ব্রিক লেন ছবি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ব্রিকলেন
চিত্র:Brick Lane poster.jpg
পরিচালক মেরি স্টিফেন্স, সারাহ গাভরন
প্রযোজক অ্যালসন ওয়েন
রচয়িতা মনিকা আলী, লরা জোন্স
অভিনেতা তান্নিষ্ঠা চ্যাটার্জি
সতীশ কৌশিক
ক্রিস্টোফার সিম্পসন
নাঈমা বেগম
লানা রাহমান
ললিতা আহমেদ
সুরকার জসেলাইন পোক
চিত্রগ্রাহক রবি রায়ান
সম্পাদক মিলানি ওলিভার
মুক্তি ১৬ নভেম্বর ২০০৭
দৈর্ঘ্য ১০২ মিনিট
দেশ যুক্তরাজ্য
ভাষা ইংরেজি
বাংলা

ব্রিক লেন একটি পুরস্কার বিজয়ী ২০০৭ সালের ব্রিটিশ সিনেমা যা সারাহ গাভরন পরিচালনা করেছেন এবং এর কাহিনী নেয়া হয়েছে মনিকা আলীর ব্রিক লেন নামের উপন্যাস থেকে।এর স্ক্রিন প্লে নেয়া হয়েছে লরা জোনস ও অ্যাবি মরগানের উপন্যাস থেকে।তান্নিষ্ঠা চ্যাটার্জি মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।তেল্লুরিড ফ্লিম ফ্যাস্টিভ্যালে এর প্রথম প্রদর্শনী হয়।[১]

গল্পের সারাংশ[সম্পাদনা]

ছবিটা একটা গল্প নিয়ে যার মূল চরিত্রে আছে নাজনীন নামের একটি বাংলাদেশী মেয়ে যে বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবেশে ময়মনসিংহতে বড় হয়েছে।[২] ১৭ বছর বয়সে তার বিয়ে হয় পারিবারিকভাবে তার দ্বিগুণ বয়সী মানুষ চানু আহমেদের সাথে এবং এরপর লন্ডনের ব্রিকলেনে চলে যেতে হয় তাকে তার বোনকে ছেড়ে।[৩] সে নানা চিঠি পায় তার বোনের কাছ থেকে তার যত্নবিহীন জীবন সম্পর্কে।ছবির কাহিনী মোড় নেয় আরেকটি পরিবারের দিকে যারা ১৮ বছর ধরে একটা ফ্ল্যাটে বসবাস করছে ২টি মেয়ে নিয়ে।নাজনীন একজন সুদর্শন পোষাক কর্মীর প্রেমে পড়ে যে তার ফ্ল্যাটে আসে।[৪] ছবিটিতে ৯/১১-এর সময়ের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বৃদ্ধির ছোয়া পাওয়া যায়,[৫] এবং বাংলাদেশী মুসলিম সম্প্রদায় ধর্মপরায়ণ হয়ে ওঠে করিম চরিত্রটিসহ।

চরিত্রায়ন[সম্পাদনা]

  • তান্নিষ্ঠা চ্যাটার্জি -নাজনীন আহমেদ
  • সতীশ কৌশিক - চানু আহমেদ
  • ক্রিস্টোফার সিম্পসন - করিম
  • নাঈমা বেগম - রূখসানা শাহানা আহমেদ
  • লানা রাহমান - বিবি আহমেদ
  • ললিতা আহমেদ - মিসেস ইসলাম
  • হারভেয় ভিরডি - রাজিয়া
  • জাফরিন -হাসিনা
  • হারসে নায়ার -ডক্টর আযাদ
  • আব্দুল নলেফাজ আলী - তারিক
  • বিজাল চান্ডারিয়া -শেফালি
  • আজিজ আজিজি- সমকামী ব্যাক্তি

গ্রহণ[সম্পাদনা]

ব্রিক লেন ছবিটি বেশির ভাগ সমালোচক গ্রহণ করেন ও এই ছবি ৬৩% অনূকুল রেটিং পায় রটেন টমেটোতে। [৬] মেটাক্রিটিকে এই ছবি ৬১/১০০ রেটিং পায়।[৭] রজার এবার্ট ছবির চরিত্রদের প্রশংসা করেন গভীরতা ও বাস্তবভিত্তিক হওয়ায়।[৮] যদিও অনেক সমালোচক যেমন ভ্যারাইটি ম্যাগাজিনের রবার্ট কোহলার বলেন ছবিটি উপন্যাসের সাথে মেলে না।[৯] যদিও সিনেমাটি সমালোচক প্রশংসিত ও উপন্যাসটি বেস্ট সেলার ছিল,[১০] তাও এটি বেশ বিতর্কের জন্ম দেয় লন্ডনে বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের মধ্যে। তারা মনে করেন চানু চরিত্রটির মন্তব্যগুলোর মাধ্যমে পশ্চাৎমুখী ও অশিক্ষিত হিসেবে বাংলাদেশী সম্প্রদায়কে চিত্রিত করা হয়েছে। ৩১ জুলাই ২০০৬ সালে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় ১২০ বাংলাদেশীর মাধ্যমে ব্রিক লেনে।[১১] ছবিটিকে ঘিরে বিতর্কের কারণে প্রিন্স চালর্স ও ক্যামেলিয়া পার্কার বাউলেসকে ছবিটি দেখানোর পরিকল্পনা বাতিল হয়।[১২]

সাউন্ড ট্র্যাক[সম্পাদনা]

ব্রিকলেন
জোসেলাইন পোক কর্তৃক সাউন্ডট্র্যাক অ্যালবাম
মুক্তি ১৯ নভেম্বর ২০০৭
ধারা ছবির সাউন্ডট্র্যাক
লেবেল ইউনিভার্স্যাল ক্ল্যাসিকস
উৎপাদক জোসেলাইন পোক
  1. "অ্যাডামের ঘুমপাড়ানী গান" - (নাতাশা এ্যাটলাস) - ৩:০৫
  2. "গ্রীষ্মের স্মৃতি" - ৪:০২
  3. "কবিতা" - ১:৫৬
  4. "রাতের মাঝে ছোটাছুটি" - ৩:১০
  5. "মাঝির গান" - ৩:৪৭
  6. "একটি বিশ্ব পরিবর্তিত" - ২:৩৪
  7. "নিশ্চুপ আনন্দ" - ৩:০৩
  8. "প্রাসাদে বনভোজন" - ১:৫৫
  9. "টাপুর টুপুর" - ২:৪৫
  10. "ভালোবাসার ফুল ফুটেছে" - ২:৪৪
  11. "রাইট অব প্যাসেজ" - ২:০২
  12. "ডিপার্টচার" - ১:৪৬
  13. "লীলাবালি" - ২:৩৮
  14. "শৈশবের টুকরো" - ১:৪৮
  15. "স্বপ্নদেখা" - ৬:০৪
  16. "ধানের ক্ষেতে খেলা" - ২:৫৭
  17. "প্রথম চুম্বন" - ১:৪৭
  18. "দোল দোল দুলুনী" - ঐতিহ্যবাহী (তান্নিষ্ঠা চ্যাটার্জি) - ১:৫১

পুরস্কার[সম্পাদনা]

সারাহ গাভরন বাফটা পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পান এবং ২০০৭ সালে তান্নিষ্ঠা চ্যাটার্জি ও সারাহ গাভরন উভয়ই বিফা পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পান সেরা পরিচালক ও সেরা অভিনেত্রী হিসেবে। দিনার্ড ফেস্টিভ্যালে এই ছবি একটি সিলভার হিচকক পুরস্কার ও সেরা স্ক্রিন প্লের পুরস্কার জয় করে।[১৩]

ডিভিডি প্রকাশ[সম্পাদনা]

সিনেমাটি ইংল্যান্ডে ১৬ই নভেম্বর ২০০৭ সালে মুক্তি পায় ও আমেরিকাতে ২০ জুন ২০০৮ সালে মুক্তি পায় সনি পিকচার ক্ল্যাসিকসের মাধ্যমে।ডিভিডি অঞ্চল ২ মুক্তি পায় ১০ই মার্চ ২০০৮ সালে ও ডিভিডি অঞ্চল ২ মুক্তি পায় ১৩ই জানুয়ারী ২০০৯ সালে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Dasgupta, Priyanka (২০০৭-০৮-২০)। "On the Brick Lane"Times of India MAIN CHARACTER - LANA . NOTT :)। সংগৃহীত ১২ জানুয়ারি ২০০৯ 
  2. Book Review: Brick Lane SAWNET
  3. "Brick Lane Movie"। Yahoo!। সংগৃহীত ২০০৮-০৮-০৫ 
  4. "Brick Lane Review (DVD)"। Future Movies। সংগৃহীত ২০০৮-০৮-০৫ 
  5. Walker, Susan (২০০৮-০৭-০৪)। "Brick Lane: Reflects tensions of post 9/11 world"Toronto Star। সংগৃহীত ১২ জানুয়ারি ২০০৯ 
  6. "Brick Lane (2008)"। Rotten Tomatoes। সংগৃহীত ১২ জানুয়ারি ২০০৯ 
  7. "Brick Lane - Sony Pictures Classics"। Metacritic.com। সংগৃহীত ১২ জানুয়ারি ২০০৯ 
  8. Ebert, Robert (২০০৮-০৬-২৬)। "Brick Lane"Chicago Sun-Times। সংগৃহীত ১২ জানুয়ারি ২০০৯ 
  9. Koehler, Robert (২০০৭-০৯-১২)। "Brick Lane"Variety। সংগৃহীত ১২ জানুয়ারি ২০০৯ 
  10. "Brick Lane film praised in France"। BBC - BBC News। ৮ অক্টোবর ২০০৭। সংগৃহীত ২০০৭-০৯-০৮ 
  11. "Brick Lane protestors hurt over 'lies'"। BBC - BBC News। ৩১ জুলাই ২০০৬। সংগৃহীত ২০০৬-০৭-৩১ 
  12. Hoyle, Ben (২০০৭-০৯-২৫)। "Prince pulls out of royal film gala for Brick Lane over Bangladeshi AALICE GINGER protest fears"Times। London। সংগৃহীত ১২ জানুয়ারি ২০০৯ 
  13. Mowe, Richard (২০০৭-১০-০৮)। "Hallam Foe takes top prize at French festival"The Scotsman। সংগৃহীত ১২ জানুয়ারি ২০০৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]