বিষয়বস্তুতে চলুন

ব্লাইন্ড ম্যানস বাফ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নারীরা ব্লাইন্ড ম্যানস বাফ খেলছে, ১৮০৩

ব্লাইন্ড ম্যানস বাফ বা ব্লাইন্ড ম্যানস ব্লাফ[] হলো ছোয়াছুঁই খেলার একটি বৈচিত্র্যময় রূপ, যেখানে একজন খেলোয়াড়কে (যে অন্যদের ধরবে) চোখ বেঁধে রাখা হয়। খেলাটির ঐতিহ্যবাহী ইংরেজি নাম "ব্লাইন্ড ম্যান'স বাফ", যেখানে বাফ শব্দটি পুরোনো অর্থে একটি ছোট ধাক্কা দেওয়াকে বোঝায়।

খেলার নিয়ম

[সম্পাদনা]

কানামাছি সাধারণত একটি প্রশস্ত স্থানে খেলা হয়, যেমন ঘরের বাইরে বা একটি বড় ঘরে। এখানে একজনকে "চোর" (বা 'ইট') হিসেবে নির্ধারণ করে তার চোখ বেঁধে দেওয়া হয়। সে অন্যদের দেখতে না পেয়ে হাত দিয়ে অনুভব করে ধরার চেষ্টা করে। অন্য খেলোয়াড়রা তার আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। অনেক সময় খেলোয়াড়রা চোরকে বিভ্রান্ত করতে বা তার দিক পরিবর্তন করতে নানাভাবে তাকে উত্যক্তও করে থাকে।[]

যখন চোখ বাঁধা খেলোয়াড়টি কাউকে ধরে ফেলে, তখন যাকে ধরা হয়েছে সে পরবর্তী "চোর" হয় এবং আগের জন মুক্ত হয়ে অন্য খেলোয়াড়দের সাথে যোগ দেয়।

বিভিন্ন সংস্করণ

[সম্পাদনা]
১৯১২ সালের চীনের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যবইয়ে 'জুওমিঝাং' (捉迷藏) পাঠের একটি চিত্র।
ভিয়েতনামী হং ট্রং চিত্রে কানামাছি (Bịt mắt bắt dê)

বিশ্বজুড়ে এই খেলার বেশ কিছু সংস্করণ রয়েছে:

  • একটি সংস্করণে, প্রথম যে ব্যক্তিটি ধরা পড়ে সে পরবর্তী "চোর" হয় এবং নতুন রাউন্ড শুরু হয়। চীনা সংস্করণে একে lìng dài (令代) বলা হয়।
  • অন্য একটি সংস্করণে, যতক্ষণ না সব খেলোয়াড় ধরা পড়ছে ততক্ষণ খেলা চলতে থাকে। সব খেলোয়াড় আউট হয়ে গেলে খেলাটি নতুন করে শুরু হয়।
  • কিছু ক্ষেত্রে, চোখ বাঁধা খেলোয়াড়কে যাকে ধরেছে তার মুখ স্পর্শ করে তাকে শনাক্ত করতে হয়। যদি সঠিকভাবে নাম বলতে পারে, তবেই সেই ব্যক্তি পরবর্তী চোর হয়।
  • জাপানের একটি অনন্য সংস্করণে মেয়েরা তাদের কিমোনো পরে এবং হাতে চায়ের কাপ নিয়ে কানামাছি খেলে।
  • আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি লাউথে একটি সংস্করণে এটি ছোট অন্ধকার ঘরে খেলা হয়, যেখানে চোখ বাঁধার পাশাপাশি আলোহীন পরিবেশ রোমাঞ্চ আরও বাড়িয়ে দেয়।
পেরি সালা পার্তি-র আঁকা Petit Livre d'Amour

ইতিহাস

[সম্পাদনা]
ডেভিড উইলকি অঙ্কিত ব্লাইন্ড-ম্যান'স বাফ, ১৮১২

চীনে এই খেলার একটি সংস্করণ 'জুওমিঝাং' (捉迷藏) নামে পরিচিত, যা টাং রাজবংশের সাহিত্যকর্মে উল্লেখ করা হয়েছে।[] বলা হয় যে, সম্রাট সুয়ানজং তার উপপত্নীদের ধরার জন্য চোখ বেঁধে এই খেলা খেলতেন।[]

প্রাচীন গ্রিসেও এই খেলার একটি সংস্করণ ছিল যাকে "তামার মশা" বলা হতো।[] এটি টিউডর যুগে এবং পরবর্তীতে ভিক্টোরীয় যুগেও বেশ জনপ্রিয় ছিল। কবি রবার্ট হেরিক ১৬২৪ সালে তার কবিতায় এই খেলার উল্লেখ করেছেন।

এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশেই এটি খেলা হয়। বাংলাদেশে এই খেলাটি শিশু-কিশোরদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এটি কানামাছি নামে পরিচিত। বাংলাদেশে খেলার সময় খেলোয়াড়রা একটি ছড়া কাটে: "কানামাছি ভোঁ ভোঁ, যারে পাবি তারে ছো!"

সদৃশ খেলা

[সম্পাদনা]
ঘানার শিশুরা খেলছে

কানামাছির মতো আরেকটি জনপ্রিয় খেলা হলো মার্কো পোলো। এটি সাধারণত সুইমিং পুলে খেলা হয়। এতে চোখ বন্ধ থাকা খেলোয়াড় "মার্কো" বলে চিৎকার করলে অন্য খেলোয়াড়দের "পোলো" বলে সাড়া দিতে হয়।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Ten Weird Children's Games from the Victoria Era and Before"Listverse (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০২২
  2. "Körebe Nedir | Nasıl Oynanır | Kuralları?"OyunBilim (তুর্কি ভাষায়)। ২৯ এপ্রিল ২০২০। ১১ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুন ২০২০
  3. Yuan Zhen, Five Poems of Zayi 杂忆五首
  4. Jia, Xuan (২০০৭)। Xin Qiji। Shanghai। পৃ. ২২১।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক)
  5. A Greek-English Lexicon. Oxford: Oxford University Press 1889. p. 1151.