ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মণ্ডী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি মান্ডি (আইআইটি মান্ডি) হিমাচল প্রদেশ এর মান্ডি জেলায় অবস্থিত একটি পাবলিক টেকনিক্যাল এবং গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়।

২০০৯ সালের জুলাইয়ে ৯৭ জন শিক্ষার্থীর প্রথম ব্যাচ নিয়ে এর কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে আইআইটি মান্ডিতে বর্তমানে ১২৫ টি অনুষদ, ১৬৫৫ জন শিক্ষার্থী (বিভিন্ন স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং গবেষণা প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছেন) রয়েছে এবং ১১৪১ জন প্রাক্তন ছাত্র এখান থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছে। ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইআইটি মান্ডি ২৭৫ টিরও বেশি গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে জড়িত হয়েছে যাতে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। গত দশ বছরে, ইনস্টিটিউট ১১ টি আন্তর্জাতিক এবং ১২ টি[১]জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

২০১২ সালের ডিসেম্বরের সাউথ ক্যাম্পাসের নির্মান কাজ।

ভারতীয় প্রযুক্তি সংস্থান মাণ্ডির স্থায়ী প্রাঙ্গন (মাণ্ডি শহর থেকে ১৪ কি.মি.) দূরে উহল নদীর পূর্ব তট, কমান্ড ও সালগি গ্রামে অবস্থিত | অধ্যাপক টিমোথি এ. গনসালভেস এই সংস্থানের প্রতিষ্ঠাতা নির্দেশক [২] (কর্মকাল: ১৫/১/২০১০-৩০/৬/২০২০) এবং আর.সি. শাহনি প্রথম নিয়ামক | ভারতীয় প্রযুক্তি সংস্থান রুড়কীর বর্তমান নির্দেশক অধ্যাপক অজিত কুমার চতুর্বেদী ১/৭/২০২০ থেকে এই সংস্থানের ভারপ্রাপ্ত নির্দেশক |

ভারত সরকারের মানব উন্নয়ন মন্ত্রক ২০০৮ সালে যে আটটি ভারতীয় প্রযুক্তি সংস্থান স্থাপন করেছিল তার মধ্যে আই. আই . টি মাণ্ডি অন্যতম | ২০১১ সালের ভারতীয় সংস্থান (পরিবর্তিত ) আইন এই আটটি আই. আই . টি সেই সঙ্গে প্রযুক্তি সংস্থান, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়কে আই. আই . টি র মর্যাদায় উন্নীত করে | এই আইন ২৪শে মার্চ ২০১১ লোক সভায় এবং ৩০শে এপ্রিল ২০১১ রাজ্য সভায় অনুমোদিত হয় | আই. আই . টি মাণ্ডি কে প্রাথমিক ভাবে আই. আই . টি রুড়কী পরিচালিত করে, এবং ছাত্রদের প্রথম ব্যাচ আই. আই . টি রুড়কী তে পঠন-পাঠন আরম্ভ করে |

২৪শে ফেব্রুয়ারী ২০০৯ সংস্থানের শিলান্যাস হয় | ২০শে জুন ২০০৯ এ আই. আই. টি মণ্ডি উত্তরাখণ্ডের একটি সংস্থারূপে নথিভুক্ত হয় | কাক্ষিক পাঠন ২৭শে জুলাই ২০০৯ এ পরিচালক আই. আই. টি, আই. আই. টি রুড়কী তে সূচিত হয় | ১৬ই নভেম্বর ২০০৯এ হিমাচল প্রদেশ সরকার, সরকারী স্নাতকোত্তর মহাবিদ্যালয়কে অস্থায়ী প্রাঙ্গন হিসেবে আই. আই. টি মণ্ডি কে হস্তান্তরিত করে |

১২ই এপ্রিল ২০১২ এ কামাণ্ডের প্রাঙ্গনে ভূমি পূজার মাধ্যমে নির্মাণকার্য সূচিত হয় | ২৫শে এপ্রিল ২০১৫ এ আই. আই. টি মণ্ডি নবপ্রতিষ্ঠিত আই. আই. টি গুলির মধ্যে সর্বপ্রথম স্থায়ী প্রাঙ্গনে স্নাতক ছাত্র ছাত্রীদের স্থানান্তরিত করে |

প্রাঙ্গন[সম্পাদনা]

২০০৯ সাল থেকে পথ শুরু করে, আই. আই. টি মন্ডি দিল্লি থেকে ৪৬০ কি. মি. দূরে ৫১০ একর তৃণভূমিতে হিমালয়ের সুনির্মল প্রেক্ষাপটে চ্যালেঞ্জপূর্ণ বাতাবরণে দৃষ্টান্তমূলক দ্রুত অগ্রগতির পথে অগ্রসর হয়ে এক অসাধারণ ও অভূতপূর্ব প্রাঙ্গন স্থাপিত হয়েছে | অভ্যন্তরীণ ভাবে প্রাঙ্গনটি দুই ভাগে বিভক্ত যথা উত্তর ও দক্ষিণ প্রাঙ্গন | দুই প্রাঙ্গনের মধ্যে শিক্ষক, ছাত্র ও অশিক্ষক কর্মচারীবৃন্দের যোগাযোগ সুবিদার্থে সংস্থার কর্তৃপক্ষ দ্বারা পরিচালিত বিশেষ যান চলাচল আদি বিশেষ যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে |

সংস্থায় ক্রীড়া ও পাঠ্যক্রম বহিৰ্ভূত বিভিন্ন ক্রিয়াকালাপকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় | পূর্বনির্মিত অন্দর ব্যাডমিন্টন কোর্ট, সুইমিং পুল, টেবিল টেনিস, ফুটবল ও ক্রিকেট প্রাঙ্গন ও জিমন্যাসিয়াম ছাড়াও সংস্থা বর্তমানে একটি প্যাভিলিয়ন, কিয়স্বযুক্ত হকি প্রাঙ্গন, নতুন টেনিস, ভলি বল ও বাস্কেট বল কোর্ট নির্মাণ করছে | সংস্থার দক্ষিণ প্রাঙ্গনে বর্তমানে একটি চিকিৎসালয় রয়েছে এবং উত্তর প্রাঙ্গনে তিন মেডিকেল অফিসার, একজন চক্ষু কর্ণ গলা বিশেষজ্ঞ, একজন শিশু চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, যুক্ত স্বাস্থকেন্দ্র রয়েছে | স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একটি প্রসেডিউর রুম, ক্ষুদ্র অপারেশন থিয়েটার ও ফিজিওথেরাফি সেন্টার ও রয়েছে |

সংস্থার প্রাঙ্গনে প্রাঙ্গনবাসীর সুবিদার্থে বিভিন্ন আনুষঙ্গিক পরিসেবা যথা ক্রেচ, স্থানীয় উদ্ভিদ যুক্ত উদ্ভিত উদ্যান, শিশু ক্রীড়াঙ্গন, মুদি দোকান, বিদ্যালয়, ক্যান্টিন, ক্যাফে, ব্যাঙ্ক ও এ. টি. এম এর ব্যবস্থাও রয়েছে, উত্তর ও দক্ষিণ প্রাঙ্গনে গ্রন্থালয় ও বুক-নুক ও আছে | আই. আই. টি মন্ডি আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য একটি মিলনায়তনও রয়েছে |

প্রযুক্তিগতভাবে বর্ধিত পরিষেবা[সম্পাদনা]

আই. আই. টি মণ্ডির নির্মাণ ও রক্ষাণাবেক্ষণ বিভাগ সংস্থার ছাত্রদ্বারা নির্মিত একটি ওয়েবনির্ভর প্রকল্প ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ব্যবহার করে | এই বিভাগ একটি অনলাইন টিকিট পরিষেবা ব্যবহার করে রক্ষাণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনার জন্য | সংস্থায় উন্নত তথ্য প্রযুক্তি পরিকাঠামো স্থাপিত হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে ১ জি. বি. পি. এস অপটিক্যাল ফাইবার পরিচালিত উচ্চ গতির ইন্টারনেট পরিষেবা, এবং ২০০ র অধিক ওয়্যারলেস এক্সেস পয়েন্ট |

সংস্থায় একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কম্পিউটিং পরিষেবা স্থাপিত হয়েছে যার মধ্যে ৩০০০ সি. পি. ইউ বিশিষ্ট ১৬০ টি কম্পিউটিং নোড রয়েছে এবং পরিষেবা ক্রমবর্ধ্বমান | আগামী দিনে এডুরোম পরিষেবার পরিকল্পনাও রয়েছে, যে বিশ্বব্যাপী পরিষেবার সহযোগে, অংশগ্রহণকারী সংস্থার ছাত্র-ছাত্রী, গবেষক ও কর্মচারীবৃন্দ ইন্টারনেট পরিষেবার সুযোগ পাবে অংশগ্রহণকারী যে কোনো সংস্থার প্রাঙ্গন থেকে | এ ছাড়াও ইউনিফাইড থ্রেট ম্যানেজমেন্ট পরিকাঠামো, দুর্যোগ পুনরুদ্ধার ওয়েবসাইট ও ইন্টারনেট পরিষেবাকে ১০ জি. বি. পি. এস গতিবেগের পরিকাঠামোতে উন্নত করার পরিকল্পনাও রয়েছে | আই. আই. টি মন্ডি তে ন্যাশনাল নলেজ নেটওয়ার্ক পরিষেবা স্থাপিত হয়েছে | একাডেমিক ব্লকগুলিতে প্রশস্ত ক্লাসরুম রয়েছে যার ক্যাপাসিটি ৩০ থেকে ৩০০ ছাত্র-ছাত্রী পর্যন্ত |

সংস্থায় একটি প্রধান গ্রন্থালয় আছে যার মধ্যে ১৮,৯৪৮ পুস্তক রয়েছে | এ ছাড়াও একটি স্বয়ংক্রিয় আর. এফ. আই.ডি পরিচালিত উপপ্রধান গ্রন্থালয় রয়েছে যার সহযোগ ছাত্র -ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীবৃন্দ ২০,০০০ অনলাইন পাঠ্য বস্তুর সুবিধা পেয়ে থাকেন | ভবিষ্যতে একটি ২৫০ ক্যাপাসিটির ভার্চুয়াল ক্লাসরুম ও প্রফেশনাল রেকর্ডিং ষ্টুডিও এবং তিনটি সম্মেলন কক্ষ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে |

পরিবেশপ্রেমী ক্রিয়াকলাপ[সম্পাদনা]

প্রাঙ্গন এ বর্জ পদার্থের ব্যবস্থাপনা দক্ষতার সাথে উচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয় | প্রাঙ্গন নিবাসীর সহযোগিতায় উৎস থেকেই বর্জ পদার্থ জৈব পচনশীল ও অপচনশীল পদার্থ পৃথক করা হয় | জৈব পচনশীল পদার্থের পচন প্রক্রিয়ার জন্য ১৫০ কে. জি. পদার্থ বহন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি জৈব গ্যাস জেনারেটার স্থাপন করা হয়েছে | নর্দমার জল পরিশোধনকারী প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে, যার সহযোগে প্রাঙ্গনে উৎপন্ন বর্জ জলীয় পদার্থ পুনর্ব্যবহার অথবা স্রাবের পূর্বে পরিশোধিত হয় | বিশেষ প্রচেষ্টার সাথে স্থানীয় উদ্ভিদ ও প্রাণী চিহ্নিত করা হয় | এবং প্রকৃতির সাথে সাদৃশ্য বজায় রেখে প্রাঙ্গনের উন্নতি সাধন করা হয় | ভবিষ্যতে বর্জ জলীয় পদার্থের পরিশোধন ও পুনর্ব্যবহার, উদ্ভিদ নার্সারী, উন্নত বর্জ পদার্থ পৃথকীকরণ এবং প্রাঙ্গনে কম্পোস্ট প্রস্তুত করার পরিকল্পনাও রয়েছে |

দক্ষিণ প্রাঙ্গন[সম্পাদনা]

নবনির্মিত আই. আই. টি গুলোর মধ্যে আই. আই. টি মন্ডি প্রথম স্থায়ী প্রাঙ্গন অধ্যয়ন ও আবাসন বিশায়াক ব্যবস্থা স্থায়ী প্রাঙ্গনে স্থানান্তরিত করে | আই. আই. টি মন্ডির ক্ষেত্রের আয়তন মোট ৫১০ একর, যার মধ্যে টো০ একর সমতল-ভূমি এবং বাকিটা পার্বত্য-ভূমি | কেন্দ্রীয় গণপূর্ত বিভাগ এবং ন্যাশনাল বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন লিমিটেড কর্তৃক বিল্ডিং নির্মিত হয় |

২৯শে অক্টোবর ২০১৬ সালে দক্ষিণ প্রাঙ্গনে শিক্ষক ও কর্মীবৃন্দ একটি বিনোদন কেন্দ্র স্থাপিত হয় | প্রাঙ্গনের প্রধান পরিকল্পনা ইতিমধ্যে প্রস্তুত হয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে ৫০০০ ছাত্র, ৬০০ শিক্ষক এবং সেই সঙ্গে অশিক্ষক কর্মীবৃন্দের জন্য প্রাঙ্গনটি নির্মিত হবে |

ভবিষ্যতে দক্ষিণ প্রাঙ্গনে গবেষনা সংক্রান্ত ক্রিয়াকলাপের পরিকল্পনা রয়েছে | দক্ষিণ প্রাঙ্গনের কিছু বিল্ডিং হল:

আবাসন[সম্পাদনা]

  1. প্রসার: ছাত্র আবাস
  2. নাকো: ছাত্র আবাস
  3. সুবলসার: ছাত্র আবাস
  4. চন্দ্রতাল: ছাত্রী আবাস
  5. শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী আবাসন: কিছু শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীবৃন্দের আবাসন দক্ষিণ প্রাঙ্গনে স্থাপিত হয়েছে |

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Life at IIT Mandi: 7 reasons to choose the institute in the lap of the Himalayas"। India Today। ৮ অক্টোবর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০২০ 
  2. । India Today। ৮ অক্টোবর ২০২০ http://www.collegekhabar.com/college/view/IIT-MANDIs। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুন ২০২১  |শিরোনাম= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)