বিষয়বস্তুতে চলুন

ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার
প্রতিষ্ঠাকাল২০০৯; ১৬ বছর আগে (2009)
প্রতিষ্ঠাতা
  • ড. ফের্দিনান্দো সারদেলা
  • ডেনিস হ্যারিসন
ধরনঅলাভজনক প্রতিষ্ঠান
আলোকপাত
  • একাডেমিক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান
  • গ্রন্থাগার ও প্রদর্শনী
  • কর্মশালা, অনুষ্ঠান ও সম্মেলন
  • দুর্লভ গ্রন্থ, শাস্ত্র, জার্নাল ও পান্ডুলিপি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
মূল ব্যক্তিত্ব
  • গৌরাঙ্গ দাস (পরিচালক প্রশাসন)
  • ড. সুমন্ত রুদ্র (শিক্ষা বিষয়ক ডিন)
ওয়েবসাইটbrcglobal.org

ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যা ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর প্রধান কার্যালয় ভারতের কলকাতায় অবস্থিত। এই প্রতিষ্ঠানটি ভারতীয় দার্শনিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রসারের কাজে নিয়োজিত, বিশেষ করে গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতবাদের উপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি ড. ফের্দিনান্দো সারদেলা ও ডেনিস হ্যারিসন-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত।[][][][]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠিত হয় গোথেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক ফের্দিনান্দো সারদেলার উদ্যোগে। এর মূল লক্ষ্য ছিল ভারতীয় দর্শন ও গৌড়ীয় বৈষ্ণব আন্দোলন সংশ্লিষ্ট দুর্লভ পান্ডুলিপি ও গ্রন্থ সংরক্ষণ ও ডিজিটাইজ করার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এই গবেষণা কেন্দ্রে প্রায় ১৭,০০০টি গ্রন্থ, ৪,০০০টি পত্রিকা এবং ৭০টি পান্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে, যা ভারতীয় সংস্কৃতি ও দর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত।[]

২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে, ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের পিএইচডি ও স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রমগুলি মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাবিত্রীবাই ফুলে পুণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পেশালাইজড স্টাডিজ সেন্টার কর্তৃক স্বীকৃতি লাভ করে।[]

কার্যক্রম

[সম্পাদনা]

২০২৩ সালের মার্চ মাসে, ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার বাংলা পণ্ডিতদের সরস্বত আচার-সংক্রান্ত ১৭শ শতকের পান্ডুলিপি ডিজিটাইজ ও সংরক্ষণের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করে, যার মাধ্যমে এসব দুর্লভ দলিল গবেষকদের জন্য সহজলভ্য করে তোলা হয়। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল ভারতীয় দর্শনের মূল্যবান গ্রন্থসমূহ সংরক্ষণ করে একাডেমিক গবেষণার সহায়তা প্রদান।[][]

২০২৩ সালের জুলাই মাসে, সেন্টারটি স্কটিশ চার্চ কলেজের ‘দর্শন এষণা’ প্রকল্পে সহায়তা প্রদান করে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীল প্রভুপাদ এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু প্রভৃতি ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত ১,০০০-এরও বেশি দুর্লভ দর্শন বিষয়ক গ্রন্থ ডিজিটাইজ করা। ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার এ ক্ষেত্রে আর্থিক ও কারিগরি উভয় ধরনের সহায়তা প্রদান করে, এবং প্রথম পর্যায়ের ডিজিটাইজেশন কাজ প্রায় আট মাসে সম্পন্ন হয়।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভক্তি বিনোদ ঠাকুর স্মৃতি স্কলারশিপ চালু করে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন প্রজন্মের কাছে ভক্তি বিনোদ ঠাকুরের অবদানকে পরিচিত করে তোলা এবং তাঁর উত্তরাধিকারকে সম্মান জানানো।[][১০]

যৌথ কাজ

[সম্পাদনা]

২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে, ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়, স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয় এবং শ্রী পদ্মাবতী মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের (শ্রীপদ্মাবতী মহিলা বিশ্ববিদ্যায়ালয়) সহযোগিতায় এক আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করে। এই তিন দিনব্যাপী সেমিনারে ৭০ জনেরও বেশি শিক্ষাবিদ, গবেষক ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে মূলত প্রথাগত আচার-অনুষ্ঠানের চিকিৎসামূলক প্রভাব, স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত জৈব-মানস-সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, এবং স্বাস্থ্য মনোবিজ্ঞানে ভারতীয় চিন্তাধারার অবদান নিয়ে আলোচনা হয়।[১১]

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার দেজ পাবলিশার্স-এর সহযোগিতায় ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের আত্মজীবনীর পুনর্মুদ্রণ করে। মূল রচনাটি ১৮৯৬ সালে লিখিত হয়েছিল এবং ১৯১৬ সালে তাঁর পুত্র ললিতা প্রসাদ দত্ত প্রথমবার এটি প্রকাশ করেন। পুনর্মুদ্রিত সংস্করণটি মে মাসে মায়াপুরে ইসকন-এর জয়পতাকা স্বামী, গুরুপ্রসাদ স্বামী, গৌরাঙ্গ দাস প্রমুখের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়।[]

২০২৪ সালের জুলাই মাসে, ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার হাওড়া কালচারাল লিটারারি সোসাইটির সঙ্গে যৌথভাবে প্রায় ৬,০০০ প্রাচীন পান্ডুলিপি ডিজিটাইজ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই পান্ডুলিপিগুলির বেশিরভাগ ১৫শ শতাব্দীর সময়কালের, এবং পূর্বে ভারত সরকারের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত ছিল। এসব পান্ডুলিপিতে রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ, দর্শন এবং ব্যাকরণসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।[]

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে, ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার স্কটিশ চার্চ কলেজের সহযোগিতায় কলেজ চত্বরে অভয় চরণ দে সেমিনার হল উদ্বোধন করে। এই সেমিনার হলটি গৌড়ীয় বৈষ্ণব আন্দোলনের প্রবর্তক এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে, যিনি ১৯১৬ সাল থেকে এই কলেজে অধ্যয়ন করেছিলেন। এই উদ্যোগ তাঁর শিক্ষাজীবনের প্রতি এক শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে বিবেচিত।[১২]

২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে, ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার আইআইটি বোম্বের টেকনোলজি ইনকিউবেশন হাব-এর ভারতজেন ইনিশিয়েটিভ-এর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এই সহযোগিতার লক্ষ্য হলো ঐতিহ্যগত জ্ঞানকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত করা, উন্নত গবেষণা সরঞ্জাম তৈরি করা এবং ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রক্রিয়াকে প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা।[১৩]

২০২৫ সালের মার্চ মাসে, সেন্টারটি আইআইটি মণ্ডির সঙ্গে একটি নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে, যার উদ্দেশ্য প্রাচীন ভারতীয় পান্ডুলিপি সংরক্ষণ ও গবেষণার উন্নয়ন। এই সহযোগিতার মাধ্যমে ভারতীয় দর্শনের গবেষণায় আধুনিক প্রযুক্তির সংযুক্তি ঘটানো হচ্ছে, যেখানে আইআইটি মণ্ডি সংস্কৃত ভাষা বিশ্লেষণ, পান্ডুলিপি ডিজিটাইজেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক গবেষণার জন্য পরিকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।[১৪]

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটির সঙ্গে যৌথভাবে চৈতন্য মহাপ্রভুর ৫৩৯তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে একটি প্রদর্শনী ও বক্তৃতা সিরিজের আয়োজন করে। এশিয়াটিক সোসাইটির হেরিটেজ ভবনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে তাঁর জীবন, শিক্ষা ও দর্শনের ওপর আলোকপাত করা হয়, যা জনমানসে তাঁর চিন্তা ও উত্তরাধিকারের সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।[]

পুরস্কার ও স্বীকৃতি

[সম্পাদনা]

২০২৪ সালের মার্চ মাসে, কলকাতার ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার প্রাচীন পান্ডুলিপি সংরক্ষণ এবং ভারতীয় সাহিত্য, দর্শন ও সংস্কৃতির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড লাভ করে।[১৫][১৬]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "IISWBM: আইআইএসডব্লিউবিএমে বাতিল হল আধ্যাত্মিকতার কোর্স"www.aajkaal.in। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২৫
  2. "বৈষ্ণব সাধক কেদারনাথ দত্ত ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের জীবনী প্রকাশ Publication of the biography of Vaishnava saint Kedarnath Dutta Bhaktivinoda Tagore - publication-of-the-biography-of-vaishnava-saint-kedarnath-dutta-bhaktivinod-tagore"TheWall। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২৫
  3. 1 2 সংবাদদাতা, আনন্দবাজার অনলাইন। "প্রাচীন পুঁথি সংরক্ষণের উদ্যোগ হাওড়ায়, তৈরি করা হবে ডিজিটাল গ্রন্থাগার"। ১০ মে ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২৫ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |শেষাংশ= প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য)
  4. 1 2 "Celebrating Chaitanya Mahaprabhu: Asiatic society, Kolkata hosts exhibition, lecture series"The Times of India। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২৫
  5. গতি, নতুন (২৬ জুন ২০২৩)। "ভারতীয় দর্শনের পান্ডুলিপির প্রদর্শনী কলকাতায়"নতুন গতি (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২৫
  6. "ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণায় কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা, আইআইটির সঙ্গে মউ ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৯ জানুয়ারি ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২৫ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: লেখা "Banglar Janarob" উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  7. Roy, Subrata (৫ মার্চ ২০২৩)। "সতেরো শতকের পান্ডুলিপি এবার ডিজিটালে সংরক্ষণ"Ei Muhurte Breaking News in Bangla, বাংলা খবর, বাংলার আজকের খবর এই মুহূর্তে (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২৫
  8. Ananda, A. B. P. (৪ মার্চ ২০২৩)। "সতেরো শতকের পান্ডুলিপি এবার ডিজিটালে! অভিনব উদ্যোগ ভক্তি বেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের"bengali.abplive.com। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২৫
  9. 1 2 Desk, My Kolkata Web (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩)। "Adieu to Vishwakarma & Ganesh and more news from Kolkata in pictures"Telegraph India। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০২৫ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |শেষাংশ= প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য)
  10. "ভক্তি বিনোদ ঠাকুরের স্মারক ছাত্র -বৃত্তি চালু হচ্ছে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে"Mongalkote। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০২৫
  11. The Hindu Bureau (৯ ডিসেম্বর ২০২২)। "International seminar on indigenous healthcare and spiritual practices starts"The Hindu। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০২৫
  12. "অভয়চরণ নামাঙ্কিত সেমিনার হলের দ্বারোদ্ঘাটন হয়েছে"Hindusthan Samachar Bangali। ৬ নভেম্বর ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০২৫
  13. "ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণায় কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা, আইআইটির সঙ্গে মউ ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের..."SRB News Bangla। ২৯ জানুয়ারি ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০২৫
  14. "প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণে জোর, IIT মাণ্ডির সঙ্গে মউ স্বাক্ষর ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের"sangbadpratidin। ১৭ মার্চ ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০২৫
  15. "Bhakti Vedanta Research Center, Award, আইসিসি সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট আ্যওয়ার্ড পেল ভক্তি বেদান্ত রিসার্চ সেন্টার"AmaderBharat.com। ১২ মার্চ ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০২৫
  16. "भक्ति वेदांत रिसर्च सेंटर को मिला ICC सोशल इम्पैक्ट अवार्ड"kolkatahindinews.com। ১৩ মার্চ ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০২৫