বিষয়বস্তুতে চলুন

ভানুভক্ত রামায়ণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ভানুভক্ত রামায়ণ
চিত্র:Bhanubhakta-ramayan.jpg
লেখকভানুভক্ত আচার্য
মূল শিরোনামभानुभक्तको रामायण
প্রকাশনার স্থাননেপাল
ভাষানেপালি
ধরনপৌরাণিক, ধর্মীয়
প্রকাশকসাঝা প্রকাশন
প্রকাশনার তারিখ
১৮৮৭
পৃষ্ঠাসংখ্যা২৫৬
আইএসবিএন ৯৭৮৯৯৯৩৩২৫৯৭০

ভানুভক্ত রামায়ণ (নেপালি: भानुभक्त रामायण) হলো নেপালি ভাষায় আদিকবি ভানুভক্ত আচার্য কর্তৃক প্রকাশিত বাল্মীকি রামায়ণের অনুবাদ।[] সাধারণভাবে রামায়ণ নামে পরিচিত এই গ্রন্থটি ভানুভক্তের মৃত্যুর পর ১৮৮৭ সালে প্রথম পূর্ণাঙ্গরূপে প্রকাশিত হয়। একে অধিকাংশ পণ্ডিত নেপালি ভাষার প্রথম মহাকাব্য বলে গণ্য করে থাকেন। সম্পূর্ণভাবে নেপালি ভাষায় প্রথম মহাকাব্য হওয়ার কারণে এর ছন্দকে "ভানুভক্তীয় লয়" বলা হয়ে থাকে[] এবং এই কারণে ভানুভক্ত আচার্যকে নেপালে "আদিকবি" বলে আখ্যা দেওয়া হয়ে থাকে।

প্রেক্ষাপট

[সম্পাদনা]

নেপালে হিন্দুধর্মকে সাধারণের নিকটবর্তী করতে এই মহাকাব্যটি অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা রাখে। হিন্দু ইতিহাসের দুইটি মহাগ্রন্থের অন্যতম একটি গ্রন্থ জনসাধারণের নিজস্ব ভাষা নেপালিতে রচিত হওয়ার কারণে এর পবিত্র বাণী পাঠ ও বর্ণনায় পুরোহিতকেন্দ্রিক ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রভাব ক্ষুণ্ণ হতে থাকে।[][] অন্যদিকে কেউ কেউ নেপালে অন্যান্য ভাষার উপরে নেপালি ভাষা ও সাহিত্যের প্রভাব বিস্তারের সূচনায় এই মহাকাব্যের ভূমিকার জন্য এর সমালোচনা করেন।[]

নেপালের বাইরেও (বিশেষ করে দার্জিলিংয়ে) জাতিগত নেপালিদের মাঝে এই গ্রন্থ এবং কবি ভানুভক্তকে অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখা হয়। এছাড়াও প্রথম মহাকাব্য হিসেবে এই গ্রন্থের মাধ্যমে নেপালি ভাষায় "শার্দুলবিক্রীডিত ছন্দ" প্রভাবশালী মাত্রা হিসেবে আবির্ভূত হয়।

লেখনি ও প্রকাশনার ইতিহাস

[সম্পাদনা]

ভানুভক্ত রামায়ণ মূলত বাল্মীকি রামায়ণেরই নেপালি অনুবাদ। ভানুভক্ত কিছু কিছু ক্ষেত্রে মূল গল্পকে অপরিবর্তিত রেখে নিজস্ব কিছু উপাদান যুক্ত করেছেন। তিনি ১৮৪৪ সালের মধ্যে "বালকাণ্ড" অনুবাদ করতে সক্ষম হন। এরপর ১৮৫৩ সাল নাগাদ "যুদ্ধকাণ্ড" ও "উত্তরকাণ্ড" অনুবাদ শেষ করে। ভানুভক্ত ১৮৬৯ সালে মৃত্যুবরণ করার পর ১৮৮৪ সালে মতীরাম ভট্ট ভানুভক্তের অনূদিত বালকাণ্ড প্রকাশ করেন এবং ১৮৮৭ সালে ভানুভক্ত অনূদিত সম্পূর্ণ রামায়ণ প্রকাশিত হয়।

অভিযোজন

[সম্পাদনা]

ভানুভক্ত রামায়ণ ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।[] ১৯৯০-এর দশকে রেডিও নেপালে প্রতিদিন ভোরে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে এই মহাকাব্যের অডিও টেপ সম্প্রচার করা হতো। একই সময় নাগাদ মিউজিক নেপাল এই গ্রন্থ পাঠের অডিও ক্যাসেট বাজারে প্রকাশ করে। এই মহাকাব্যের বিভিন্ন পঙ্‌ক্তি নিজস্ব গুণে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাব্য হিসেবে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং নেপালি ভাষা ও সাহিত্যের পাঠ্যবইয়ে এগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. অধিকারী, ধ্রুব এইচ। "A Nepali Ramayana For English Readers"দ্য রাইজিং নেপাল (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০২৩
  2. 1 2 "English translation of Bhanubhakta's 'Ramayana' released"বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (ইংরেজি ভাষায়)। প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া। ২৭ জুন ২০১৬। ৪ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০১৯
  3. "A people's history"কাঠমান্ডু পোস্ট (ইংরেজি ভাষায়)। ৩ জুলাই ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০১৯
  4. 1 2 "The democratization of the Nepali language"কাঠমান্ডু পোস্ট (ইংরেজি ভাষায়)। ২৪ জুন ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০১৯