বিষয়বস্তুতে চলুন

ব্রেস্ট পেইন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ব্রেস্ট পেইন বা স্তন ব্যথা
প্রতিশব্দমাস্টোডাইনিয়া, মাস্টালজিয়া, স্তনের কোমলতা
বিশেষত্বস্ত্রীরোগবিজ্ঞান, সাধারণ অস্ত্রোপচার
প্রকারভেদচক্রীয় , অ-চক্রীয় []
কারণঋতুচক্র সংক্রান্ত, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, হরমোন থেরাপি, মানসিক রোগের ওষুধ, স্তন ক্যান্সার[]
রোগনির্ণয়ের পদ্ধতিস্তন পরীক্ষা, মেডিকেল ইমেজিং[]
পার্থক্যমূলক রোগনির্ণয়পিত্তপাথর, থোরাসিক আউটলেট সিনড্রোম, কস্টোকন্ড্রাইটিস[]
চিকিৎসাক্যান্সার নেই নিশ্চিত হওয়ার পর আশ্বাস প্রদান, ওষুধ সেবন[][]
ঔষধপ্যারাসিটামল, এনএসএআইডি[]
আরোগ্যসম্ভাবনা৭৫ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে চিকিৎসা ছাড়াই সেরে যায়[]
সংঘটনের হার৭০% নারী এই সমস্যায় ভোগেন[]

ব্রেস্ট পেইন বা স্তন ব্যথা হলো এক বা উভয় স্তনে অস্বস্তিবোধের একটি উপসর্গ।[] উভয় স্তনে ব্যথা হওয়াকে প্রায়শই 'স্তন কোমলতা' হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যা সাধারণত মাসিক চক্রের সাথে সম্পর্কিত এবং এটি তেমন গুরুতর নয়।[][] তবে স্তনের কোনো নির্দিষ্ট একটি অংশে ব্যথা হওয়া বেশি উদ্বেগজনক হতে পারে,[] বিশেষ করে যদি সেখানে কোনো শক্ত চাকা বা পিণ্ড থাকে অথবা স্তনবৃন্ত দিয়ে কোনো রস নির্গত হয়।[]

ব্যথার কারণগুলোর মধ্যে ঋতুচক্র, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, হরমোন থেরাপি অথবা মানসিক রোগের ওষুধের প্রভাব অন্যতম।[] অতিরিক্ত বড় স্তন হওয়া, মেনোপজ (রজঃনিবৃত্তি) চলাকালীন এবং গর্ভাবস্থার শুরুর দিকেও ব্যথা হতে পারে।[][] প্রায় ২% ক্ষেত্রে ব্রেস্ট পেইন স্তন ক্যান্সারের সাথে সম্পর্কিত।[] রোগ নির্ণয়ের জন্য স্তন পরীক্ষা এবং প্রয়োজনভেদে মেডিকেল ইমেজিং করা হয়।[]

৭৫ শতাংশের বেশি মানুষের ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা ছাড়াই ব্যথা সেরে যায়।[] অন্যথায় চিকিৎসায় প্যারাসিটামল বা এনএসএআইডি জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। সঠিক মাপের ব্রা পরিধান করলেও ব্যথা উপশম হতে পারে।[] তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে ট্যামোক্সিফেন বা ড্যানাজল ব্যবহৃত হতে পারে।[] প্রায় ৭০% নারী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে স্তন ব্যথার সম্মুখীন হন।[] স্তনে চাকা হওয়া বা বোঁটা দিয়ে নিঃসরণ হওয়ার পাশাপাশি ব্রেস্ট পেইন অন্যতম সাধারণ একটি উপসর্গ।[]

কারণসমূহ

[সম্পাদনা]

ঋতুচক্রের সাথে সম্পর্কিত স্তন ব্যথাকে চক্রীয় ব্রেস্ট পেইন বা সাইক্লিক মাস্টালজিয়া বলা হয়। মাসিক চক্রের সময় কিছুটা স্তন কোমলতা হওয়া স্বাভাবিক, যা সাধারণত ঋতুস্রাব বা মাসিক-পূর্ব লক্ষণ সমষ্টির (পিএমএস) সাথে যুক্ত থাকে।[] এই ধরণের ব্যথা প্রায়শই স্তনের 'ফাইব্রোসিস্টিক পরিবর্তন' বা নালীর প্রসারণের সাথে সম্পর্কিত এবং ধারণা করা হয় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এটি ঘটে।

যে ব্যথা ঋতুচক্রের সাথে সম্পর্কিত নয় তাকে অ-চক্রীয় ব্রেস্ট পেইন বা স্তন ব্যথা বলা হয়। এর বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে এবং এটি নির্ণয় করা কিছুটা কঠিন; কারণ অনেক সময় ব্যথার উৎস স্তনের বাইরেও হতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালে (ছেলে ও মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই), মেনোপজকালীন এবং গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে স্বাভাবিকভাবেই স্তনে ব্যথা হতে পারে। গর্ভাবস্থার পরে, স্তন্যদানের কারণেও ব্যথা হতে পারে।[] অ-চক্রীয় স্তন ব্যথার অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে লিভারের ক্ষতিসহ মদ্যপান, স্তনপ্রদাহ এবং নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। এছাড়াও 'শিংলস' বা হার্পিস ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে স্তনের ত্বকে বেদনাদায়ক ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।[]

স্তন ক্যান্সার

[সম্পাদনা]

স্তনে ব্যথার কারণে অনেক নারী ক্যান্সারের ভয়ে আতঙ্কিত হতে পারেন। তবে ব্রেস্ট পেইন বা স্তন ব্যথা ক্যান্সারের সাধারণ কোনো লক্ষণ নয়। অধিকাংশ স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় ব্যথা থাকে না; তবে প্রবীণ নারীদের ক্ষেত্রে স্তন ব্যথার সাথে ক্যান্সারের ঝুঁকি কিছুটা বেশি থাকে।[][][]

রোগ নির্ণয়

[সম্পাদনা]

রোগ নির্ণয়ের প্রধান ধাপ হলো শারীরিক পরীক্ষা। যদি স্তনের কোনো নির্দিষ্ট অংশে ব্যথা অনুভূত হয়, তবে মেডিকেল ইমেজিং প্রয়োজন হতে পারে।[] সকল বয়সের নারীদের জন্য আল্ট্রাসাউন্ড বা অতিশব্দ পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়; এবং যাদের বয়স ৩৫ বছরের বেশি, তাদের ক্ষেত্রে ম্যামোগ্রাফি ও আল্ট্রাসাউন্ড উভয়ই করা উচিত।[]

ব্যথার উৎস সনাক্ত করার জন্য অন্যান্য সম্ভাব্য কারণগুলো খতিয়ে দেখা হয়। ব্রেস্ট পেইন নিম্নোক্ত কারণেও হতে পারে:

  • এনজাইনা পেক্টোরিস (হৃদরোগজনিত বুক ব্যথা)
  • সঠিক মাপের ব্রা না হওয়া
  • দুগ্ধনালী বন্ধ হওয়া
  • স্তন্যদান
  • বুকের দেওয়ালের পেশিতে ব্যথা
  • কস্টোকন্ড্রাইটিস (পাঁজরের হাড়ের ব্যথা)
  • ক্যানডিডিয়াসিস বা ছত্রাক সংক্রমণ
  • নালীর প্রসারণ
  • স্তন দুগ্ধস্ফীতি
  • ফাইব্রোএডেনোমা (স্তনের নিরীহ টিউমার)
  • ফাইব্রোসিস্টিক স্তন পরিবর্তন
  • ফাইব্রোমিয়ালজিয়া
  • গ্যাস্ট্রোইসোফিজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ
  • হার্পিস সংক্রমণ
  • হরমোন প্রতিস্থাপন থেরাপি (এইচআরটি)
  • মাস্টাইটিস বা স্তন সংক্রমণ
  • বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন

চিকিৎসা

[সম্পাদনা]

অধিকাংশ ক্ষেত্রে (৭৫% এর বেশি) কোনো বিশেষ চিকিৎসা ছাড়াই ব্যথা চলে যায়।[] ব্যথানাশক হিসেবে প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় এনএসএআইডি ব্যবহৃত হয়।[] সঠিক মাপের সাপোর্ট ব্রা পরিধান করলে অনেকাংশেই আরাম পাওয়া যায়।[] তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে ট্যামোক্সিফেন, ড্যানাজল বা ব্রোমোক্রিপ্টিন ব্যবহৃত হতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন যেমন- লবণ কম খাওয়া বা ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় কমিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেও অনেক সময় ব্যথা কমে। হরমোন প্রতিস্থাপন থেরাপি গ্রহণকারী নারীদের ক্ষেত্রে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া গরম বা ঠান্ডা সেঁক দেওয়াও ব্যথা উপশমে কার্যকর হতে পারে।[]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 Salzman, B; Fleegle, S; Tully, AS (১৫ আগস্ট ২০১২)। "Common breast problems."। American Family Physician৮৬ (4): ৩৪৩–৯। পিএমআইডি 22963023
  2. 1 2 3 4 5 6 Iddon, J; Dixon, JM (১৩ ডিসেম্বর ২০১৩)। "Mastalgia."। BMJ (Clinical Research Ed.)৩৪৭ f3288। ডিওআই:10.1136/bmj.f3288পিএমআইডি 24336097এস২সিআইডি 220173019
  3. 1 2 3 4 5 "Breast pain"nhs.uk (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ অক্টোবর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১১ নভেম্বর ২০২২
  4. Mazza, Danielle (২০১১)। Women's Health in General Practice (ইংরেজি ভাষায়)। Elsevier Health Sciences। পৃ. ১৮৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭২৯৫-৭৮৭১-৪
  5. 1 2 3 4 "MedlinePlus"United States National Library of Medicine। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  6. 1 2 Cash, Jill (২০১৪)। Family practice guidelines। New York: Springer Publishing। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮২৬১-৯৭৮২-৫, [Electronic book] Section I Guidelines, Chapter Thirteen: Gynecologic Guidelines-Breast Pain

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]
শ্রেণীবিন্যাস
বহিঃস্থ তথ্যসংস্থান