ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর

ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর(৬ ফেব্ররুয়ারি ১৮৭৪ - জানুয়ারি ১, ১৯৩৭) গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্ম ধর্মীয় নেতা, গুরু ও গৌড়ীয় মঠ এর প্রতিষ্ঠাতা । তার আসল নাম "বিমলা প্রসাদ দত্ত"।[১] কৃষ্ণ ভক্তিমূলক উপাসনার কর্তা সরস্বতী গোস্বামী এই মত প্রকাশকারীদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় নাম। তার কাছ থেকে অনুপ্রেরণা এবং আশীর্বাদ পেয়ে অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ পুরো বিশ্বে ইসকনএর শাখায় লাখ লাখ মানুষের দ্বারা হিন্দু ধর্ম গ্রহণ ও ভগবান কৃষ্ণের একনিষ্ঠ ভক্ত তৈরি সম্ভব হয়েছিল ।তিনি বিংশ শতাব্দীর শুরুতে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বাণী জোরালোভাবে প্রচার করেছিলেন। তিনি জাতিভেদ এবং অ-ব্যক্তিসত্ত্বার বদ্ধমূল প্রভাবের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রচার চালিয়েছিলেন। বিজ্ঞান হিসেবে কৃষ্ণভাবনার উচ্চমূল্য প্রদান হেতু পণ্ডিত, শিক্ষক এবং অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে বৈঠকপূর্বক এবং ১০৮ টি রচনা ও গ্রন্থ লিখে তিনি  সংগ্রাম করেছিলেন। তিনি ভারতের অভ্যন্তরে ও বাইরে ৬৪ টি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা গৌড়ীয় মঠ নামে পরিচিত।

জীবন[সম্পাদনা]

১৮৭৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ভক্তি বিনোদ ঠাকুর (কেদারনাথ দত্ত ) ও ভগবতী দেবীর পুত্র হিসাবে চৈতন্য মহাপ্রভুর শিষ্য মহান বৈষ্ণব আচার্য পুরীতে জন্মগ্রহণ করেন।[২] গৌড়ীয় সম্প্রদায়ের আচার্য বাবার কাছ থেকে কৃষ্ণ ভক্তি পেয়েছিলেন।[৩] ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর স্বভাবতই অত্যন্ত মেধাবী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি কোন সাধারণ ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন শুদ্ধ ভক্ত। ভক্তিবিনোদ ঠাকুর তাঁকে সুন্দরভাবে পরিচালিত করেন, প্রশিক্ষিত করেন এবং গড়ে তোলেন। যখন তাঁর বয়স মাত্র ৬ বছর তখন ভক্তিবিনোদ ঠাকুর তাঁকে নৃসিংহ মন্ত্র প্রদান করেন। যখন তার বয়স আট, তখন কূর্মদেবের পূজার্চনা পদ্ধতি শেখান, কূর্ম মন্ত্র প্রদান করেন।ভগবত গীতা ও চৈতন্য মহাপ্রভুর পবিত্র জীবন চরিত্র তাকে কৃষ্ণ ভক্তি ছড়িয়ে দিতে উৎসাহ দিয়েছিল। ।

১৮৮৫ সনে তাঁর লিখিত গ্রন্থসমূহ প্রকাশনার জন্য একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। ১১ বছর বয়সে ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর তাঁর রচনাসমূহ সম্পাদনা করতেন। সেই ১১ বছর বয়সেই তিনি সম্পাদনা, ভুল সংশোধন এবং সেই অপ্রাকৃত গ্রন্থসমূহ ছাপানোর কাজে তাঁর পিতা ভক্তিবিনোদ ঠাকুরকে সাহায্য করতে শুরু করলেন। ১৯৮১ সনে ১৭ বছর বয়সে তিনি ‘‘দি অগাস্ট এ্যাসেম্বলী’’ নামক একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। অগাস্ট এ্যাসেম্বলীর উদ্দেশ্য ছিল তরুণ কিশোরদের একত্রিত করা যাতে তারা আজীবন ব্রহ্মচর্য অবলম্বন করতে পারে।তিনি যুবক অবস্থাতেই ইংরেজিবাংলাতে কার্যকরী বক্তা ছিলেন। তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে তার বক্তৃতা শুনে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যেত। [২] তিনি দক্ষিণেশ্বর মন্দির যেতেন ও প্রায়ই রামকৃষ্ণ পরমহংসস্বামী বিবেকানন্দ এর ধর্মতত্ত্ব নিয়ে কথা বলতেন। তিনি সেই ব্রহ্মচারীদের সমাবেশ তথা অগাস্ট এ্যাসেম্বলী শুরু করেছিলেন কিন্তু কেবলমাত্র একজনই সমগ্রজীবন ব্রহ্মচর্য পালনের প্রতিজ্ঞা পালনে সক্ষম হয়েছিলেন, তিনি হলেন ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর। ১৭ বছর বয়সে অগাস্ট এ্যাসেম্বলী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি ব্রহ্মচর্য ব্রত পালনের যে সংকল্প করেছিলেন তা তিনি সমগ্রজীবনব্যাপি পালন করেছিলেন।তার পরের বছরই ভক্তিবিনোদ ঠাকুর “সেবানন্দ সুখদা কুঞ্জ” প্রতিষ্ঠা করেন যা ছিল তাঁর বাসস্থান এবং ভজন কুঠির। এটি ছিল অত্যন্ত সুন্দর আবাসগৃহ। ১৮৯৮ সনে ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর শ্রীল গৌরকিশোর দাস বাবাজী মহারাজের সাক্ষাৎ লাভ করেন। তিনি তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিত্বে আকৃষ্ট হন। ১৯০০ সনে বহু প্রচেষ্টা এবং অনেক বাধারপরীক্ষা অতিক্রম করে তিনি শ্রীল গৌরকিশোর দাস বাবাজী মহারাজের নিকট দীক্ষা প্রাপ্ত হন।গৌর কিশোর দাস বাবাজী কোন শিষ্য গ্রহণ করতে চাননি। কিন্তু শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর তাকে দীক্ষা প্রদান করতে বাধ্য করেছিলেন। ১৯০৫ তিনি শতকোটি হরিনাম জপের আরেকটি মহা সংকল্প গ্রহণ করেন। শত কোটি নাম যজ্ঞ। সে যজ্ঞ সম্পাদন কল্পে তাকে তিন লক্ষ নাম জপ করতে হয়েছিল। অর্থাৎ তাকে দশ বছর পর্যন্ত প্রতিদিন অন্তত ৬৪*৩ = ১৯২ মালা জপ করতে হয়েছিল। সেসময় মায়াপুরে কিছুই ছিল না, তার নাম জপের যে সংকল্প তিনি এই মায়াপুরেই সম্পাদন করতে চেয়েছিলেন। তখন এখানে কিছুই ছিল না। তিনি গঙ্গার তীরে একটি ছোট্ট কুঠিরে থাকতেন। বর্ষার সময় যখন বৃষ্টি হতো তখন সেখানে জল চুয়ে চুয়ে পড়ত অথবা ছাদ বেয়ে ভেতরে জল গড়িয়ে পড়ত। তিনি একটি ছাতা নিয়ে বসে থাকতেন এবং হরিনাম জপ করতেন। তারপর ১৯১৮ সাল থেকে, তিনি তার প্রচারের মিশন শুরু করেন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন নবদ্বীপের মায়াপুরে থেকে যাবেন এবং কলকাতায় গিয়ে প্রচার শুরু করবেন সারাবিশ্বকে কৃষ্ণভাবনার জোয়ারে প্লাবিত করতে। তিনি কলকাতা গিয়েছিলেন, আমি শুনেছি যে, যখন তিনি কলকাতা যাওয়ার ইচ্ছা পোষন করেন, তখন গৌর কিশোর দাস বাবাজী মহারাজ কিছুটা উদ্বিগ্ন হন। তিনি বলেছিলেন, “না, কলকাতায় যেও না, সেটি কলির আস্থানা।’ তখন ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর বলেছিলেন, “আপনার শ্রী পাদপদ্ম আমার মস্তকে ধারণ করে, আমি কলির যে কোনো আক্রমণ প্রতিহত করতে পারব এবং এভাবে তিনি কলি বা কলির প্রভাবকে সম্পূর্ণরূপে বিনাশ করব।” এভাবে তিনি তার প্রচার মিশনে অগ্রসর হয়েছিলেন। ইতোমধ্যে, গৌরকিশোর দাস বাবাজী মহারাজ এবং ভক্তিবিনোদ ঠাকুর উভয়ই প্রকট হলেন, ভক্তবিনোদ ঠাকুর অপ্রকট হন ১৯১৪ সালে এবং গৌরকিশোর দাস বাবাজী মহারাজ অপ্রকট হন ১৯১৫ সালে ১৯১৮ সালে, শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর তার প্রচার আন্দোলন শুরু করেন। তিনি কলকাতায় যান। আপনারা সবাই জানেন যে, তার প্রথম মঠ বা প্রচার কেন্দ্র স্থাপিত হয় এক উল্টোদঙ্গ প্রধান সড়কে। যেখানে শ্রীল প্রভুপাদ ১৯২২ সালে তার সাথে সাক্ষাত করেছিলেন। সেসময় ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর শ্রীল প্রভুপাদকে তার প্রথম নির্দেশ প্রদানের মাধ্যমে উজ্জীবিত করেছিলেন। “শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা ইংরেজি ভাষায় সারাবিশ্বে প্রচার কর”, এই ছিল তার নির্দেশ। তখন প্রভুপাদের বয়স ছিল ২৬ বছর। তিনি ছিলেন একজন গৃহস্থ এবং তার একটি পুত্র সন্তান ছিল। কিন্তু এখানেও আমরা আরেকটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত লক্ষ্য করব। প্রথম সাক্ষাতে দেওয়া তার প্রথম নির্দেশেই শ্রীল প্রভুপাদের সমগ্র জীবনের আমূল পরিবর্তন ঘটে যায়। শ্রীল প্রভুপাদ তার চাকুরী এবং অন্যান্য কর্তব্য পরিত্যাগ করে। সারা বিশ্বে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারে ব্রতী হন। যদিও দৃশ্যত প্রভুপাদ সে সময় তার ব্যবসা চালিয়ে যান, কিন্তু তা সত্ত্বেও তার হৃদয় ছিল শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা প্রচারের জন্য দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর এভাবে ১৯১৮ সালে তার প্রচার মিশন শুরু করেছিলেন। তিনি ১৯১৩ সাল পর্যন্ত খুব সুন্দরভাবে কৃষ্ণভাবনা প্রচার করেন। ভারতজুড়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ৬৪টি মঠ এবং সে সময়ের কাছ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তিনি প্রভাবিত করেন। তিনি তাদেরকে আকর্ষন করতেন। তিনি কৃষ্ণভাবনা প্রচারের এক বিশেষ ও অদ্বিতীয় পন্থার সূচনা করেছিলেন। কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের এই নীল নকশাটি প্রদান করেছিলেন ভক্তিবিনোদ ঠাকুর। প্রচার আন্দোলনের ক্ষেত্রে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মূল লক্ষ্যটি ছিল: কৃষ্ণভাবনাকে প্রতিষ্ঠা করা এবং এই কলিযুগে অধর্মের প্রভাব চিরতরে নির্মূল করা। অতএব আমরা দেখি যে, ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর সংকীর্তন আন্দোলনের ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন মাত্রা সংযোজন করেছিলেন। সাধারণভাবে সংকীর্তনের অর্থ হল সম্মিলিত কীর্তন। কিন্তু এখানে তার সংকীর্তন আন্দোলন মানে ছিল গ্রন্থ ছাপানো এবং বিতরণ। এই সংর্কীন আন্দোলনে মৃদঙ্গ হল বৃহৎমৃদঙ্গ। কৃষ্ণভাবনা প্রচারের ক্ষেত্রে তার সংযোজিত এই নতুন মাত্রাটি ছিল অদ্বিতীয়। শুধু তাই নয়, তিনি আরেকটি অত্যন্ত অদ্বিতীয় একটি মাত্রা প্রদান করে গেছেন। প্রথমদিকে তিনি উল্টাদঙ্গ প্রধান সড়কে একটি দো-তলা ঘরে থাকতেন। তখন কিছু ধনী লোক তার প্রচারে আকর্ষিত হয়ে নিজেদেরকে তার কাছে উৎসর্গ করেছিলেন। তাদের একজন বাগবাজারে একটি বড় মন্দির তৈরি করেন। তাই তিনি উল্টাডাঙ্গা থেকে বাগবাজার গৌড়ীয় মঠে প্রস্থান করেন সেখানে বিগ্রহ অভিষেকের সময় তিনি একটি গান গেয়েছিলেন। গানটি ছিল এরকম :

পুজালা রাগ-পঠ গৌরব ভঙ্গে মতাাল সাধু-জন বিশ্ব-রঙ্গে।

‘গৌরব’ অর্থ শ্রদ্ধা এবং ভক্তি।

‘গৌরব ভঙ্গে’ অর্থ শ্রদ্ধা ও ভক্তির এই পন্থা পরিত্যাগ করে রাগ-মার্গ গ্রহণ করা। রাগ-মার্গ পূজিত এবং প্রতিষ্ঠিত। তার ফল সাধু ব্যক্তিদান বিশ্ব রঙ্গে যিুক্ত হয়েছেন। যা দৃশ্যত জড় কার্যকলাপ বলে প্রতিভাত হয়।


শ্রীল প্রভুপাদ কৃষ্ণভাবনা প্রচারের উদ্দেশ্য মাইক্রোফোন, টেলিফোন, টেপ রেকর্ডার, কম্পিউটার, এরোপ্ল্যান সহ আরো অনেককিছুকে নিয়োজিত করেছিলেন। প্রভুপাদ এমনকি বলেছিলেন যে,

যদি প্রয়োজন হয় কৃষ্ণভাবনা বিস্তৃত করার জন্য আমরা পারমাণবিক বোমা পর্যন্ত ব্যবহার করতে প্রস্তুত (হাসি !)।


শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর, মহাপ্রভুর সংকীর্তন আন্দোলনের প্রকৃত উদ্দেশ্যটি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন এবং অত্যন্ত যথাযথভাবে শ্রীল প্রভুপাদ সেটিকে বহন করেছিলেন এবং সারাবিশ্বে তা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

১৯৩৬ সালের ১লা জানুয়ারি ভোরে ৫ টা ৩০ মিনিটে তিনি পরলোক গমন করেন।

শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের উদ্ধৃতিসমূহ[সম্পাদনা]

১. শিক্ষাষ্টকমে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা – ‘পরম বিজয়তে শ্রীকৃষ্ণসংকীর্তনম্’ গৌড়ীয় মঠের একমাত্র নীতিবাক্য।

২. পরম পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণ একমাত্র ভোক্তা। প্রত্যেকে এবং সবিকিছুই তাঁর ভোগ্যবস্তু।

৩. যে পরমেশ্বর ভগবানের আরাধনা করেন না, সে অজ্ঞ এবং আত্মহন্তা।

৪. সহ্য করার শিক্ষা লাভ করা মঠে অবস্থানকৃত ব্যক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

৫. রুপানুগ ভক্তগণ তাঁদের নিজ শক্তিমত্তায় নির্ভর করার পরিবর্তে আদি উৎসকে সব প্রশংসা নিবেদন করেন।

৬. যারা হরেক রকম (পাঁচমিশালী) ধর্মীয় আচরণবিধির অনুষ্ঠান করে, তারা পরমেশ্বর ভগবানের প্রতি সেবা অনুষ্ঠান করতে পারে না।

৭. একটি অভীষ্ট লক্ষ্যে একত্রিত হও এবং শ্রীহরির সেবা সম্পাদন কর।

৮. যেখানে শ্রীহরি সম্পর্কিত আলোচনা হয়, সেটি তীর্থস্থানে পরিণত হয়।

৯. আমরা পুণ্যবান বা পাপী অথবা বিদ্বান বা মূর্খ নই, আমরা পরমেশ্বর ভগবান শ্রীহরির পদরেণুর বাহক এবং আমরা ‘কীর্তনিয়া সদা হরিঃ’ মন্ত্রে দীক্ষিত।

১০. আমার উপদেশ হচ্ছে – অন্যদের সমালোচনা করো না। নিজেকে শোধরানোর চেষ্টা করো।

১১. আমাদের পরম দায়িত্ব হচ্ছে ব্রজবাসীদের সেবা করা যারা শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবন ছেড়ে মথুরা যাত্রায় ব্যথিত হয়েছিলেন।

১২. একজন শুদ্ধ ভক্ত জানেন যে প্রত্যেকেই আধ্যাত্মিক গুরু, যার ফলে একজন শুদ্ধভক্ত জগদ্গুরু হতে পারেন।

১৩. যদি আমরা সত্য প্রকৃষ্টতার পথ অনুসরণ করতে চাই, মানুষের অগণিত মতামতকে আমাদের বর্জন করতে হবে এবং শুধুমাত্র বেদবাণী শ্রবণ করতে হবে।

১৪. মঙ্গলকর যেকোন কিছুই আকাঙ্ক্ষিত।

১৫. একজন অন্তরঙ্গ ভক্তের শ্রীল রূপ গোস্বামীর অনুসারীদের সেবা করা ব্যতীত অন্য কোনো বাসনা থাকে না।

১৬. শ্রবণ ব্যতীত চিন্ময় সম্বন্ধের অন্য আর উপায় নেই।

১৭. যত শীঘ্র আমরা রক্ষাকর্তার আশ্রয় হারাব, আমাদের চারদিকের সবকিছু আমাদের শত্রু হয়ে যাবে এবং আমাদের আক্রমণ করবে। তত্ত্বদ্রষ্টা সাধু কর্তৃক উচ্চারিত কৃষ্ণ-সম্বন্ধীয় আলোচনাই একমাত্র রক্ষক।

১৮. একজন চাটুকার কখনই একজন গুরু বা প্রচারক হতে পারে না।

১৯. প্রতারক হওয়ার চেয়ে পশু, পাখি, কীটপতঙ্গ প্রভৃতি লক্ষ প্রজাতিতে অবস্থান করা শ্রেয়। যে প্রতারণা থেকে মুক্ত, তিনি মঙ্গল লাভ করেন।

২০. বৈষ্ণবত্ব সরলতার আরেক নাম। পরমহংস বৈষ্ণবদের সেবকরা সরল; সেই কারণে তাঁরা শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ।

২১. কৃপালু ব্যক্তিদের একমাত্র কর্তব্য হচ্ছে অধঃপতিত জীবদের পরিবর্তন করা। যদি তুমি অন্তত একজন ব্যক্তিকে মহামায়ার প্রবল প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পার, সেটি লক্ষ হাসপাতাল তৈরির থেকে অধিক মানবহিতৈষী হবে।

২২. যারা আত্মবোধশক্তির দ্বারা পরমেশ্বর ভগবানকে সেবা করার স্বাভাবিক প্রবৃত্তির উন্নয়ন করার শিক্ষালাভ করেননি, তাদের সঙ্গ যতই আনন্দদায়ক হোক না কেন, তা কামনা করা অনুচিত।

২৩. আচরণ ব্যতীত প্রচার কর্মকাণ্ডের অনুষ্ঠান ব্যতীত আর কিছুই নয়।

২৪. যদি কেউ শুধুমাত্র পরম পুরুষোত্তম ভগবান এবং তাঁর ভক্তদের সেবা করেন, তাঁর সংসারের প্রতি আসক্তি হ্রাসপ্রাপ্ত হয়।

২৫. আমাদের প্রধান রোগ হচ্ছে কৃষ্ণ-সম্বন্ধীয় নয় এমন বস্তু সংগ্রহ করা।

২৬. আমরা কাঠ বা পাথরের কারুশিল্পী হওয়ার জন্যে এই পৃথিবীতে আসিনি, আমরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপার মজুর (পিয়ন) মাত্র।

২৭. আমরা এই পৃথিবীতে বেশিদিন থাকব না। যদি আমাদের এই দেহ পরমেশ্বর ভগবান শ্রীহরির গুণমহিমা কীর্তন করে, তাহলে আমাদের এই জন্ম সার্থক হবে।

২৮. আমাদের জীবনের একমাত্র কাম্য বস্তু হচ্ছে শ্রীল রূপ গোস্বামীর চরণকমলের ধুলিকণা সংগ্রহ করা, যিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করেছেন।

২৯. এই জড় প্রকৃতি, যেটি পরম পুরুষোত্তম ভগবান বিমুখী, একটি পরীক্ষাগার। সহিষ্ণুতা, বিনম্রতা, অন্যদের মূল্যায়ণ করা – এগুলি শ্রীহরির প্রতি আমাদের ভক্তির উন্নয়নের পক্ষে সহায়ক।

৩০. প্রত্যেক জন্মেই সকলে একজন বাবা ও একজন মা পেয়ে থাকে। কিন্তু অন্তিম অনুগ্রহ বা চূড়ান্ত কল্যাণের শিক্ষা কেউই লাভ করেনা।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের আবির্ভাব তিথি ও ব্যাস পূজা"Eibela। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৫-১২ স্ক্রিপ্ট ত্রুটি: "Category handler" নামক কোন মডিউল নেই।স্ক্রিপ্ট ত্রুটি: "Category handler" নামক কোন মডিউল নেই।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. Sardella, Ferdinando (২০১৩-০১-১০)। Modern Hindu Personalism: The History, Life, and Thought of Bhaktisiddhanta Sarasvati (ইংরেজি ভাষায়)। OUP USA। আইএসবিএন 9780199865901 
  3. Jacobsen, Knut A.; Basu, Helene; Malinar, Angelika; Narayanan, Vasudha (২০০৯)। Brill's Encyclopedia of Hinduism (ইংরেজি ভাষায়)। Brill। আইএসবিএন 9789004178960