদেহ পাওয়া যেত। শ্রমিকরা যদি প্রতিবাদ করত এবং কাজ করতে অস্বীকৃতি জানাত তাহলে তাদের মজুরি ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হতো।[১২৯][১৩০]

আধুনিক দাসপ্রথা

[সম্পাদনা]

২০১৮ সালের গ্লোবাল স্লেভারি ইনডেক্স অনুযায়ী ২০১৬ সালে বিশ্বজুড়ে ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ দাসত্বের শিকার ছিল। এর মধ্যে ভারতেই প্রায় ৮ মিলিয়ন বা ২০% মানুষ আধুনিক দাসত্বের শিকার, যা এটিকে বিশ্বের বৃহত্তম আধুনিক দাসপ্রথার কেন্দ্রস্থল করে তুলেছে।[১৩১] আধুনিক দাসত্ব সাধারণত বিভিন্ন প্রকারের বলপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে টিকে আছে, যেমন বন্ধকী শ্রম, শিশুশ্রম, জোরপূর্বক বিবাহ, মানব পাচার, বলপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তি এবং যৌন দাসত্ব।[১৩২][১৩৩][১৩৪][১৩৫][১৩৬]

২০২৩ সালের বৈশ্বিক দাসত্ব সূচক অনুসারে ভারত ১ কোটি ১০ লক্ষ মানুষ আধুনিক দাসত্বের শিকার, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ।[১৩৭]

দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বব্যাপী দাসত্ব, বিশেষ করে শিশু দাসত্বের অস্তিত্ব বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে।[১৩৮] ভারতে বন্ধকী শ্রম (নিষেধাজ্ঞা) আইন ১৯৭৬ এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের আওতায় (যা দাসত্ব ও দাসত্বসদৃশ পরিস্থিতিকে নিষিদ্ধ করে) এই সমস্যার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষভাবে, ভারতের গ্রানাইট খনিগুলোকে সমস্যাপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ছে।[১৩৯][১৪০]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 Scott C. Levi (২০০২)। "Hindus Beyond the Hindu Kush: Indians in the Central Asian Slave Trade" (3)। Cambridge University Press: ২৭৭–২৮৮। ডিওআই:10.1017/S1356186302000329জেস্টোর 25188289 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য), Quote: "Sources such as the Arthasastra, the Manusmriti and the Mahabharata demonstrate that institutionalized slavery was well established in India by beginning of the common era. Earlier sources suggest that it was likely to have been equally widespread by the lifetime of the Buddha (sixth century BC), and perhaps even as far back as the Vedic period. [footnote 2: (...) While it is likely that the institution of slavery existed in India during the Vedic period, the association of the Vedic 'Dasa' with 'slaves' is problematic and likely to have been a later development."
  2. Ram Sharan Sharma (১৯৯০)। Śūdras in Ancient India: A Social History of the Lower Order Down to Circa A.D. 600। Motilal Banarsidass। পৃ. ২৫–২৭। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৮-০৭০৬-৮
  3. McCrindle, John (১৮৭৭)। Ancient India As Described By Megasthenes And Arrian। পৃ. ৪০।
  4. Clarence-Smith, William G.। "Religions and the abolition of slavery – a comparative approach" (পিডিএফ)LSE – Global Economic History Network (GEHN) – Conferences
  5. 1 2
  6. 1 2 3 4 5 6 Salim Kidwai, "Sultans, Eunuchs and Domestics: New Forms of Bondage in Medieval India", in Utsa Patnaik and Manjari Dingwaney (eds), Chains of Servitude: bondage and slavery in India (Madras, 1985).
  7. Andre Wink (1991), Al-Hind: the Making of the Indo-Islamic World, vol. 1, Brill Academic (Leiden), আইএসবিএন ৯৭৮-৯০০৪০৯৫০৯০, pages 14-32, 172-207
  8. Bernard Lewis (১৯৯২)। Race and Slavery in the Middle East: An Historical Enquiry। Oxford University Press। পৃ. ১১আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫০৫৩২৬-৫
  9. Indrani Chatterjee; Richard M. Eaton (২০০৬)। Slavery and South Asian History। Indiana University Press। পৃ. ১২২–১২৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৫৩-১১৬৭১-০, Quote: "The importation of Ethiopian slaves into the western Deccan profoundly altered the region's society and culture [...]"
  10. [a]Andrea Major (২০১২)। Slavery, Abolitionism and Empire in India, 1772-1843। Liverpool University Press। পৃ. ৪২–৪৩। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৭৮১৩৮-৯০৩-৪;

    [b]David Eltis; Stanley L. Engerman (২০১১)। The Cambridge World History of Slavery: Volume 3, AD 1420–AD 1804। Cambridge University Press। পৃ. ৭৩–৭৪। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৩১৬-১৮৪৩৫-৬, Quote: "The war was considered a major reason for the importation of Ethiopian slaves into India during the sixteenth century. Africans of slave origins played a major role in the politics of Mughal India [...]"
  11. 1 2 William Gervase Clarence-Smith (২০১৩)। The Economics of the Indian Ocean Slave Trade in the Nineteenth Century। Routledge। পৃ. ৪–৫, ৬৪–৬৬ with footnotes on ৬৯। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৫-১৮২১৪-৪
  12. Carole Elizabeth Boyce Davies (২০০৮)। Encyclopedia of the African Diaspora: Origins, Experiences, and Culture [3 volumes]: Origins, Experiences, and Culture। ABC-CLIO। পৃ. ৫৫৩–৫৫৬। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৫১০৯-৭০৫-০
  13. 1 2 Walker, Timothy (২০০৪)। "Abolishing the slave trade in Portuguese India: documentary evidence of popular and official resistance to crown policy, 1842–60"। Taylor & Francis: ৬৩–৭৯। ডিওআই:10.1080/0144039042000293045 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  14. 1 2 Andrea Major (2014), Slavery, Abolitionism and Empire in India, 1772-1843, Liverpool University Press, আইএসবিএন ৯৭৮১৭৮১৩৮১১১৩, p. 43
  15. 1 2 Islamic Law and the Colonial Encounter in British India ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৯ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে
  16. Walker, Timothy (২০০৪)। "Abolishing the slave trade in Portuguese India: documentary evidence of popular and official resistance to crown policy, 1842–60": ৬৩–৭৯। ডিওআই:10.1080/0144039042000293045আইএসএসএন 0144-039X {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  17. Walker, Timothy (২০০৪)। "Abolishing the slave trade in Portuguese India: documentary evidence of popular and official resistance to crown policy, 1842–60"Slavery & Abolition২৫ (2): ৬৩–৭৯। ডিওআই:10.1080/0144039042000293045আইএসএসএন 0144-039Xএস২সিআইডি 142692153
  18. Ghoshal, Devjyot (৩ নভেম্বর ২০১৪)। "The forgotten story of India's colonial slave workers who began leaving home 180 years ago"Quartz India। সংগ্রহের তারিখ ১৮ এপ্রিল ২০২০
  19. William, Eric (১৯৪২)। History of the People of Trinidad and Tobago। Buffalo: Effworld Inc। পৃ. ১–৪। আইএসবিএন ৯৭৮১৬১৭৫৯০১০৮ {{বই উদ্ধৃতি}}: আইএসবিএন / তারিখের অসামঞ্জস্যতা (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: প্রকাশকের অবস্থান (লিঙ্ক)
  20. 1 2 Sheridan, Richard B. (২০০২)। "The Condition of slaves on the sugar plantations of Sir John Gladstone in the colony of Demerara 1812 to 1849" (3/4): ২৬৫–২৬৯। ডিওআই:10.1163/13822373-90002536 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |hdl-access= এর জন্য |hdl= প্রয়োজন (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  21. 1 2 "Ashoka's Edicts and Inscriptions – Civilsdaily"। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০২৩
  22. Vasu, Srisa Chandra (১৮৯১)। Ashtadhyayi of Panini book.II
  23. Sharma, Arvind (২০০৫), "Dr. BR Ambedkar on the Aryan invasion and the emergence of the caste system in India", Journal of the American Academy of Religion, খণ্ড ৭৩, পৃ. ৮৪৩–৮৭০, ডিওআই:10.1093/jaarel/lfi081, [Paraphrasing B. R. Ambedkar]: "The fact that the word Dāsa later came to mean a slave may not by itself indicate such a status of the original people, for a form of the word "Aryan" also means a slave.
  24. West, Barbara (২০০৮)। Encyclopedia of the Peoples of Asia and Oceania। Infobase। পৃ. ১৮২। আইএসবিএন ৯৭৮-০৮১৬০৭১০৯৮
  25. 1 2 Manusmriti with the Commentary of Medhatithi by Ganganatha Jha, 1920, আইএসবিএন ৮১২০৮১১৫৫০
  26. Upinder Singh (২০০৮)। A History of Ancient and Early Medieval India: From the Stone Age to the 12th CenturyPearson Education। পৃ. ১৯১। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৩১৭১১২০০
  27. Jaiswal, Suvira (১৯৮১)। "Women in Early India: Problems and Perspectives": ৫৫। জেস্টোর 44141112 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  28. 1 2 3 Stephanie Jamison; Joel Brereton (২০১৪)। The Rigveda: 3-Volume Set। Oxford University Press। পৃ. ৫৬–৫৭। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৯৭২০৭৮-১
  29. Thomas R. Trautmann (২০০৬)। Aryans and British India। Yoda Press। পৃ. ২১৩–২১৫। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৯০২২৭২-১-৬
  30. 1 2 Asko Parpola (২০১৫)। The Roots of Hinduism: The Early Aryans and the Indus Civilization। Oxford University Press। পৃ. ১০২–১০৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-০২২৬৯১-৬
  31. 1 2 3 4 Micheline Ishay (২০০৮)। The History of Human Rights: From Ancient Times to the Globalization Era। University of California Press। পৃ. ৫১। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২০-২৫৬৪১-৫
  32. Gregory Schopen (২০০৪)। Buddhist Monks and Business Matters: Still More Papers on Monastic Buddhism in India। University of Hawaii Press। পৃ. ২০১। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮২৪৮-২৫৪৭-৮
  33. Gregory Schopen (2004), Buddhist Monks and Business Matters, University of Hawaii Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০৮২৪৮২৭৭৪৮, page 202-206
  34. 1 2 3 4 5 Gregory Schopen (১৯৯৪)। "The Monastic Ownership of Servants and Slaves" (2): ১৫৬–১৬২ with footnotes, context: ১৪৫–১৭৪। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  35. 1 2 3 4 5 Gregory Schopen (২০১০)। "On Some Who Are Not Allowed to Become Buddhist Monks or Nuns: An Old List of Types of Slaves or Unfree Laborers" (2): ২২৫–২৩৪ with footnotes। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  36. Gregory Schopen (১৯৯৪)। "The Monastic Ownership of Servants and Slaves" (2): ১৬৯–১৭১ with footnotes, context: ১৪৫–১৭৪। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  37. 1 2 Gregory Schopen (২০১০)। "On Some Who Are Not Allowed to Become Buddhist Monks or Nuns: An Old List of Types of Slaves or Unfree Laborers" (2): ২৩১–২৩২ with footnotes। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  38. Kauṭalya; R. P. Kangle (১৯৮৬)। The Kautiliya Arthasastra, Part 2। Motilal Banarsidass। পৃ. ২৩৫–২৩৬। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৮-০০৪২-৭
  39. Kautilya; Patrick Olivelle (Transl) (২০১৩)। King, Governance, and Law in Ancient India: Kautilya's Arthasastra। Oxford University Press। পৃ. ২০৮–২০৯, ৬১৪। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৯৮৯১৮২-৫
  40. Kauṭalya; R. P. Kangle (১৯৭২)। The Kautiliya Arthasastra, Part 3। Motilal Banarsidass। পৃ. ১৪৩–১৪৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৮-০০৪২-৭
  41. 1 2 R.P. Kangle (1960), The Kautiliya Arthasastra – a critical edition, Part 3, University of Bombay Studies, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১২০৮০০৪২৭, page 186
  42. निष्पातित Sanskrit English dictionary
  43. Shamasastry (Translator, 1915), Arthashastra of Chanakya
  44. Rajendra Prasad (১৯৯২)। Dr. Rajendra Prasad: Correspondence and Select Documents : Presidency Period। Allied Publishers। পৃ. ৫০৮। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭০২৩-৩৪৩-৫
  45. Charlotte Vaudeville (১৯৯৩)। A weaver named Kabir: selected verses with a detailed biographical and historical introduction। Oxford University Press। পৃ. ৩৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৬৩০৭৮-৭
  46. Vanijja Sutta: Business (Wrong Livelihood) ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৯ নভেম্বর ২০০৫ তারিখে
  47. Davis, Donald R. (১ জুলাই ২০২০)। "Slaves and slavery in the Smṛticandrikā": ২৯৯–৩২৬। ডিওআই:10.1177/0019464620930893আইএসএসএন 0019-4646 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  48. Thakur, Vijay Kumar (১৯৭৭)। "Forced Labour in the Gupta Period": ১৪৫–১৫১। আইএসএসএন 2249-1937জেস্টোর 44139064 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  49. Banerji, Sures Chandra (১৯৯৯)। A Brief History of Dharmaśāstra। Abhinav Publications। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭০১৭-৩৭০-০
  50. Andre Wink (1991), Al-Hind: the Making of the Indo-Islamic World, vol. 1, Brill Academic (Leiden), আইএসবিএন ৯৭৮-৯০০৪০৯৫০৯০, pages 14-15
  51. Hasan, Mohibbul (২০০৫)। Kashmir Under The Sultans। Aakar Books। পৃ. ২৪৪। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৮৭৮৭৯৪৯৭
  52. Andre Wink (1991), Al-Hind: the Making of the Indo-Islamic World, vol. 1, Brill Academic (Leiden), আইএসবিএন ৯৭৮-৯০০৪০৯৫০৯০, pages 172-173
  53. End of 'Imad-ud-Din Muhammad ibn Qasim. The Arab Conqueror of Sind by S.M. Jaffar – Quarterly Islamic Culture, Hyderabad Deccan, Vol.19 Jan 1945
  54. Muhammad Qasim Firishta, Tarikh-i-Firishta (Lucknow, 1864).
  55. Andre Wink, Al-Hind: the Making of the Indo-Islamic World, vol. 2, The Slave Kings and the Islamic Conquest, 11th–13th Centuries (Leiden, 1997)
  56. 1 2 3 4 5 Levi, Scott C. "Hindus beyond the Hindu Kush: Indians in the Central Asian Slave Trade". Journal of the Royal Asiatic Society, vol. 12, no. 3, 2002, pp. 277–88. JSTOR, http://www.jstor.org/stable/25188289. Accessed 15 April 2024.
  57. Hardy, Peter (অক্টোবর ২০০৯)। Muslims of British India। Cambridge University Press। পৃ. 
  58. 1 2 Raychaudhuri and Habib, The Cambridge Economic History of India, I
  59. 1 2 Zia ud-Din Barani, Tarikh-i-Firuz Shahi, edited by Saiyid Ahmad Khan, William Nassau Lees and Kabiruddin, Bib. Ind. (Calcutta, 1860–62),
  60. 1 2 Niccolao Manucci, Storia do Mogor, or Mogul India 1653–1708, 4 vols, translated by W. Irvine (London, 1907-8), II
  61. Sebastian Manrique, Travels of Frey Sebastian Manrique, 2 vols, translated by Eckford Luard (London, 1906), II
  62. Francois Bernier, Travels in the Mogul Empire, AD 1656–1668, revised by Vincent Smith (Oxford, 1934)
  63. 1 2 3 4 Lal, Slavery in India
  64. Jackson (1999)
  65. Minhaj us-Siraj Jurjani, Tabaqat-i Nasiri, translated by H. G. Raverty, 2 vols (New Delhi, 1970), I,
  66. Barani, Tarikh-i-Firuz Shahi
  67. Shams-i Siraj Tarikh-i-Fruz Shahi, Bib. Ind. (Calcutta, 1890)
  68. Vincent A. Smith, Oxford History of India, 3rd ed. (Oxford, 1961),
  69. Sunil Kumar, "The Ignored Elites: Turks, Mongols and a Persian Secretarial Class in the Early Delhi Sultanate," Modern Asian Studies 43, no. 1 (2009): 45–77.
  70. Peter. Jackson, "Turkish Slaves on Islam's Indian Frontier," in Slavery & South Asian History, ed. Indrani Chatterjee and Richard M. Eaton (Bloomington: Indiana University Press, 2006), 63–82
  71. Sunil Kumar, "The Ignored Elites: Turks, Mongols and a Persian Secretarial Class in the Early Delhi Sultanate," Modern Asian Studies 43, no. 1 (2009): 45–77
  72. 1 2 Banarsi Prasad Saksena 1992, পৃ. 386।
  73. Francisco Pelsaert, A Dutch Chronicle of Mughal India, translated and edited by Brij Narain and Sri Ram Sharma (Lahore, 1978), p. 48.
  74. 1 2 Sebastian Manrique, Travels of Frey Sebastian Manrique, 2 vols, translated by Eckford Luard (London, 1906), II,
  75. "Murar – the Departure of Prince Shah-Shuja for Kabul (16 March 1638)"। ২৭ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  76. Badshah Nama, Qazinivi & Badshah Nama, Abdul Hamid Lahori
  77. Said Ali ibn Said Muhammad Bukhari, Khutut-i mamhura bemahr-i qadaah-i Bukhara, OSIASRU, Ms. No. 8586/II. For bibliographic information, see Sobranie vostochnykh rukopisei Akademii Nauk Uzbekskoi SSR, 11 vols (Tashkent, 1952–85).
  78. Chatterjee, Indrani (২০০৬)। Slavery and South Asian History। Indiana University Press। পৃ. ১০–১৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৫৩-২১৮৭৩-৫। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০১৭
  79. The Administration of Justice in Medieval India, MB Ahmad, The Aligarh University (1941)
  80. M. Reza Pirbhai (2009), Reconsidering Islam in a South Asian Context, Brill Academic, আইএসবিএন ৯৭৮-৯০০৪১৭৭৫৮১, pp. 131-154
  81. 1 2 Fatawa i-Alamgiri, Vol 5, p. 273 – Sheikh Nizam, al-Fatawa al-Hindiyya, 6 vols, Beirut: Dar Ihya' al-Turath al-'Arabi, 3rd Edition, (1980)
  82. 1 2 A digest of the Moohummudan law pp. 386 with footnote 1, Neil Baillie, Smith Elder, London
  83. Fatawa i-Alamgiri, Vol 1, pp. 395-397; Fatawa-i Alamgiri, Vol 1, pp. 86-88, Sheikh Nizam, al-Fatawa al-Hindiyya, 6 vols, Beirut: Dar Ihya' al-Turath al-'Arabi, 3rd Edition, (1980)
  84. Fatawa i-Alamgiri, Vol 6, p. 631 – Sheikh Nizam, al-Fatawa al-Hindiyya, 6 vols, Beirut: Dar Ihya' al-Turath al-'Arabi, 3rd Edition, (1980); The Muhammadan Law p. 275 annotations
  85. A digest of the Moohummudan law pp. 371 with footnote 1, Neil Baillie, Smith Elder, London
  86. Fatawa i-Alamgiri, Vol 1, page 377 – Sheikh Nizam, al-Fatawa al-Hindiyya, 6 vols, Beirut: Dar Ihya' al-Turath al-'Arabi, 3rd Edition, (1980); The Muhammadan Law p. 298 annotations
  87. Fatawa i-Alamgiri, Vol 1, pp. 394-398 – Sheikh Nizam, al-Fatawa al-Hindiyya, 6 vols, Beirut: Dar Ihya' al-Turath al-'Arabi, 3rd Edition, (1980)
  88. Muhammad Talib, Malab al-alibn, Oriental Studies Institute of the Academy of Sciences of the Republic of Uzbekistan, Tashkent, Uzbekistan , Ms. No. 80, fols 117a-18a.
  89. Jackson, Peter (১৯৯৯)। The Delhi Sultanate: A Political and Military History। Cambridge।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক)
  90. Indian textile industry in Scott Levi, The Indian Diaspora in Central Asia and its Trade, 1550–1900 (Leiden, 2002)
  91. Beatrice Manz, The Rise and Rule of Tamerlane (Cambridge, 1989); Tapan Raychaudhuri and Irfan Habib, eds, The Cambridge Economic History of India, vol. 1, (Hyderabad, 1984); Surendra Gopal, 'Indians in Central Asia, Sixteenth and Seventeenth Centuries', Presidential Address, Medieval India Section of the Indian History Congress, New Delhi, February 1992 (Patna, 1992)
  92. E. K. Meyendorff, Puteshestvie iz Orenburga v Bukharu, Russian translation by N. A. Khalin (Moscow, 1975),
  93. Kowner, Rotem (২০১৪)। From White to Yellow: The Japanese in European Racial Thought, 1300-1735 (reprint সংস্করণ)। McGill-Queen's Press – MQUP। পৃ. ৪৩১, ৪৩২। আইএসবিএন ৯৭৮-০৭৭৩৫৯৬৮৪৯
  94. "The Tribune – Windows – Slice of history"
  95. S. Subrahmanyam, "Slaves and Tyrants: Dutch Tribulations in Seventeenth-Century Mrauk-U," Journal of Early Modern History 1, no. 3 (August 1997); O. Prakash, European Commercial Enterprise in Pre-Colonial India, The New Cambridge History of India II:5 (New York, 1998); O. Prakash, The Dutch East India Company and the Economy of Bengal; J. F. Richards, The Mughal Empire, The New Cambridge History of India I:5 (New York, 1993),; Raychaudhuri and Habib, eds., The Cambridge Economic History of India I,; V. B. Lieberman, Burmese Administrative Cycles: Anarchy and Conquest, c. 1580–1760 (Princeton, N.J., 1984); G. D. Winius, "The 'Shadow Empire' of Goa in the Bay of Bengal," Itinerario 7, no. 2 (1983):; D.G.E. Hall, "Studies in Dutch relations with Arakan," Journal of the Burma Research Society 26, no. 1 (1936):; D.G.E. Hall, "The Daghregister of Batavia and Dutch Trade with Burma in the Seventeenth Century," Journal of the Burma Research Society 29, no. 2 (1939); Arasaratnam, "Slave Trade in the Indian Ocean in the Seventeenth Century,".
  96. VOC 1479, OBP 1691, fls. 611r-627v, Specificatie van Allerhande Koopmansz. tot Tuticurin, Manaapar en Alvatt.rij Ingekocht, 1670/71-1689/90; W. Ph. Coolhaas and J.van Goor, eds., Generale Missiven van Gouverneurs-Generaal en Raden van Indiaan Heren Zeventien der Verenigde Oostindische Compagnie (The Hague, 1960–present), passim; T. Raychaudhuri, Jan Company in Coromandel, 1605–1690: A Study on the Interrelations of European Commerce and Traditional Economies (The Hague, 1962); S. Arasaratnam, "Slave Trade in the Indian Ocean in the Seventeenth Century," in K. S. Mathew, ed., Mariners, Merchants and Oceans: Studies in Maritime History (New Delhi, 1995).
  97. For exports of Malabar slaves to Ceylon, Batavia, see Generale Missiven VI,; H.K. s'Jacob ed., De Nederlanders in Kerala, 1663–1701: De Memories en Instructies Betreffende het Commandement Malabar van de Verenigde Oostindische Compagnie, Rijks Geschiedkundige Publication, Kleine serie 43 (The Hague, 1976),; R. Barendse, "Slaving on the Malagasy Coast, 1640–1700," in S. Evers and M. Spindler, eds., Cultures of Madagascar: Ebb and Flow of Influences (Leiden, 1995). See also M. O. Koshy, The Dutch Power in Kerala (New Delhi, 1989); K. K. Kusuman, Slavery in Travancore (Trivandrum, 1973); M.A.P. Meilink-Roelofsz, De Vestiging der Nederlanders ter Kuste Malabar (The Hague, 1943); H. Terpstra, De Opkomst der Westerkwartieren van de Oostindische Compagnie (The Hague, 1918).
  98. M.P.M. Vink, "Encounters on the Opposite Coast: Cross-Cultural Contacts between the Dutch East India Company and the Nayaka State of Madurai in the Seventeenth Century," unpublished dissertation, University of Minnesota (1998); Arasaratnam, Ceylon and the Dutch, 1600–1800 (Great Yarmouth, 1996); H. D. Love, Vestiges from Old Madras (London, 1913).
  99. Of 2,467 slaves traded on 12 slave voyages from Batavia, India, and Madagascar between 1677 and 1701 to the Cape, 1,617 were landed with a loss of 850 slaves, or 34.45%. On 19 voyages between 1677 and 1732, the mortality rate was somewhat lower (22.7%). See Shell, "Slavery at the Cape of Good Hope, 1680–1731," p. 332. Filliot estimated the average mortality rate among slaves shipped from India and West Africa to the Mascarene Islands at 20–25% and 25–30%, respectively. Average mortality rates among slaves arriving from closer catchment areas were lower: 12% from Madagascar and 21% from Southeast Africa. See Filliot, La Traite des Esclaves, p. 228; A. Toussaint, La Route des Îles: Contribution à l'Histoire Maritime des Mascareignes (Paris, 1967),; Allen, "The Madagascar Slave Trade and Labor Migration."
  100. 1 2 3 Thomas, K.T. (১৯৯৯)। "Slaves an Integral Part of the Production System in Malabar (19Th Century)": ৬০০–৬১০। আইএসএসএন 2249-1937জেস্টোর 44144128 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  101. 1 2 3 Nair, Adoor K. K. Ramachandran (১ জানুয়ারি ১৯৮৬)। Slavery in Kerala। Mittal Publications। পৃ. ৩৮–৪৩।
  102. Hansard Parliamentary Papers 125 (1828), 128 (1834), 697 (1837), 238 (1841), 525 (1843), 14 (1844), London, House of Commons
  103. 1 2 Sen, Jahar (১৯৭৩)। "Slave trade on the Indo-Nepal border, in the 19th century" (পিডিএফ): ১৫৯ Cambridge Apollo এর মাধ্যমে। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  104. 1 2 Slavery and the slave trade in British India; with notices of the existence of these evils in the islands of Ceylon, Malacca, and Penang, drawn from official documents
  105. The Law and Custom of Slavery in British India: In a Series of Letters to Thomas Fowell Buxton, Esq
  106. The British and Foreign Anti-slavery Reporter, Volumes 1-3
  107. "Cowries and the Slave Trade in Bengal"PeepulTree। ২৭ নভেম্বর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০২৩
  108. 1 2 3 4 Andrea Major (২০১২)। Slavery, Abolitionism and Empire in India, 1772-1843। Liverpool University Press। পৃ. ৪৩–৫৪। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৪৬৩১-৭৫৮-৩
  109. John Griffith (1986), What is legal pluralism?, The Journal of Legal Pluralism and Unofficial Law, Volume 18, Issue 24, pages 1-55
  110. An Act for the Abolition of Slavery throughout the British Colonies 3° & 4° Gulielmi IV, cap. LXXIII (August 1833)
  111. Davis, D.B. (২০০৬)। Challenging the Boundaries of Slavery। The Nathan I. Huggins Lectures। Harvard University Press। পৃ. ৮৫। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭৪-০১৯৮৫-০। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০২৩
  112. Rugemer, E.B. (২০০৯)। The Problem of Emancipation: The Caribbean Roots of the American Civil War। Antislavery, Abolition, and the Atlantic World। LSU Press। পৃ. ১৯৭। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮০৭১-৪৬৮৫-৯। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০২৩
  113. "Slavery in British India : Banaji, D. R. : Free Download, Borrow, and Streaming : Internet Archive"। ১ জুলাই ২০১৫। পৃ. ২০২। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জানুয়ারি ২০১৯ Internet Archive এর মাধ্যমে।
  114. 1 2 Miers, S. (2003). Slavery in the Twentieth Century: The Evolution of a Global Problem. Storbritannien: AltaMira Press. p. 30
  115. Miers, S. (2003). Slavery in the Twentieth Century: The Evolution of a Global Problem. Storbritannien: AltaMira Press. p. 31
  116. Peabody, Sue (২০১৪)। "French Emancipation"। Atlantic History। Introduction। ডিওআই:10.1093/OBO/9780199730414-0253আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৯৭৩০৪১-৪
  117. "Slavery :: Britannica Concise Encyclopedia"Encyclopædia Britannica। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১১
  118. "Historical survey > Slave-owning societies"Encyclopædia Britannica। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১১
  119. Islamic Law and the Colonial Encounter in British India ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৯ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে
  120. 1 2 Secretariat, Bengal (India); Risley, Sir Herbert Hope (১৮৯৪)। The Gazetteer of Sikhim। Printed at the Bengal secretariat Press। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৩৫৮-১২৭৪-০ {{বই উদ্ধৃতি}}: আইএসবিএন / তারিখের অসামঞ্জস্যতা (সাহায্য)
  121. Campbell, G. (Ed.). (2005). Abolition and Its Aftermath in the Indian Ocean Africa and Asia. London: Routledge, https://doi.org/10.4324/9780203493021
  122. Viswanath, Rupa (২৯ জুলাই ২০১৪), The Pariah Problem: Caste, Religion, and the Social in Modern India, Columbia University Press, পৃ. ৫, আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৩১-৫৩৭৫০-৬
  123. Miers, S. (2003). Slavery in the Twentieth Century: The Evolution of a Global Problem. Storbritannien: AltaMira Press. p. 101
  124. Miers, S. (2003). Slavery in the Twentieth Century: The Evolution of a Global Problem. Storbritannien: AltaMira Press. p. 152
  125. Pradhan, S. (২০০৬)। "Nepal: Land Reforms, Key to Social Harmony"। IPS।
  126. Walton Lai (১৯৯৩)। Indentured labor, Caribbean sugar: Chinese and Indian migrants to the British West Indies, 1838–1918। Johns Hopkins University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮০১৮-৭৭৪৬-৯
  127. Steven Vertovik (Robin Cohen, ed.) (১৯৯৫)। The Cambridge survey of world migration। Cambridge University Press। পৃ. ৫৭–৬৮আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৪৪৪০৫-৭
  128. Tinker, Hugh (১৯৯৩)। New System of Slavery। Hansib Publishing, London। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৭০৫১৮-১৮-৫
  129. 1 2 3 4 "Forced Labour"। The National Archives, Government of the United Kingdom। ২০১০।
  130. K Laurence (১৯৯৪)। A Question of Labour: Indentured Immigration Into Trinidad & British Guiana, 1875–1917। St Martin's Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩১২-১২১৭২-৩
  131. Walk, Free (২০১৮)। "Global Slavery Index" (পিডিএফ)। ৪ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  132. Browne, Rachel (৩১ মে ২০১৬)। "Andrew Forrest puts world's richest countries on notice: Global Slavery Index"The Sydney Morning Herald। Australia। Fairfax। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০১৬
  133. Gladstone, Rick (৩১ মে ২০১৬)। "Modern Slavery Estimated to Trap 45 Million People Worldwide"The New York Times
  134. "India"
  135. "Bonded labourers, sex workers, forced beggars: India leads world in slavery"। ৩১ মে ২০১৬।
  136. Mazumdar, Rakhi (জুন ২০১৬)। "India ranks fourth in global slavery survey"The Economic Times
  137. Kalia, Saumya (৩০ মে ২০২৩)। "G20 countries including India are fuelling modern slavery, says new report"The Hindu (ভারতীয় ইংরেজি ভাষায়)।
  138. Choi-Fitzpatrick, Austin (৭ মার্চ ২০১৭)। What Slaveholders Think: How Contemporary Perpetrators Rationalize What They do। Columbia University Press। আইএসবিএন ৯৭৮০২৩১৫৪৩৮২৮
  139. "Modern slavery and child labour in Indian quarries – Stop Child Labour"Stop Child Labour। ১১ মে ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০১৬
  140. "Modern slavery and child labour in Indian quarries"indianet.nl। ২৩ আগস্ট ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০১৬

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]
  • কালব, ই. (২০২৩)। দক্ষিণ এশিয়ায় দাসপ্রথা। ইন: পারগাস, ডিএ, শিয়েল, জে. (সম্পাদক) দ্য পালগ্রেভ হ্যান্ডবুক অফ গ্লোবাল স্লেভারি জুড়ে ইতিহাস। পালগ্রেভ ম্যাকমিলান, চাম। https://doi.org/10.1007/978-3-031-13260-5_29
  • সিং, আকাঙ্ক্ষা (২০২১), "'জীবনের জন্য দাসত্ব': উনিশ শতকের ভারতে দাসত্বের ব্যাখ্যা", হুমানেটেন ৪৭
  • স্কট সি. লেভি (২০০২), হিন্দুরা হিন্দু কুশের বাইরে: মধ্য এশিয়ান দাস বাণিজ্যে ভারতীয়রা, জার্নাল অফ দ্য রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটি
  • লাল, কেএস (1994), মধ্যযুগীয় ভারতে মুসলিম দাস ব্যবস্থা। নয়াদিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে
  • সেলিম কিদওয়াই, "সুলতান, নপুংসক এবং গৃহপালিত: মধ্যযুগীয় ভারতে বন্ধনের নতুন রূপ", উত্সা পট্টনায়েক এবং মঞ্জরি ডিংওয়ানি (সম্পাদক), দাসত্বের শৃঙ্খল: ভারতে বন্ধন এবং দাসত্ব (মাদ্রাজ, ১৯৮৫)।
  • উৎসা পট্টনায়েক এবং মঞ্জরী ডিঙ্গওয়ানি (সম্পাদক), দাসত্বের শৃঙ্খল: ভারতে দাসত্ব এবং দাসত্ব (মাদ্রাজ, ১৯৮৫)
  • আন্দ্রেয়া মেজর (২০১৪), ভারতে দাসত্ব, বিলোপবাদ এবং সাম্রাজ্য, ১৭৭২–১৮৪৩, লিভারপুল ইউনিভার্সিটি প্রেস।
  • আরসি মজুমদার, ভারতীয় জনগণের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, বোম্বে।
  • আন্দ্রে উইঙ্ক (১৯৯১), আল-হিন্দ: ইন্দো-ইসলামিক বিশ্ব গঠন, ব্রিল একাডেমিক (লেইডেন),আইএসবিএন ৯৭৮-৯০০৪০৯৫০৯০
  • কেটি রামমোহন (2009), 'আধুনিক বন্ধন: বিলুপ্তি-পরবর্তী মালাবারে আতিয়ায়মা'। Jan Breman, Isabelle Guerin এবং Asem Prakash (eds)-এ। ভারতের মুক্ত কর্মীবাহিনী: পুরনো ও নতুন বন্ধনের। নয়াদিল্লি: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস।আইএসবিএন ৯৭৮-০১৯-৫৬৯৮৪৬-৬আইএসবিএন ৯৭৮-০১৯-৫৬৯৮৪৬-৬

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]