ভারতের প্রাণী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ভারত বিশ্বের সর্বাধিক জৈববৈচিত্র্যসম্পন্ন অঞ্চলগুলির অন্যতম। দেশের রাজনৈতিক সীমানার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পরিবেশক্ষেত্র দৃষ্ট হয়: মরুভূমি, উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল, উচ্চভূমি, ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোষ্ণ বনাঞ্চল, জলাভূমি, সমভূমি, তৃণভূমি, নদী অববাহিকা ও দ্বীপপুঞ্জ। ভারতে তিনটি বায়োডাইভার্সিটি হটস্পট দেখা যায়: পশ্চিমঘাট পর্বতমালা, পূর্ব হিমালয় ও ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত বরাবর প্রসারিত পার্বত্য অঞ্চল। এই হটস্পটগুলিতে অসংখ্য এনডেমিক প্রজাতি দেখা যায়।[১]

৩,১৬৬,৪১৪ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত ভারতের পরিবেশক্ষেত্রগুলিতে বৃষ্টিপাত, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা, টোপোগ্রাফি ও অক্ষাংশের কারণে বিশেষ প্রকারের বৈচিত্র্য লক্ষিত হয়। ভারতের উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ। ভারত ইন্দোমালয় জৈবভৌগোলিক ক্ষেত্রের একটি বৃহত্তর অংশ দখল করে আছে। তাই ভারতের বহু উদ্ভিদ ও প্রাণী সঙ্গে মালয়দেশীয় উদ্ভিদ ও প্রাণীর একরূপতা লক্ষিত হয়; কেবলমাত্র অল্প কয়েকটি টাক্সাকেই ভারতের স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বলা চলে। স্বতন্ত্র্য প্রজাতিগুলির মধ্যে রয়েছে ইউরোপেল্টিডি নামে এক সর্পপ্রজাতি যা কেবল পশ্চিমঘাট ও শ্রীলঙ্কায় পাওয়া যায়। ক্রেটাসিয়াস ফসিল টাক্সা থেকে সেসেলিস ও মাদাগাস্কার দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে ভারতের সংযোগের বিষয়টি অনুমান করা হয়।[২]

ভারতের আয়তনের মাত্র ৫% সংরক্ষিত অঞ্চলের আওতাভুক্ত।

ভারতে বিভিন্ন ধরনের বৃহদাকার স্তন্যপায়ী প্রাণী দেখা যায়। যেমন, এশীয় হাতি, বেঙ্গল টাইগার, এশীয় সিংহ, চিতাবাঘভারতীয় গণ্ডার। এগুলি কোনো কোনোটি সাংস্কৃতিক প্রতীক; আবার দেবদেবীর বাহন রূপেও কল্পিত। এই সব বৃহদাকার স্তন্যপায়ীরা ভারতের বন পর্যটনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এইকারণে দেশে বহু জাতীয় উদ্যান ও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছে। এই সব সুন্দর প্রাণীদের সংরক্ষণের ধারণাটিও দেশে গভীরভাবে বলবৎ। জাতীয় পশু বাংলা বাঘ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭২ সালে দেশে বাঘ ও বাঘের বাসস্থান সংরক্ষণের লক্ষ্যে ব্যাঘ্র প্রকল্প চালু হয়।[৩] হাতি সংরক্ষণের অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত হস্তী প্রকল্প চালু হয় ১৯৯২ সালে।[৪] ভারতের অধিকাংশ গণ্ডারই আজ বাস করে কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানে। অপরাপর বৃহদাকার ভারতীয় স্তন্যপায়ীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জলহস্তী, নীলগাই, গৌর ও বিভিন্ন ধরনের হরিণ। সারমেয় পরিবারের বিভিন্ন ভারতীয় সদস্যরা হল ভারতীয় নেকড়ে, বাংলা শিয়াল, সোনালি খ্যাঁকশিয়াল, ও বুনো কুকুর। এছাড়া চিতল হায়নাও পাওয়া যায়। ছোটো প্রাণীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির বাঁদর দেখা যায়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.teriin.org/biodiv/hotspot.htm
  2. Jean-Claude Rage (2003) Relationships of the Malagasy fauna during the Late Cretaceous: Northern or Southern routes? Acta Paleontologica Polonica 48(4):661-662 PDF
  3. Project Tiger Accessed Feb, 2007
  4. Project Elephant Accessed Feb, 2007

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]